আমার জন্ম হয়েছে

আমার জন্ম হয়েছে
একটি লেখা লিখার জন্য
যে লেখাটি জাতি সংঘের সনদ করতে সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব হবে
কেউ চাইবেনা ভেটো দিতে

আমার জন্ম হয়েছে
একটি লেখা লিখার জন্য
যে লেখাটি কংগ্রেসে, মজলিশে, সংসদে, পঞ্চায়েতে, পার্লামেন্টে, অ্যাসেম্বিলিতে কিংবা হাউজে আলোচিত হবে নিয়তই

আমার জন্ম হয়েছে
একটি লেখা লিখার জন্য
যে লেখাটি লিবারেল, ডেমোক্রেটিক, ওয়ার্কাস কিংবা কমিউনিস্টগণ চাবে তাদের নির্বাচনের মেনুফেস্টো হিশেবে গ্রহণ করতে

আমার জন্ম হয়েছে
একটি লেখা লিখার জন্য
যে লেখাটি একটি টোকাই ছেলে শুনবে তন্ময়তার সাথে
কোনো অক্ষরজ্ঞানের কাছে

আমার জন্ম হয়েছে
একটি লেখা লিখার জন্য
যে লেখাটি প্রেয়সি তার প্রেমিককে উপহার দিবে
প্রেমিকও প্রেমিকাকে উপহার দিবে

আমার জন্ম হয়েছে
একটি লেখা লিখার জন্য
যে লেখাটিকে খেটে খাওয়া মজুর-কিষাণ বলবে তার তরেই লেখাটি
ভিক্ষুক বলবে একমাত্র তাদের জন্যই লেখাটি

নিপীড়ত মানুষ
দলিত গোষ্টী
ধর্ষিতা নারী-শিশু
গুম হয়ে যাওয়া স্বামীর দুঃখীনি বধুর নোনাজল পিতৃহীন শিশুদের করুণ চাওয়া
সবই উত্থিত হবে লেখাটিতে
আমার জন্ম হয়েছে
তেমন লেখাটি লিখার জন্যই

আমার জন্ম হয়েছে
একটি লেখা লিখার জন্য
যে লেখাটি দু’টো জাতির মধ্যে সৌহার্দ্যের মালা হয়ে থাকবে
যারা কাটা-কাটি, দাঙ্গা-হাঙ্গামায় সততই ব্যস্ত ছিল

পাখিরা বলবে এটি তাদের সংগীত
পিঁপড়ারা মিছিল করবে সেই লেখাটির পক্ষে
মাছগুলো জলারণ্যে হরতাল করবে তাদের এই লেখাটি চাই বলে
ফুলগুলো ফুটতে চাইবে না লেখাটি পঠিত না হলে
সালোক সংশ্লেষণ করে অক্সিজেন ছড়াবে না বলে ধর্মঘট পালন করবে সকল সবুজ উদ্ভিদ
বাতাস বইতে চাবে না ফলে কোনো ঢেউ উঠবেনা কোনো তটিনীতে
একটাই দাবি একটাই দাবি
লেখাটি তাদের চাই
আর সেই লেখাটি লিখার জন্যই
আমার জন্ম হয়েছে

প্রিয়তমা কবিলা
আমি সেই লেখাটি লিখব বলে তোমার উষ্ণ সঙ্গ ততটাই পানসে লাগে
যতটা পানসে লাগে মিষ্টি খাওয়ার পর চা খেলে

প্রিয় জন্মদাতা ও জননী
সেই লেখাটি লিখার জন্যই আমাকে তোমরা ভালোবাসার ফসল হিশেবে উপহার দিয়েছ
আমি সারাক্ষণ ভাবি
খাতা-কলম নিয়ে কাটাকুটি করি সেই লেখাটি লিখার জন্য
তাই তোমাদের হক হয় না পালন

স্নেহের আত্নজ
তোমার জন্য অঢেল সম্পদ বা নাম-যশ কিছু রেখে যেতে আসিনি এই ধরায়
আমি উপর্যুক্ত সকলের জন্য সেই লেখাটি লিখার জন্য সততই মগ্ন

হে বিশ্ববাসী
আমার জন্ম হয়েছে
সেই লেখাটি লিখার জন্য
যে লেখাটি লিখলে শাসক আমাকে করবে বন্দি
লুটেরা লুট করতে চাবে লেখার সেই খাতা
সামাজের পেঁচারা তাদের কর্ম বন্ধ হওয়ার আশংকা ও ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে আমার বুকে বসাবে বিষাক্ত অসি

আমি হাসব
আমি হাসব
অট্টহাসি দিব তখন
গলা ফাঁটিয়ে বলব
আমি লিখেছি
আমি লিখেছি
যে লেখাটি লিখার জন্য আমার জন্ম হয়েছিল
আমার শেষকৃত্য হোক তোমাদের সবার হাসিমুখ মুহূর্তে
…………………………………………..

হিংস্র গর্জন

আমার রক্তের প্রত্যেকটি কনিকাকে জিজ্ঞেস করেছি,
তোমরা কী ভীতু?
উত্তর এসেছে, অবশ্যই আমরা ভীতু।
কারণ
আমরা যার শরীরে বয়ে চলছি সে তো মহা ভীতু।

প্রত্যেকটি টিস্যুর কাছে প্রশ্ন রেখেছিলাম,
তোমরা কী রক্ত চক্ষুকে ভয় পাও?
আমরা ভয়ে শিহরণ জাগিয়ে তুলি।
কারন
যার শরীর ভয়ে শিহরিত হয় সে তুমি মৎকুনের মতই উন পাঁজুরে।

বাক প্রত্যঙ্গের প্রত্যেক অংশ আমার একটি জিজ্ঞাসু বাক্য শুনেছিল,
তোমরা বিদ্রোহের শব্দ উচ্চারণে কী সচেষ্ট হয়েছ কখনো?
আমরা কখনই এ রকম দুঃসাহসিকতা দেখাতে পারি না,
কারণ
আমরা যার মুখাবয়ব ও গণ্ডদেশে অবস্থান করি,

সে সুঠাম দেহী বকের মতো ভাবুক তবে সাহসের ছিটে ফোঁটা সেই তুমি ধারণ করো না।

আমার দৃষ্টিশক্তি জিজ্ঞাসিত হয়েছিল নিচের বাক্য দ্বারা,
তোমার মধ্যে কী দ্রোহের অনল খেলা করে কখনো?
দ্রোহ কী জানি না। অনল সেও বুঝি না।
কারণ
তুমি যে তথাকথিত বীরের চক্ষু কোটরে অবস্থান আমাদের,
তুমি তো ভিক্ষুকের থেকে হীন,
স্বকীয়তা নেই তোমার এক তিল পরিমাপ,
পদলেহন কর সততই,
ঔপনিবেশিকদের সামনে কখনোই মাথা তুলোনি তুমি উজবুক।

কী!
এতবড় অপমান!
আমি গেলুম ক্ষেপে,
থরথর করে কাঁপছে পেশি,
চোখ ঠিকরে বেরুচ্ছে বিদ্রোহ,
গলা ফাঁটিয়ে বলছি, এদেশ আমার। এদেশ থেকে তুই বর্গী হঠে যা। তোর পোদ্দারী সীমানার ঐ পারে। তুই যদি আরেকবার নাক গলাস আমার দেশের বিষয়ে আমি মারবো মোহাম্মদ আলীর ঘুষির ওজন সমান ঘুষি,
দশ আঙুলে চেপে ধরব তোর টুটি,
রক্তের কনিকায় জ্বলবে দাবানল
আমি উম্মাদ হবো
আমি উম্মাদ হবো
মহাবীর সোহরাব হবো
হবো আমি রোস্তম
বল্লম হাতে বিদীর্ণ করব তোর বক্ষ,
আঙুল ঢুকিয়ে তোর চোখ উপড়ে ফেলবো,
হিন্দা হবো
হবো হিন্দা
বিশ্ব জানাবে নিন্দা
তবুও চিবিয়ে খাব কলিজা
তোর কলিজার রক্ত পান করে আমি হবো শান্ত
আমি আজ শিখলাম দ্রোহ করতে
জ্বাললাম দ্রোহ শিখা কনিকায়
টিস্যুগুলোতে জ্বালাবো ভিসুভিয়াসকে

দুই পা হারিয়েছে ঐ ফাদি আবু সালেহ
ফিলিস্তিনের একটি মাটির কণা ছাড়তে রাজী নয় তবু
গুলতি মেরেছে নাড়ভুড়ি খাদক কুকুর ইসরাইলকে
একটি বুলেটে সে পেয়েছে অমরা’তে যাবার বার্তা
আমিও অমরা’তে যাব
তবুও তোর কলিজা খাব
তোর রক্তে নাব
তোর চামড়ার ঢোল বাজাব

তুই বর্গী
তুই জোচ্চোর
তুই কাক
তুই শেয়াল
তুই ভালোয় ভালোয় কেটে পড়
তুই পালিয়ে যা

নইলে আর নিস্তার পাবি না
অক্সিজেন পাবি না
জলও পাবি না

আমি আজ আর নই ভীতু
আর শিখেছি বর্গী তাড়ানোর হিংস্র গর্জন
যা তুই পালিয়ে যা।
…………………………………………..

হৃদয়ের ক্ষেত্রফল

হৃদয়ের ক্ষেত্রফল না জানি কতই বড়!
হবে হয়তো ঐ আসমান-জমিন সম।
না! এর থেকেও ঢের বড়।

আবার কেন জানি মনে হয় আমার;
সাগরের জলরাশি থেকেও কয়েকগুণ।
পরক্ষণেই না! এর থেকেও ঢের বড়!

হৃদয় মাঝে যে রাণী সেই রাণীর দেয়া দুঃখ;
তিল তিল করে ভরে গেছে আসমান ও জমিন।
তাইতো হৃদয়ের ক্ষেত্রফল এ দু’য়ের থেকে অধিক।

যার খুশির তরে হৃদয়বাগে ফুটে শত সহস্র প্রসূন।
তার অবজ্ঞার ভীড়ে আমার অন্তর তীরে;
উপচেপড়া রাশি রাশি গঞ্ছনার ঢেউ আচরে পড়ে।

এভাবেই পৃথিবীর সকল তটিনীর কষ্টভরা জলরাশি;
বুক চিরে চিরে বয়ে গিয়ে অর্ণবকে করে পূর্ণ।
তাইতো আমার গভীর অনুভূতি হৃদয়ের ক্ষেত্রফল সাগর থেকেও বৃহত্তর।

খোদাই ভাল জানেন এর বিস্তৃতি বা ক্ষেত্রফল।
যদি অর্ণব বা আকাশ-পাতাল সম হত এ হৃদয়ের ক্ষেত্রফল;
তবে শেষ জীবন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারতাম না এই আমি।

ফেটে যেত এ পৃথিবী বা ভরে টইটুম্পুর করে ভেসে যেত ধরা;
তার দেয়া অবজ্ঞা ও অবহেলার পরিমাণে।
তাইতো আমার অন্বিষ্ট জুগুপ্সা কত হবে হৃদয়ের ক্ষেত্রফল?

৩১.০১.২০১৭ রাত-১১:১০ টা
বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।
…………………………………………..

তোমার গহীনে মরেছি

আমার সমাধিতে তোমার অঞ্জলি
আমাকে জলহীন মাছের মতই করবে।
যাকে জেনেছ ধরার নিকৃষ্টরূপে
তাকে পারো না সঁপিতে নির্মল কোন ফুলের অর্ঘ।

তুমি তোমার মানসপটে, ঘুটঘুটে আঁধারের
উৎস হিশেবে পেয়েছো আমাকে
তাই বলছি, তোমার স্বর্ণোজ্জ্বল মানসকে
কলুষিত করো না, এই হতভাগ্যের সমাধিতে এসে।

তোমার জন্য ছিলো উচ্চবর্ণের সুবেদার
আর সেখানে আমি কোন তাঁবেদার!
আমায় গ্রহণে, তোমার জলসিঞ্চন হয়েছে সাহারায়।

হিশেবের খাতা মিলিয়ে দেখো সুশ্রী,
হয়ত তোমার তরফ থেকে রিক্ত।
তবে আমি তোমায় শুধু ভালোবেসেছি,
তোমার গহীনে মরেছি।
…………………………………………..

এওয়াজ

বাঁশির সুরের ইথার আজ দখল করেছে মুঠোফোনের ক্যাকোফোনি।
বৈঠা বেয়ে ছলাৎ ছলাৎ শব্দের নদীবুকের নৌবহর সেজেছে আজ কালো ধোঁয়ায় দিগন্ত দূষণকারী নৌযান।
বাবুই, তুমি কতই শৈল্পিক বিহঙ্গ!
বাড়ির কুয়োটার উপরে সুউচ্চ সেই নারকেল পাতায় দেখি না আর তোমার শিল্প।
নারকেল গাছটি নেই;
যান্ত্রিক একটি কুপ বসেছে সেখানে।

মোটা মোটা ষাড়গুলি,
আদৌ দৃষ্ট হয় না।
শীতের সকালে কুয়াশাচ্ছন্ন ক্ষেতে,
জোয়াল-লাঙ্গল ঠিক করে,
হাতে একটি পেন্টি নিয়ে,
হা! হই!
ডানে যা,
বায়ে ঘোর,
কৃষকের হাক শুনি না।
বেলা একটু উঠতেই কিশোর বালক
গামছায় করে বেঁধে নিয়ে আসে না পান্তা।
কী দানব সব লাঙ্গল!
এক নিমিষেই বিঘা ক্ষেত চাষ শেষ।

শ্রাবণ মাসে ধান লাগানোর আগে ক্ষেতে,
পুঁটি, টেংরা, চ্যাং মাছের সমারোহ মিশেছে দেখো দেড় মাসে আড়াই কেজি রুই’য়ে।

দোলা থেকে ধান আনার গরুর গাড়িগুলোর চাকার দাগ দেখি হয়েছে কালো পিচ।
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর শব্দ হয় না।
ভেপুর শব্দে শ্রুতি বধির।

ছোট্ট সেই কালো মুরগির ডিম হাজারো খুঁজে পাই না;
লাল লাল, বড় বড় ডিম দেখি সবখানে।

হৃদ আছে দেখি শত,
সবাই ব্যস্ত-ন্যস্ত যে যার মতো,
হচ্ছি যানে পরিবর্তন অবিরত।

মাগালে সাজ, বিকেল:-০৫:২০টা
২৮.০৭.২০১৭
…………………………………………..

মাগো তোমার মূল্য

মাগো, তোমার মূল্য কত?
আমি বুঝেছি দোহার উড়োজাহাজ বন্দরে;
যেখানে তাপদাহে তোমার খোকনের আদুরে শরীর প্রায় যাচ্ছিল ঝলসে।

মাগো, তোমার দুগ্ধ কত মিষ্ট?
এই জ্ঞানপিপাসু তনয় তোমার উপলব্ধি করেছিলাম পারস্যের সুউচ্চ পাহাড়ে;
যেখানে তৃষ্ণায় আমার প্রাণ হয়েছিল ওষ্ঠাগত;
কিন্তু তাদের সেই বারি আমাকে পারেনি করতে তুষ্ট।

মাগো, তোমার আঁচল কতটুকু শীতল?
এই অবুঝ খোকন তোমার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম বিদেশ ভূমে;
খাঁ খাঁ করা বালুকাময় বিস্তীর্ণ প্রান্তরে;
মাইলের পর মাইল, ক্রোশের পর ক্রোশ;
দেখিনি তোমার মত ছায়া শীতল কোন শাখী;
গা দিয়ে দরদর করে ঝরেছে তোমার খোকনের ঘাম;
সেইখানে বসে স্মরেছি হাজারোবার তোমার নাম।

মাগো, তুমি কতই সবুজ?
ভ্রমণ পিয়াসি এ সন্তান তোমার বুঝলাম সাহারায় হেঁটে;
মরীচিকা চারদিক;
দেখে হয়েছি হুতাশন;
সেই গাছপালাহীন ভূমে বসে তোমার শাড়ীর সবুজ আঁচলের বড়ই অভাব অনুভূত হয়েছিল।

মাগো, তুমি কতই মমতাময়ী?
তোমার এ খেয়ালপ্রিয় তনয় যখন জৌলুশপূর্ণ খাদ্যগ্রহণ তশতরিতে খেতে শুরুকরেছিলাম হাত দিয়ে ভাত খাওয়া;
দেখি চারদিকের সাদা চামড়ার মেকি মানবেরা আমার দিকে তাকিয়ে আছে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্যের ন্যায়।
মা, তুমি না আমায় শিখিয়েছো নিজ হাতে মাখো মাখো করে মুখে তুলে খেতে।
মা, তুমিই সেরা মা।
তোমার পুত্র তোমার শেখা আচরণে পাই পৃথিবীর সেরা সুখ।

মাগো, তুমি কতই বিচিত্র?
আমি বুঝলাম সেই সব দেশে গিয়ে;
যারা ছোট্ট ছোট্ট মাছের করে না ভাজি;
কাঁটা লাগবে নাকি তাদের গলায়;
করে না তারা কোনো মাছের ভর্তা;
আমি তোমার বুকের মাঝে ছোট্ট মাছের ভাজি ও ভর্তায় পাই খোদার স্বর্গের খাদ্যের স্বাদ।

মাগো মা,
আমি তাদের নাস্তার বাহারে বসে তোমায় স্মরণ করেছি আর অশ্রুতে আমার কপোল ভিজেছে;
তোমার উর্বর বুকে ফলা কলা হাজারো খুঁজে পাইনি আমি;
তোমার কলার পুষ্টিগুণ আমাকে করেছিল পুষ্ট হাজারোবার;

আমি বুঝেছি,
আমি জেনেছি,
আমায় বিদেশ-বিভূম চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে তোমার মূল্য কত?
…………………………………………..

অভিসার একান্ত

আকাশের মেঘহতে ঝরেপড়া বৃষ্টিকণা
পিষ্টটানের ফলে গোলাকার হয়ে আমার শুষ্ক
অবয়বে পড়ছে।

মেঘমালা তাদের ভালোবাসা পাঠিয়েছে পিষ্টটানে গোলাকার স্বচ্ছ ফোটায়।
আমি সে ভালোবাসা অঙ্গেমেখে ঝুমঝুম আওয়াজে বুঁদ।
মাথাথেকে পুষ্টগাল বেয়ে বুককে ভিজিয়ে চুয়ে চুয়ে আমাকে শীতল করছে মেঘের ভালোবাসা।

পল্লব স্নানে যেমন চিকচিক করে
আমারথেকেও চিকচিক রশ্মি বেরিয়ে মেঘমালাকে জানাচ্ছে ভালোবাসার প্রাপ্তি স্বীকার।

স্নাত এ সন্ধ্যায় কদমগাছের কাছে একগোছা ফুলের আবেদন করলাম।
সে নিরাশ করেনি।
আমি প্রেয়সীর হাতে কদমফুল গোছা দিয়ে আবার নেমেপড়ি ভালোবাসা মাখতে গায়ে।

‘তুমি কি একাই ভিজে সিক্ত হবে কবি?
আমাকে কী করবে না সাথি?
আমিও চাই ভিজতে!’

আমি দৌড়দিয়ে সেই কদমতলায় আবার।
আমি যে অভিসারে মিলেছি মেঘমালা
সেখানে সে বসাতে চায় ভাগ।
আমি এই অভিসারকালে শুধুই তোমার।
তোমার পরশে আমি হিম-শীতল।

আমি তোমার প্রেমিক।
প্রেমিক হয়ে চাই অভিসার একান্তই।
…………………………………………..

তুমি এসো প্রিয়া

আজ পুর্ণিমা রাত।
জোসনার বর্ষণ।
আপনালয়ের দ্বারখুলে এসো প্রিয়তম জোসনার এই ভরা প্রোচ্ছল যৌবনের ঢেউয়ে ভেসে যাই দুজন।
আমার উরুতে রেখো তোমার মাথা।
আমি আঙুলগুলোকে তোমার কেশের মাঝে বিলিতে রাখবো ব্যস্ত।
কন্ঠে সুর তুলবো অভিসার গীতের।
ভুলে যাব নিশার কতটুকু পরিসীমা।
স্নিগ্ধ আলোর স্নানে সিক্ত হবো দু’জন।

জোসনার বানে ভাসতে ভাসতে কেটে যাবে মহাকাল।
তোমার কেশের গন্ধে মাতাল হবো।
জোসনায় সিক্ত তোমার অবয়ব অপ্সরার কাছে ঈর্ষার তুল্য হবে।
বিহগেরা শোনাবে প্রেমগীত।
আকাশের তারকারাজি তাদেরকে মিলে কণ্ঠহার রূপে উপঢৌকন দিতে চাইবে তোমায়।
তোমার আমার সেই মধুক্ষণকে শোভিত করতে প্রকৃতি নানা সাজে সজ্জিত হয়ে আমাদের চারপাশকে করবে বহুবর্ণিল।

তুমি এসো এমনো জোসনার বরষায়।
তুমি এসো পূর্ণ শশীর এই রজনীতে।
আমি কেঁদে কেঁদে ডাকি তোমায়, তোমার প্রাণনাথ।
তোমার ভ্রমর।
মধুলেহ।

আমার বারতা তোমার বাতায়ন খুলে মধুপের কাছে নিও।
তোমার বাক্সবন্দি আকাশী পারের শাড়িটি পরিও।
চিকুরকে বেনি করোনা।
প্রেয়সী, খোলা রেখো মাথা।
বাতাসের ঝটকায় তোমার চিকুরের কিয়দংশ আমার মুখাবয়বে আছড়ে পড়বে।
আমি সোদা গন্ধে হারিয়ে যাব।

চপ্পলহীন হয়ে এসো প্রিয়া।
তোমার মেহেদীরাঙানো পদনখ আমি দেখবো তন্ময়তা নিয়ে।
শাড়িরজমিনের সবুজের ঢেউ যেন আমার ধানের ক্ষেত।

তুমি এসো। তুমি এসো।
২৩ জুন, ২০১৮।
…………………………………………..

সুখ

সুখ কবে পালিয়ে গেছে জানি না,
তার সঙ্গে হয় না আর সাক্ষাৎ কালে-ভদ্রেও।

বৈশাখী ঝড়ে যেমন শালিকটি সঙ্গী হারিয়ে
নিস্তব্ধ দিনাতিপাত করে,
ভারত থেকে ভেসে আসা পানিতে স্বজন হারিয়ে যে রোনাজারি মর্জিনার,
খরা মৌসুমে ইরির ক্ষেতের মাটি ফেটে যেরকম চৌচির,
জোড় গোখরার একটি যখন শিকার হয়ে সাপুরের ডালাতে বন্দী,
শিকড় উপড়ে ফেললে জল, কার্বন-ডাই অক্সাইড বিহীন বৃক্ষের করুণ প্রহর,
১৯৪৭ এর সীমানায় যেমন পৃথক দু’টি দেশ যারা ছিল একীভূত,
নিমতলির বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ভস্মিত ভাগাড়ে হাতড়াণো জননীর আহাজারী,
এরকমই নিনাদ করছে সাজানো কোমল হৃদ।

কিন্তু নিনাদে দেয় না সাড়া আঁখি।
বলে, যা ছিল জমা সব করেছ খরচ।
কিন্তু আমি চাই শ্রাবণের ধারাতে যে রকম চাল পারে না সংকুলান দিতে বৃষ্টির পানি।
তেমনি ঝরাক আমার ভালোবাসার শর নিক্ষেপকারী লোচনদ্বয়।

কিন্তু সবি মনে হয় বৃথা যাবে,
হবে শতভাগই অরণ্যে রোদন।
…………………………………………..

হৃদ পটে

প্রত্যুষকালে আধার কেটে উঠে অরুণ;
পূর্বাকাশ থেকে ফর্সালোক ছড়ায়।
সূর্যের অতুলনীয় তাপে বিশ্ব হয় আলোকিত;
গাছ-পাতাতে রন্ধনকার্জ শেষ হয়;
প্রায় সকল প্রাণী তাদের কাজের মাঝে মগ্ন থাকে।

আমার জনক ও অম্বালিকা আমায় ধরার আলোতে ভূমিষ্ঠ করেছেন।
কিন্তু তোমার আলো আমাকে করলো জ্ঞানে পুষ্ট।
আমি আজ দেখি-শুনি, সবই বুঝি।
যদিও সিদ্দিকুর হারালো আলো;
কিন্তু মাগো, অপার স্নেহে ও শীতল ছায়ায় তুমি আমার দূর করেছে সকল কালো।

তোমার পুকুরের জলরাশি আমার লোমকূপে;
তোমার কাননের প্রসূনের সুবাস আমার নাসিকায়;
তোমার সবুজ নির্মল সমীরণ আমার আবহে।

তোমার বক্ষের তৃণলতার উপর হেঁটে হেঁটে ইট-সিমেন্টের ইমারতে দরদী পণ্ডিতপ্রবর মহোদয়গণ দিয়েছেন আমার মননপাটে সুপ্ত মোমকে জ্বালিয়ে;
আমি সে আলোয় ভরাবই জাতি ও বিশ্বকে।

আমি ধন্য হলাম মাগো তোমার সন্তান হতে পেরে!
জানি তুমি ফিবছর জন্মাও সংখ্যায় অনেক সন্তান;
কিন্তু এও জানি অম্বালিকার কোটি সন্তানের ভীরে কোনো সন্তানই কম গুরুত্ব পায় না।
তাই আবেগে আমি আপ্লুত যে, আমি তোমার গর্বিত সন্তান।