বৃষ্টি

বৃষ্টি এলে
মনটা বলে
দূর সবুজে
মিশবো ভিজে
বৃষ্টি এলে
মেঘের গালে
হারায় লাজে
চোখটি বুজে।

বৃষ্টি এলে
শাপলা লালে
ঠান্ডা গায়ে
দুলছে বায়ে
বৃষ্টি এলে
নদীর জলে
কোনসে মেয়ে
নুপূর পায়ে?

বৃষ্টি এলে
একলা ফুলে
হাজার ফোঁটা
দেয়যে খোটা
বৃষ্টি এলে
ছেলের দলে
শখের ক’টা
স্বপ্ন ফুটা।

বৃষ্টি এলে
কৃষক,জেলে
আষাঢ় ভরে
মাছ ধরে
বৃষ্টি এলে
সারা বিলে
নয়ন জুড়ে
জল গড়ে।

বৃষ্টি এলে
নাউ তুলে
মাঝি ছুটে
ঘাটে ঘাটে
বৃষ্টি এলে
গাঁয়ের কোলে
হাটে-মাঠে
জীবন ফুটে।
……………………………………………

আয়না

বেসিনের আয়না
রোজ ধরে বায়না
চোখাচোখি রাতদিন
প্রাণে আর সইনা

ভোর বেলা সুর সাধে
ডেকে বলে জাগোনা
জানলার গিরিলে
মিঠে রোদে কাঁশোনা

ব্রাশ হাতে পেস্ট টিপে
ঘুমো চোখ ছাড়েনা
খিল খিলে হেসে উঠে
দেখে মোর বাহানা

এলো চুলে দোল খেলে
বায়ু দ্বারে দক্ষিণা
চিরুনিটা খুজে মরে
কেশবতী সখিনা

টাইলয়ে শার্টপড়ে
বর সাজে অহনা
বউ কালোকেশ বাধে
নববধূ সোহানা

একা ঘরে সুর ধরে
গুন গুনে তোহানা
সবশেষে আয়নাটাই
কিশোরীর ভাবনা।
……………………………………………

মামা বাড়ি

জ্যৈষ্ঠে রাঙা মামার বাড়ি
খেতে মিষ্টি আম
বায়না ধরে বলছে খোকা
মা একাই চলিলাম

ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখে
পাকা আমের জটা
রসের ভরে ফেটে পড়ে
খোকার মুখে ফোঁটা

জেগে হঠাৎ বলেছে মাকে
কেমন মাগো শো’টা
মা বলে যাবো আজি
বড়ই চতুর বেটা!

বুড়ো গাছে কাঁঠাল পাকে
দূরের চিকন ডালে
যায়না ছুয়া যায়না পাড়া
পাতি কাকের বুলে

কাকের বেয়াই দাওয়াত পেলো
কাঁঠাল খাওয়ার তরে
কোষখেয়ে সব ফেলছে বিঁচি
খোকার মাথার’পড়ে

রাত্রি বেলা বাঁদুর ঝোলে
কাঁঠাল পাকার ঘ্রাণে
খুঁজে পেলে খাচ্ছে সেও
দিনে ভেজাল জেনে

কাক বাঁদুরের গল্প যেমন
জ্যৈষ্ঠ মাসের দিন
খোকার গল্প মামার বাড়ি
তাক ধিনা ধিন ধিন ।
……………………………………………

দাদুর চেলা

দাদুর চেলা দু’তিন তলা
দিচ্ছে পাড়ি ঘর
টিউবওয়েলের পাইপ যেন
বাড়ছে বাজার দর।

দাদু এবার মহা-খুশী
বলতে পার কেন?
সারি সারি শিষ্য নাকি
গিফ্ট এনেছে শোন।

গুড়ায় পেটুক শিকড় নাড়ি
শিরে কারুকাজ
ডগার তালে দাদুও দোলে
হাসে সুপারি গাছ।

চারটা চেলা করছে খেলা
যেথায় পুকুর ঘাট
রাজ হাঁসের নাম শোনেছ!
দেখতে কার্জন,লাট।

ছোট্ট নাতি হয়না সাথী
দাদুর চেলার ডরে
দেখলে তাকে ডানে বায়ে
ঠোকরে আসে জোরে।

পুকুর সারা মাছে ভরা
খায়না দাদু নিজে
চুরি করে বড়শি বয়ে
খেতে দিলেও বুঝে।

ক্ষিদে হলে সিদে চলে
এমন কৃপণ বেশ
জুতো রেখে খড়ম পায়ে
ঘুরতে চাহে দেশ।

সাদা জামায় দাড়ি,কমা
পানের পিকে লাল
দিদা ভাই খেমটি দিয়ে
বলছে দেখি কাল।

দাদুর বাড়ি রসের হাঁড়ি
বাড়ায় মনে টান
একলা হলে হাসন রাজার
শোনায় দাদু গাণ।
……………………………………………

কদম তলা

কদম তলায় নয়া হাটে
বৈশাখী রং ঝরে
বায়না ধরি নাগর দোলায়
চরতে দিন দুপুরে

মাটির পুতুল বর-কনে
বাঁধ ভাঙা খুশি
টুনাটুনির ঘর সাজিয়ে
পাচ্ছে খুকির হাসি

ফুল কুড়িয়ে গাঁধে মালা
বিয়ের লগ্ন হলে
সখির বাড়ি আজি বিয়ে
পালকি হেলেদুলে

কুমোর পাড়ার গরুর গাড়ি
চরে যাবে বর
নাইওর যেতে বাপের বাড়ি
ছাড়ছে কনে ঘর

পিঠা বালি পাতায় থালি
নাস্তা পানি কত
বিয়াই বিয়ান সেলাম নিয়ে
হাসে খোকা শত

সুখের ঘরে ক’দিন পরে
দেখে খোকা-খুকি
পুতুল বিয়ের দিনটাই যেন
সব চেয়ে তার সুখী।
……………………………………………

বোইশাখ

বোইশাখীরে কোন বহরে
কার বা তুমি হাতটি ধরে
বধূবেশে আসলে ঘুরে
মোর সীমানায় আকাশ জুড়ে ?

কী এনেছো আঁচল ভরে
অঙ্গে সারা গয়না পরে
বছর টানা খুঁজি যারে
আলতা রাঙা পায় নূপুরে ?

ভয় পেওনা এসো ঘরে
বসতে দিবো আনাম পিড়ে
পান্তা দিবো শানকি ভরে
ইলিশ ভাজায় খাবে পুরে

কাঁচা মরিচ নিবে কুড়ে
কাঁদবে নাতো নুনের দরে ?
অতি ভোজন ভাল নারে
দিবো খেলে দিব্যি জোরে

কয়টা কথা শোন ধীরে
বদলে দাওনা ভাবনাটারে
পুবের গ্লানি বড়াই ঝেড়ে
মূর্খ রাখি বাঁধন ছিড়ে

কবু যদি আউলা ঝড়ে
আঘাত হান স্বপ্ন ঘরে
কেমন করে ডাকবো তোরে
আবার স্বপ্ন মিথ্যে করে ?

আজি প্রতি পথের ধারে
বাসন্তী শাড়ী রাঙা পাড়ে
তোমায় নিবো বরণ করে
বঙ্গ বেশে আপন নীড়ে।
……………………………………………

বধূ

সবুজঘেরা মেঠোপথে
খালি দুটি পায়
লম্বা চুলে কোমর দোলে
গাঁয়ের বধূ যায়

পুকুর ঘাটে স্নান লয়ে
ভিজা শাড়ি গায়
আড় চোখে চুপিসারে
মুচকি হাসে তাই

পথের ধারে গাছের ডালে
দিচ্ছে পাখি শিস
বধূর কায়া শিউরে উঠে
পায়না যেন দিশ

পাশে কয়েক বনের খোঁপায়
ডাকে সাদা -কাশ
হাতে লয়ে সুড়সড়িতে
হল সর্বনাশ।
……………………………………………

প্রজাপতি

প্রজাপতি! পাখনা খোলে
একলা কোথায় চলো
বনের পথে হারিয়ে গেলে
উপায় কি বা বলো !

আম্মি যদি খোঁজে বেড়ায়
আব্বু ডাকে নামে
ভাইটি যদি খেলতে চাহে
পুতুল কেনার দামে ?

বোনটির কথা ভুলে গেছো
রোজ সকালের মান
কোঁকড়ো চুলে বেণীর তরে
ধরতে কত কান ?

প্রজাপতি ঘড়ি দেখে
ভ্রু কুঁচকিয়ে বলে
কি থেকে কী করেছি
ঐ ছোট্ট কালে !

এখন আমি অন্নেক বড়
বোঝলে ওলে বেবী ?
এসব নিয়ে ভাবিনাতো
আছে যাদুর চাবি

যখন তখন মেলে দোয়ার
ইচ্ছে হলেই উড়ি
নইতো আমি খাঁচার পাখি
স্বাধীন মুক্ত ঘুড়ি।
……………………………………………

কাকতাড়ুয়া

ঢলঢলে জামা গায়
হাত দুটো মেলে
রোদে পুড়ে ঘামে ভিজে
সে কার ছেলে ?

কবে থেকে লড়তে শিখে
সর্ষে- রাইয়ের ক্ষেতে
কেউ কি তার লইনা খবর
বাড়ি ফিরে যেতে ?

ভাই নেই বোন নেই
বাড়ি নেই তার ?
ক্ষিদে নেই যেতে নেই
ভয় নেই যার !

মাসী বলে কেন খোকা
এত জানতে চাওয়া?
ধনুক হাতে সে ছেলেটি
কাকতাড়ুয়া।
……………………………………………

পরী

তুল তুলে গোল গাল
পরী মনির গাল যে
রোজ রোদে লাল হয়ে
বাড়ি ফিরে হাল যে

বেগ ফেলে জামা খুলে
উড়ে বসে সিড়িতে
মা ডাকে ঢ়ং দেখে
ঠোঁট ভরা চুমুতে

গালে হাত হলো রাগ
মন নেই কিছুতে
মাকে বলে বাবা এলে
বল! যাবে বেড়াতে

বারান্দার একপাশে
চারা ফুল গাছেতে
পরী রোজ পানি ঢালে
রাঙ্গা ফুল আশাতে

সরু ডালে দোল খেলে
প্রজাপতি ডালেতে
পরীও দোলে মায়ের কোলে
চুপিচুপি হাসিতে।
……………………………………………

হলদে পাখি

সাজনে ডালে হলদে পাখি
খোকন ছবি আঁকে
নীল আকাশে বকের সারি
উড়ছে গায়ের বাঁকে।

বরই ডালে চড়ুই পাখি
হাওয়ার গলা ধরে
ঝাপটি মেরে চুপটি বসে
পড়ে মরার ডরে।

দোয়েল ডাকে বাঁশের ঝাঁড়ে
শান্ত মেয়ের সুরে
পাখনা মেলে পালক ঝারে
দক্ষিণ হাওয়ার ভরে।

পালক ছিড়ে উড়ছে বায়ে
ঠোঁটের খোঁচায় তার
আয়েশ করে তবও বসে
জনম করে পার।

পাটের ঝোঁপে টুনটুনিটা
ভেজায় ব্যাস্ত কাল
লেজ নাড়িয়ে লাফ হাঁকিয়ে
উতলা মন মাতাল।

শালিক বসে বটের ডালে
ঠোকছে বট ফল
ময়না এসে সুর ধরেছে
বাজনা বাজাই চল।

বাঁশের মাথায় কাকের মাতন
ফিঙ্গে পাখির মেলা
কত রঙ্গে আঁকছে ছবি
খোকন সারা বেলা।