মুক্তির দিশাপত্র

জীবনের পদে পদে উপপদের অনাচার
অনেক বেশি পীড়িত করছে জীবন
অকারণে অকালে অতি অনাদরে
অনাদায়ে অতীতের অজানা অনন্ত
চাওয়া পাওয়া আজ ভুতুড়ে গহিন অরন্যে দীপ্যমান
কবি তবুও এগিয়ে যেতে প্রস্তুত সামনে
ক্রমাগত মুক্তির মঞ্জিল পানে, অবিরত
অবিচল এখনও সত্যের বাহনে আরোহী সেজে
কোথাও কোন অনাচার অনাদর দেখলে
কবির হৃদয়ের গহীনে আঘাত হানে
খুব শক্ত করে, কুঠারাঘাতের মত করে
কবির ভাবনা অন্তত যৌবনা, চিরকালের
সীমাহীন পথচলার পদপ্রান্তের প্রতিকুলে
তবুও কবির কবিতা হয়ে ওঠে জীবন্ত
আলোকের হাতছানি, মুক্তির দিশাপত্র।।
…………………………………………..

একটি কবিতার ইতিকথা

একটি কবিতা আমাকে কবিতা লিখতে বলে
একটি কবিতা আমাকে এগিয়ে নিয়ে চলে।

একটি কবিতা সারাক্ষণ শুধু ছবি হয়ে ভাসে
একটি কবিতা দুখের সময়ও ফুল হয়ে হাসে।

আসুন সবাই সেই কবিতাটিকে হৃদয় দিয়ে স্বরি,
একটি কবিতা দিয়েই মননশীল জীবনটা গড়ি।।
…………………………………………..

প্রেম

আমি অবশ্যই পাব সেই প্রেম, সেই ভালোবাসা
রাতের শেষ প্রহরে মহান বিধাতার দরবারে
সপে দিলাম আমার সেই আকুলতা, পবিত্র চিন্তা
হে রব! আমার যাপিত হৃদয়ের গহীণ কোণে
এনে দাও সেই প্রেম আর ভালোবাসার দরদটুকু
যা আমার পবিত্র ভালোবাসার সচিত্র বিছানাপত্র
হায় প্রেম! হায় ভালোবাসা! হায়রে ভালোবাসা!
তোমার এতো দাম! তুমি এতো সুদূরে লুকায়িত!
মানব মনে দানবের অবস্থান দূরে যাক, সুদূরে-
আমি প্রেমিক ভালোবাসার যাপিত জীবনে
সাঁতার কেটেই যাব অনাদী কাল পর্যন্ত একাকীত্বে
কেউ আসুক আর নাই আসুক আমি প্রেমিক
আমার প্রেম পবিত্র, পবিত্রই রবে সারাটি জীবন।।
…………………………………………..

একটা ছড়া দেয়না ধরা

একটা ছড়া দেয়না ধরা হাজার কোটি বায়না,
দিনের বেলা করতে খেলা আয়না ছাড়া চায়না।

দিনের শেষে তারার দেশে চাঁদের আলো বান,
নদীর তীরে বকের ভীরে গায় যে বাউল গান।

কাশের বনে হাঁসের সনে বিলের পুটি পাবদা,
বেড়ায় খুঁজে পায়না বুঝে চলার সাথী বাপ, দা।

বাবুই পাখি বলছে ডাকি পাঁকা বাড়ি চাইনা,
আমরা কিন্তু আগের মতো খড়-কুটো পাইনা।

এমনি করে বায়না ধরে ময়না পাখি গায় যে,
সবুজ শ্যামল বন-জঙ্গল বনের পশু চায় যে।

আমিও কবি আঁকব ছবি গান কবিতা-ছড়ায়,
দেশটা আমার সেরা সবার এই না বসুন্ধরায়।।
…………………………………………..

গড়তে সোনার দেশ

এখন আর পাইনা খুঁজে শৈশবের সে স্মৃতি
জীবন থেকে সেসব এখন হয়ে গেছে ইতি।

গোল্লাছুট আর হা-ডু-ডু, দাঁড়িয়াবাঁধা খেলা
পাইনা খুঁজে হৈ হুল্লোরের বৈশাখী মেলা।

কাঁধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক কাতারে চলা
পরের তরে এখন আর হয়না সঠিক বলা।

বুকে বুকে বুক মিলিয়ে হৃদ্যতার আবেশ নাই
ভালবাসার বাহুডোরে ভালবাসা কোথা পাই!

পরের তরে আপন করে জীবন নদীর চরে
আর চলেনা নৌকা মাঝি নিজের মনে করে।

আর দেখিনা ভাইয়ে ভাইয়ে মধুর পরিবেশ,
হারানো এসব খুব প্রয়োজন গড়তে এদেশ।।
…………………………………………..

হাসি

হাসি-
তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি।
তাই-
সারাটি জীবন তোমারই দেখা চাই।

ফুল-
তুমি ভেঙে দিয়েছ আমার শত ভুল।
তাই-
তোমার মত আমরা উদার হতে চাই।

পাখি-
আমি তোমায় আপনার করে ডাকি।
তাই-
তোমার সাথী হয়ে বনে ফুটতে চাই।

ফল-
তোমায় খেয়ে বাড়ে শক্তি-সাহস বল।
তাই-
তোমাকে ফরমালিনমুক্ত সতেজ চাই।

নদী-
তোমার গতি দেখেই চলছি নিরবধি।
তাই-
সারা জীবন ধরে সচল থাকতে চাই।।
…………………………………………..

মনের মিনার

আঘাতে আঘাতে ভেঙ্গে দাও
মনের মিনার,
কাশবনের লুকোচুরি গড়েদিক
নদীর কিনার।

পোষা ময়না উড়ে যাবে জানি
সুদূরের প্রান্তে,
বটের ছায়ায় খুঁজে পাব শান্তি
দুপুরের শ্রান্তে।।
…………………………………………..

গভীর অরণ্য মাড়িয়ে

গভীর অরণ্য মাড়িয়ে যখন আমি
তোমার আশায় এগিয়ে অনেক দূর
সীমাহীন পথপ্রান্ত, তবুও সামনে
তবুও এগিয়ে যাবার আকাংখা
নীরব থাকেনা, চুপ থাকতে পারেনা
এ মন আমার, এ প্রাণ আমার
তবুও চাই, তবুও প্রত্যাশা আমার
তোমাকে পাবার, কেবল তোমাকে।।
…………………………………………..

একচিলতে ভালোবাসার জন্য

একচিলতে ভালোবাসার জন্য
দিনরাত কেঁদে কেটে পথ ভুলে
অজানা গন্তব্যে হারিয়ে গেল যারা
খুঁজে পেলনা তবুও মানবতার মুল্য
পেলনা যারা এতটুকু আদর
পেলনা যারা এতটুকু ঠাঁই কিংবা-
আমি তাদের জন্য কি লিখেছি কবিতায়
কবিতার পংক্তিমালায়, ছড়ার ছন্দে
গল্পের উপমায়, প্রবন্ধের অনুসঙ্গে
তবুও দাবি আমার আমি কবি
আমি প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, ছড়াকার
আরও কত কি, কত উপাধি, আরও-
তাই আমি বলি আর কবিতা নয়
আর নয় ছড়া ছন্দের আসর এখন চাই
একচিলতে ভালোবাসা, মাত্র একচিলতে।।
…………………………………………..

কবিতার ডালি

একটি রাত নিবিড়ে ঘুমিয়ে গেল
একটিবারও ফিরে তাকালোনা পিছনে
গহীনে হারিয়ে গেল তার ভালোবাসা
হারিয়ে গেল তার সুখের আলোকরেখা
আঁধারে তাকাতেই চোখে পরল
একগুচ্ছ জোনাকির আলো
ঝিঁঝিঁ পোকার কর্কশ সুরের ব্যাঞ্জনা
আর আমার!
আমার জন্য একটিমাত্র কবিতা
দুটো গল্প, কয়েকটি ছড়া। আর-
ভালোবাসার এক পশলা ওম!
শশীর জন্য-
আমার এই কবিতা। কবিতার ডালি।।

মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর
মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিঃ
আরশি প্লাজা, তৃতীয় তলা
ডিবি রোড, গাইবান্ধা।