আমার মৃত্যু পর

মৃত্যুর পর আমার লাশ প্রথম যখন বাড়িতে নিয়ে আসলো স্বজনেরা—
আমার মা তখন কান্নায় বিভোর,বাবা অজ্ঞান হয়ে গেলেন মিনিটেই !
কাঁদলেন পাড়া পড়শি অনেকেই কিন্তু আমার বোন—
না আমার বোনটি কাঁদতে পারেনি একটুও !
আসলে আমার এমন অকাল মৃত্যু ও মানতে পারেনি মোটেও

আত্নীয় স্বজন সবাই আসলো আমাকে গোসল করানো হলো!
সবাই আমাকে শেষবার দেখতে ইচ্ছুক —
আর আমি বাবাকে দেখতে ইচ্ছুক!
মনে হচ্ছে কতোকাল ধরে বাবাকে দেখিনা !

লাশটিকে খাটিতে রেখে সোজা চললাম বাবার ঘরে —
না সেখানে বাবা নেই ,
বোনকে বললাম বাবা কোথায়?
ও আমার কথার কোনো জবাব দিলো না !

ছুঁটে চললাম কলপাড়ে দেখি বাবা শুয়ে আছেন—
আর দু’চার জন পানি ঢালছেন বাবার মাথায় !

আমি জিজ্ঞাস করলাম কি হয়েছে বাবার ?
আমার কথার কেউ কোনো উত্তর দিলোনা—
যেন কেউ কিছু শুনছেই না !
আমি রাগ করে পুনরায় খাটিতে এসে শুয়ে পরলাম !

আমার চোখে প্রচুর ঘুম যেন কতোকাল ঘুমাইনা একা !
মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে !
আচ্ছা মা কি এখনো কাঁদছে, আমার শোকে !?
…………………………………………..

আমাকে ভুলে যাও হে প্রিয়তমা

আমাকে ভুলে যাও হে প্রিয়তমা
ভুলে যাও আমাকে—
ভুলে যাও জীবনের সকল সফল বেদনাকে !

ভুলে যাও অতীতের গ্লানিমাখা রুদ্ধ দুঃসময়কে—
উঠে দাঁড়াও, সম্মুখে তাঁকাও, দেখো জীবনের উজ্জ্বল নক্ষত্রকে …

সাঁজাও নিজেকে সাঁজাও—বাঁচো নতুনরূপে !
রুখে দাঁড়াও প্রতিরোধ করো সমস্ত অসম্ভবকে !
ভুলে যাও প্রিয়তমা ভুলে যাও— ভুলে যাও এই আমাকে!
এই নষ্ট আমার জন্য আর কোনো প্রতীক্ষা নয়
এই নষ্ট আমার জন্য আর কিছু হারাবার নয় !
নয় কোন পিছুটান, সম্মুখে হাঁটো
হাতের মুঠোয় আনো রঙিন স্বপ্নকে,
তবু ভুলে যাও প্রিয়তমা,ভুলে যাও এই নষ্ট আমাকে….
…………………………………………..

আঠারো কোটি মুখের থুথুমাখা ধিক

নিঃসঙ্গ নিস্তব্ধ সকাল চারদিকে নেই গুনশান
নেই কোন কোলাহল পাখির কিচিরমিচির ডাক !
নেই কোনো জনমানব জানালার বাহিরে—
নেই কোনো ছন্দ— প্রেমহীন বদ্ধ এ শহরে…

নেই কোনো হাঁসি মানুষের মুখে—
নেই কোনো প্রেম প্রিয়জন হারানোর শোকে !
এ শহর আজ বড় শান্ত নেই কর্মের ছোটাছুটি !
নেই কোনো শপিংয়ে সিরিয়াল ধরে ডাকাডাকি !

নেই কোনো গাড়িবহর রাজপথ বড় ফাঁকা —
নেই কোনো কর্ম খোলেনা কারো ভাগ্যের চাকা !
নেই কোনো রাজদরবারী নেই কোনো সুষ্ঠুশাসন—
নেই গরিবের পেটে ভাত,অনাহারে কেঁদে মরে শিশু দিনরাত।

নেই কোনো কর্ম আঙ্গুল চুষে আবালেরা ঘরে বসে
নষ্ট হয় আমার সোনালী ধান কৃষাণের মাঠে—
কামেরাহাতে ছুঁটে বেড়ায় মন্ত্রী কাঁচাধানে মই দিতে
কেউবা আবার ছুটে বেড়ায় ত্রাণচুরির হাটে…

নেই কোনো মনুষ্যত্ববোধ দেশে !
মানুষ হয়ে কাড়ে যারা মানুষের রিজিক—
মহামারীর এই ক্ষণে ,তাদের কপালে দেই
আঠারো কোটি মুখের থুথুমাখা ধিক !
…………………………………………..

মৃত্যুপাঠ

আমার মৃত্যুর পর তোমরা আমাকে কবর দিও
যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব হয়—
তবে আমার চোখদুটি’কে যেন নয়!
এ চোখে আমি হাজার বছর বাঁচতে চাই…

২.
মানুষের মৃত্যুর সংবাদ পড়তে পড়তে—
কখন যে নিজেই ঘুমিয়ে পড়বো
অন্তীম যাত্রার পথে
এ সত্য জানার ক্ষমতা নিজেরও নেই…

৩.
মৃত্যুকে ডান হাতে নিয়ে চলছি দিবারাত্রি—
জীবন নদীর তীরে
শৈশব স্মৃতিরা যেখানে আকঁড়ে ধরে…

৪.
মৃত্যু যে কতো কষ্টের—
মরেছেন যিনি তিনিই ভালো জানেন…

৫.
মানুষ মরে গেলে পৃথিবীতে বেঁচে থাকে ছায়া—
একমুঠো তৃষ্ণার্ত রৌদ্দুর বহুমুখী মায়া…
…………………………………………..

গর্ভহত্যা

হে মানবী আপনার গর্ভের সন্তান যদি কোনদিন আপনাকে চিনতে পেরে —
আর্তনাদ করে ডেকে উঠে মা মা বলে হাশরের ময়দানে!
আপনি কি তাকে চিনতে পারবেন?

চিনতে পারবেন কি সেই নবজাত শিশুটিকে?
যাকে আপনি কোটি বছর পূর্বে খুন করেছিলেন আপনগর্ভে!
যাকে আপনি পৃথিবীর আলো বাতাসকে দেখতে দেননি একটিবার!

মনে পড়ে?
এক বিষন্ন সন্ধ্যায় সূর্য্য যখন দিনের ক্লান্তি শেষে
ফিরে যাচ্ছিলো নিজ গন্তব্যে…
ঠিক সেই সময়ে নিধন করেছিলেন আপনি তাকে!
একটুও আপনার হাত শিহরিত হয়নি!

কি পাপ করেছিলো নিষ্পাপ শিশুটি?
কি করে এতোটা নিষ্করণ হতে পারলেন আপনি?
কিছুই তো চায়নি আপনার কাছে —
শুধুমাত্র একটিবার দেখতে চেয়েছিলো আপনাকে!
বাঁচতে চেয়েছিলো কিছুটা সময় পৃথিবীর বুকে!

এটাই কি তার অপরাধ !
তবে কেনো ! কেনো পাষন্ডের মতো হত্যা করলেন আপনগর্ভকে!
জবাব দেন ! পারবেন সমাধান দিতে হাশরের ময়দানে…
…………………………………………..

প্রিপারেশন অব সুইসাইড

আত্মহনন বিষয়টি মোটেও এতোটা সহজতর নয়—
যতোটা না মুখে বলা যায় !
আত্মহত্যায় অবশ্যই পূর্ব প্রস্তুতি থাকা একান্ত প্রয়োজন।

কোন একদিন বুকভরা ব্যথা নিয়ে ভাবলেন—
নিষ্ঠুর এ পৃথিবীতে বাঁচবার ইচ্ছে নেই আপনার !
ভেবেচিন্তে সত্যিই ঠিক করলেন নিজেকে হত্যা করবেন—
কোন ঔষধে কিংবা জনমানবহীন একটি দোচালা ঘরে
ফ্যানে চুপচাপ ঝুলিয়ে পরবেন!

পরেরদিন কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে
নির্জনে চললেন শক্ত মজবুত রশি হাতে !
এবং কাঁপা কাঁপা হস্তে টুলে দাঁড়ালেন,
ফাঁসিটা গলায় ঝুলানোর প্রায় ত্রিশ সেকেন্ডে পূর্বে—
সহসা মনে পরলো…

গতমেলায় কেনা প্রিয়বইটি এখনো পড়া হয়নি —
অতঃপর নেমে পরলেন মেঝেতে
ফ্রেশ হয়ে নিলেন এবং বইটি পড়লেন আপনমনে,
তৃতীয়দিন আপনার সত্যিই মনে হলো—
“আত্মহত্যার চেয়ে বেঁচে থাকাই বরং শ্রেয়” !
…………………………………………..

রোদেলা সকাল

আমার অন্তরজুড়ে ফুটফুটে যে শিশুটি বসে আছে ,
সে আমার মেয়ে।
আমার ধ্যানজ্ঞান সর্বসত্ত্বায় যার অস্তিত্ব বিরাজমান।
আমি ওকে বাবা বলেই ডাকি।
জীবনের একাকীত্বময় সময়ে যখন কিছুই
ভাবতে পারছিলাম না—
ঠিক সেই সময় বিধাতা পাঠিয়েছেন ওকে
রৌদ্রময় উপহারে।
রৌদ্রের মতো জ্বলজ্বল করে ওর প্রতিটি অঙ্গ নাক ও মুখ।
ওর চোখ-দুটি যেন একেকটি রৌদ্রময় কণা—
আমি ওর নাম দিয়েছি রোদেলা সকাল।
…………………………………………..

সংসার

যতোটা তুমি ভেবেছো ততোটা সংসারী আমি নই,
সংসার আমাকে কাছে টানে না মোটেও,
যতোটা কাছে টানে দূর আকাশ দূর সীমান্ত।
সংসার আমার কাছে বড্ড একঘেয়েমি মনে হয়—
এখানে নেই কোনো স্বাধীনতা, নেই কোনো সময়।
শুধু কাজ আর কাজ…!
সমস্ত দিনশেষে রাত্রিতে ঘরে ফেরা ,
পরিবার ও পারিবারিক দায়িত্ব পালন করতে
করতে আমি বড্ড ক্লান্ত ; বিশ্রাম নেই আমার।
অথচ ছোট্ট এ জীবনে কতো স্বপ্ন কতো আশা —
কতোকিছুই না বাকি থেকে যায়,
যা খুব নিরবে একাকী ভাবনায় চোখের জলে
বুক ভাসায়!
…………………………………………..

পুরুষ

অভিলাষী শরীর থেকে স্নিগ্ধজল ঝরিয়ে ভুলে যাই—
আমিও পুরুষ!
ভুলে যাই এ দেহের কতোরকম কতো মায়া।
অথচ এই আমিই যখন পূর্ণ উদ্দীপনায় ফিরে আসি-
নারীর প্রেমে,
কামার্ত শরীরের ভাঁজে ভেসে যাই অন্তীম শহরে ,
বাসনার ঠোঁট ও চোখের চাহনিতে আমিই পুরুষ!
রক্তে মাংসে গড়া মাংসাশী এক পুরুষ!
আমার বুকজুড়ে বাসা বাঁধে ক্ষুধা নিবারণের
অঙ্গিকার।
আমার চোখ ও ঠোঁট কোনো বাঁধা মানেনা,
হাজার বছরের তৃষ্ণার্ত এ হৃদয় –
খুঁজে ফিরি বারংবার নারীর প্রেম সাধনায়!
…………………………………………..

উঠোন

কতোদিন প্রেমচাষ করিনা মনের উঠোনে —
উঠোনটি ধূলোমাখা শরীরে পরে আছে একা!
তার দিকে তাকালে বড্ড মায়া হয়!
যেন সে কতো জনমের চেনা,কতো আপন!
অথচ এই মায়া ভুলে আমরা পরে থাকি নিঃসঙ্গ!

শহুরে মাটি ঘুরে ঘুরে ভুলে থাকি আপন চাঁদ
আসলে শহরে ভালোবাসা নেই; শুধুই বামহাত!