জলছাপ

ক্ষনিকের ডাক তন্ময় মন
বিদগ্ধ প্রানে পরশ বুলায়
গোলাপের ঘ্রাণ ছড়িয়ে দিয়ে
প্রিয়জন সেতো দূরে সরে যায়।

জন্মান্ধের জীবন-যাপন
সেই শুধু জানে তার ব্যকুলতা।
যেখানে শিশির জলছাপ আঁকে
নিদ্রা হারা সজলতা।

প্রলুব্ধ মন, নিষিদ্ধ প্রেম
অন্ধকারের বিলাসিতা
গোলকধাঁধায় যায় যে সময়
দেয় ভুলিয়ে কোমলতা।

অধীরতায় জীবনাবসান
গহীন পথে ভুল নিশানা
বিদগ্ধ প্রাণ বিশুদ্ধ মন
ছাড়িয়ে যায় শেষ সীমানা।
……………………………………………

সুখ

সুখ সুখ খুঁজে যায় যে মন
সুখ কি পাওয়া যায়
সুখের খোঁজেই জীবন মরণ
সুখের পরশ বুলায়।

সত্যিকারের সুখটা যে কি
যায় কি তারে বোঝা
সুখ সন্ধানে দিন রাত্রি
ডাকছে বদ্যি ওঝা।

সুখ সুখ করে কাঁদে এই মন
সুখের সংজ্ঞা যে কি?
যতই সুখের ধারা বহে
আলোর মাঝে জোনাকি।

সুখ যতো পায় চায় ততাধিক
তৃপ্তিতে মন ভরে না
থরে থরে সুখ সাজাই তবু
সুখের ডালি ভরে না।
……………………………………………

আবাস

হাজার টুকরো কাঁচের মতন
ছড়িয়ে দিয়ে মন
অভিনয়ের বুলির ভাঁজে
করে যে যতন।

রূপ সাগরে অন্ধ হয়ে
নিশীথ আপন করে
হৃদ বেদনা যায় ছাপিয়ে
যন্ত্রণাতে মরে।

বন্ধ দোরে আঘাত করে
দৃষ্টি যে হয় নত
পানশালাতে আহুতি দেয়
স্বেচ্ছাচারীর ব্রত।

আঘাত সেতো আড়ালে রয়
জর্জরিত মন
ধুলোয় মাখা বসন গায়ে
পালিয়ে কতক্ষণ!

আকাশ জুড়ে মেঘের মায়ায়
কল্পনাতে বাস
তাসের ঘরের মতন ভাঙে
স্বপ্নে গড়া আবাস।
……………………………………………

ঝুমলি

কালো পাহাড়ের সুনিপুণ সারি
পাহাড়ি ঝর্নার কলকাকলি
মহুয়া বনের মাতাল করা ঘ্রান
পিঠে ঝাঁকা নিয়ে কালো মেয়ে ঝুমলি।

খোঁপায় জড়ানো বেলফুল মালা
চলার তালে নাচের ছন্দ
গুনগুন করে সুর ভাঁজ দি
রুমঝুম তার কোমরবন্দ।

বুনোলতা ঘেরা মেঠো পথে সে
আনমনা তার ভাবনাগুলি
নির্মিলীত হরিনী নয়ন
সুহাসিনী মুখে মিষ্টি বুলি।

স্বপ্নালুবেশে মুখরিত সে যে
ভাবনায় খোঁজে বিভোরতা
মেঠোপথে পদচিহ্ন জুড়ে
রেখে যায় কর্ম সফলতা।
……………………………………………

লক্ষ্য ভ্রষ্ট

অন্তরেতে বিষাদ মাখা জোছনা নামে ঢেউ
মেঘ এর ছায়া যায় ডুবিয়ে নুড়ি কুড়ায় কেউ।
অঙ্গারেতে হৃদয় জ্বলে যমুনায় দেয় ডুব
সর্বনাশা বাণ দর্শিয়াও তুমি আমি চুপ।
গলেতে বিষের কাঁটা বিধে অহর্নিশি
পঙ্কিলতা যায় মাড়িয়ে জ্ঞান সন্ধানে ঋষি।
ঝিনুক খোঁজে মুক্তো জড়ায় সাগর সেঁচা জলে
রক্ত জবা রাঙায় আকাশ অভিমানের ছলে।
শিমুল বাগান পরশ বুলায় সবুজ ধরনীতে
শর ধনুকের ধনুধারীর লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয় তাতে।
কপটতার খোলস গায়ে জীবন সর্বনেশে
অজ্ঞানতার স্রোতে মিশে কোন সে সুদূর দেশে।
ধুম্রজালে জীবন ঢাকা অন্বেষাতে সুখ
বৃহন্নলার বেদন ঢাকে আর্শিতে ওই মুখ।
……………………………………………

কোথায় যাবি বল

এই আমাকে একা করে
কোথায় যাবি বল,
বেদন ভাঙার ছল
রোদের সূর্য জ্বলজ্বল
আমার একাকী সকল।

তুই যে আমার কদম তলায়
হারিয়ে পায়ের মল
আমার চোখের জল
ভীষণ ব্যাথার দল
আমার লেপ্টানো কাজল।

তুই যে আমার উড়িয়ে দেয়া
নীল শাড়ির আঁচল
আমার চাহনি সজল
বুকের রক্ত কলকল
চোখের অশ্রু টলমল।

নদীর তীরে আছড়ে যে ঢেউ
ছলাৎ ছলাৎ ছল
বল সজনী বল
হৃদয় করবি কি দখল
অশ্রু হয় না যে বিফল।

খুনসুটিতে বলবি কিরে
আঙ্গিনাতে চল
হাসবিরে খলখল
তাথৈ নৃত্য করে দল
আমার হাস্য কলরোল।
……………………………………………

হিন্দোল

আষাঢ় ঘন কালো
নীল মেঘ থমকালো
অম্বরে ঢালে সুধা বারি,
বিজলীর চমকে
থরথর ধমকে
ধরায় কাঁপুনি দেয় নাড়ি।

সুনীল আকাশ তলে
কম্পন মৃদু জলে
যেন বুঝি কেঁপে উঠে হিয়া
টুপটাপ ঝড়ে ফুল
দুলে সুরে হিন্দোল
কলতানে হৃদ চমকিয়া।

গুম গুম ডাকে মেঘ
বাতাসে বহিছে বেগ
কল্লোলে সুর ভাজ তোলে
বৃষ্টির ছন্দে
মন ভজে আনন্দে
শিহরণে মৃদু লয় দোলে।
……………………………………………

তুই বৃষ্টি হয়ে যা

বৃষ্টি হয়ে ধরার বুকে
ঝড়তে পারিস যদি
বুঝবো তখন আমার হয়ে
থাকবি নিরবধি।
শুষ্ক জমিন সিক্ত করে
নতুন ফসল বুনবি
হয়তো সেদিন চুপটি করে
আমার ডাকটি শুনবি।
বৃষ্টি শেষে রঙধনু মেঘ
ছড়িয়ে দিতে পারবি?
আঁকড়ে ধরে রইবো তবু
আমায় যেদিন ছাড়বি।
সবুজ বনের ইশারাতে
যেই না হঠাৎ থামবি
মেঘ হয়ে ওই আকাশ থেকে
টুপ করে তুই নামবি।
……………………………………………

বেলা শেষে

আজকে তোমায় দিলেম ছুটি
বেলা ফুরোবার আগে,
আঘাত যতোটা সইতে পারো
রাগে বা অনুরাগে।

তোমার আকাশ ভীষণ ভারী
ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি,
আলোর মাঝে অন্ধকারে
করলে অনাসৃষ্টি।

আমি কেবল দিনের শেষে
রাতের তারা গুনি,
ঝিরিঝিরি মেঘলা হাওয়া
কান পেতে তাই শুনি।

পাট ভাঙা রোদ যায় যে সরে
আপন গোধুলিরে,
বেলা শেষে সব পাখিরা
তাইতো ঘরে ফেরে।
……………………………………………

অশ্রু ভাঙার গান

তপ্ত হৃদে কষ্টের ঢেউ
উথলে ওঠা বান
আঁখির স্রোতে যায় রাঙিয়ে
অশ্রু ভাঙার গান

রঙ মহলের হরেক রঙে
দুঃখ লুকায় বনে
কুহেলিকার শীতল বাতাস
পরশ বুলায় মনে।

সপ্ত ডিঙায় নাও ভাসিয়ে
উর্মিতে তাল তুলে
হরেক রকম বেদনা নিয়ে
বকুল মালায় দুলে।

জন্মাবধি কেঁদেই চলে
দুঃখে ভাসায় বুক
সকল খেলা সাঙ্গ করে
হয় যে বধির, মূক।