ব্যবধান

আতরের গন্ধ মেখে
বুর্জোয়া তে মাতো
মরে তোর গরীব ছেলে
খোঁজ নিলি না তো।
ঝারবাতি জ্বলছে মাগো
তোমার দালান ঘরে
আর আমি মরছি ধুকে
পাঁকে, অন্ধকারে।
ইলিশের গন্ধে গৃহ
ম ম করে রোজ
আমার এই পান্তা মেঝে
নিলি না তো খোঁজ?
বাসনে ঘিয়ের সুরা
থৈ থৈ মধু
আমার এই চালার ঘরে
একরতি বধু
তোর পূত হাওয়াই চড়ে
বিদেশেতে যায়
আমি তোর ল্যাঙটো খোকা
কাদা মাখি তাই?
মাগো ঐ নগর দেখে
লোভে পরে মলি
আমারেই জান্নাতি সুখ
কেনভুলে গেলি
দুটি তোর একি পেটে
কপালের ফেরে
আমার ও তোকে পেতে
রোজ মনে পরে।
ভাত মেখে খাইয়ে দিতিস
দুপেটের টানে
আজ কেন এই ব্যবধান
কি বা তার মানে।
মগজে বুদ্ধি যে তার
গতরে আমি
আমি রোজ লাঙল ঠেলি
তাই বদনামী
মাখনে ডুবে থেকে
কাদাকে ভুললি
আমিতোর বেকার ছেলে
কি করে বললি
নাই মোর গাড়ি বাড়ি
দালানের বহর
তবু তো আছে মাগো
এককাঠা নহর
জলেতে মাছ ও আছে
জমিতে ধান
গাছেতে আম ও পাকে
মোরগের রান।
তবু কেনহেয় করিস
ও আমার জান
হৃদয়ে কাবা আছে
সততার বল
কেন তবে আমার তরে
এতো তোর ছল
এ বেটাই ঘারে করে
কবরে দেবে
সে তো রোজ বিদেশ
বিভূইছুটি কি নেবে
কোটপ্যান্ট নাইরে আমার
গলাতে গামছা
তাই এতো ব্যথা দিলি
বড়লোকী চামচা।
বুকেতেৎআগুন জ্বলে
বেটা বলে ডাক
ঐ দেখ ওপাড়েতে
সততার ডাক।
বুঁদ হয়ে সুখ কুড়োলি
দুই দুই করে
আমার ও বুক ফেটে যায়
ঘৃণার এই ঝরে।
কত কি দেখে রে তোর
মুখ্যি বেটা
দুনিয়া বেবাক বোকা
নক্সা কাটা
ভুয়োতে ভরে গেছে
রাজভাণ্ডার
উপরে চাকুম চুকুম
চমৎকার।
আমার এই মাটির দাওয়া
কোকিলের ডাক
তুই মা নাইবা এলি
স্মৃতিটুকুথাক।
হাওয়া তোর গন্ধ বিলায়
মাটি তোর টান
তোর এই বেটার বুকে
আদরের গান।
সব ই আছে মাগো
তুই শুধু নাই
গাছটা রোজ ইকাঁদে
তোর বাসনায়।
মনে পরে পুকুর ঘাটে
ধরিছিনু মাছ
তুই তখন অসময়ে
জ্বালিয়ে আঁচ
সেই মাছ ভেজে দিলি
দুইভাগ পাতে
মৃদু হেসে খাইয়ে দিলি
তোর সোনা হাতে
আজ সব স্বপ্ন মাগো
কেন এতো দূরে
জমিদারী এতোই বেকুব
সন্তান দূরে?
রাতে ঐ চাঁদটা হাসে
তোর মুখ ভাবি
তুই তো বন্দী মাগো
খাঁচাতে চাবি।
বিলেত ফেরত বেটা তোকে
আদর করে রোজ?
রাতে তুই কেমন ছিলি
নেয় তোর খোঁজ?
এদিকে আমার বুকে
তোলপাড় ঢেউ
কেমন আছে আমার মা
বলে দেবে কেউ?
তোর ছেলে বাথটবেতে
হামাগুড়ি খায়
এদিকে পাল বেটা
হাবুডুবু খাই
চোখের এই পানিদিয়েই
নদী ভরে যাবে
কেন এই ব্যবধান?
শেষ কি হবে?
……………………………………………

অবোলা রোদ

তোমার ঝাঁকড়া চুলে এখনো সোনা রোদ
অবোলা ইচ্ছে উঁকি দেয় শব্দ বুকে নিয়ে
তোমার চেতনার ফুলে কচিপাতা এখনো মুখ ঢাকে
ওগো কবি তুমি কি পরাধীনতার কষ্ট মেখে এখনো জাগো?
এখনো ধমনী বিপ্লব আনে শোনিত চোখে
ওগো অবোলা রোদ সেঁকেছো যে দিন্যের আদ্রতা
প্রতিভার নোঙড়ে ডুবিয়েছো পদক্ষেপের আগামী বার্তা
মসজিদের কিণারে এখনো আজানের আকুতি
তোমার বুলবুল এখনো সজল চোখে বাংলায় কোলে
ঢলে পড়া সূর্যের ছটা বুকে নিয়ে এখনো বাঙালি মরতে জানে
এখনো ঝিঙেফুল দাঁত মেলে হাসে
ওগো অবোলা রোদ! দাও উষ্ণতা
পোড়াতে পাপ নেমে এসো চেতনা কাঁধে
একবুক হিংসা নিয়ে উন্মাদ পৃথিবী
দেখা দাও বিপ্লবী ঢালো ঢালো রোদ
আমার ক্ষুধায় আচ্ছন্ন, নেই মানবতা বোধ।
……………………………………………

আমার নজরুল

তোমার সৃষ্টি মেঘবৃষ্টি অপরূপ জোছনা
তোমার গানে হৃদয় টানে সুরের মুর্ছনা।
তোমার প্রতিভাসিক্ত নয়নে বারে বারে মোরে টানে
সম্প্রীতি জ্ঞান আকুল পরাণ চেতনার মাঝখানে
কবি তুমি আজ থাকতে যদি ঝরতো বকুল গাছে
তড়বারি আজ ভালোবাসা মেখে ছুটিতো তোমার কাছে
বুলবুলি আজ ফুলশাখাতে দিতো বুঝি খুব দোল
বিদ্রোহী আজ পেয়ে মহালাজ পাল্টে ফেলতো ভোল।
মানুষ ছিলে প্রাণপ্রিয় তুমি, ধর্মে বাঁধোনি মন
তুমি যে সূর্য জয়ের তুর্জ বেদনার মহাক্ষণ
কতব্যথা পেলে, পেয়ে অবহেলে লেখনী হয়েছে স্তব্ধ।
তোমার সৃজন সে যে মহারণ অল্পস্বাদেতে জব্দ।
লড়েছো তুমি দেশের হয়ে, বয়েছো কষ্ট ও বুক বেয়ে
আজকে চোখেতে ঝরছে পানি, দেখে তব প্রথম য় দামীমুখ খানি।
কেমনে লিখিবো পদ্য আমার
তোমাকে হারানো যাতনাবাহার
বেহেস্ত সাজাও অপরূপ সাজে
ভালো থেকেই কবি পরকাল মাঝে
আর কিবা চাই এই অধমে
লিখছি কাব্য সস্তা খামে
তোমার সৃষ্টি অমূল্য কৃষ্টি
জল হয়ে আজ ঝাপসা দৃষ্টি
প্রণমি তোমার কাব্যগাথায়
অমর রহো প্রতিটি মায়ায়
ফুলে ভরে থাক তোমার লেখনে
পড়িবো আমি স্মৃতির বাঁধনে
প্রিয় কবিমোর চেড়াগে সাজা
বেঁচে থাকো মোর মনের রাজা।
……………………………………………

ফেরত

চলো ভাই হাত ধরে মানবতা গাই
মানুষের চেয়ে বড় কোন সখা নাই
দশ যেথা খোদা সেথা আজ মেনে নিই
হিংসার শেষ হোক ভালোবাসা দিই।

খুটেখাক গরিবেরা নিয়ে দানাপান
অভাবের হোক শেষ, আর রাহাজান
চলো আজ

সারি গাই ভায়ে ভায়ে মিল
অজগর যেন মরে, দাঁড়কাক চিল।

ফুল নিয়ে খেলা করি পাপ দূরে থাক
যতটুকু লোভ আছে সব মরে যাক
মরা গাছে পাতা হোক পানি দিই রোজ
পাশের বাড়ির পানে নিই যেনো খোঁজ

খোদা আজ দুই হাতে সুখ ঢেলে দিন
কালোর পৃথিবী হোক আবার রঙিন
অভিশাপ মুছে যাক আলোর তুফান
আবার পৃথিবী গাক বাঁচার সে গান

বোবাপাখি কতদিন গায়নিকো গান
কতদিন নাবালক সেই অভিমান
কতদিন হয়নিকো সুখে থাকা সব
কতদিন শুনিনি যে সেই কলরব
……………………………………………

সত্যজিৎ

আমি দেখেছি গাছের পাতারা
তোমার ইশারা শোনে
আমি দেখা বোবা পৃথিবী র
তানপুরা তারা গোনে
আমি দেখেছি জীবনের মানে
তোমার ক্যামেরা কাঁধে
নতুন আলো ধুয়ে দিয়ে গেছে
কৃষ্ণ কুঞ্জ রাধে
সম্পর্ক চিনেছি আমি
তোমার মগজ থেকে
নব সৃজনেরা মুখ ঢেকে থাকে
বিজ্ঞাপনের ফাঁকে।
জয় করে তুমি আলোছায়া দিয়ে
আধুনিক হলে যেই।
ঝরে পড়া বেলা কবিতা কাঁধে
শব্দ হারালো খেই।
অনুপম তুমি সুকুমার সূত
ভারতমাতার গর্ব
চলচিত্র শিখবে আদল
নতুন নতুন পর্ব।
মহান তোমার মানসিকতায়
একটি সূর্য আঁকি
সত্যজিতের সত্য বলয়
দুচোখ ভরে মাখি।
……………………………………………

হাতছাড়া

ঝরে পরছে কলিজার রক্ত
সৎমায়ের মতো ইর্ষার চোখ দিয়ে কে দেখছে পৃথিবী!
সম্পর্কের ছোবলে ক্ষত হতে হতে রক্ত ও পানসে হয়ে যায়।
কত সূর্যমুখীর বুকে স্ফুটনের ইচ্ছে ছিলো
কত রাজপথে ছড়ানো উত্তরীয়।

সব শেষ করে দাবানল হলো
ধিকি ধিকি তুষের আগুন আজ অট্টালিকার কবরে হামাগুড়ি দিয়ে কিসের সুখ খোঁজে।সব মলাটের আড়ালে চেপে থাকা ভয়ঙ্কর ইতিহাস ওৎপেতে নির্লজ্জভাবে মুখ ঢাকে আঁধারে
প্রশ্ন করি কে তুমি?
কারা তোমরা
মাতৃত্বের চরম বন্ধনে পাপকে করেছো নিমজ্জিত?
ব্যথা ঝরে পরে
শতশত আলো বারুদের মতো খসে পরে নিভে যায়
কটু গন্ধে উৎসব থামে।
সকালের সূর্য মুখধুয়ে যায়
অমানুষের কুটুম গুলো আবার একটু একটু করে মানুষের পোশাক পরে।
ভাই ভাই করে চিৎকার করে জনতা
রক্তের ফিনকি লাগে বোনের ওড়নায়।
বাবার শুকনো চোখে আধভেজা ব্যথা
ঠোঁট ফেটে গড়িয়ে পরে সভ্যতার গান।
আমরা সবাই বেঁচে আছিমৃত্যুর লাইনে সারিবদ্ধ
ভোটারের মতো অথবা কেরোসিন লাইনের সেই,
একমুঠো মিথ্যা প্রত্যাশা বুকে করে
পাপ ও প্রজন্ম ছেড়ে চলে যায়
ভয়ঙ্কর ভয়ের প্রকোপ নেমে আসে আধুনিক মাটির বুকে
……………………………………………

ক্যাকটাস

নিস্তব্ধ ব্যথা গুলো জেগে থাকে আঁধারের বুকে
একাকিত্বের হাওয়ায় মোমবাতির মুখগুলি কেঁপে কেঁপে ওঠে।
আমার না বলা কথাগুলো বিপ্লবীর রক্তের মতো গড়িয়ে যায় লাশকাটা ঘরে
তোমার চাদরের তলায় গোখড়োরা খেলা করে
ইতিউতি মিথ্যে অভিনয়ের পাঁচিল মজবুত হতে থাকে
কারা যেনো মিথ্যে মামলার সাক্ষী হয়।
আমার মর্যাদার গয়না লুঠোপুটি খায় প্রহসনের আঙিনায়।
একটি ফেরিঘাটে কিছু অচেনা মুখের ছবি ফুটে ওঠে
ভেড়ার পালের মতো ভুলগুলো একদিকে হাঁটতে থাকে
নির্বাক কিছু শয়তানের চাবুক আরো মজবুত হয়।পিঠের দাগ বহন করতে করতে একদিন একটি জীবাস্বের জন্ম হয়।
প্রহরী ঘড়িতে দম দেয়
নতুন সূর্যের দেওয়াল ঘেষে দাড়িয়ে থাকে কিছু অভুক্ত মলিন ইচ্ছা।
অনুভুত বেদনার পাহাড়ে ক্যাকটাসের জন্ম হয়।
অবিকল সূর্যমুখীর ক্লোন হয়ে।
……………………………………………

ছোঁও

চাঁদ নয় কলঙ্ক বুকে
সাগর নয় উত্তাল ঢেউ মুখে
পাহাড় নয় বরফের হীমসুখে
ওদের ছোঁও
শীতে হাওয়ায় বৈরিতা
গ্রীষ্মে সূর্যের গৌনতা
বৃষ্টিতে স্যাঁতানো বুক
ওরা জানেনা কোথায় সুখ।
ছোঁও ওদেরদু নাকে দু নদী
দুকানে শুধু নাই
দু চোখে শুধু ভয়
ছোঁও ওদের।
ওদের ছোঁও
কাছে আছে
হাতের নাগালে
পায়ে বগলে
ওরা হাওয়াতে আছ
ওরা দাওয়াতে আছে
ওরা ভায়াতে আছে
ওরা কায়াতে আছে


ছোঁও

নিরাবরণ সূর্য দাও শীতে
ওদের কণ্ঠ ভরো গীতে
ওদের ওষ্ঠ ভরো শিক্ষায়
ওদের অভ্যাস ভরো দীক্ষায়
ছোঁও ওদের
শতাব্দী ধরে ও অভুক্ত
ওরা জাতহীন
ওরা ভাতহীন
ওরা রাতের ঘুম হীন
ওরা প্রেমের চুম হীন
আইন ওদের ঠকায়
বানিজ্য ওদের ভাগায়
বেদনা ওদের জাগায়
কষ্ট ওদের কাঁদায়
ছোঁও ওদের
তোমার একটি আঙুল
ওদের একটি ফাগুন
তোমার একটী চাওয়া
ওদের জীবনে হাওয়া।
ছোঁও ওদের
দু পা হেঁটে।