অশ্রুবৃক্ষ

দুঃখ সয়ে সয়ে
অঙ্কুর ছেড়ে আমি তো শুধু
বৃক্ষ হতে চেয়েছিলাম
অথচ দেখ চেয়ে আমার শাখায় পাতায়
কীভাবে দুঃখরা বসে থাকে
দেখ জগতের সকল মেঘ বৃষ্টি
এখানে এসে কান্নাবেহালা হয়ে বাজে
সূর্য পিছলে পড়ে কী অবহেলায় !
ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ে
জগতের সব বেদনার নামে
আমি হয়ে গেছি এক অশ্রুবৃক্ষ।
…………………………………………..

অভিজ্ঞতা

সাঁতার জানো?
গভীরতা না জেনে নেমে পড়েছ নদীতে
ভেবেছ জলই তো
জলের মত সহজ আর কী আছে কিন্তু জানোনা
জলও ফিরিয়ে দেয় অনভিজ্ঞতা।
…………………………………………..

আপন জল

বর্ষা ঋতু একাই চোখে ধরলি নাকি তুই?
বৃষ্টি জল ধরতে গিয়ে তোকেই কেন ছুঁই?
রেখে এলাম দুঃখ ধুয়ে আমার ছিল যারা
তোর কাছে ফিরবো বলে তাইতো এত তাড়া।
…………………………………………..

মন মানে না

তুমি কুনদিন আইবা ? পথ চাইয়া থাহি আমি
শহরো আমার ভালা লাগেনা – দম বন্দ লাগে
এইহানে মানুষ নাই খালি পাথর ইট সিমেন্ট
ফুল নাই পাতা নাই গাছ ভরা খালি কাঁটা
আমার অস্থির লাগে আমারে লইয়া যাও
লইয়া যাও আইয়া -আমি যে ডাকি তুমি হুনোনা?
এই পাষাণ জাগাত আমি থাকতাম না – না
আমারে কি ভুইললা গেছো ?হাছা কইরা কউ
ভালাবাসা কি কচু পাতার পানি ?
গেরামের গাঙ্গের পাড়ে কী জানি থইয়া আইছি
আমার পরান পুড়ে গেরামো যাইতাম – লইয়া যাও
তুমি আইয়া লইয়া যাও আমারে … একবার-
…………………………………………..

এখন কথা নয়

একদিন আমি তোমাকে সব কথা খুলে বলবো
মালীর বাগান থেকে
কী করে উধাও হয়
কী করে মিলিয়ে যায়
সূর্যোদয় থেকে সারাদিন যত্নে রাখা সুখগুলো
তোমাকে বলবো আমি
বলবো ভেবেছি সত্যি
জমাট দুঃখের কথা
কালো দুঃখ পুড়ে আলো জ্বালানোর পেছনের কথা
আমি তো বলতে চাই
বলার সময় নেই
সময় হয়না কেন
আকাশের উঠোন থেকে মেঘ কুড়িয়ে মালা গাঁথি
মেঘেরা আমাকে ফেলে
নিমেষে হারিয়ে যায়
মায়ার বন্ধন ছেড়ে
কূলে বসে হাত বাড়াই পা ভেজানো জলের দিকে
জলের ভিতর মায়া
জলের ওপরে ছায়া
জলেরা শোনেনা কথা
এসব কথা বলার জন্যে কত যে অপেক্ষা করি
সময় আসুক দেখো
বলবো তোমাকে সব
একটু সময় দাও
ফুল ফুটেছে তাকে তো আগে ফুলদানিতে সাজাই।
…………………………………………..

অভিমান

তোর কাছে যেতে মানা করে অভিমান
যখন খুশি যোগাযোগে তাই পড়েছে টান।
দুইজনের মাঝে এখন বাবলা কাঁটার বেড়া
দুই হৃদয়ের সীমানাতে চলছে কাঁটাছেড়া।
চোখের জলের চোখ রাঙানি , ঢের হয়েছে থাম,
বুকের খাঁচায় দুঃখ বেঁধে ভুলে যা তার নাম।
…………………………………………..

ফোন নম্বর

মুছে দিতে পারতাম
হ্যাঁ মুছে ফেলতেই পারতাম
কিন্তু না। মুছে দিইনি
অন্য কেউ হলে কী করতো জানিনা
তবে আমি মুছতে পারিনি
আজও মুছে ফেলিনি তোমার ফোন নম্বর
মুছিনি তোমার নাম ফোনের তালিকা থেকে
তবে ফোন করিনা কখনো
করবোও না আর
শুধু ছুঁয়ে দেখি মাঝেমাঝে
কেন?
ভালো লাগে, আবেগে আপ্লুত হই
অনেক অতীত ভাসে চোখে
কখনো কাঁদি কখনো হাসি একা একা
ডায়াল করতে আংগুল উসখুস করে
নিজেকে বিরত করি কষ্টে
অভিমান হচ্ছে বুঝি?
তবুও আমার সিদ্ধান্ত এটিই রইলো
ফোন নম্বরটা ছিল, আছে- তাতে কী?
থাক
নম্বর থাকলেই ফোন করতে হবে
এমন কোনো কথা নেই
কতজনের ফোন নম্বর আছে তালিকায়
যাদেরকে কখনো ফোন করা হয়না
তেমনি এটাও থাক, রয়ে যাক
আমি ডায়াল করবো না
কারণ ওই প্রান্ত থেকে কেউ
কোনোদিন আর বলবেনা “হ্যালো”
কোনোদিন ভেসে আসবেনা আর সেই কন্ঠস্বর।
…………………………………………..

সারী নদী

বুকুত কান পাতিয়া হুনো
আমার মন বান্দা আছে তুমার মনোর লগে
তুমার ঢেউওর মাজে মাখি দিলাম মায়া
লগে খরি নিলাম তুমার সুর
আর যুদি দেখা না অয়
আর না ফারি বইতাম তুমার খান্দাত
তুমার পানি দি দইতাম আমার চোক
ভুলিওনা তুমি রে গো ভুলিওনা
মনো রাকিও আমারে সারী নদী ।
…………………………………………..

দুঃখ

জন্ম থেকেই শিরায় মিশে ছিল দুঃখ
তাকে আর সরানো গেলো না
আলোয় আঁধারে সে আমার নিকটতম আত্মীয়
জীবনমাঠে এসো দুঃখ দুঃখ খেলা করি।
…………………………………………..

সুখ
দুঃখ কারো আরাধ্য নয় যদিও সে পরাক্রমশালী
এক ফোটা দুর্বল সুখও মানুষের কাছে মূল্যবান।