মানুষের মৃত্যু হ’লে তবুও মানব
থেকে যায়; অতীতের থেকে উঠে আজকের মানুষের কাছে
আরো ভালো— আরো স্থির দিকনির্ণয়ের মতো চেতনার
পরিমাপে নিয়ন্ত্রিত কাজ
কতো দূর অগ্রসর হ’য়ে গেল জেনে নিতে আসে।
-জীবনানন্দ

ভারতের মিসাইল ম্যান জনগণের রাষ্ট্রপতি ভারতরত্ন বিজ্ঞানী তামিলনাড়ুর দ্বীপশহর রামেশ্বরমের সন্তান এ পি জে আবদুল কালাম তাঁর আত্মজীবনী ‘অগ্নিপক্ষ’র ভূমিকায় বলেছিলেন, এই গ্রহের প্রত্যেকটি জীবই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এক একটি নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য! আমি জীবনে যা কিছু করতে পেরেছি তাঁরই আনুকূল্যে, তাঁরই ইচ্ছাকে রূপদান করবার জন্যে! তাঁর করুণা তিনি আমার ওপর বর্ষণ করেছেন কতিপয় অনন্য সাধারণ শিক্ষক ও সহকর্মীর মধ্য দিয়ে! সদ্য প্রয়াত তামিলনাড়ুর ত্রিচি শহরের আর এক মহৎ প্রাণ কৃতি সন্তান স্বাধীন ভারতে মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, কর্নাটক ব্যাঙ্গালোরের আল আমীন এডুকেশন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ডা. মুমতাজ আহমেদ খান নিজের শিক্ষা আন্দোলন কর্মকান্ড বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন,আল্লাহ আমাকে দিয়ে এই সব কাজ করিয়ে নিতে চেয়েছেন, তাই সম্ভব হয়েছে! মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 1966 সালে এমবিবিএস এবং পরবর্তীতে স্ট্যানলে মেডিকেল কলেজ থেকে এম এস করার পর 1965 সালে ব্যাঙ্গালোরে নানার বাড়িতে চলে আসেন ডাক্তারি প্রাকটিস করার জন্য! নিজস্ব জন্মভূমি তামিলনাড়ুতে মুসলিমদের শিক্ষা বিস্তারের জন্য আলাদা কলেজ থাকলেও ব্যাঙ্গালোরে এসে দেখেন সেই সুবিধা নেই! মাত্র একত্রিশ বছর বয়সে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মুসলিম ছেলে মেয়েদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে 1966 সালে আলামিন এডুকেশন সোসাইটি গঠন করে নানার বাড়ীর একটি অংশে নতুন কলেজের সূচনা করেন! পারিবারিকভাবে আর্থিক সচ্ছলতা থাকায় যুবক ডা মমতাজ আহমেদ খান মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে কাজ করার কথা ভাবনাচিন্তা শুরু করেছিলেন! যা এখন সারাদেশে আল আমিন শিক্ষার আন্দোলন নামে স্বীকৃতি পেয়েছে!
মুসলিম সমাজের জন্য কিভাবে কাজ শুরু করবেন তা নিয়ে ভাবতে গিয়ে মুমতাজ সাহেবের মাথায় এসেছিলো মাযহাবের নামে মুসলমানদের এক করা যাবে না!রাজনীতিতেও সবাই বিভিন্ন দলে বিভক্ত! তিনি ভেবে দেখলেন শিক্ষাই হলো একমাত্র সবার জন্য কমন ইস্যু! এখানে মুসলিমদের মধ্যে কোনো বিভেদের সমস্যা নেই!তাই তিনি মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষার প্রশারে উদ্যোগী হলেন! কিন্তু কলেজ শুরু করার পর মানুষজন ভাবতে লাগলো আমার আসল উদ্দেশ্য কি টাকা কামানো নাকি ভবিষ্যতে রাজনীতির প্লাটফর্ম তৈরি করা! এ নিয়ে অবশ্য সাধারণ মানুষকে দোষ দেওয়া যায় না কারণ এর আগে বেশ কিছু মানুষ সমাজ সেবার লক্ষ্যে মানুষের মধ্যে কাজ শুরু করলেও তাদের আসল লক্ষ্য ছিল রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া! সেই ধারণা থেকে মানুষজন আমার আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে মানুষজন সন্দিহান ছিল! কিন্তু যখন কাজ শুরু করলাম কাজ করতে করতে কাজের অনেক পরিধি বেড়ে গেল, তখন সেই সমস্ত মানুষ জান ই নতুন নতুন জায়গায় স্কুল-কলেজ খুলতে সব রকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে লাগলো! টাকা পয়সার অভাব থাকলেও তা জোগাড় হয়ে যেত! আল-আমিন নামকরণের পিছনে একটি কারণ রয়েছে! শিক্ষার উপর কাজ শুরু করলাম! পরিচালন কমিটির মিটিং এর সকলেই অভিমত প্রকাশ করল সংস্থার একটি সেক্যুলার নাম দেওয়া প্রয়োজন! প্রথমে ঠিক হয়েছিল সংস্থার নাম হবে ব্যাঙ্গালোর এডুকেশন ট্রাস্ট! কিন্তু সংস্থার কয়েকজন বললেন, সেক্যুলার নামকরণের কথাই যখন উঠেছে তখন আল আমিন রাখা হোক! আল আমিন তো সেক্যুলার নাম! কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই উপাধি নবুয়াত পাওয়ার আগে পেয়েছিলেন! বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসী সকলেই নবীকে এই উপাধি দিয়েছিলেন! সারা জীবন তিনি সত্যের পথে থেকেছেন এবং সত্যবাদী আলামিন আখ্যা পেয়েছেন তার থেকে সেকুলার তো আর কেউ হতে পারেন না! তাই আল-আমিন এডুকেশনাল সোসাইটি নামকরণ করা হয়েছিল! আর প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে পরবর্তীতে ‘আল-আমিন’ এই নামের বরকত তিনি দুনিয়া জুড়ে পেয়েছেন!কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পর তাকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে গেলে যিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন তার মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে যে আল্লাহ তাআলার মদতে প্রতিষ্ঠানটি চলছে! প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কাজটি তিনি তাকে দিয়ে করিয়ে নিচ্ছেন! প্রতিষ্ঠানঃ পরিচালনায় যত বাধা বিপত্তি আসুক না কেন ধৈর্য ও মানসিক স্থিরতা বজায় রাখতে হবে! প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংকল্পে বিরত থাকতে হবে কোনো অবস্থাতেই সংকল্পের দৃঢ় অবস্থান থেকে বিচ্যুতি ঘটানো যাবেনা! প্রতিষ্ঠান উন্নতি করতে গেলে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিনই কাজ করে যেতে হবে! কোন অবস্থাতেই আত্মসন্তুষ্টি আনা যাবেনা এবং কাজ থামানো যাবেনা! প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কাজ সাহস দৃঢ়তার ও বীরত্বের সঙ্গে করতে হবে! আপনি যদি ভয়ে ভয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন তাহলে সুবিধাবাদী লোকজন আপনার উপরে চেপে বসবে! তাই প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সুবিধাবাদী লোকজন থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে! প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে গেলে দেখবেন সমাজে এমন কিছু মানুষ থাকবে যাদের কাজই হলো সব সময় বিরুদ্ধ সমালোচনা করে আপনাকে বিভ্রান্ত ও হতাশ করে দেওয়া! প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের এই সমস্ত মানুষের কথায় কোন কর্নপাত করার প্রয়োজন নেই! কারণ এই সমস্ত বিরুদ্ধ সমালোচনা কারীরা চায় বিরূপ সমালোচনা করে আপনার আসল কাজের ফোকাস নষ্ট করে করে দিতে!ডক্টর মমতাজ আহমেদ খান আলামিন এডুকেশন সোসাইটির মাধ্যমে সারাদেশে 250 টির বেশি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন গড়ে তুলেছেন! এই সমস্ত এডুকেশনাল ইনস্টিউটে আড়াই লাখের বেশি ছাত্র পড়াশোনা করে! আল-আমিন মুভমেন্ট ছড়িয়ে দিতে আল-আমিন এডুকেশন সোসাইটি প্রি নার্সারি স্কুল থেকে শুরু করে সব ধরনের এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন এবং সেই সঙ্গে মেডিকেল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজও পরিচালনা করে! আল-আমিন পরিচালিত উল্লেখযোগ্য ইনস্টিটিউশনস গুলি হল:আল-আমিন মেডিকেল কলেজ, আল-আমিন কলেজ অফ ফার্মেসি,আল-আমিন কলেজ অফ ল,আল-আমিন আর্টস, সায়েন্স এবং কমার্স ডিগ্রী কলেজ, আল-আমিন কলেজ অফ এডুকেশন,আল-আমিন ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, আল-আমিন ইনস্টিউট অফ ইনফর্মেশন সায়েন্সেস,আল-আমিন প্রি ইউনিভার্সিটি কলেজ, আল-আমিন প্রাইমারি এন্ড হাইস্কুল,আল-আমিন কোয়েস্ট একাডেমি!তিনি আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির প্রো ভিসি’র দায়িত্ব সামলেছেন!দৈনিক উর্দু সংবাদপত্র সালার ডেইলি’র ফাউন্ডার ট্রাস্টি ছিলেন!আল-আমিন এডুকেশনাল মুভমেন্ট এর জন্য কর্ণাটক সরকার তাঁকে রাজয়োসাভা এওয়ার্ড দিয়ে সম্মানিত করেছেন!আলামিন এডুকেশনাল সোসাইটির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ডক্টর মমতাজ আহমেদ খান বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা কোন এক আজব পদ্ধতিতেই তাঁর কাজকর্ম করিয়ে নেন! কিছু কিছু কাজ ছিল যেগুলো আমি নিজে করতে পারতাম না! কিন্তু দেখতাম অন্য কেউ সেই কাজগুলো ঠিক ঠিক সময়ে করে দিচ্ছে! ব্যাপারটা আমার কাছে কেমন যেন অদ্ভুত রকম লাগতো! অনুভব করতাম যে সবই আল্লাহর ইচ্ছায় হচ্ছে!কাজ শুরু করার পর খুব বেশি ভাবতাম না! আল-আমিন এডুকেশনাল সোসাইটির পূর্ণাঙ্গ টিম শুধুমাত্র আল্লাহর ওয়াস্তে কাজ করতে চেয়েছে! আমাদের টিম খুবই বিশ্বস্ত, সৎ এবং দক্ষ! টিমের সকলকে কাজ ভাগ করে দেওয়া হতো এবং পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল টাকা পয়সা খরচ করে কাজ তুলে আনার!আল-আমিন এডুকেশনাল সোসাইটির কর্মকর্তারা ঘরের খেয়ে সমাজের জন্য কাজ করেছে! প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো টাকা-পয়সা নিতেন না!আলামিন এডুকেশনাল মুভমেন্টের উদ্দেশ্যই ছিল আধুনিক শিক্ষা ক্ষেত্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া! কিন্তু আল আমিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি আবার সব সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের জন্য উন্মুক্ত! সেইসঙ্গে পড়ুয়া ভর্তির ক্ষেত্রে মেধার সঙ্গেও আপনারা আপোষ করেন না! সে ক্ষেত্রে আপনাদের প্রতিষ্ঠানঃ তৈরীর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কিভাবে সাধিত হচ্ছে! এই প্রশ্নের উত্তরে ডাক্তার মমতাজ আহমেদ খান জানিয়েছিলেন, আলামিন এডুকেশনাল সোসাইটির কর্মকর্তারা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বুঝেছিলেন লোহার কেজি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ুয়াদের যদি সঠিকভাবে শিক্ষাদান করা যায়, তাহলে পরবর্তীতে সেই সমস্ত পড়ুয়ারা উচ্চশিক্ষায় কিংবা জীবনে সফল হতে খুব বেশি সমস্যায় পড়ে না! তাই আলামিন এডুকেশনাল সোসাইটি প্রি নার্সারি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পঠন-পাঠন দেওয়ার লক্ষ্যে বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে! আর এই সমস্ত হাইস্কুলের শতকরা 100 শতাংশ মুসলিম পড়ুয়ারা পড়াশোনা করে! শতাংশ পরবর্তীতে এই সমস্ত পুরো আড়াই আলামিনের বিভিন্ন কলেজগুলোতে ভর্তি হয়!আর বৃত্তিমূলক কোর্সের কলেজগুলিতে ম্যানেজমেন্ট কোটায় যে 50 শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকে স্যার সবকটিতেই মুসলিম পড়ুয়ারা ভর্তি হয়! আর বাকি 50% আসনে পড়ুয়ারা এন্ট্রান্স পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আসে! হলে প্রতিষ্ঠানগুলিতে মুসলিম সংখ্যাধিক্য সবসময়ই থাকে!ডাক্তার মমতাজ আহমেদ খান স্পষ্টভাবে জানিয়ে ছিলেন, তারা এতগুলি ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা করলেও নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে চান নি! আলামিন বিশ্ববিদ্যালয় করলে আমাদের ছেলেমেয়েদের প্রতিযোগিতার মনোভাব না শুধুমাত্র নিজেদের গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, গুণগত উৎকর্ষের অভাব হতো! তাতে মুসলিম সমাজের খুব একটা লাভ হতো না! আমরা চেয়েছি মুসলিম পড়ুয়ারা অন্যান্য পড়ুয়াদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে নিজেদের সেরাটা প্রমাণ করুক! আলামিন কলেজ ব্যাঙ্গালোর ইউনিভার্সিটির অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যাঙ্গালোর ইউনিভার্সিটির অধীনে সাড়ে আটশ কলেজ রয়েছে! সেখানে আমাদের কলেজের পড়ুয়াদের রেজাল্ট একেবারে উপরের সারিতে রয়েছে!আমরা পড়ুয়া এবং শিক্ষক নির্বাচনে মেধার সঙ্গে কখনো সমঝোতা করিনি! আমাদের কলেজের পরিকাঠামো খুবই উন্নত মানের এবং অমনি পরিবেশে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করে! ধার্মিক মুসলিম পরিবারের মেয়েরা হিজাব এবং বোরখা পড়ে স্বাচ্ছন্দ্যে আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করছে! আলামিন এডুকেশন সোসাইটি তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইসলাম ধর্মের সঙ্গে আধুনিক শিক্ষার সঠিক মেলবন্ধন ঘটিয়েছে!আলামিন এডুকেশনাল মুভমেন্ট 2018 সালে 50 বছর পূর্ণ করেছে! আলামিন প্রতিষ্ঠান এত সুনাম তার পরেও বিদেশে তারা কোন শাখা কেন খোলেননি, এই প্রশ্নের উত্তরে ডাক্তার মমতাজ আহমেদ খান জানিয়েছিলেন, গুণগত মানের সঙ্গে আমরা কোনদিন আপস করি না! আমাদের ল এবং ম্যানেজমেন্ট কলেজ ব্যাঙ্গালোর ইউনিভার্সিটির শ্রেষ্ঠ কলেজ! আর ফার্মাসি কলেজ ছাড়া ভারতের সেরা কলেজ গুলির মধ্যে 1 টি! ভারতবর্ষের কুড়ি কোটির বেশি মুসলিমদের মধ্যে কত কাজ করা রয়েছে! যারা সারাজীবন করলেও শেষ হবে না! প্রতিবেশী সম্প্রদায়ের মানুষজন শিক্ষায় আমাদের থেকে এতটা এগিয়ে রয়েছে যে আগামী 50 বছর লাগবে তাদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে! বিদেশে আলামিন সরাসরি কোনো প্রতিষ্ঠান না করলেও আমাদের ছাত্ররা আমেরিকা মক্কা-মদিনা এবং জেদ্দাতে স্কুল চালাচ্ছে! 1968 সাল থেকে আলামিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি থেকে লাখের বেশি পড়ুয়া তৈরি হয়েছে যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছে!ডাক্তার মমতাজ আহমেদ খান ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছিলেন উত্তর ভারতের শিক্ষা বিস্তারের কাজের চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি! উত্তর ভারতের ধর্মীয় নেতারা শুধু মসজিদ-মাদ্রাসা করে রুটি-রুজির চিন্তায় থাকেন! মাযহাবী মাসালা নিয়ে দ্বন্দ্বে মেতে থাকেন এবং সক্রিয় রাজনীতিতে বেশি উৎসাহ বোধ করেন! হলে সমাজ সেবার কাজ নিয়ে যারা এগিয়ে আসেন তাদের লক্ষণ থাকে পরবর্তীতে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া! দিল্লি এবং রাজস্থানের একি হাল মুসলিমদের! আজমির দরগা তে কোটি কোটি টাকা আয় হয় অথচ সেই টাকা সমাজ উন্নয়নে কাজে লাগে না! অথচ তিরুপতি মন্দিরের কোটি কোটি টাকা আয় হয় কিন্তু ওরা একটা বিশ্ববিদ্যালয় চালায়! মুসলিম সমাজের মানুষজনের বোঝা উচিত পশ্চাদপদতা থেকে আমাদের উঠে আসতে হলে একমাত্র রাস্তায় হলো নিজেদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা! গত 28 মে 86 বছর বয়সে এই মহৎপ্রাণ মানুষটি আল্লাহর ডাকে সারা দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন! কিন্তু সারা জীবন নিজেকে সমাজসেবায় উৎসর্গ করে মুসলিম পড়ুয়াদের জীবনে আধুনিক শিক্ষার আলো জ্বালাতে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তাতিনি বাস্তবায়িত করে যেতে পেরেছেন! তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি আগামীতেও মুসলিম পড়ুয়াদের আলোর দিশা দেখিয়ে যাবে আমরা এই আশা পোষণ করি!
‘বৈরাগ্যসাধনে মুক্তি, সে আমার নয়।
অসংখ্যবন্ধন-মাঝে মহানন্দময়
লভিব মুক্তির স্বাদ।–‘
-রবীন্দ্রনাথ