কক্সবাজার সৈকতে

অবাক তাঁকিয়ে দেখি বিমুক্ত জলরাশিতে বঙ্গোপসাগর
স্বচ্ছ জলধি বিস্তির্ন বালিচরে শিরশির বৃষ্টির কুয়াশা চাদর।
ফেনায়িত সমুদ্রে সফেদ জোস্নার ঢেউ হীরক দ্যূতির মত
উন্মাদ বেগে ধেয়ে আসে, ডাক দেয় হুঙ্কারে বজ্রনিনাদ।
জলোচ্ছাস জোয়ারের ঢেউয়ে ভেসে উর্মী উত্তাল তরঙ্গের খেলা খেলে
কোলাহল প্রমত্ত পর্যটক উদ্বেল আনন্দে নাচে ঢেউয়ের উন্মত্ত তালে।

বেলা শেষে মৃদু অন্ধকার নেমে আসে লাল আবিরের ছোঁয়ায়
সূর্যের সিড়ি ভেঙ্গে রঙীন স্পর্শে স্বপ্নগুলি সমুদ্র হয়ে যায় ।
কি অপরুপ রুপ তার মৃদু লয়ে প্রান ছুঁয়ে কি যেন কি বলে যায়,
ছড়িয়ে ছিটিয়ে স্বপ্নের রঙ মেখে নীল নিঃসীম আকাশের গায় ।

সাগরের তীর ঘেসে ঝাউয়ের বাগানে সিঁদুরের লুকোচুরি উৎসব
আধাঁর ঘনিয়ে লালিমায়, লাল নব বধূ সাজে নীলিমার আকাশ।
দিন শেষে ধীরলয়ে লালিমায় মিশে আসে অন্ধকার
অন্ধকারে কেঁদে উঠে মেঘেরও অন্তর।
জ্বলে উঠে বিদ্যূৎ আলোর ঝলক
সাগরের তীর ঘেসে থমকে দাঁড়ায় পৃথিবী তখন
দূর হতে ভেসে আসে অবিরাম সোঁ সোঁ গর্জন।
অরন্য লোকালয় দূরে, অসংখ্য প্রহরের বন্ধন ছিড়ে
অনতিদীর্ঘ প্রতিক্ষায় ফিরে আসি মন চায়-
এই মোহনায় মোহময় সাগরেরর তীরে ।
…………………………………………..

অরুন আলোয় শরৎ আসে

অরুন আলোর অন্জলী ভরে, শরৎ আসে বাংলার ঘরে…
শিউলী বিছানো সৌরভ পথে… চিক্ চিক্ শিশির বিন্দু লয়ে
স্নিগ্ধ ভোরে, রোদ ছিটানো শিশির ভেজা ঘাসের ডগায়…
তুলতুলে মেঘ হাসে, নীল সাদা মেঘের ভেলায়…
ছেড়া ছেড়া মেঘ লুকেচুরি খেলে আকাশের গায়।
রুপসী শরৎ আসে, নদী তীর ঘেসে কাশফুল সারি সারি
বহে সমিরন শন্ শন্ সুরে দুলে দুলে গায় জারিসারি।
নদীর ঘাটে সওদাগরের নতুন নৌকা ভিড়ে
বৈঠা হাতে মাঝি গান গায় ভাটিয়ালী সুরে ।
নদীর তীরে বেঁদেরা বানায় ছইয়ের ঘর…
সাপের খেলা দেখায় ওরা, সাথেই ওদের ঘর।
সবুজে বিছানো ধান কাউনের ক্ষেতে
ঢেউ খেলে যায়… বাতাস নেচে নেচে…
শরৎ আকাশে পূর্নিমা রাতে, জোস্না হাসি ঠিকর পড়ে
পুকুর ধারে বাঁশ বাগানের চিকন পাতা চিরে চিরে…
শরৎ শেষে ছাতিম তরু থোকায় থোকায় ফোটে…
ঠিক দুপুরে ‘দুপুর মনি’ পাপড়ি মেলতে থাকে…
কাঁটা গাছে বাবলা শিবজটা, লাল গোলাপী ‘বকফুল’
মিনজিরি, স্থলপদ্ম, শ্বেত কান্চন, শিউলী শরতের ফুল।
শরতের কতরুপ, সাজে বসুধা রুপে রুপে অতুল
ছয় ঋতুর বাংলায় চিনে নিতে হয় নাতো ভুল…
…………………………………………..

কণ্যা দিবসে

ভালবাসা অভিনন্দন আমাদের প্রিয় সব সুকণ্যা…
তোমারই প্রিয় বাংলাদেশের সুপ্রিয় অনন্যা…
পুরুষ হয়নি এখনো মানুষ, থাকুক শুধুই পুরুষ
সহজে তারা নারীকে সমান স্বীকার করবে না…
ইচ্ছে হলে থাকবে পাশে মানবিক যারা সুপুরুষ।
মানবিক গুনে মিলে মিশে দেখাও মানুষের কি রুপ !
তোমরা পৃথিবী সুফলা সাজাও রুপে গুনে উন্নয়নে স্বর্না।
মানুষ যখন হবে পুরুষ, মানবে তখন নারী ছাড়া জগত চলে না।
…………………………………………..

প্রিয় শিক্ষক

নুষ গড়ার কারিগর… জাতির অহঙ্কার
প্রিয় শিক্ষক, বিনম্র শ্রদ্ধায় নত হই বার বার।
শৈশব কৈশোরে ডোমার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে…
মৌলভী স্যার, খট্টু স্যার, আজিজুল হক স্যার,
প্রতিভা দিদি, আন্জু আপা, খুরশীদা আপা,
কবিতা দিদি, শিবানী দিদি, মহিম স্যার, বি এস সি স্যার…
তাঁদের স্নেহময় ছায়াতলে আদরে শাসনে শিক্ষনে,
গড়ে উঠে ভবিষ্যত পলে পলে ধাপে ধাপে জ্ঞান সিন্চনে…
কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে, জগতে কত ঘাট উত্তোরনে
প্রতিযোগীতায় প্রতিষ্ঠিত এখন…
স্মৃতিময় সেইসব প্রিয় মুখ শিক্ষক অভিভাবক…
সযত্নে নিয়ম চর্চা-শৃঙ্খলায়, জাতীয় সঙ্গীত,
এসেম্বলি, ব্লুবার্ড, খেলার মাঠ..শিক্ষার অঙ্গনে..
প্রতিভার আলোময় উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রতিটি মুখ
স্মৃতিপটে অম্লান, চিরদিন চিরকাল রবে উন্মুখ।
তাঁদের আলোকে গড়ি আমার সাফল্যের অঙ্গন
প্রিয় শিক্ষক গুরুজনে শ্রদ্ধায় অবনত সারা জীবন।
…………………………………………..

হেমন্ত মৌসুম

শরৎ শেষে হিমেল পরশে হেমন্ত আসে
রোদের ঝিলিক্ খেলে ঢেউ ধানের শীষে।
মেঘ রোদ্দুর আলো ছায়া গাছের শাখায়
দোলে দোদুল পাতার মর্মরে মৃদুল হাওয়ায়।
শিউলী কামিনী অশোক ফুল বনে
সুবাসে ফোটে ফুল, দোলে মৃদু সমীরনে।
ঘাসের ডগায় টুপটুপ শিশির ফোটায়
রোদ্র ঝলকে হীরক দ্যূতির আলোক ছড়ায়,
দিগন্ত জোড়া চিক্ চিক্ সোনালী ধান
সুখ সুখ মনে কৃষান কৃষানীর জুড়ায় প্রান,
স্বপ্ন মধুর গুন গুন সুর গানে গানে
কুলায় উড়ায় ধান, ধূধূয়া খোলানে…
উঠান ভরা ফসলের মৌ মৌ সুবাসে
সুখের আবেশে মন উন্মনা উচ্ছাসে…
কাঁচাসোনা মাখানাখি সুঘ্রান সরিষার ফুল
মৌমাছি উড়ি উড়ি মধু সন্চেয়ে মশগুল।
গ্রামে গ্রামে নতুন ধানে পিঠে খাওয়ার ধুম
নবান্ন উৎসবে জোস্নায় মাতি চোখে নাই ঘুম…
মোয়া মুড়ি চিড়া নাড়ু নিয়ে আসে নতুন কুটুম
এই হোল বাংলার চিরচেনা মনহরা হেমন্ত মৌসুম।
…………………………………………..

বৃদ্ধাশ্রমের কবিতা

কাছে বসে আদর করে বলছে মা’কে ছেলে
বয়স হয়েছে নিয়ম করে চলতে হবে বলে…
চলো না মা’বৃদ্ধাশ্রমে তোমায় রেখে আসি
বয়স তোমার অনেক, চলছে এখন আশি।
বৃদ্ধাশ্রমে দেবো তোমায়, যত্ন যাতে মেলে ।
এই বাড়িতে লোক বেড়েছে ব্যস্ত সকাল সাঁঝে
ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার…
ওদের ভাল মানুষ গড়ার… ব্যস্ত সবাই কাজে ।
কাজের চাপে সময় মেলে না যে,
নিয়ম করে যত্ন নেবে কে.?
নাতি এলো এসব কথা শুনতে পেয়ে
দাঁড়ায় এসে বাবার কাছে যেয়ে…
কি বলছো বাবা তুমি? সব শুনেছি আমি…
চাইছো তুমি আমার দাদী বৃদ্ধাশ্রমে যাবে…
ভেবেছ কি? তুমি যখন বৃদ্ধ হবে…
কোথায় তোমার ঠাঁই হবে?
…………………………………………..

স্বপ্নের স্বদেশ আমার

কি ভীষন স্বাধীনতার ভয়ঙ্কর সঙ্কট আজ !
ভীরুতা সংশয় রক্তাক্ত স্বপ্নের ঘোরে…
কাটে যে প্রহর…
ঐ দেখ আকাশে পূনির্মা চাঁদে লেগেছে গ্রহন…
অচিরেই অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে পৃথিবী…
আজ নেই, আসাদ, রফিক, বরকত সালাম…
নেই শহিদুল্লাহ কায়সার, মুনির চৌধুরী,
নেই সুফিয়া কামাল, নীলিমা ইব্রাহিম, জাহানারা ইমাম,
নেই মাহবুব আলম চৌধুরী, নেই শামসুর রাহমান…
সাহসী বুদ্ধিজীবিদের হয়েছে প্রয়ান !
ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার সৈনিকেরা…
বেঁচে আছেন যারা লড়াকু সৈনিক…
বয়সের ভারে নিবু নিবু… তবু সাহসী কন্ঠ উন্মিক!
স্বাধীনতা হরনে কু’জনের হঠকারিতা…
কান্ডারী বিহীন হবে কি মর্তলোক ?
নেপথ্যে হারিয়ে যাচ্ছে মানবতা…
দূর্যোগ প্রতিরোধে দূর্বার জেগে উঠো জনতা।
বাঙ্গালী জেগে উঠলেই… আবার যুদ্ধ হবে…
আগুন রক্ত সাগর স্নানে পাড়ি দিতে হবে…
ফিরে আনতেই হবে শৃঙ্খলা সততা মানবতা…
আবার সজীব হয়ে উঠবে প্রানপ্রিয় স্বাধীনতা ।
…………………………………………..

স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা

চারিদিকে শুনি বিজয়ের ধ্বনী
অনেক রক্ত অনেক ত্যাগে এনেছি স্বাধীনতা…
দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি সব জনতা
আপন ছিল সবাই, অন্তরে মম একতা।
রক্তের স্রোতে রক্তাক্ত বাঙ্গালী সেদিন !
জোর প্রতিরোধে জলে স্থলে পাড়ি দিলি…
সম্ভ্রম সম্পদ রক্ত দিয়ে প্রানপণ কেড়ে নিলি।
আগুনের স্রোত পাড়ি দিয়ে রক্তাক্ত জমিনে পা ডুবিয়ে
ছিনিয়ে আনলি স্বাধীনতা… এক সাগর রক্তের ঋণ…
কত ত্যাগে নারী মুক্তিযোদ্ধা বুঝলোনা কোন বোদ্ধা সেদিন !
বীরাঙ্গনা ভূষন নারীর জীবনকে করেছে অবনত সঙ্গীন !
সম্ভ্রম হারা নি:স্ব মুক্তিযাদ্ধা নারীরা কি হলো তবে স্বাধীন…
যুদ্ধ অবদানে নারীমুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি বহুদিন
অন্তিম মুহূর্তে নারী ‘মুক্তিযোদ্ধা’স্বীকৃতি পেলো…
জীবন করে বিলীন !
তবু জয় হোক… নব প্রজন্মের প্রেরনা আর অটুট বিশ্বাস…
অতীতের গর্বিত স্মৃতি অমলিন ইতিহাস হয়ে থাক্…
নব উদ্যোমে এসো বিজয়ের মাসে…
স্বাধীনতা শান্তি ও স্বপ্নের উল্লাসে… বুক ভরা স্বস্তির নি:শ্বাসে…
ঘরে ঘরে স্বস্তির আলো জ্বালি…
নিয়ম নীতিতে মন প্রান ঢালি…
মুছে দেই দু:সময়ের কাল কালি।
অটুট থাকুক দেশপ্রেম… দেশটা সবার সব জনতার…
জনতার সাথে হাতে হাত রেখে… নেতা হবে একাকার।
মানুষে মানুষে জমবে একতা মমতা ভালবাসা সততার।
দেশ জনতা সবাই নেতা… দেশটা হবে সবার।
আঁধার ঘুঁচে… সূর্য হেসে শান্তি আলোর প্রভাত হবে…
শান্তি সুখে সব মানুষের দেশটা তখন সবার হবে ।
…………………………………………..

মহিয়সী রোকেয়া স্বরণে

মহিয়সী রোকেয়া তুমি অনন্য, অসাধারন
যুগে যুগে নারীর ব্যথিত কন্ঠের অনুরনন
মহাত্মা মনিষী তুমি মহিয়সী চিরন্তন ।
তুমি সেই চিত্ত মৃত্যুন্জয়ী সুধা স্রোতস্বিনী
নারীর আকাশে যত ঝড় ঝন্জা বিদ্যূৎ চমক
তুমি সেইখানে যোগাও সাহসী খড়গ্ ।
প্রবল ঝন্জা উত্তাল উর্মী
যুদ্ধ কৌশলে রনাঙ্গিনী লেখনী ক্ষুরধার
অটল প্রবাহ বিদ্রোহী স্রোতধার।
তোমার স্পর্শে সাহসী স্পর্ধা
প্রতি পদে নারী পুরুষের পাশে
দক্ষতার দাপটে সাহসী পদক্ষেপে
দূর্দান্ত প্রতিযোগীতার…
‘ভুলি নাই’
মিনা মাশরাফী
মনে পড়ে…
বিভৎস রাত্রি অশান্ত প্রহর গুমোট স্তদ্ধতা
নিকষ অন্ধকার ভয়ার্ত সুমসাম নীরবতা…
আচমকা বারুদ বৃস্টি, বিকট শব্দ…
আৎকে উঠে শরীর, শিউরে উঠে মন- ভয়ঙ্কর সেই ক্ষন…
মার্চ ৭১’ এর কাল রাত্রি ভয়াল মুক্তি যুদ্ধের সেই সন!
ট্যাঙ্ক গোলাবারুদ আর পাক মিলিশিয়া শহর বন্দর জুড়ে ছিল…
ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিন্নভিন্ন মানুষের আহাজারি আর রক্তাক্ত লাশের মিছিল…
জনমানব শুন্য হাহাকার শহর বন্দর গ্রামে
ভীরু বাতাসের কান্নায়,
পশুপাখিও নিথর নিরুপায়
শহরের অলি গলিতে সবখানে
মৃত গলিত মানুষের ঘ্রানে…
শুন্য ভিটা ঘর শুন্য, শুষ্ক গাছপালা অসহায়…
শুকনো পাতার মর্মরে, মৃত্যুর সুর বাতাসের গায়…
আর নয়… ফুঁসে উঠে জনতা, বাংলার সাহসী দামাল ছেলে…
এত মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে- স্বদেশ বাঁচাতে
নিরস্ত্র জনতা নেমে আসে ঢলে…
যুদ্ধ তরঙ্গে সাহসী হয় উঠে নিরস্ত্র বাঙ্গালী ঘরে ঘরে…
জয়বাংলা প্রানিত আহবান, যুদ্ধের দামামা তালে…
ঝাঁপিয়ে পড়েছিল শত্রু ঘাটিতে সবখানে জলে স্থলে…
খাল বিলে পাহাড় জঙ্গলে নয় মাস যুদ্ধ শেষে…
একসাগর রক্তের বিনিময়ে, বিজয় পতাকা হাতে….
বীর বাঙ্গালী…
বিজয়ের হাসি মুখে ফিরে এলো দেশে…