১.
এদিকে পুঁজিবাদের তৃষ্ণার্ত ঠোঁট প্রেমান্তরে পুতুলের দেহ গর্ভববতী করে
এই সমুদ্রের ভাষা বোঝে না যুবক
মায়াবিজল পরশে তলদেশ সমুদ্র ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে ধ্বনিময় সুন্দর আঁধার
রাতের দিকে পৃথিবী সরে যাচ্ছে ক্রমশ-
জানি-প্রকৃত মিথ্যের যেমন সৌন্দর্য নেই
প্রকৃত সত্যেরও তাই কোনো পরিচয় নেই
প্রকৃতি বহন করে চলে মানুষের দাসত্ব!
…………………………………………..

২.
আমাদের গ্রাম পুকুর বিছানো মাঠ নয়- তবুও পুকুর চুরির অর্জিত বিদ্যেটুকু তাই শৈশবে রপ্ত করতে পারি নি
বাবার নিশ্বাসঘন মেলো টান আজো গলায় বাজে
আমরা সবাই বন্দিশালায় বাস করি
প্রকৃতির কোনো জানালা থাকে না-
…………………………………………..

৩.
পাঠে হঠাৎ বৃষ্টি
ব্যাকরণের সহজ ভুলগুলো আজ জীবনানন্দ-বোধের মাত্রা,পরাভব আলো ছিঁটিয়ে
স্বর ও বর্ণের রুপতত্ত্ব ভুলে যাই
চুপি চুপি ব্যাকরণের ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে ব্যঞ্জনাময় যে আগুন জ্বালিয়েছিলাম সেই
স্বপ্নের আভাটুকু বিন্যস্ত ইমেজে সোনার চারায় বপন করে রেখেছি
ওগো সুধাকর!
জন্ম তোমায় দিলাম-
জলের ওপর ভাসতে ভাসতে জলবাড়ির পরিভাষা বুঝে ফেলুক -কাটুক ঘোর
ভয়ানক মরাদৌড়!
…………………………………………..

৪.
যায়
যায়-মেয়েটি হেঁটেই যায়
ডানে আকার নিয়ে বামে ই-কারভর্তি মন; ভেতরে
ভোলানো বাতাস বহুকাল-চোখে বুক তার স্তনভাঁজে কামভরা ঘাম
অচেনা দেহে সেই মেয়েটি একাই চলে
কেউ জানুক-
না জানুক আমরা জানি সে সংসপ্তক রাত ,লাল
গতকাল…
…………………………………………..

৫.
হাঁড়ির ভাত টিপে যতোবার বলে দিয়েছি-অন্ধ ভিখেরির সময় নীলিমার দিগন্তদূর
যততোবারই অন্ধ হয়েছি সুরেলা অব্যয়ে সম্পর্কের চোরাবাঁকে বকমালা সুরে
উনুনে মাইজভান্ডারি গানে আগুন জ্বালিয়ে শুন্যের জলধিপুরাণ একা, দ্বিধাগ্রস্ত অমরতার দেবি
…………………………………………..

৬.
স্তনের নিচে অন্ধকারটুকু আমার পিতামহের স্মৃতির ছায়াময় বিছানা
ভাবনার মোহনীয় জীবনের অজানা আশঙ্কায় আবেগি আশ্রয়
ভালোবাসার রাতগুলো নিমগ্নরাতের আহত জোসনা
স্বপ্নের পানসি টানার কালান্তরের সন্ত্রস্ত ঢেউতোলা স্নায়ু ব্যাকুলতা
এতো কুয়াশা
এতো কুয়াশা- চোখের বিরামচিহ্নর সঞ্চারিত রক্তাক্ত অনুবাদ
…………………………………………..

৭.
নিশ্চয়ই জীবনের মুখোমুখি হবো একদিন
খুলে যাবে দ্বার
গহীন রহস্যের আবরণে ঢাকা নতুন ঈশ্বরও জন্ম নেবে আমার আত্মায়…
…………………………………………..

৮.
প্রতিদিন আগামির কাছে ধার করি রঙ
আরো ডুবে যাই অতীতের সাঁতারে
ভাব ও ভাষা শোধ দিতে দিতে বিনিময়ে চোখ লজ্বায় ঢাকি
…………………………………………..

৯.
তুমিই আমার প্রথম ঈশ্বর-
নিজ আঙুলের অভিজ্ঞতার ঘ্রাণ দুহাতে মেখে মেখে
নতুন স্বাদুস্তন করজোর প্রার্থনায় দেহভরাপ্রাণ
শিমুল বৃক্ষের নিচে আমার ধাতব ছায়াজীবন হৃদয়ের রক্তমুখ
যেনো ছোরারাজ আলো নাচিয়ে নিতম্বের মিষ্টি গোলাপদুপুর-
আলোপ্রাপ্ত ভয়ের লজ্জানবত রমনীর পিঠখোলা চুলসুন্দরি!
…………………………………………..

১০.
ঈশ্বরের প্রথম বোধ-ভাবনাময় স্বপ্ন তোমাকে আমাকে পালন করে
যেদিন যৌবনের শক্তিময় অন্ধকার সাঁতরে পাড়ি দিচ্ছিলাম
আকাক্সক্ষা এবং অপেক্ষার হরিন সাহসী সময় পার করতাম দুজন
পাতার নগ্ন পোশাক খুলে দ্যাখো আঙুলবালা-নয় তো গহরজান!
কতো ভেঙেছি বিরুদ্ধ করেছি আলো আর সমুদ্রের উৎকর্ণ গর্জন-
ঈশ্বরই স্বপনের জন্মবাপ!
…………………………………………..

১১.
আমি বেদনার কাছে ভাষা শিখি
যে দিকে তাকাই-যেতে যেতে
তোমার বুকের ভেতর
নিজেকে দ্যাখি-
ওহে প্রবণ-হৃদি,আগে জানি নি-বুঝি নি
এই বেদনা
এই ভাষা স্বপ্ন পোড়ায়…
…………………………………………..

১২.
স্তনের নিচে অন্ধকারটুকু আমার পিতামহের স্মৃতির ছায়াময় বিছানা
ভাবনার মোহনীয় জীবনের অজানা আশঙ্কায় আবেগি আশ্রয়
ভালোবাসার রাতগুলো নিমগ্নরাতের আহত জোসনা
স্বপ্নের পানসি টানার কালান্তরের সন্ত্রস্ত ঢেউতোলা স্নায়ু ব্যাকুলতা
এতো কুয়াশা
এতো কুয়াশা- চোখের বিরামচিহ্নর সঞ্চারিত রক্তাক্ত অনুবাদ
…………………………………………..

১৩.
ছায়ার অরণ্যে সূর্য ছুঁয়ে যায়-গহিন পাখির বিলাপে

এদিকে বাসাসে খোলস ভাঙা একটি গোপন জ্ঞানসজ্জ্বিত হেমলকদিন
আকাশ ঘুমিয়ে গ্যালে বৃক্ষরা নদী হয় ভূগোলে- মেঘ চাইলে রোদ
রোদ চাইলে বৃষ্টি যেন প্রকৃতির গলায় সোনার-হীরের হার! পৃথিবীর যতো
কামিনী ব্যঞ্জনা নিয়ে সর্বময় পাখিদের সংসার

সুন্দরের উপছায়া মুছে মুছে নির্জনতাকে চিনেছি আমি
এইসব বিছিয়ে পড়া দূরবর্তী অরণ্যের পাখিসংসারে
…………………………………………..

১৪.
মৃত্যুনিয়া গোলক মাথার ওপর

দিনের আলো ছুটছে পৃথিবীর ভুগোলে
রাতের আলো ছুটছে অমর হাওয়া-বাতাসে
তিনি ছুটছেন অপরুপ তরঙ্গে
ভাঙা আত্মার তালা খুলে
মরন মহাকাশে হেঁটে যাচ্ছেন তো হেঁটেই যাচ্ছেন
…………………………………………..

১৫.
মনে করো ভীষণ মেঘলামন আজ-
একটা মেঘলা আকাশ
দেশগ্রামে- আমি ঘুমের অলৌকিক দুন্দুৃভি বাজিয়ে
পৃথিবীর দিকে হাঁটছি
এভাবে হাঁটতে হাঁটতে ঘুরতে থাকি এবং পৃথিবীকে খুঁজতে থাকি
মৃত আত্মার সুন্দর বিস্ময় প্রাচীর-দূরবর্তী নিকটদূরত্বে
অন্যদিকে তুমি রোদজোস্না ভেঙে ছায়ার ঘ্রাণে আমরা বেঁচে উঠছি
…………………………………………..

১৬.
আজ খুব শারীরিক চৈত্রমাস
শরীরের ভেতর হাসপাতাল লুকিয়ে থাকে
মানুষ অ্যাপ্রনভরা গন্ধে নাকে বাসাস শুকি
চোখ বুঁজে শরীরের কোলাহল দেখি-বুকের মধ্যে নিরিহ কফিন
বিপুলস্তন পৃথিবী গনগণের সূর্য মেখে মায়ের পেটে জলচুরি করছে
…………………………………………..

১৭.
সুখ থেকে ছুরিচঞ্চুতে নীলজোস্নার বিষ
সুখ থেকে অপচয় শুরু
ঈশ্বরের চুল বৃশ্চিকে বেঁধো রক্তের লোনাজল মুছে
দিনের ভাঁজ নিভিয়ে নেশাগ্রস্ত আয়ূ মধ্যরাতে দিনের বেলা লুকিয়ে থাকে
দেহপোড়া ঘ্রাণ বিছিয়ে সোমত্ত যুবতী হচ্ছে নতুন ঈশ্বর
সকালে দ্যাখি কে যেনো ঋতুরূলোর বনে বাসনার চোখ বিছিয়েছে
…………………………………………..

১৮.
ঘুম বেশ গোলাপপ্রিয়
খেলার ছলে ভাঙে মনের ডাল
কপাল দশকের ব্রা পড়ে
সুরা ঘুম তন্দ্রালু
অন্ধকার লম্বা ছায়াফুল
আজ রাতের স্ত্রী নক্ষত্রগুলো স্বভাবের যৌণতত্ত্ব
ভুলে জেগে দ্যাখে বিবর্তনবাদের বিরহঘুম…
…………………………………………..

১৯.
সুরের পানশালা-
মির্জা গালিব আমাকে সুরাপান শিখেয়েছেন
ওমর খৈয়াম রুবাইয়াতের পেয়ালা হাতে কাঁদে
প্রিয় সাকি-
আমার অবশিষ্ট মৃত্যুটুকু ফিরিয়ে দাও!