সমুদ্রকান্তা

সমুদ্রকান্তা ছুটে যায় সিন্ধুপানে,
হর্ষনাদে পুলকিত তার হিয়া!
যেন সর্বাঙ্গে লোধ্ররেণু,
কায়াময় মুচুকুন্দের সুবাস!
হাজার বছর পর,
প্রাগুপ্ত সংলাপে মুখর দুজন-
“এতোদিন কোথায় ছিলে!”
এ কথায় কান্তা উৎফুল হয়!
সেভাবে জীবন তুচ্ছ নয়,
বুঝে নেয় তার জীবন অমূল্য!
তটিনীর গুটিকতক সৃষ্ট
মল্লার ধ্বনিকে আজ মনে হলো
এ যেন লালিত স্বপ্ন তার!
নিজের কলকল ধ্বনিতে সে
আজ মুগ্ধতা খুঁজে পায়!
কামনা করে প্রসার্য হোক রাগিণী!
শৈবালিনী সতৃষ্ণ নেত্রে
রত্নকরের প্রণয়ে সমর্থিত!
তার মসনদ জুড়ে আজ
সন্ধ্যাপ্রদীপের রাজত্ব!!
……………………………………………

রাধা-রমণের বৃষ্টির গান

স্বপ্নীল আভাসে কথা রাখে রমণ,
রাধার ডাকে দেয় সাড়া ভরা বাদলদিনে
রাধা তাতেই আত্মহারা
রমণ ভাবে- কি হবে দেখা হবে যবে?
রাধা বলে : ‘এমন দিনে তুমি পাশে রবে-
সে কী হিল্লোল, নদীর কলকল, পাখির গান।‘
রমণ রাধাতে বিহবল,
দুজনা টলমল ঘোষণা করে প্রেমের জয়গান।

নির্মলা প্রকৃতি, কদম্বের সুবাস বিদ্যুতের ঘনঘটা,
পবনের ঝাপ্টায় রমণ রাধার প্রতি প্রেমের অকৃত্রিম আশ্বাসে-
রাধা বলে : প্রিয়তমেষু, ‘ভালোবাসো তুমি মোরে?‘
আবেগে জর্জর রমণ বলে :
‘কি বলো সখী এমন কথা এতোদিন পরে!‘
তরুরাজি স্তব্ধ হঠাৎ নামে গুমোট ভেঙে ঝুমঝুম বৃষ্টি
রাধা-রমণ বলে দুজন :
‘ওগো প্রিয় তবে কি আমাদের প্রেম স্বর্গ হতে সৃষ্টি!‘
……………………………………………

আদ্যিকালের প্রণয়

আদ্যিকাল থেকেই তুমি বিহনে আমি আধিক্লিষ্ট প্রাণকান্ত!
কালত্রয় একীভূত করে মিলিয়ে নিও!
আমার দেখা পুরুষোত্তম তুমি!
দেহাতীত এ প্রণয়ে দোতরফা অগাধ নির্বাণ লভেছিলাম একদা!
রাতের তমসায় নক্ষত্র পতির ছায়ায়,
আনতবদনে দাঁড়িয়ে নিশিগন্ধার সুবাসে নিশ্চুপ আমরা!
যেন গঙ্গাফড়িং লাফিয়ে গেল হৃদয়ের শীতল গলি ধরে!
তবুও কেন তুমি ক্ষোভিত?
তোমার ঐকরাজ্য আমার মনের সীমানায়!
কালগ্রাসে ধাবিত হয়েও আমি উচ্চারণ করে যাবো-
“ভালোবাসি প্রিয়তম”!
মনোজ্ঞ সুখে আমি পাড়ি দিব পরকালে!
এ ধ্রুব সত্যটুকু জেনে—
তৃণবৎ এ আমায় কেউ ভালোবাসায় প্লাবিত করেছে!
তারপর আমি মন্দ্র ঘুমে তোমাকেই এঁকে যাবো অনন্তকাল!!
……………………………………………

আলাপনের বেলা

দুজনার দেখা হলো অবশেষে!
সুনসান নীরবতায়, প্রাকৃতিক আবেশে!
কাটলো কিছু কাল, জমবে কিছু স্মৃতি!
বাড়ুক মায়াজাল, ভাসবে মুরতি!
বহুদিনের লালিত আশা, প্রীতি ও ভালোবাসা!
দূর করলে হাতাশা!
মিষ্টি মাখা স্বর, মৃদুস্পর্শী আদর!
এক কাপ চায়ে, পায়েল জড়ানো পায়ে!
হাতে পুষ্পমালা, তোমার গানের গলা!
তাকিয়ে নিকুঞ্জে হাসে দেখি অপরাজিতা,
পাশে তোমার বসে লিখি শত কবিতা।
পেরিয়ে গেল হঠাৎ আলাপনের বেলা!
দুজন দু’দিকে অগ্রসর নিরালা!
……………………………………………

আমি বিক্রি হতে চাই না

আমি বিক্রি হতে চাই না!
পোহাতে চাই না নিষ্ঠুর বেদনা।
আমি হবো উন্মুক্ত নীলাকাশ,
কনকনে বয়ে যাওয়া মৃদু বাতাস।
আমার রাজ্যে চলবে-
আমারই একক শাসনতন্ত্র!
শুনতে চাই না কারো যন্ত্রমন্ত্র।
আমি পাড়ি দেবো যেখানে খুশি।
আমি স্বপ্ন বুনবো রোজ,
বেঁচে থাকার অহর্নিশি!
আমাকে কেউ কিনতে পারবে না!
সাত জনমের সঞ্চিত কড়িতেও,
কূলোবে না আমার দাম!
তবে কেউ যদি ভালোবাসায়
পূর্ণ করে এই আমায়,
কথা দিচ্ছি তার রাজ্যেই
আমি গড়বো অমরাবতী!!
……………………………………………

বৃষ্টি এলো

ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এলো, টিনের চালে বৃষ্টি ঝরে।
বৃষ্টি এলো সবুজ ঘাসে, মুষলধারে বৃষ্টি পড়ে।
বৃষ্টি জলে উঠোন ভাসে।
তরুলতা ভিজছে খুব, আজকে তাদের বৃষ্টিস্নান!
ময়লা ধুয়ে করবে সাফ, গাইবে সুরে ঐকতান।

বৃষ্টি এলো, টিয়েরঙা লেবু পাতায়, নারকেলের সরু ডগায়,
ঢেঁকিশাক নাচছে ঐ, সুপারি সারি দাঁড়িয়ে ঠায়।
এ যেন বৃষ্টিরাজ্য, গড়বে সে আজ সা¤্রাজ্য!
কড়ই পাতায় বৃষ্টিফোঁটা, বন্ধ আজ মিহির ওঠা।
ছাতা মাথায় খোকা হাঁটে, বৃষ্টি থাকবে এ তল্লাটে।
ঝুম ঝুমা ঝুম বৃষ্টি এলো, নদী-নালা ভরে গেল।
যায় না যাওয়া বাইরে আজ, প্রকৃতিজুড়ে স্নিগ্ধ সাজ!
থামবে না সে ঝরেই যাবে, ঝরা জলে মান লুকোবে!
প্রিয় তার ঘরে নেই, নেই যে ভালোবাসা!
দূরদেশে বাণিজ্যে সে বিরহীমন সর্বনাশা!

কদমশাখে থোকা ফুল, চাপার সুবাসে মন আকুল!
প্রিয়হীন গৃহে হিয়া ব্যাকুল!

বৃষ্টি তবুও থামে না
প্রিয়ার হৃদয় বোঝে না!
ঝরছে তো সে ঝরছে অঝোর, বাজায় করুণ সুর!Ñ
ওগো প্রিয়তম, ‘আসতে আর কতদূর……!‘
……………………………………………

অনশ্বর প্রণয়

আমি ঘোষণা করেই যাবো একই নিনাদ,
আমাদের ভালোবাসা প্রাঞ্জল!
থেমে যাক প্রাণবায়ু ঘনিয়ে আসুক নিশান্ত,
তোমার চারুনেত্রে আমি উদ্রেক করবোই-
চক্রবাকীর নয়নানন্দ!
জাগরী চোখে নামুক কুহেলিকা,
কনকনে শীতের রাতে উদিত হবে নভোমণি!
মনের লুকানো দেরাজে সঞ্চিত আছে
তোমার জন্যে দেদার আশ্রয়!
তুমি কভু হারাবে না যাবে না দূরে কথা দাও!
জানোই তো তুমিহীন এ আমি যেন চকমকি পাথর!
অনশ্বর হোক আমাদের প্রণয়
এসো আহরণ করি অনাস্বাদিত যা কিছু…
……………………………………………

তরুণিমা

বনমল্লিকায় সুশোভিত তুমি!
বিভূষিত চন্দ্রসুধায়!
তবে কেন পাড়ুর ওই বদন?
কোন দুঃখ বুকে পুষে
করে চলেছো সমুদ্র-মন্থন!
ঐকল্য গ্রাস করেছে তোমায়
নগুরে নাটকীয়তায়!
মানুষগুলো পাল্টে গেছে
হয়েছে ভীষণ বর্ণচোরা!

প্রতিদিন পুড়ছে শ্রমিক
মরছে মায়ের সোনার ছেলেরা।
আমরা সবাই হাই সোসাইটির!
শোবিজ আমাদের আরাধ্য।
মিডিয়া জানে শ্রমিক মানে,
ফ্যান-ফলোয়ার অবরুদ্ধ!
তারা চায় ভিউ বাড়াতে!
ক্যামেরা সব ডিজে পাড়াতে!
এই করোনায় অনাহারে
ধুকছে শত অভুক্ত।
তাদের খবর অন্তরালে
ঝরছে দেশের রক্ত!
তরুণিমা তাই বুড়িয়ে গেছে
মুখ হয়েছে ফ্যাকাশে।
তার সন্তানেরা ভালো নেই,
মলিন চোখ তার দূরাকাশে!
……………………………………………

রবি কবি

দিগ্বিদিক ছড়ালো আলোর প্রতিচ্ছবি!
পৃথিবী খুঁজে পেলো সত্য, সুন্দর, কল্যাণ!
আরও পেলো অজস্র ছবি, কবিতা,
গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও গান!
মশাল হাতে করে গেলে অকাতরে দান!

তুমি চিরঞ্জীব, হে কবি আজও তোমায় স্মরি!
তোমার সৃষ্টিসম্ভার অমূল্য তুলেছো নবযুগ গড়ি!
আজ এই প্রয়াণ-দিবসে পাখি করে কলরব
তুমি ছিলে, তুমি আছো- রবে
তোমার রূপে-অরূপে সদা সরব!
……………………………………………

নিত্য প্রেম-দ্রোহ

ভালোবাসায় কি প্রাত্যহিকতা থাকতে নেই?
একটানা আশ্লেষে তুমি কি ক্লান্ত হও?
ঠিকই ইচ্ছে মাফিক আমায় চাও!
তবে কেন দূরত্ব খোঁজো?
এ কী তবে মোহ!

নিত্যতায় জন্মে দ্রোহ!
বুঝি না তোমার মনের অলিন্দ!
দেখা যবে পাও,
মুগ্ধতার বাহানা সাজাও?
যেন এক যুগ ধরে তৃষ্ণার্ত তুমি!
ছন্নছাড়া ছিলে আমি বিহনে!
রোজই দেখি যাও কুঞ্জবনে!
আচ্ছা, তোমার ভাবনারা কি
অন্য কারো গল্প বোনে?
……………………………………………

আদ্যিকালের প্রণয়

আদ্যিকাল থেকেই তুমি বিহনে আমি আধিক্লিষ্ট প্রাণকান্ত!
কালত্রয় একীভূত করে মিলিয়ে নিও!
আমার দেখা পুরুষোত্তম তুমি!
দেহাতীত এ প্রণয়ে দোতরফা অগাধ নির্বাণ লভেছিলাম একদা!
রাতের তমসায় নক্ষত্র পতির ছায়ায়,
আনতবদনে দাঁড়িয়ে নিশিগন্ধার সুবাসে নিশ্চুপ আমরা!
যেন গঙ্গাফড়িং লাফিয়ে গেল হৃদয়ের শীতল গলি ধরে!
তবুও কেন তুমি ক্ষোভিত?
তোমার ঐকরাজ্য আমার মনের সীমানায়!
কালগ্রাসে ধাবিত হয়েও আমি উচ্চারণ করে যাবো
“ভালোবাসি প্রিয়তম”!
মনোজ্ঞ সুখে আমি পাড়ি দিব পরকালে!
এ ধ্রুব সত্যটুকু জেনে—
তৃণবৎ এ আমায় কেউ ভালোবাসায় প্লাবিত করেছে!
তারপর আমি মন্দ্র ঘুমে তোমাকেই এঁকে যাবো অনন্তকাল!!
……………………………………………

আলাপনের বেলা

দুজনার দেখা হলো অবশেষে!
সুনসান নীরবতায়, প্রাকৃতিক আবেশে!
কাটলো কিছু কাল, জমবে কিছু স্মৃতি!
বাড়ুক মায়াজাল, ভাসবে মুরতি!
বহুদিনের লালিত আশা, প্রীতি ও ভালোবাসা!
দূর করলে হাতাশা!
মিষ্টি মাখা স্বর, মৃদুস্পর্শী আদর!
এক কাপ চায়ে, পায়েল জড়ানো পায়ে!
হাতে পুষ্পমালা, তোমার গানের গলা!
তাকিয়ে নিকুঞ্জে হাসে দেখি অপরাজিতা,
পাশে তোমার বসে লিখি শত কবিতা।
পেরিয়ে গেল হঠাৎ আলাপনের বেলা!
দুজন দু’দিকে অগ্রসর নিরালা!
……………………………………………

আমি বিক্রি হতে চাই না

আমি বিক্রি হতে চাই না!
পোহাতে চাই না নিষ্ঠুর বেদনা।
আমি হবো উন্মুক্ত নীলাকাশ,
কনকনে বয়ে যাওয়া মৃদু বাতাস।
আমার রাজ্যে চলবে
আমারই একক শাসনতন্ত্র!
শুনতে চাই না কারো যন্ত্রমন্ত্র।
আমি পাড়ি দেবো যেখানে খুশি।
আমি স্বপ্ন বুনবো রোজ,
বেঁচে থাকার অহর্নিশি!
আমাকে কেউ কিনতে পারবে না!
সাত জনমের সঞ্চিত কড়িতেও,
কূলোবে না আমার দাম!
তবে কেউ যদি ভালোবাসায়
পূর্ণ করে এই আমায়,
কথা দিচ্ছি তার রাজ্যেই
আমি গড়বো অমরাবতী!!