কর্ণফুলীর তীরে

ছোট্ট পাখি গাছের ডালে
কিচির মিচির ডাকে
পালতোলা সব নৌকা ভিড়ে
কর্ণফুলীর বাঁকে।

শত শত পাখি উড়ে
আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে
রাত্রিবেলা নদীর তীরে
শিয়াল মামা হাঁকে।

নদীল জলে উছলে উঠে
কর্ণফুলীর বাঁধ
নদীর মতো হলে আমি
পূর্ণ হতো সাধ।

নদীর মতো হতেম যদি
সাগর জলে মিশে
ঢেউয়ের তালে হৃদয় আমার
উঠতো নেচে নেচে।

সেই নদীতে সাঁতার কেটে
বইতো সারাবেলা
ফুল-পাখিদের সঙ্গে নিয়ে
হতো নানান খেলা।

খেলার ছলে হারিয়ে যেতাম
গহীন কোনো বনে
সন্ধ্যা হলে ফিরে যেতাম
ছোট্ট ঘরের কোণে।
……………………………………………

বাবার খুশি মায়ের হাসি

পড়লে খোকন মায়ের মুখে
ফোটে চাঁদের হাসি
অনেক খুশি ঝরে বাবার
মুক্তো রাশি রাশি।

খোকন সোনা পড়তে বসো
পড়ো রে মন দিয়ে
কালকে তোমায় নিয়ে যাব
পরী ফুফুর বিয়ে।

শোন বলি পড়ালেখার
পাঠটি করো শেষ
বিয়ে যেয়ে খাবে তুমি
মিঠাই ও সন্দেশ।
……………………………………………

শিশির ভেজা শরৎ

শরৎকালে, কাশফুলে ভরা নদী-খাল-বিল
নীলাকাশে সাদা মেঘে করে ঝিলমিল।
শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস রয় না ঘরে মন
শিশির ভেজা দুর্বাঘাসে ধরনী এখন।
পল্লী গাঁয়ে কৃষাণীদের অনেক দিনের আশা
কার্তিকেতে মাঠভরা ধান গোলায় তুলবে চাষা।

নদীর তীরে খেঁকশিয়ালের হুক্কাহুয়া ডাক,
ঘরের চালে কবুতরের বাকুম বাকুম বাক।
নীল ভোমরা দিনের বেলা করে মাতামাতি
ফুলে ফুলে মধু খোঁজে সয় না দেরি অতি।
রাত্রিবেলা চাঁদের সাথে খোকন করে খেলা
জোসনা রাতে দিঘির পাড়ে জোনাকিদের মেলা।
……………………………………………

মনটা হঠাৎ

মনটা হঠাৎ ইচ্ছে করে
বনের ধারে ছুটতে,
গাছের ডালে হেলে দুলে
হাওয়ায় ভেসে দুলতে।

বনে গিয়ে পাখ-পাখালির
কিচির-মিচির শুনতে,
মায়াভরা এই দুনিয়ায়
মজার সময় কাটতে!

সবুজ টিয়া বলতো ডেকে
শুনবে আমার গান,
গানে গানে মজতো ফাগুন
ভরতো আমার প্রাণ।

এতো খুশি কিসের লাগি
এই না হৃদয়জুড়ে
আল্লাহ-নবির গান গেয়ে যাই
কী যে মধুর সুরে!
……………………………………………

সালফির জন্যে

সালফি মনি উর্ধ্বে তাকায়
বলে টিকটিকিকে
দেয়াল বেয়ে যাসরে কোথায়
মারব বেটা তোকে।

টিকটিকিটা তাকিয়ে দেখে
তেলাপোকার কা-,
খাবো তোরে যাসনে কোথাও
ধরব জলজ্যান্ত।

তেলাপোকা তেলাপোকা
করিস রে কী তুই?
একটু দাঁড়া যাসনে মরা
পালিয়ে যাবি কই?

আঁধার নেমে আসলে ঘরে
তোর যে দেখা মেলে
তোর কারণে অনেক কিছুই
যায়রে রসাতলে।
……………………………………………

সামারাহ্ সালসাবিল

সামারাহ সালসাবিল
হাসি যার অনাবিল
চেয়ে যখন থাকে সে
ভরে যায় দিল।

সালসাবিল দিন দিন
বড় হয়ে ওঠে
হামাগুড়ি দিয়ে সে
দিগি¦দিক ছুটে।

মা-বাবা ভাইদের
এদিক ওদিক খোঁজে
রাত হলে সালসাবিল
চোখ নাহি বুঁজে।

সামারাহ সালসাবিল
হাসে শুধু খিলখিল,
চারিদিকে মাতোয়ারা
আলো ঝিলমিল।
……………………………………………

রতন কারিগর

রোজ সকালে রুটি বেলে
রতন কারিগর
চালচুলো নেই সেই ছেলেকে
কে বানাবে বর?

চৈত্র শেষে ঝড়ো হাওয়া
বৈশাখেরই বার্তা
আম্মু ডাকে সোহাগ করে
পান্তা আলু ভর্তা।

ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে গেল
দোকান ঘরের চাল
স্বপ্নসৌধ ভেঙ্গে গেল
জীবন টালমাটাল।
……………………………………………

প্রিয়ভাষা বাংলাভাষা

প্রিয়ভাষা বাংলাভাষা, মোদের প্রিয় মাতৃভাষা
এই ভাষাতে কথা বলে জুড়াই মনের আশা।
এই ভাষাতে কথা বলি এই ভাষাতে হাসি।
এই ভাষাতে স্বপ্ন মোরা দেখতে ভালোবাসি।
এই ভাষাতে লেখালেখি এই ভাষাতে আঁকিবুকি
ভাষার জন্য এমন দরদ আর কোথাও আছে কি?

বাংলা ভাষার জন্য সালাম বরকত রফিক,
বায়ান্নের একুশে ফেব্রুয়ারিতে হয়েছেন শহিদ।
এমনিভাবে ভাষার জন্য কেউ দেয়নি প্রাণ,
জীবন দিয়ে রেখে গেছে মাতৃভাষার মান।
এমন মধুর ভাষার লাগি অনেক গর্ব করি।
বাংলাভাষা দানের জন্য খোদা তোমায় স্মরি।
……………………………………………

সেই ছেলেটি

বলবো আমি আজকে তোমায়
সেই ছেলেটির কথা।
গুরুজনে করতো সেবা
দেয়নি মনে ব্যথা।

পড়ালেখায় ছিলো ভালো
মনটা দিতো পাঠে,
বন্ধুরা সব একইসাথে
খেলতো যেতো মাঠে।

সে ছেলেটির সেদিন হলো
ভীষণ রকম জ্বর
দেখতে এলো বন্ধুরা সব
নয়কো যেনো পর।

তাকে দেখে বন্ধু সবার
নীরব অশ্রু ঝরে,
খোদার কাছে দু’হাত তুলে
সবাই দোয়া করে।

সেই ছেলেটির মতো যদি
তোমরা হতে চাও,
মিথ্যা বলা দুষ্টুমিটাও
আজকে ছেড়ে দাও।
……………………………………………

জিজ্ঞাসা

ছোট্ট সোনা সায়ীমনি
দেয় না পাঠে মন
কে বানালো জগৎটাকে
ভাবছে অনুক্ষণ?

কে বানালো ঝর্না নদী
পর্বত আর পাহাড়
কে বানালো আকাশ-জমিন
শহর-নগর-সাগর?

কে সাজালো জগৎটাকে
এত্তো সুন্দর করে
চতুর্দিকে এত্তো শোভা
হৃদয়টা যায় ভরে।

এই দুনিয়ার মালিক কে সে
বলো না মা-মণি!
তাঁর ক্ষমতা এই দুনিয়ায়
বলো কত্তোখানি?