আঁকিয়ের প্রতি

তুমি কি, আঁকো?
তাহলে একটা নীল আকাশ আঁকো
আকাশের বুকে ডানা মেলে উড়ছে এমন মুক্ত শাদা বলাকা আঁকো
আর রংধনু আঁকো।

একটি পাহাড় আঁকো
পাহাড়ের পাদদেশে খরস্রোতা এক নদী আঁকো
নদীটির এক ধারে বনানী আঁকো
অন্য ধারে একটা পল্লী আঁকো
পল্লীর ঘরে ঘরে স্বপ্ন আঁকো
মানুষ আঁকো
মানুষে মানুষে প্রেম আঁকো।

একটি উঠোন আঁকো
উঠোনে সোনালী রোদ আঁকো
রোদের নিচে উনুন আঁকো
উনুনে ভাত রাঁধছে এমন এক মা আঁকো
মায়ের মুখের হাসি আঁকো
বুকের মমতা আঁকো।

একটি ধানের খেত আঁকো
খেতের আলে চারটি গাছ আঁকো
গাছের শাখে পাখির কূজন আঁকো
খেতের অন্য ধারে একটি ছাউনি আঁকো
ছাউনিতে আদর্শ কৃষক আঁকো
কৃষকের চোখে লাল স্বপ্ন আঁকো
একটি সবুজ ভোর আঁকো।
……………………………………………

হচ্ছে না

হচ্ছে না ভাই হচ্ছে না
গল্প, আসর হচ্ছে না
মিছিল, মিটিং হচ্ছে না
স্কুল, কলেজ হচ্ছে না
না না না না
ধর্ম, কর্ম হচ্ছে না
মনে শান্তি আসছে না
করোনারা যাচ্ছে না
দক্ষিণ বায়ু নাচছে না
পাখি ডানা মেলছে না
ভোমর ফুলে খেলছে না
পুকুর, নদী ভাসছে না
চাঁদ, তারকা হাসছে না
না না না না
কোকিল কুহু ডাকছে না
বসন্ত রঙ লাগছে না
পলাশ রাঙা হচ্ছে না
কৃষ্ণচূড়া সাজছে না
না না না না
নতুন সূর্য উঠছে না
ভোরের আলো ফোঁটছে না
আঁধার কালো যাচ্ছে না
হচ্ছে না ভাই হচ্ছে না
নতুন সকাল হচ্ছে না ।
……………………………………………

যুগ সারথি

যখন গুন্ডি টানা হয়েছিল
বিবিধ নিষেধ এসেছিল
নিষেধের বাঁধ ভেঙে
নদী ছুটেছিল।

যখন কন্ঠ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল
কথা কেড়ে নেয়া হয়েছিল
পাখির কলতানে
সকাল মুখর হয়েছিল।

যখন পত্র ঝরেছিল
পৃথিবী বিবর্ণ হয়েছিল
ফাগুনের রঙ মেখে
পলাশ ফুটেছিল।

যখন সন্ধ্যে এসেছিল
চারদিক আঁধার ছেয়েছিল
নিকষ কালো রাতের বুকে
জোনাক জ্বলেছিল।

যখন মহানিশি এসেছিল
নিশীথের অন্ধকার জীবন ছেয়েছিল
রাতের আঁধার ঠেলে
মোরগ ডেকেছিল
সূর্য উঠেছিল।
……………………………………………

পারি

পারি,
আমিও পারি
সাজতে পারি
নাচতে পারি
মনের সুখে
হাসতে পারি।
আঁকতে পারি
ডাকতে পারি
কথা দিলে
রাখতে পারি।
বুঝতে পারি
খুঁজতে পারি
স্বর্ণ মৃগ
পোষতে পারি।
সইতে পারি
রইতে পারি
হাটে কাঁঠাল
ভাঙতে পারি।
চলতে পারি
বলতে পারি
পায়ে দূর্বা
দলতে পারি,
পারি,
আমিও পারি।
……………………………………………

ফাগুন রঙ

ফুল ফুটেছে বনে রে
লাগল দোলা মনে রে
পাতার ফাঁকে বসে কোকিল
কুহু-কুহু ডাকে রে।

উঠল যোয়ার নদে রে
ভাঙছে দু’কূল ঢেউয়ে রে
ঢেউয়ের তালে সুজন মাঝি
জারি-সারি গাইছে রে।

আইলো ফাগুন আইলো রে
বসন্ত রঙ লাগল রে
কৃষ্ণচূড়া, পলাশ রাঙা
মাতাল হাওয়া ছুটল রে।
……………………………………………

আছে

আমার একটা দেশ আছে
দেশের সুন্দর নাম আছে
নামে কিন্তু দম আছে
দমের আবার দাম আছে
দাম বাড়াবার লোক আছে
মুক্তি যুদ্ধের সুখ আছে
স্বাধীনতা, বিজয় আছে
লাল সবুজের নিশান আছে
দেশে একটা জাতি আছে
জাতির আবার পিতাও আছে
শেখ মুজিব তাঁর নাম আছে
নামটা কিন্তু বেশ আছে
আমার একটা দেশ আছে
বাংলাদেশ তার নাম আছে।
……………………………………………

আমাদের দেশে

আমাদের দেশে, আম জাম আর কাঁঠালের অগনিত গাছ আছে
গাছের শাখায় পাখিদের নীড় আছে।

আমাদের দেশে, নদী আছে,
নদীর কিনার জুড়ে কাশবন আছে।

আমাদের দেশে, সবুজের মাঠ আছে,
সোনালী ধানের খেত আছে,
খেতের কিনার দিয়ে আলপথ আছে।

আমাদের দেশে, জোনাকির ঝিলমিল আছে,
ঝিঁঝিঁ ডাকা রাত আছে,
রাতের গভীরে শিশির ঝরার টুপ, টুপ, টাপ শব্দ আছে।
ভোরের পাখির কূজন আছে।

আমাদের দেশে, উঁচু নিচু আর শান্ত পাহাড় আছে,
রাখালের বাঁশি আছে,
বাঁশিতে উদাস দুপুর আছে,

আমাদের দেশে, সমুদ্র আছে
দারুচিনি দ্বীপ আছে,
দ্বীপের অপার সুন্দর্য আছে ।

আমাদের দেশে, খাল, ঝিল আর বিল আছে,
বিলের টাটকা মাছ আছে
মাছের নানান নাম আছে;
শিং, টাকি, কৈ আছে ।

আমাদের দেশে, বিশাল আকাশ আছে,
আকাশের নিচে মা আছে
মা’ র মুখে ঘুম পাড়ানির গান আছে ।
……………………………………………

চাও

দাঁড়াবার ঠাঁই চাও
ঠাঁই পেলে শুতে চাও
শুতে পেলে খেতে চাও
বাড়ি চাও
গাড়ি চাও
সুন্দর নারী চাও,
চাও চাও আরো চাও
সন্তান সুখ চাও।
ধান চাও
পান চাও
বড় পদ মান চাও
এটা চাও ওটা চাও
যত পাও তত চাও,
ঈদ চাও
হিত চাও
শান্তির নিদ চাও,
(টাক মাথা) চুল চাও
চুল হলে তেল চাও
তেল মাখা লোক চাও
সোনা চাও
দানা চাও
পান্না ও চুনি চাও
চাও চাও আরো চাও
মোরগের দুধ চাও।
……………………………………………

খোয়া গেছে

খোয়া গেছে,
অনেক কিছুই খোয়া গেছে
কাল প্রবাহে মোয়া গেছে
ইঁদারা ও কুয়া গেছে
ঝিনাই নদীর ঘাট গেছে
ঘাটের মাঝির ঠাট গেছে
ঢেঁকি, খড়ম, হুক্কা গেছে
হাডুডু ও চিক্কা গেছে
পয়সা, সিকি, কড়ি গেছে
শখের আলতাবড়ি গেছে
কুলুর ঘানি, যাঁতা গেছে
কলা পাতার খাতা গেছে
জল চৌকি ও পিঁড়ি গেছে
পালকি, গরুর গাড়ি গেছে
পানি সেচের ডোঙ্গা গেছে
শাল পাতার ঐ ঠোঙা গেছে
ধানের গোলা, মাথাল গেছে
মাটির ঘর ও চাতাল গেছে
ঢেঁকি ছাটা চাল গেছে
গরুর টানা হাল গেছে
বেতের কাঠা, পাটি গেছে
মাটির ঘটি, বাটি গেছে
মামী-ভাগনের ভাদর গেছে
গুরুজনের কদর গেছে
স্বজন প্রীতি ইষ্টি গেছে
সম্পর্কের সব মিষ্টি গেছে ।
……………………………………………

ভয়

উত্তরে ভয়
দক্ষিণে ভয়
পুব-পশ্চিমে ভয়
ভয় ভয় ভয়
বন-জঙ্গলে ভয়
শহর-গঞ্জে ভয়
হাট বাজারে ভয়
আকাশে ভয়
বাতাসে ভয়
মিছিল মিটিংয়ে ভয়।
ভয় ভয় ভয়
চলনে ভয়
বলনে ভয়
হাসতে কাশতে ভয়
ধর্মে কর্মে ভয়
ভয় ভয় ভয়
ভিতরে ভয়
বাহিরে ভয়
আলোতে ভয়
কালোতে ভয়
মেঘ বিজলিতে ভয়
ভয় ভয় ভয়
উঠতে বসতে ভয়
দশ দিকে ভয়।