মহেশখালীর মুখ

সমুদ্রের গর্জন দূর পাহাড়ে প্রতিধ্বনি তুলে
ছড়িয়ে পড়ে তামাম লোকালয়ে- জেলেদের ছোট্ট নৌকো
দোলখায় ঢেউয়ের পরতে পরতে,
তেমনি সারাক্ষণ দোলা দেয় হৃদয়ে আমার মহেশখালীর চিহ্ন।
পাহাড়ের সব নীল অশ্রু- ঝর্ণাধারার মতো গড়িয়ে পড়ছে নীচে
মিশে যেতে সমুদ্রের সাথে।
তদ্রুপ, অশ্রু ঝরে গড়াগড়ি করে বুকে আমার,
শুধু মহেশখালীর রূপের লাবণ্যময়ী ভালোবাসার টানে।
পাহাড়ের শুষ্ক ঠোঁটে আনমনা হয়ে খেলা করে মেঘের ছায়া,
সূর্যাস্তের ক্লান্ত আলো
সমুদ্রের গর্জনের সাথে মিশে যায়
রূপালী সৈকতের কাছে।
আনমনা থাকে দু’নয়ন আমার
কেবল ভাসে মহেশখালীর মুখ।
…………………………………………..

আমরণ

উদ্বেগহীন তোমার প্রেমে, আমরণ তোমার থাকবো
আমি উম্মত্ত, দুর্গম পথ দেবো পাড়ি-
নির্ভয়ে হাত দুটো ধরি,
যাবো দু’জন স্বপ্নপুরী
…………………………………………..

কবিতার আবেদন

আমার কবিতার আবেদন
কল্যাণে দেশ ও জাতির
ভ্রাতৃত্ব-সম্প্রীতির
গোটা পৃথিবীর শান্তির।

আমার কবিতা
হিমালয় সম ঝড়কে থামাবে
সাগরের উত্তাল ঢেউকে শান্তভাবে বয়ে নেবে
নীলাকাশের তিমিরকে দূরে টেনে নেবে।
…………………………………………..

বিজয় নিশান

আমি যুদ্ধ দেখিনি
শুনেছি-পড়েছি যুদ্ধের লেলিহান ট্রাজেডি
চেতনার অগ্নিশিখা,
একাত্তরের জ্বালাময়ী গল্প।

আমি বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন দেখিনি
দেখিছি সহস্র ভাইয়ের জমাট রক্তে গড়ে ওঠা
একটি শহীদ মিনার।

আমি স্বাধীনতা দেখিনি
দেখেছি স্বাধীনতার লাল সূর্য,
সম্মিলিত স্রোতধারায় প্রতিবাদের শ্লোগান।
স্বাধীনতার চিহ্ন দেখেছি
হারিয়ে যাওয়া লাখো নারীর আত্মায়।

আমি বিজয়ের দিনটি দেখিনি
দেখেছি স্বাধীন দেশের হাওয়ায় পতপত এক নিশান,
নীলোদ্যানে সাতরঙা রংধনু,
আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার নয়নভরা আনন্দাশ্র“
স্বদেশের ললাটে বিজয়ের রাজটিকা।
…………………………………………..

ভয়

তোমাকে পেতে
সাত সমুদ্র তেরো নদী ডিঙিয়ে যাবো
তোমাকে লাভে
স্বীকৃত স্বরুপ সন্যাস নেবো।
তোমার তরে পাড়ি দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে, পূর্ব-পশ্চিমে
পৌঁছতে পৌঁছতে
ভীষণ ক্লান্ত হবো
ক্লান্ত দেহ মন ছুঁেত চাই তোমার-
তোমাকে বুকে জড়িয়ে ধরি যখন স্বপ্নে
তোমার ঐ পাড়ে যাবার,
পুরোপুরি সাহসে এগুনো
প্রস্তুতি ভালো নই বলে
আমার কেবল তোমাতে ভয়!
…………………………………………..

আত্মালাপ

আমি এখন নিশাচর, রাতের আঁধার গায়ে মেখে
নিজেকে বিশ্লেষণ করি। প্রকৃতির সাথে দুর্বোধ্য
ভাষায় কথা বলি। এক সময় খুব একা হয়ে পড়ি।
দু’চোখের অশ্রু অনবরত ঝরে পড়ে শূন্যতার বুকে
প্রকৃতির মগ্নতাকে ভেদ করে অশান্ত হয়ে যায়
শরাহত পাখির পড়ো তড়পায়। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ
করতে পারি না। নিকষ আঁধারে তন্দ্রাহীন
তোমার ভাবনায় তলিয়ে যেতে থাকি কেবল!
…………………………………………..

১৪ মার্চ দিনটি শোকের
(পল্লী কবি জসিম উদ্দিন’কে নিবেদিত)

যতোবার ১৪ মার্চ দিনটি আসে
সাহিত্যের অঙ্গনে পল্লী কবিকে
খুঁজে ফিরি,
পাই না খুঁজে!
যতোবার সাহিত্যে বিচরণ করি
পল্লী গাঁয়ের নব শব্দ-পাই না খুঁজে

এই দিনে প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য্যরে মায়া
ভালোবাসা ত্যাগ করে;
‘নকশী কাঁথার মাঠ’ পেরিয়ে,
অমোঘ নিয়ম মেনে
শীতল মাটির গন্ধ নিতে-
চিরতরে শায়িত আপন ‘কবর’এ গিয়ে।
…………………………………………..

একটি রাতও মুখস্থ হয় না

একটি নির্ঘুম রাতের কিছু পাঠ মুখস্থ
করবো বলে; অন্ধকারের সাথে সখ্যতা
নরোম উষ্ণ মাঠে-
অন্ধকার যখন গাঢ় হয়
তখন পাঠে মগ্ন দুরন্ত যৌবন
সাথে সদ্যফোটা উঠতি জীবন
পাপড়ির ভাঁজে ভাঁজে মধু চুষে নেয়-
পাঠরত রাতে আস্ত শরীরে তৃষ্ণার্ত মৌমাছি
এভাবে কাটে বেশ কয়েক রাত
দু’জোড়া চোখ নিরুপায়
স্বপ্নবুনে মনের রং তুলিতে মার্জিন এঁকে
কিন্তু কি পাঠ নিয়েছি আমি
পাঠের একটি লাইনও হয়নি মুখস্থ আমার!
…………………………………………..

যাত্রা- জলেশ^রীর বুকে
(সৈয়দ শামসুল হক- শ্রীচরনে)

‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস দম ফুরাইলে ঠুস’

আপন কথার বেড়াজালে বন্দী- না ফেরার দেশে।
মৃত্যু দেয় না ছাড়!
থেমে গেলো পায়ের আওয়াজ
নেই কোনো কোলাহল
অসীম শূন্যতা জলেশ^রীর বুকে,
পায়ের ছাপ পড়বে না আর এই বাংলার আলপথে।
তবুও এই মাটিজলে, এই সুঘ্রাণ হাওয়ায় মিশে-
থাকবে সব্যসাচী জাদুকর।
চির অম্লান হয়ে যুগে যুগে, অনাদি, অনন্তকাল।
…………………………………………..

হৈমন্তিকা

গভীর রাত- হঠাৎ চমকে উঠি
চোখ যায় দখিনা জানলায়
শৈত্য প্রবাহের কুয়াশা ঘেরা প্রকৃতি
মৃদু শীতল হাওয়া আলতো ছুঁয়ে গেলো শরীর
মনে পড়ে যায় উষ্ণ আলিঙ্গন…
আমায় ছুঁয়ে-বুকে রঙধনু হয়ে ভাসো,
ছুঁতে চাই পারি না
তৃষ্ণার্ত চোখ-ঠোঁট পেতে চাই উষ্ণ ভালোবাসা,
যে ভালোবাসার তাপে শুকিয়ে যাবে শিশির!
বাকি রাত অঙ্গে অঙ্গে কর্ষণ, দহন-বর্ষণ
সঙ্গী দু’জোড়া হাত
সাথে আছে হেমন্ত রাত!