আল কুরআন

দূর আকাশে জ্বলছে মিটিমিটি
শত কোটি অগনিত তারা,
কত সাহিত্য রচিত হলো
কুরআনে আছে ৩০ পাড়া।
সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব
শ্রেষ্ঠ ভাষাশৈলী ও অলংকার সমৃদ্ধ,
নির্ভূল,নিখুঁত কোন ত্রুটি নেই
আপন মহিমায় দুনিয়াব্যাপী প্রসিদ্ধ।
৬২৩৬ মতান্তরে ৬৬৬৬ খানা
আয়াত রয়েছে সর্বমোট,
মৃত্যু পরবর্তী জীবনে পুরষ্কার আছে
১১৪ খানা সূরা আছে মোট।
সূরা আল কাউসার সবথেকে ছোট
আল বাকারা সবথেকে বড়, জ্যেষ্ঠ
সূরা আল ইখলাস বর্ণনা করে
একমাত্র প্রভূর বৈশিষ্ট্য ।
তালুত,জালুত,তাগুত বা আবরাহার হস্তীবাহিনী,
কিংবা আরো পুরানো শিক্ষণীয় কাহিনী ;
কুরআন মাজীদে আছে ২৫ জন নবী রসূলের নাম ,
খোদাভীতির স্বরূপ যুগে যুগে অনন্তকাল।
ভ্রান্তপন্থীদের খন্ডন বর্ণিত হয়েছে
সুযোগ্য তথ্য প্রমাণের ভিক্তিতে,
একমাত্র ইলাহ আল্লাহর নিদর্শন ও বানী
মাপো যে কোন নিক্তিতে।
সুদীর্ঘ ২৩ বছরে নাজিল হয়েছে
মহাগ্রন্থ আল কুরআন,
লাওহে মাহফুজ এ সংরক্ষিত আছে
থাকবে অবিকৃত আল্লাহর ফরমান।

ফুরকান আল কুরআন শরীফ হলো
ইসলামি শরীয়তের সর্বোচ্চ দলিল,
রাসূলের সুন্নাহ্, ইজমা,কিয়াস আছে
জাতির পিতা ইব্রাহিম আ. খলিল।
যুগে কালে কত শত দিয়ে গেল প্রাণ
কায়েম রাখতে ইসলামের মান,
শ্রেষ্ঠ তারা শহীদ জান্নাতি সৌভাগ্যবান
কুরআন হলো ইসলামের সংবিধান।
আল কুরআন মানবো মোরা
সমাজে প্রতিষ্ঠিত করবো,
জুলুম অত্যাচার মুক্ত করতে
আমৃত্যু ন্যায়ের যুদ্ধ করবো।
ওমাত্ তাওফীক ইল্লা বিল্লাহ
সত্য পথিক কবুল কর আল্লাহ।
…………………………………………..

শিশির

শিশির কনা জমে;
ঘাসের ডগায়
ফসলের আগায়
পাতায় পাতায়
ফোঁটায় ফোঁটায়,
ফোঁটাগুলো পূর্ণ, অর্ধপূর্ণ
পৃষ্ঠটান সম্পন্ন
স্বচ্ছ বর্ণ
বিশুদ্ধতা অক্ষুন্ন ;
শীতের সকালে
কখনো বা বিকেলে
কুয়াশার ভোরে
ঠান্ডার চাদরে
প্রকৃতির আদরে ;
চিকমিক করে
হাওয়ায় বোলে
শিশির কণা জমে।
উদ্ভাসিত করে সৌন্দর্য্য
কার না পছন্দ !

দুনিয়াটা একরত্তি শিশির বসন্ত
আখিরাত চিরস্থায়ী অনন্ত।
…………………………………………..

সাগর

কোথাও ঠান্ডা কোথাও গরম পানির স্রোত ;
ছল ছল উথাল পাথাল ঢেউ,
সৃষ্টি কী করে নাই কেউ ?
দিগন্তে আকাশের সাথে মিলে মিশে
ক্ষণে বিহনে রং পাল্টায় এমনিতে ?
কোথাও ছোট বড় দ্বীপ, কোথাও বরফ ঠান্ডা পানি
তলাতে লুকানো আছে কত সক্রিয় অগ্নিগিরি ।
জীবিকার অন্যতম প্রধান আধার সমুদ্র,মহাসমুদ্র
লবণের প্রধান খনি হয়ে আছে দ্ররীভূত দ্রব্য ।
প্রবাল প্রাচীর অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ,
ঝিনুক মনি মুক্তা তেল গ্যাস কত পদ ।
পণ্য পরিবহনের প্রধান ও সহজলভ্য রুট ওয়েল,
আছে হাঙ্গর অক্টোপাস স্কুইড,দাঁতওয়ালা কিলার হোয়েল

সামুদ্রিক সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী ডলফিন,
সুরকরে শিকার করে তিমি ফিন ।
বড় বড় বিশাল হিমশৈল আছে,
মেরু ভাল্লুক সাদা,সাঁতার কাটতে পারে ।
ইলেকট্রিক ঈল বৈদ্যুতিক শক মারে,
উরুক্কু মাছ কিছুদূর উড়ে পালাতে পারে ।
সবচেয়ে বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী নীল তিমি
কত বড় বিচরণক্ষেত্র রিযিকপূর্ণ করেছেন কে তিনি ?
আছে অনেক দ্রুতগামী টুনা মাছ
পৃথিবীর ৯৭ ভাগ পানির ই সমুদ্রে বাস ।
সমুদ্রের গড় গভীরতা ৩.৮ Km এর মত
সর্বোচ্চ ম্যারিয়ানা ট্রেঞ্চ ১১.০৪ Km যত ।
সাগরের সবচেয়ে বিষাক্ত বক্স জেলিফিশ
গায়ে গেলে বিষ, তিন মিনিটে হবে ফিনিশ ।
সমুদ্রের পানির নীচ দিয়ে চলে সাবমেরিন,
ডুবদিলে খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন ।
পৃথিবীর প্রায় ৬০-৭২ ভাগ সাগর আস্ত
সবচেয়ে বড় মহাসাগর প্রশান্ত,
ভারত আটলান্টিক উওর দক্ষিণ মেরু সাগর আছে
সমুদ্রের জ্ঞান, উপকারী ইলম কে দিয়েছে ?

প্রবল পরাক্রমশালী, অপরারাজেয়, প্রজ্ঞাময়
অমূর্খাপেক্ষী এক আল্লাহ ছাড়া কেউ নয় ।
তিনি দুই দরিয়া একএে প্রবাহিত করেছেন,
মাঝখানে অভের্দ্য পর্দা ও দিয়েছেন ।
…………………………………………..

রংধনু

মৃদু কোমল বইছে সিগ্ধ হাওয়া
গা জুড়াচ্ছে বাতাসে,
কার নির্দেশে রংধনু উঠল বৃষ্টির পর
সূর্যের বিপরীত আকাশে?
রংধনু হল সাতটি রঙের বর্ণালী
একএে বলে বেনীআসহকলা,
বেগুনী নীল আসমানি হলুদ
সবুজ লাল কমলা।
লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশী
বেগুনীর সবচেয়ে কম,
বেগুনীর বিচ্ছুরণ ও বিক্ষেপন হয় বেশী
লালের সবচেয়ে কম।
তাই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তে
আকাশ দেখায় লাল,
মাঝারি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ; নীল ও আসমানি
আকাশ দেখায় চিরকাল।
সাদা আলো সাতটি রঙের বর্ণালী
একএে দেখায় সাদা,
প্রিজম দ্বারা পরীক্ষা করলে
বুঝবে তুমি সোজা।
এমনি করে আলোর ধর্ম আছে কত শত;
প্রতিফলন প্রতিসরণ, পূর্ণ অভ্যন্তরীন প্রতিফলন শাশ্বত।

দুনিয়াতে মরীচিকা দেখ তুমি
তা আলোর ই কারসাজি,
জান্নাতে যা চাইবে তা পাবে
বাস্তব, অফুরন্ত নেয়ামতরাজি।
আল্লাহ সৃষ্টি করলেন আলোকশক্তি
করে দিলেন ফ্রী,
লাইট ফ্যান কারেন্ট চালালে
হাঙ্গামা বিল কত কী?
পরিপূর্ণ করলেন জীবন বিধান
আল্লাহ দিলেন নির্দেশ,
একএে আল্লাহর রশিকে আঁকড়ে ধর
হয়ো না বিচ্ছিন্ন, বিদ্বেষ।

…………………………………………..

আল্লাহু আকবার

আলা ইন্না নাসরুল্লাহি ক্বারীব
যেমনই হও ধনী বা গরীব
তার সাহায্যের জন্যই হও তালিব।
বাতিলেরাই গারীব,
দ্বীন কায়ামে হারিস
দ্বীন থেকে হয় না খারিজ।
তাকওয়া র রাখো তাবিজ
ধ্বংশ হবেই খবিস।
আল্লাহু আকবার
ন্যায়ের পথেই বারবার
আল্লাহু আকবার
বাতিল করব ছাড়খার
আল্লাহু আকবার
একমাত্র আল্লার সাহায্যই দরকার
আল্লাহু আকবার
খালিদ ওমর আলি হতে চাই আবার
আল্লাহু আকবার
বাহুতে চাই শক্তি, যুলফিকার তরোয়াল
আল্লাহু আকবার
এক আল্লাহই পরোয়ার দিগার
আল্লাহু আকবার
চিরস্থায়ী জান্নাতে থাকবে দ্বীনদার
আল্লাহু আকবার
পাওয়া যাবে রবের দিদার
আল্লাহু আকবার
বাঁচতে চাই থেকে জাহান্নাম, সাকার
আল্লাহু আকবার
ইবাদত করি ও সাহায্য চাই আল্লার।
…………………………………………..

ওমর ফারুক রা.

ঘুড়ি ওড়ে আকশে, ভেসে বেড়ায় বাতাসে
থাকব চিরদিন, মনের খুব আশা যে,
করে গেল কত জনে, কারণে-অকারণে
জানল-জানাল, ইচ্ছা-অনিচ্ছায়, প্রকাশ্য আর গোপনে।

মুহাম্মদ কে মারতে হবে, কুরাইশরা একমত হলো:
পুরষ্কার! পুরষ্কার! কে নিবে? ওমর এলো,
হাতে নাঙ্গা তরবারি, পথে চলল:
বন্ধুর সাথে দেখা, অবাক হয়ে বলল;
কি হলো কি হলো অগ্নিশর্মা রুঢ়মূর্তি ?
যুদ্ধজয়ে যাচ্ছে যেন দ্বিক-বিজয়ী সেনাপতি !
ক্ষান্ত হবে, গুনতে হবে শেষ মুহাম্মদের দিন,
জনসম্মুখে প্রচার করে বানানো বে-দ্বীন।
কেঁপে উঠে বন্ধুর অন্তর আত্না,
ওমরে ভর করেছে যেন পেতাত্না।
বলে, বন্ধু শোন; ঘর আগে সামলাও,
তোমার স্বজনের ঘরে কেন, দ্বীন হলে ফাও?
শুনে ওমরের অগ্নিগিরি গরম লাভা ছাড়ে,
বেকুবদের শিক্ষা দিতেই হবে, ছাড় না কোন কালে।
পথ বাঁকিয়ে চলল ওমর স্বজনের দ্বারে,
মিষ্টিসুরে আসে কুরআন তেলাওয়াত ওমরের পানে;
তেজ ঝাড়ে ওমর, মন মিটিয়ে মারে ।
ক্ষান্ত দিয়ে বলে, কীসের আওয়াজ শুনিতেছিলাম কানে?
উহা এক আল্লাহর কালাম, নয় রসূলের বানী
মানলে পাবে দুনিয়া ও আখেরাত গ্যারান্টি ।
মানি বা না মানি, শুনি আবার, দেখাও
পাক-পবিত্র হতে হবে ছুঁতে যদি চাও ।
ওযু গোছলে পবিত্র হয়ে ওমর করতে চাইল পাঠ,
জগৎতে করেছে অনেক কাম, গোনাহ মুছে যাক ।
আল্লাহর কালাম শুনে-পড়ে প্রশান্ত ওমরের মন,
মুহাম্মদ স. এর সাথে দেখা হয় যে কখন ।
নিয়ে চল মুহাম্মদ স. এর কাছে জানতে সত্য দ্বীন,
গোমরাহিতে থাকব না আর ঘোচাতে চাই দুর্দিন।
চলল রাসূলের দরবারে তরবারি তখনো ওমরের সাথে,
খবর পৌছালো সাহাবিদের কাছে, আতংক কী ঘটে ।
আল্লাহর রসূল বললেন,আসতে দেও, অসম্মান যেন না হয়
খোদার লিলাখেলা বুঝবে মানুষ, একি সাধ্যে লয় ?
রাখল তরবারি, বললো ওমর, হে আল্লাহর রসূল স. মুহাম্মদ
হতে চাই আমি সেরা আখিরাতে, দুনিয়াতে শ্রেষ্ঠ উম্মত ।
জিজ্ঞাসিত হলো কিসে তোমায় আনল ইসলামেরই কাছে ?
ছিলে তো ঐ পাশে,সত্য দ্বীন থেকে যোজন যোজন দুরে ।
সত্য রসূল স. এর প্রার্থনা কী কখনো বৃথা গেছে ?
দোয়া করেছিলেন ওমর বা আবু-জাহল আসে যেন সত্য পথে।
আসতে ছিলাম কাটতে মুহাম্মদ স. এর গরদান,
বন্ধু বলে, মেষ-শাবক ধরে দেখাও তো দম-প্রমাণ ;
পারিনি আমি ছোট্র মেষ-শাবকের তরে,
পারবে কী? আল্লাহর রাসূল, বল চিন্তা করে,
বন্ধু বলল, খোঁজ নেও তোমার ঘরে ;
রাগ, হতাশা, মারপিট, ক্ষোভ, আকাংক্ষা কত্ত কিছু পরে,
মনেতে চাইল সত্যদ্বীন কবুল করি, আসি ইসলামের ছায়াতলে ।
থাকবো না আর আঁধারে, চাই সাফল্য মেনে আল্লাহর বিধান,
ন্বশর দুনিয়া নয় অসীম আখিরাতে সর্দার হব, পালনে ফরমান ।
‘‘ লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ ’’
কালিমা পড়ে হলো ওমর খাঁটি মুমিন বান্দা’হ ।
আল্লাহ করলেন কবুল নিরক্ষর বান্দাকে, ছিল জিরো
সত্য সেনানী হয়ে ফারুক উপাধি পেল, হলো হিরো ।
ওমর ফারুক ছিল ইসলামের সুযোগ্য দ্বিতীয় খলিফা,
শুনলে নাম ভয়ে কাঁপত থরথর দুনিয়া ।
পথে পথে ঘুরত রাজ্যজুড়ে রাত্রিতে ছদ্মবেশে,
খোঁজখবর নিত সবার, কেউ কি কষ্টে আছে ?
ফেরাত নদীর তীরে একটি কুকুর ও যদি না খেয়ে থাকে,
কী জবাব দেব আমি অধম, অযোগ্য; মহান আল্লাহর কাছে ?
নীলনদে চলত নির্মম কুমারীপুজা কাফিরদের গ্যেরাকলে,
আজ ও বহে পানি অবিরত, থেকে উমরের শাসনামলে ।
বাতিলের হবেই ক্ষয়, এক আল্লাহ ছাড়া কারো ভয়,
আসুক ঝড়-তুফান, আমার অন্তরে যেন না হয় ।
আওয়াজ দিল ফারুক জুময়া’র খুতবায়, দাড়িয়ে মিম্বারে
শত শত মাইল দূরে পৌছে গেল কমান্ড, আল্লাহর ইচ্ছাতে ।
মদিনায় হত ভূমিকম্প, কাঁপত জমিন, ক্ষয়ক্ষতি হতো অনেক,
আঘাত করে বলল ফারুক, থাম, নির্দেশে আল্লাহর এক ।
দুনিয়ার বুকে ছিল ওমর ফারুক আশারায়ে মুবাশশারা,
অর্ধ দুনিয়া করত শাসন কোন রাজপ্রাসাধ ছাড়া ।
দুনিয়ার কোন রাজা বাদশা,সম্রাট-শাহানশাহ ছিল না মত তার,
বাতিলের কোন শক্তি ছিলনা, সামনে দাড়াতে নিয়ে হাতিয়ার ।
এমনি করে, যুগে যুগে আল্লাহ রাখলেন কত উপমা,
নমরুদ, ফেরাউনের কাহিনী জান, রাসূল-সাহাবীদের ভূলো না ।
…………………………………………..

বৃষ্টি পড়ছে

Rain is reading
ইংরেজীটা ভাল না
What a meaning !
টাপুর টুপুর করে বৃষ্টি
ছন্দ আনন্দ করে সৃষ্টি
সমৃদ্ধ হয় কালচার-কৃষ্টি
কবিতা লাগে মিষ্টি।
টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে
কত কৃষকের কান্না ঝরে
রাস্তা ঘাট কর্দমাক্ত করে
ক্ষতি বিরক্তি ঘটে কত জনে।
টাপুর টুপুর পড়ে বৃষ্টি
জোয়ারে এল বাণ
শুকনা খাবার নিয়ে
আশ্রয় কেন্দ্রে যান।

টাপুর টুপুর বৃষ্টি এলো
বন্ধু মনের দুয়ার খোলো
আল্লাহর রহমত মানো
সত্য পথে এগোতে চলো।
টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে
জন্মভূমির পানে,
ধূলা-ময়লা সব ধূয়ে নেয়
পরিষ্কার সংগোপনে।
টাপুর টুপুর বৃষ্টি আসে
আইল,ফসলের ক্ষেতে,
উর্বর করে মাটি জমিন
জন্মভূমির তটে।
টাপুর টুপুর, ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি হয়
হলে ঝড় তুফান,
ক্ষেত ফসলের ক্ষতি হয়
বেশী করে গাছ লাগান।
টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে
কত মন উতলা করে,
শেষ হোক পরীক্ষা
হবে শেষ প্রতীক্ষা।

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
থাকলে নিসাব পরিমান নূপুর
যাকাত,মাল পূর্ন বছর থাকলে
মানতে হবে আল্লাহর বিধান যে।
টাপুর বৃষ্টি পড়ে টুপুর
বিছানাতে কাটতে চায় যে দুপুর
পেট ভরে খেয়ে ঘরের রান্না
ভালো লাগেনা বলতে আর না।
টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে
হলো দুপুর গড়িয়ে সন্ধা
আল্লাহকে খুশি কর সবাই
অখুশি হলেও বান্দা।
পড়ে বৃষ্টি টাপুর টুপুর
হলো সন্ধা রাত ,
সকাল সকাল ঘুমতে হবে
খেয়ে নাস্তা ভাত।
বৃষ্টি হলো টাপুর টুপুর
এলো ঊষা প্রভাত,
নামাজ পড়,রোজা রাখ
দিতে হবে যাকাত।

টাপুর টুপুর বৃষ্টি হয়
রাত দিন দুপুর
খুশি করে মন, করি
আল্লাহর শুকুর।
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
ঈদ মোবারক বন্ধু
ঋন,হক,ফিতরা,মনযোগ
সদকা দিয়ো কিন্তু।
টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে
আসুক ঝড় তুফান
ন্যায়ের পথে লড়তে হবে
হবে বাতিল খান খান।
টাপুর টুপুর বৃষ্টি হচ্ছে
ভিজছে কত পাখি কাক,
আদ্-দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হোক
কুফর নিপাক যাক।
…………………………………………..

চাঁদ

উঠল চাঁদ নিঝুম দূর আকাশে
ছড়িয়ে পড়ল আলো আঁধারে।
করল রাত উদ্ভাসিত জোৎস্না
করতে স্বার্থসিদ্ধি অপকর্ম করিস না ;
আছে আমাবর্শা,
বিপথে থাকিস না।
আছে জোৎস্না রাতের আলো
হৃদয়ে ন্যায়ের মর্শাল জ্বালো।
চাঁদ নিয়ে আসে খুশির পয়গাম
পেতে জান্নাত করতে হবে কাম।
চাঁদ আরো উপকার করে কত
জোয়ার ভাটা নিত্যবধি, অবিরত।
চাঁদের বুকে পা রাখে প্রথম নীল আম্সট্রং
চাঁদ নিয়ে কত কিছু কত কত ঢং ।
কখনো কখনো চাঁদ থাকে মলিন
প্রেয়সী-প্রেমিক, হাহাকার, রঙিন ।
চাঁদের আরবী নাম হেলাল
খরচের বাজেট করে আলাল-দুলাল।
ইংরেজীতে চাঁদকে বলা হয় মুন
কত গুম হয় মানুষ আর খুন ।
উঠলে চাঁদ রাতকে বলা হয় চাঁদনী
থাকবে মহাসুখে করলে সঠিক খাটনি ।
চাঁদ দেখে হয় শবে ক্বদর,শবে বরাত
জাহান্নামে শাস্তি হবে দিয়ে কঁড়াত ।
কত কালের সাক্ষী হয়ে আছে চাঁদ
দ্বীনের পথে লড়তে হবে মিলিয়ে কাঁধ ।
আমার মামা, তোমার মামা, সকলের চাঁদ মামা
দেখে ঈদের চাঁদ পড়ে নতুন জামা ।
কখনো চাঁদ চোখে পড়ে দিনে
প্রিয়জনে উপহার দেয় কিনে ।
সবচেয়ে সুন্দর চাঁদ উঠে এদেশে
শুকরিয়া শুধু এক আল্লাহর কাছে ।
…………………………………………..

সূর্য

সকালে সূর্য্যি মামা উঠল হেসে
সিগ্ধ রোদ নিয়ে ;
দুপুরে প্রমান দিল সে
তেজ, প্রখরতা ছড়িয়ে ।

মেঘ বাদলের দিনে সে
থাকে লুকিয়ে,
সাদা কালো মেঘের মাঝে
যায় না হারিয়ে ।

সূর্যের আলোতে সবুজ উদ্ভিদ
করে সালোক-সংশ্লেষণ,
নিজের খাদ্য নিজে তৈরী করে ;
প্রাণী করে জীবিকা অন্বেষণ ।
পৃথিবীতে যা কিছু রঙিন
সূর্যের আলোর জন্যই,
যদি হতো সাত না এক বর্নী আলো
সাদা কালো বা অন্যকিছু হতো সবই ।
চন্দ্রের পরিভ্রমনে লাগে
৩৬০ দিন আর,
সূর্যের পরিভ্রমনে, সৌরবছর
২২.৫-২৫ কোটি দরকার ।
সূর্য একটু বড়ই আর কী !
১৩ লক্ষ ধরবে পেটে, পৃথিবী ।
সূর্যকে দেখতে লাগে টেনিস বলের মত ,
১০৯ টা পৃথিবী পাশাপাশি আটবে তো !
সূর্যের ভর মাপতে চাও যদি
প্রায় ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার* লাগবে পৃথিবী ।
দিনটা কী গরম যাচ্ছে
রোম টেম্পারেচার (২১+২৭৩)০K
পানির পরম তাপমাত্রা বা
ত্রৈধ বিন্দু (০৪+২৭৩)০K
সূর্য পৃষ্ঠ ঠান্ডা না গরমই
তাপমাত্রা (৫৭৬৫)০K
কেন্দ্রে তাপমাত্রা আরো
বেশী (১ ৩৬ ০০ ০০০)০K
সূর্যকে আগে ভাবতো অনেকে দেবতা
সৃষ্টি করে তাকে কে দিল ক্ষমতা টা ?
পৃথিবীতে জীবনের আধান কী ?
সূর্যের আলো, বলবে বিজ্ঞানী ;
কে সৃষ্টি করল তাকে ?
“ আল্লাহ মহাজ্ঞানী ” ।
পৃথিবী জুড়ে হয় ঝরে-অঝরে মেঘ বৃষ্টি
সূর্যের তাপে পানি বাষ্প হয়ে মেঘ সৃষ্টি ।
সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহই জানেন গায়েবের খবর
কবে ধ্বংশ, সব জগৎ বিশ্ব, হবে কবর ।

  • ৩লক্ষ৩২হজার৯৪৬ টি পৃথিবীর ভর=সূর্যের ভর ।
    …………………………………………..

বাংলাদেশ

নীল আকাশে ভেসে বেড়ায়
কত মেঘের ভেলা,
হৃদয় জুড়ে উতলা করে
ভাসে কত খেলা।
দিগন্তে সবুজ নীল একাকার;
কত নিষ্ঠুর নিরপরাধ,
বিচার পায়না হলে অপরাধ,
চলে ফুটানি দিয়ে কার।
সন্ধা আসে নিয়ে গোধূলী,
আছে কৃষান, মজুর, বাটপার, কুলি;
কত কত পয়সাওয়ালা ফকির,
চারদিকে আল্লাহু আকবার ধ্বনি।
আযানে আযানে আসে সুবহে সাদিক,
বের হয় সকলে অন্বেষনে রিযিক,
জাহান্নামীরা ছুটবে দিক-বেদিক,
মিথ্যা বিলুপ্ত,সত্য সমাগত চারদিক।
সৎ মানুষ করে কামাই হালাল পথে
করে না অযথা ফুটানি রাস্তা-ঘাটে,
বিনয়ে সিজদা করে আল্লাহর কাছে
শুকরিয়া করে আল্লা যা দিছে।

আছে ঐতিহ্য, ইতিহাস, সংষ্কৃতি বেশ
চিরচায়িত সত্য-মিথ্যার রেশ
কত মসজিদ, গোরস্থান, মন্দির, হিতেষ
প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ।

মাহমুদুর রহমান Mahmudur Rahman, শিক্ষাগত বিবরণ :BSc in Food Engineering & Tea Technology, SUST, Sesson :2012-13, জন্ম :13feb1995, রক্তের গ্রুপ : B+, সৃজন ক্রিয়া : কবিতা, ই-মেইল : mahmud1995rahman@gmail.com