ঘোষখোর ও কসাই

পুলিশ ঘোষখুর ডাক্তার কসাই
মুখে মুখে বলি সবাই।

ভেবেছো কি কখনো
মহামারীর জাত উপরাতে করছে কারা
দিনকে রাত, রাত কে দিন।

হয় ডাক্তার মানুষের মাংস কেটে কসাই
হয় পুলিশ ধর্ষিতার লাশ বেচে সন্ত্রাস।

মহামারীতে সবাই ভয়ে
সেই ভয়কে জয় করিতে
লড়ছে পুলিশ ঝাকে ঝাকে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রান দিয়ে
গাইছে যে গান পাহাড়াদার হয়ে
রাস্তায় রাস্তায় গিয়ে গিয়ে
লাশ নিয়ে যায় ঠেলা গাড়িতে
খাটিয়া না পেয়ে বাশে করে
কাধে নিয়ে গোরস্থানে
কবর খুরে, জানাজা পড়ে
ঘোষখুর পুলিশই আছে এখন
বন্ধু হয়ে সবার পাশে

কসাইরা সব হাসপাতালে
পিপিই পড়ে, ঘাম ঝড়িয়ে
পরিবার ছেড়ে রোগীর পাশে
মৃত্যু ভুলে,সাহস দিতে
ক্ষুধা ভুলে,রোগীর পাশে।

কসাইরা সব করছে দোয়া
দিনে রাতে রোগীর সেবা
কসাইরা সব জীবন দিয়ে
চলে যাচ্ছে না ফেরার দেশে
ঘোষখুররা তো মরছে বেশী
সেবা দিতে নিন্দুকেরে।
……………………………………………

ফ্যাশন

আকাশ সংস্কৃতি
বিজ্ঞানের বিস্ময় সংস্কৃতি
আকাশ সংস্কৃতি।

অভিনব মানব হয় উতলা
শিশু থেকে বুড়ো সবাই আসক্ত
আকাশ সংস্কৃতি।

কম্পিউটার, মোবাইল, টেব
নিয়ে আকঁড়ে অক্টোপাসের ন্যায়
আকাশ সংস্কৃতি।

কেউ করে ব্যবহার প্রয়োজনে
কেউবা করে মনোরঞ্জনে।
আকাশ সংস্কৃতি।

একদিকে ধ্বংস
আরেক দিকে সৃষ্টি
আকাশ সংস্কৃতি।

ফ্যাশনের চেয়ে বড়ো ফ্যাশন
গল্পকথন হলো বড়ো ফ্যাশন
আকাশ সংস্কৃতি।

এক বিশ্ব এক গ্রাম
ইন্টারনেট দিল তার নাম।

রেডিও, টিভি হয়েছে ঠুনকো
পৃথিবীরাজ্যে করছে বিরাজ
বহুরূপী একটা যন্ত্র বিশেষ।
আকাশ সংস্কৃতি।
……………………………………………

বিয়োগ বলে

শূন্য
এক থেকে নয়
গণিতের সংখ্যা
শূন্যহীন পূর্ণ না হয়
দশক, শতক, হাজার
লক্ষ, কোটি সবই হয়

টাকার অংক শূন্যে বাড়ে
দাম আছে দাম নেই
তবুও শূন্যের রাজত্ব
সর্বত্র।

যোগ বলে শূন্যের প্রয়োজন
নেই
বিয়োগ বলে শূন্যের দরকার
দেয়
গুণ ভাগে গণনার দরকারে তোরে
নিই

সবশেষে
বিবাহিতা বউটি শূন্যের মতো
ব্যবহার হয় যত্রতত্র
চাপা কষ্ট নিয়ে স্বামীর ঘরে
অবহেলায় আমৃত্যু পড়ে রয়।
……………………………………………

কবিতা

শব্দ ব্যবহারে
মুগ্ধ পাঠক
সে তো কবিতা।

বাস্তব চিত্র
করে অংকণ
সে তো কবিতা।

প্রকৃতির প্রেমে
আচ্ছন্ন আমি
সেতো কবিতা।

আধ্যাত্মিক চেতনা
বিকাশে লিখন
সে তো কবিতা।

পাখির গুঞ্জন
কানে ধ্বনিত
হয়ে লিখলে
সে তো কবিতা।

মনের বকবকানি
গুছিয়ে লিখন
সে তো কবিতা।

পারি না আমি কবিতা
লিখতে।
সাহস দেখিয়ে
লিখলে ক্ষতি কি?
……………………………………………

গোলাপ

ফুলটি লাল
মানুষের রক্ত লাল
গোলাপের কাঁটা আছে
মানুষের আছে লোম।

গোলাপ দিয়ে প্রেম নিবেদন
গোলাপ দিয়ে বধূ সাজন
মানুষ করে প্রেম নিবেদন
মানুষ সাজে নতুন সাজন।

মানুষের রক্ত লাল হলেও
আছে ধর্ম ভেদ
গোলাপ আছে হরেক রকম
নেইকো ভেদাভেদ
লাল রংয়ের রক্ত
নিয়ে জাতি ভেদাভেদ
লাল রংয়ের রক্ত নিয়ে
বর্ণ ভেদাভেদ
গোলাপ যেমন উজাড়
করে দেয় ভালোবাসা।
মানুষ তোমরা গোলাপের
মতো করো নিমন্ত্রণ
থাকবে না আর জাতি ভেদ
আর থাকবে না বর্ণ ভেদ।
……………………………………………

ভালোবাসি তোমায়

পড়ন্ত বিকেলে কাছে আসলে
আমি তোমায় ফিরিয়ে দিবো
সূর্য অস্তমিত সময়ে তুমি
কাছে আসলে ফিরিয়ে দিবো
প্রহর তুমি গুণনি গুণেছি আমি
আশা তুমি করোনি করেছি আমি
ভালো তুমি বাসোনি ভেসেছি আমি

সূর্য অস্তমিত হয় বুকে লাল রক্ত মেখে
আমি তোমায় পুষতে পুষতে জ্বলে গেছি
দূর বাঁশির সুরে বিমোহিত হয়ে
তোমার কাছে ছুটে আসি
তবুও তুমি আমায় ফিরিয়ে দিলে
ভাবলাম যাবো না তোমার কাছে
আমার ভালোবাসার অনুভূতি নিয়ে।
……………………………………………

মরণব্যাধি

ভূল করে মানুষ জেনে শুনে
ভূল করে মানুষ দেখে বুঝে
মদ্য পান ভালো নয়
ধূমপান ভালো নয়
মদ্য পানে পাপ হয়
সিগারেটের ধোঁয়ায়
রাসায়নিক পদার্থ নষ্ট হয়
জানি সবাই,বুঝি সবাই
জীবন ধ্বংসে মত্ত মোরা
হালাল ছেড়ে হারাম গলায়
নেশার জোয়ারে। ভাসতে ভাসতে
হঠাৎ শুনে, ধরছে অসুখে
বিদায় নিবে জেনেও
বলছে চাচা দেনা বাপু
মরলে মরবো, খেয়ে মরবো
আপনজন বলে,ছাড়ো এবার
বেশ হয়েছে, ধূমপান
আর করোনা, ধূমপান
মরণব্যাধি নিয়ে যাবে
কবরের ও পার।।
……………………………………………

মনের লিখন

মনের লিখায় নাইরে খাতা
মনের কথায় হয় না শব্দ
ভালোবাসার প্রাণভোমরা তুমি
তুমি আমার প্রাণের ডায়েরী
যে ডায়েরীতে লিখতে গিয়ে
শেষ হয় না আমার কথা
কি করি বলোতো তুমি
ভালোবাসার অনুভূতি
নাকি তোমার প্রতি ঝোঁক
কিছুই যে যায় না বুঝা
মনের মধ্যে একটি নাম
অণুরুনন করে বেড়ায়
যেখানে থেকো ভালো থেকো
ভালোবাসায় এই আমার
তোমার জন্য প্রত্যাশা।
……………………………………………

বণর্মালা দুঃখগাঁথা

ফেব্রুয়ারির মাতৃভাষা
বর্ণমালার বাংলাভাষা
ভাষার জন্য প্রাণ দান

ভাষার জন্য মরণ পন
বায়ান্নের ছাত্রগণ।

রক্তভেজা রাজপথ
একবিংশে কাঁদে বর্ণ
অপব্যবহারে মোরা সব।

বাংলা নামের মানচিত্রে

ইংরেজি নিয়ে মত্ত
বাংলা ভাষার
অবমূল্যায়নে নিমগ্ন।

রুখো সবাই ,শুধরে চলো
বাংলার করি সঠিক সম্মান
আপন গোত্রের আপন ভাষার
বর্ণমালার দুঃখের মিছিল

আমরা করবো নির্মূল
আত্নত্যাগের ছাত্ররা
কেঁদে বেড়ায় এ বেলায়
ওরে তোরা করিস না
মায়ের ভাষার অপব্যবহার
……………………………………………

নারী

নারী তুমি সৃষ্টি, তুমি ধ্বংস
নারী তুমি সহ্য, তুমি ধৈর্য।

নারী তুমি মা, তুমি গর্ভধারিণী
নারী তুমি আধার, তুমি আলো।

নারী তুমি সংসার, তুমি শান্তি
নারী তুমি বউ, তুমি মা
তুমি বোন, তুমি অর্ধাঙ্গিনী।

তোমার হাতে স্বপ্ন সাধ্য
দিয়ে তোমার আত্মত্যাগ।
তুমি মহিয়সী, তুমি গরিয়সী
তুমি হরিণী, তুমি সিংহী
তুমি পদচারিনী।
তুমি ছাড়া স্বপ্ন অচল।

তুমি ছাড়া পুরুষ অর্থহীন
তুমি ছাড়া সমাজ পথ ভ্রষ্ট
তোমার হাতে গড়বে সমাজ
তোমার হাতে গড়বে দেশ
যদি তুমি থাকো সচল।

নারী তুমি হলে নষ্ট
সমাজ হবে ধ্বংস
নারী জাতি তোমরা থাক
সবার পাশে হবে সমুজ্জ্বল।
……………………………………………

তোমার প্রতীক্ষায়

মধুমক্ষিকা ফুল থেকে ফুলে মধু নিয়ে বেড়ায়
তবুও আমি যামিনী কাঁটায় তোমার অপেক্ষায়
বিহঙ্গ হয়ে উড়ে যেতাম তোমার দেখা পেতে—
কিন্তু পবন হাওয়ায় আটকে আছি
আমার মনোহর সাগরে ভাসে তোমার পথ চেয়ে
ভালোবাসার প্রতীক্ষায় তুমি আসবে বলে…
……………………………………………

মৃত্যু নিবন্ধন

যাচ্ছি বলে বিদায় দিও
ফিরে আসার অপেক্ষায়।
না ফেরার দেশে চলে গেলে
আসবেনা আর আমরা চাইলেও।

মৃত্যু ঘন্টা বাজে যখন
আটকাতে পারেনা আপনজন
মৃত্যু নামক একটা চিঠি
আসবে যখন তোমার জন্য।

তৈরি না থাকলেও
আজরাঈল যাবে না খালি হাতে
রুহু কবজ করে লাশ বানিয়ে
তবেই তো শান্ত হবে।

মৃত্যু সেতো চিনে না বয়স
মৃত্য সেতো মানে না আপন-পর
মৃত্যু সেতো নিয়ে যাবে একে একে
সকল প্রিয়জন।
……………………………………………

শিক্ষা গুরুর প্রতি আহ্বান

একটা অক্ষর শিখায় যে
সেও তোমার গুরু
দ্বিতীয় বাড়ি, দ্বিতীয় অভিভাবক
আপনি শিক্ষক,আপনি গুরু
অমানুষ কে মানুষ করেন
অসভ্য কে সভ্য করেন
সমাজের বিশুদ্ধকরণ
ভবিষ্যতের কান্ডারি
দেশ গড়ার কারিগর আপনারা
শিক্ষা জীবনের শেষ ধাপে
মন খারাপ করে বলছি
আমি যদি আর কিছু দিন
আপনাদের কাছে থাকতে পারতাম
অনেক অনেক ভালোবাসা
যত্ন পেয়েছি, আপনাদের কাছে।