প্রার্থনা

আমাকে রেখনা আর, ধোয়াশা আঁধারে
বলে দাও মৃত্যু হবে, হবে কোন বারে;
আমি চাই মৃত্যু হোক, কোনো জুম্বাবার
চলে যেতে বাঁধা নেই, শেষপারাবার।

মৃত্যভয়ে কখনো যে, হইনি কাতর
জন্মিলে মরতে হবে, জানি নিরন্তর;
তাই আমি তৈরি থাকি, সদাসর্বদায়
মৃত্যুদূত আসে কবে, থাকি অপেক্ষায়।

দয়ময় কর তুমি, মাফ কর গোনা
কোরানের মর্মবাণী, হয়নি যে শোনা;
আমি বড় গোনাগার মন কর সাফ
হে মহান প্রভু তুমি, পাপ কর মাফ।
…………………………………………..

ধূয়ে দাও মৃত্তিকামন

ধূয়ে দাও বৃষ্টি
ধূয়ে দাও ঢলে
হৃদয়ের যত ক্লেদ
যত আবর্জনা,
ধূয়ে ধূয়ে করে দাও সাফ
আমার এই ক্লেদাক্ত মন
পবিত্র কর তোমার জলে।

কত না শুদ্ধ ছিল এই মাটি
ছিল পরিপাটি
মন ও হৃদয় ছিল খাঁটি
সবুজ সজীব প্রান্তর ছিল
সুন্দর পবিত্র প্রাণময়
সবকিছু পঁচে গিয়ে আজ
হয়ে গেছে দুর্গন্ধময়।

অবশিষ্ট নেই আজ কিছু
ধায় পিছু পিছু নষ্টের ছায়া
ঢেকে দিছে মানুষের কায়া
কুলষিত নর্দমার জল।

ধূয়ে দাও বৃষ্টি ধূয়ে দাও
প্রবলধারায় একেবারে
ধূয়ে মুছে নিয়ে যাও
নিয়ে যাও নোনাজলে।
…………………………………………..

কার কাছে রেখে যাই ওকে

আমি অই ফুলের মতো কঁচিকঁচি মুখগুলোর
দিকে তাকাতে পারি না, ভয়ার্ত নির্বাক অইসব
নিষ্পাপ শিশুদের টলটায়মান অশ্রুধারা
আমাকে লজ্জার অথৈ সাগরে টেনে নিয়ে যায়
তাই আমি চোখে চোখ রেখে তাকাতে পারি না
তাকালেই কষ্টে বুকের পাজর ভেঙে গুড়ো
গুড়ো হয়ে যায়, হয়ে যায় ধূসর মাটি।

আমি তাকাতে পারি না সেইসব শিশুদের
দিকে যারা জগতের ভাল-মন্দ, সৌন্দর্যরূপ
দেখার আগেই, পশুদের পাশবিকতায়
ঝরে যায়, সরে যায় সময়ের আগেই
কেবল মেয়েশিশুটিই নয়, ছেলেশিশুটিও।

আর যারা পশুদের হিংস্রতার থাবায় আহত
শরীর নিয়ে বেঁচে থাকে, সারাজীবনই তাদের
বয়ে বেড়াতে হয় কষ্টের নিদারুন বোঝা
সারাক্ষণ ধাওয়া করে বেড়ায় সেইসব
হিংস পশুদের ছায়া, দেখতে হয়
শুয়োরের কদাকার মুখ।

অামি কার কাছে পাঠাবো সন্তানকে, যাকে
পিতার মতোই পরম শ্রদ্ধায় মাথানত করে
হেফফজ করে সুরা কোরআনের আয়াত,
যে শিক্ষকের কাছেই নেয় বর্ণমালার পাঠ
অথবা পরম স্বজন জেনে যার সাথে খেলতে
যায় মাঠে, সে মানুষ নিমিষেই হয়ে যায় শ্বাপদ
মুহূর্তেই ধারন করে দাঁতাল হায়ানার রূপ।

কলিরা ফোটার আগেই সেফটি ট্যাঙ্ক নর্দমা
থেকে ওঠে আসে দাঁতওয়ালা, দাড়িওয়ালা
কুৎসিত কীট, বিষাক্ত দংসনে দংসিত করে
কলিদের শরীর, তারপর গ্লানি আর হতাশা
জীবনের ছন্দ সুর হারিয়ে বাস করে যায়
অরক্ষিত ভয়ঙ্কর এই সমাজ ও সংসারে।

আমার এখন অফিস ভয় হয় কারখানায়
গেলে কু-ডাকে মন, অমঙ্গলের একটা
পেঁচা উড়ে আমার মাথার ওপর, তখন আর
পা চলে না, মন পড়ে থাকে ঘরে, মাদ্রাসায়
কুমির, স্কুলে বাঘ, আর ঘরের আঙ্গিনায়
ওৎ পেতে বসে থাকে কোনো পাগলাকুকুর।

এখন আমি কোথায় কার কাছে রেখে যাবো
আমার প্রিয় শিশু সন্তানটিকে, ঘরে-বাইরে,
শিক্ষাঙ্গণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা এমন কী
ঘরের ভেতরেও আমার শিশু সন্তানেরা
নিরাপদ নয়, তাদের নিরাপত্তা নেই
সমাজের কাছে, রাষ্ট্রের কাছে, তা হলে
কোথায়, কার কাছে রেখে যাই ওকে?
…………………………………………..

ঋণ

আকাশ এবং মেঘের কাছে
ঝর্ণা ও নদীর কাছে
কত যে আমার ঋণ
সুদে-আসলে বাড়ছে দেনা
বাড়ছে তা প্রতিদিন।

বনানী এবং অরণ্যের কাছে
সূর্য ও চাঁদের কাছে
ঋণ আমার কম নয়
তবু সবাই ঋণ শোধ ছাড়াই
জীবন করছে শুভময়।

বাতাস এবং সাগরের কাছে
হাওড় ও বাওড়ের কাছে
কত ঋণ রয়েছে যে জমা
ঋণ শোধ না করে চলে গেলে
করিও সবাই ক্ষমা।

মা-বাবা এবং পরিবারের কাছে
প্রণয়িনী ও কবিতার কাছ
কত ঋণ রয়ে গেছে বাকি
সবঋণ রেখে চলে যাবো দূরে
সবাইকে দিয়ে ফাঁকি।
…………………………………………..

বেসুরা বিহাগ

ফুলের পরাগ মেখে, মনকুঞ্জ বনে
রেখেছি তোমায় মায়া, সোহাগে যতনে
রঙিন বিহঙ্গ গানে, উথলিত মনে
গানের সুুরের তানে, পাখির কূজনে।

চোখে কত কথা ছিল, ছিলনা যে ভাষা
মনের গোপন কোণে, ছিল কত অাশা
সেই আশা ভেঙে দেয়, মেঘের গর্জন
বিরূপ নিয়তি গিলে, সময়ের ক্ষণ।

সেই থেকে মন উড়ে, শ্রাবণ অাকাশে
উড়ে উড়ে শুধু ঘোরে, বিবাগী বাতাসে
কেনো যে তাকে তবু মনে পড়ে যায়
নেই সে যে কাছে আজ, দূর সীমানায়।

আমার আকাশ ফাঁকা, শূন্য চরাচর
বিরহ হৃদয় ভরা, কষ্ট সহচর
কাটে না মনের দুঃখ, শুধু অাতান্তর
পাখি নেই ছানা নেই, শূন্যতার ঘর।

কত যে বেদনা স্মৃতি, বুকেতে মজুদ
ধিকিধিকি জ্বলে মনে, গোপন বারুদ।
তবু তারে মনে করে, ফেলি দীর্ঘশ্বাস
জানি এটা অযথাই, বেদনাবিলাস।