উত্তরণ

প্রতিটা উত্তরণের শেষে একটি নতুন মানুষ
সম্মুখে এসে দাঁড়ায়
ক্লেদাক্ত পথের গ্লানি
আহত শহরের বিষণ্নতা ঘিরে
মৃতের সন্ধ্যা নেমেছে আজ
আগামী সকালের জন্য
সবুজপাতার দৃষ্টিতে রেখে দিই সংলাপ
পথশ্রমে ক্লান্ত পা জোড়া মুমূর্ষু সান্তনায়
মুদিত আঁখি জুড়ে স্বপ্ন আঁকে
সভ্যতার চাকা ক্রমবর্ধমান পিষে যায় বুক
তবু তো মানুষ …
জেগে থাকা স্বপ্ন
তবু তো সভ্যতা…
পুঞ্জিত শোক
তবু তো হেঁটে যাওয়া …
গন্তব্যের আশায়
মানুষ গুলো শবে পরিনত হল ভোরের আগেই …
…………………………………………..

রাত্রির সংলাপ

ঘরে ফেরার বিপন্নতা
বুকের ভিতর হু হু করে ওঠে…
এক যুদ্ধকালীন রাত্রির ভিতর-
বিষণ্ন রাত্রির ভাষা…

পৃথিবীর নক্ষত্র শহরগুলো কেমন বিষণ্ন দৃষ্টিতে ছেয়ে
দিনেই নেমেছে রাতের আঁধার…
সন্ত্রস্ত বুকে কেবলই গভীর আর্তনাদ-
ওই বুঝি এলো সে…
তরাসে বুকের ভিতর দপ করে ওঠে-
প্ৰজ্জ্বলিত দ্বীপের নীচে এক কৃষগহ্বর…

যে বন্ধু চলে গেল এই মাত্র…
জাম-জরুলের ঘ্রাণ নেবে না সে আর
প্রিয় আমলকি গাছটির নীচে দাঁড়িয়ে নদীর চলমান কথা…
বৃষ্টির শব্দ শোনার বাসনায় যাঁর-
বৃষ্টিতে ভ্রুক্ষেপ নেই আর
কবিতার শরীর জুড়ে-
শুধু রয়ে যাবে খড়ির দাগ…
আর্দ্র হল দু চোখের পাতা-
যে বন্ধু চলে গেল এইমাত্র
কেবলই বিষণ্ন রাত্রির শোক…
…………………………………………..

নির্জন সিঁড়ি

একটা ছোট্ট নৌকা
নদীতীর… নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়–
নির্জন সিঁড়িতে বসে মুখোমুখি
পিছনে অপেক্ষায় আরও কেউ
তাদের নির্জনতার ভাগ নিয়েছি সেদিন
চেয়ে দেখছে নদী … দেখছে আকাশের তারা
দু-একটা জোনাকি গাছের ভিতরে ছড়াচ্ছে আলো
নির্জন সিঁড়ি নতুন ইচ্ছের বার্তা বয়ে
আলোর সমাধির বিপরীতে চলেছে সে পথ…
…………………………………………..

আমার চেনা শব্দ হল জল

অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা শেকড়
পৃথিবী প্রথম পেল ভাষা
অনেক সবুজ স্বপ্নে গাঁথা মালা
অনেক অণু-পরমাণু কথা
আমার চেনা শব্দ হল জল
তেষ্টা মেটায় দুঃখে ঝরা ভিজতে চাওয়া মন
হলদি থেকে কঙ্গো… তোর্সা… আমাজন…
রাইন তুমি অনেক দূরে স্বপ্ন চোখের পাতা
গঙ্গা রাখি বুকের মাঝে শুধু সৃষ্টি বহতা
…………………………………………..

বিবেক

নিষিদ্ধ পল্লীর জানালায় দাঁড়িয়ে বিবেক
চুরুটের ধোঁয়া উড়ছে বাতাসে
নির্ঝঞ্ঝাট দ্বীপ…
মস্তিষ্কের হার্ডডিস্কে লোড হচ্ছে সময়
নকশিকাঁথার মাঠ পেরিয়ে
খেয়া নৌকায় সুখী দাম্পত্যে
চন্ডীদাসের “রামি” নামলো পথে
হৃদয় বৃত্তি… শরীর বৃত্তি… জীবন বৃত্তির গল্প শুনতে শুনতে
ঝকঝকে দাঁত বার করে হেসে উঠলো
গভীর রাতের চাঁদ
চন্ডীদাস কাব্যপ্রেমে মগ্ন এখন
…………………………………………..

একতারা জীবন

কলমদানির কলম গুলো আকাশের দিকে মুখ করা
ঝরছে রক্ত .. ঝরছে অক্ষর .. শব্দ পতন ঘটছে অহরহ
একতারা হাতে বাউল গাছের তলায় সুর সাধনায় মগ্ন
জীবনকে রেখেছে বেঁধে একতারার তারে
অচিনপাখির নিত্য যাতায়াত ভিতরে-বাইরে
নিত্য পূজার ফুল পথে পথে ছড়িয়ে যায় বাউল
একতারা – জীবন বিশ্বলোকের পথে…
…………………………………………..

অঙ্গরাগ

গোধূলি অঙ্গরাগে অভিসারিকা বর্ষা-বিকেল
ধর্ষিতা মেঘ ভাসে ফেসবুক জুড়ে
কামনা-জল মগ্ন ঘনিমা
ভেজা খড়কুটো পালকের উষ্ণতা …
পাখির একান্ত বাসায়
ধুলোবালির পুরুষ কণা জমে জমে
গোধূলি অঙ্গরাগ ভাঙে
ভাঙে অভিসারিকা বর্ষা-বিকেল
…………………………………………..

ক্রন্দসী

রেখাচিত্রের অবয়বে এঁকে রাখা জন্মান্তর…
থমকে যাওয়া আত্মার অ্যানাটমি ঘেটে ঘেটে-
এক অলৌকিক দরজায় নতুন অক্ষর সাজাই

রাত্রিগত কিছু শোক… কিছু ব্যাথা…
ঘুন পোকা বিষয়ক হিমস্নান সেরে
এক জাগ্রত নদীকথার মত জ্যোৎস্না প্রেম…

মুহূর্তের শূণ্যতায়…
বিষন্ন আঁধার মাখা সান্ধ্য শিবিরের-
এক জীবন থেকে অন্য জীবনে…

থমকে যাওয়া আত্মার স্বর
স্পর্শবর্ণের আত্মিক সুপ্রভাতে-
ক্রন্দসী হয়ে ওঠে…
প্লাবিত জলে ভেসে যায় মন…
…………………………………………..

সৃষ্টি কাব্যকথা

অনুভূতির অকপট তীর্থভ্রমন
সাধ ও সাধনার নিহিত প্রাচুর্যে
মগ্ন সৃষ্টি নিরন্তর…

বন্ধুর পথ…
তবু মৃত্তিকার আদিমতা
আবৃত সবুজ ঘাস

সভ্যতার বিরহ…
যান্ত্রিক বার্তা-
অশ্রুপাত…

বৃক্ষের নিষ্প্রাণ অঙ্গার
তপ্ত পথের ধূলো-
ধরিত্রীর বিশালতা…

মেঘবার্তায় জলজ আভাস
রুক্ষ ধূলোর বুকে-
অবিরাম বৃষ্টিকথা…
যেন কৃষ্ণশ্যাম বাঁশির সুর

সহস্র সহস্র বছর অতিক্রান্ত…
অক্লান্ত অনুরাগে-
আত্মার অমৃতবানী
সুদূর নক্ষত্রলোকে…

সহস্র সহস্র বছরের
এক সৃষ্টিকাব্যকথা…
…………………………………………..

প্রত্নঅভিসার

আমার প্রত্ম-আদিমতা নিয়ে যায় নিশুতি রাতের গভীরে
সুষুম্নাকাণ্ড বেয়ে নেমে আসা রাত–
নানা দরজার সামনে ছেড়ে দেয়
কামের আধারে…
ভোগের আধারে…
প্রেমের আধারে…
সৃষ্টির আধারে…
হিংসার আধারে…
ধ্বংসের আধারে…
দরজার এক প্রান্ত থেকে অপর দরজার প্রান্তে ছুটে ছুটে যায়
এক নান্দনিক প্রত্নদরজার অভিসারে…