প্রতিবাদের অনুপ্রাস

বুকখুলে দেখি, পূর্ব পুরুষের সযত্নে
সাজিয়ে রাখা সমর অস্ত্রের সাজ সাজ ধ্বণি
আগুনের চিত্র ধ্বনি ছড়িয়ে পড়তে চায়
মহা আলোড়নে, বুকের তাড়িত উল্লাসে
রক্তের অনুরণন, ছিঁড়ে আসা এই উৎসবে
লাল রক্ত কণিকা ভ্রমণে
হেসে ঔঠা ফুলের বিজয় আমাদের প্রাণ রক্তে
আলো পেয়েছে অনিনাদিত ক্ষত চাঁদ
কান পেতে ছিলাম পূর্ব পুরুষের সযত্নে
সাজ সাজ সজ্জিত যুদ্ধাস্ত্রে,
রক্তের অবগাহন, পৃথিবীর হাজার কেলেন্ডার
রঙিণ হয়ে ওঠে আমাদের ক্ষতে চিরদিন
আত্মত্যগের মতো তান সুর নদী
কান পেতেছিলাম পূর্বপুরুষের সজ্জিত
সমর অস্ত্রে বুক সমচ্চয়, দেখি আমাদের
লাল রক্তে পানির অস্তত্বে সবুজ হয়েছে
পৃথিবীর মানচিত্র, দুশমনের ক্ষতে লেপেছি
চির অন্ধকার, হ্যাঁ আমাদের ক্ষতে হেসে যায়
বিজয়, প্রতিবাদের অনুপ্রাস জয়ের সুর এঁকে।
……………………………………………

পথের ঝলক

রক্তের ঢেউয়ে গেয়ে ওঠলো একটি ফুল
বুক গুপ্তির ধারালো সেই পথের ঝলক।
কে সে বয়ে বেরায় হৃদয়ে এমন
মায়ের সুরেলা গান? এই শহর এই দেশ
মহাদেশ, কেঁপে যায় কার কণ্ঠে বার বার।
মহাশূন্যে ঘূর্ণির সাথে পৃথিবীর
মাটিতে মিশে যায়
জেগে ওঠার রক্ত। ভেঙে রঙধনু মেঘের মহাকাল
তুমি গানের মিছিল মিনারের পাখি
আমার ভাষার মানিক
রেখেছ জাগিয়ে মাটিতে মেশা
ওই পূর্ব পুরুষের মিহি রক্তের গান।

কে অসিকার করে সময়ের বাঁকে
গেঁথে শকুনের ঠোঁট।
সে লিখতে জানে না বাংলা মায়ের নাম।
জানে না লাল সবুজ পতাকার অর্থ।
নদীর আত্মচিৎকার সে শুনতে পায় না
কি করে দেখবে মার আঁচল কারুকাজ
সেইতো ফুলের খুনি কোলের ডাকাত।
……………………………………………

নিয়মের না ফেরার পায়

দগদগে লাল ইট যখন বৃষ্টিতে ধুয়ে যায়
পেশির আগ্নেয়গিরির বিনয়ী সেই স্বভাব
কেমন উদ্ভাসিত হয় ইতস্তত বিহিন
সম্মুখী এই মানুষের প্রবাহের ইস্তেহার।

মস্তিষ্ক বয়ে নিয়ে যায় সম্মুখমুখী
নিয়মের না ফেরার পায় পাহার উঁচু শেষে
পৃথিবীর জেগে থাকার শব্দ খুঁড়ে এমন
আগুনের লাল জীবন মন্থনি যত হাত
পৃথিবীর গান রচনার হাত, যেমন লাল সবুজ
আর সব রঙের বিপ্লব
কলিজা ঘেমে ওঠা তরলে মিশিয়ে
ব্রম্মান্ডের আবর্তন হাসি আঁকা তুলি
সম্মুখমুখী স্বভাবের এই বিপ্লবী মানুষ

স্বর শব্দের কারিগর
ফসল পতাকার রঙ। এরা রঙের নায়ক।
……………………………………………

বিজয় দিনের স্বাদ

আমি রঙে রাঙাই আঁধার সূর্য ওঠার আগে,
সাগর নদী চাঁদের সাথে আমার এ চোখ জাগে।
ফুল পাতারা ঘুমের পাড়া নিরব কথা কয়না
আকাশ ছবি না আঁকলে চোখ আমার সকাল হয় না।
মেঘের পাখি ডাকাডাকি কেমনে পাখা ঝাপটায়!
আকাশ পথে হাঁটি আমি পথ রেখে যাই ছাপটায়।
ধূলোয় মলিন রক্ত জবার খুব সুচেনা পথ ওই
এই আঁধারে চাইবো তাঁরে কাঁধ জোড়া কাঁধ সব কই।
কে দূরে যায় ফুল ফুটে চায় ফুলের বাগান পথ এই,
রক্ত জবার গোলাপ তারার বিলিয়ে দেবার মত সেই।
এই আঁধারে চাইবো তাঁরে বুক থেকে বুক এক গান,
খুশির নহর প্রিয়র শহর চাঁদ ভাঙা রঙ তাঁর শান।
দুলকি ঘোড়া টগবগিয়ে যায় ছুটে যায় এই রাত,
আমি রঙে রাঙাই আঁধার বিজয় দিনের সেই স্বাদ।
……………………………………………

ভূত বাদুরী

আমার ছোঁয়ায় উঠবে হেসে,
দুঃখ পাওয়া সব দুখি বুক।
আমার ছোঁয়ায় হৃদয় ব্যাধীর
ওঠবে সেরে হৃদয় অসুখ।
আমার হাতেই উঠবে জেগে
বিজয় রাঙা জয় পতাকা।
হাড়িয়ে যাওয়া সকল হাসি
ফুটবে রঙিণ আমার আঁকা।
কোন ভূমি আজ কাঁদে বলো
রক্তে ভেসে আমার দুচোখ।
অবুজ সবুজ মুখ থেকে আজ
ছিটকে পরে কোন অভিযোগ।
অটকে থাকা বুকের ব্যথা
কান্না নিয়ে কোন শিশু মুখ।
পরাজিতে গায় বেঁধেছে
কুচক্রি এক জয়ের অসুখ।
পাহার তলি ঘিরে ধরো
ধংস হবে ছলচাতুরী।
আঁধার থেকেও হারিয়ে যাবে
দুষ্ট শেয়াল ভূত বাদুরী।
……………………………………………

আকাঙ্ক্ষার নকশা ছলকায়

নিঃশব্দ চাঁদের দৃষ্টিতে একতোড়া দোলন চাঁপা।
পেঁজা তুলোর ন্যয়, ভাঁজকরা মেঘ, সুর তুলে ছুটে যায়।
আমার স্নায়ুজুড়ে দোলন চাঁপার ছুটোছুটি আজ,
মাঝে মাঝে, চাঁদের পাশে হেসে চায় মাধুরীর ঝোপ
আমার মস্তিষ্কে তারাহার নৃত্য তাথৈ তাথৈ তাল
বরফান ঢেউ ছুঁয়ে হৃদয়ের অলিগলি, ফারাও পথ।

আঁধার পেখমে, জড়িয়ে নাও, ভেঙে দাও জোৎস্নার ঢং
জোনাকিরা কাটে রাতের চেরা জিহ্বার লকলক ভাঁজ
জলের বুননে আকাঙ্ক্ষার নকশা ছলকায় নিশ্বাসে
তুবড়ি উল্লাস বুকে আছড়ে পরুক ছোঁয়ার সুবাসে
……………………………………………

ডানায় পেঁচানো দেহ

আমার একতারার তার হবি শখি?
তিল ফুলের মতোন দুলবি এ বাঁকে,
মরিচের ফুল-তারা লেপি তোর নাকে।
আষাঢ়ের কালোরাগ তোর চোখে আঁকি,
হিজল লতার দুল নেনা তুই পাখি।
ফাগুনের রঙে প্রেম বুনে দেবো তোরে,
নে আমায় এঁকে তোর নকশির ফোঁড়ে।
আমার একতারার তার হ না শখি।

বুকের ছায়ায় বাঁধি একচালা ঘর
শখি তোর হাসি রঙে চাঁদের নহর।
আমার পাটিতে হাসে এ যে এক পরী,
ডানায় পেঁচানো দেহ হুর আপসরি।
ডানায় যমুনা ঢেউ জল ছলছলা,
জল যে হাতে পেঁচাই সুর-প্রেম কলা।
……………………………………………

জোনাকিরা রটিয়েছে

সাদা কাশ, আমি চেয়ে ওই দূর মেঘে
এখানে বেদনা বাস্প চাঁদের আকাশ।
অন্ত্যমিলের দূরত্ব বুনে চাঁদ জেগে
এ আপন আলোজুড়ে ঢেউয়ের লাশ।
মনে পড়ার হারানো দূরে উত্তরীয়
বুকে বালিয়াড়ি বাঁধ সাজে জল কণা,
জোৎস্না্ গুহায় মৃত্যু নিয়’ চাঁদ বিয়’
নক্ষত্রে নক্ষত্রে খুন তুমি আন্যমনা

জলের ফণা এবুকে বিলায় যন্ত্রাণা
ছলনার কারুকাজ আঁধার পেখমে
বুকের ভাঙ্গন তুমি, ওগো হৃদয়জনা
পলিতায় চিত্রকল্প গোপন জখমে
জোনাকিরা রটিয়েছে আলোর জোয়ার
সন্ধ্যাকাল কেটে দেখো কেটেছে আঁধার।
……………………………………………

বেহিসেবি ঢেউ

বেহিসেবি ঢেউয়ের প্রহর
আমার একলা সাঁঝের ক্ষণে
জানালার সেই জাফরানী চাঁদ
রেশমি হাসির আলোড়নে।
এক পৃথিবীর সকল গোলাপ
হার মেনেছে ওই হাসিতে
এক চাঁদ কতো জোৎস্না ঢালে?
কতইবা সুর আর, শ্রীমুদ্দীর ওই বাঁশিতে?
কেমন আঁধার ভোলায় হলুদ, জোনাক পোকা?
কটুকো মুগ্ধকরে ফুলের থোকা?
বুকের কিনার কতই রাঙায়
সাত রঙধনুর ছোঁয়া-রেখায়?
তুচ্ছ সবই। জাফরানী চাঁদ
জাফরানী ওই হাসির দেখায়।
……………………………………………

হৃদয়ে তীঁরের ণৃত্য

তোমার আঁক ব্যথার ঢেউ, দুলে যায়, আমার বুকের রক্তে
সুখ হয়ে ফোটে, আমার ঠোঁটে
শিশিরের সব কলিজা ভেঙে যায় চাঁদের নিরব বার্তায়
তোমার জানালার নিরব পর্দা দোল, দোল খায় আমার বুকে
লক্ষ বিষাক্ত তীঁরের ণৃত্য আমার হৃদয়ে,
আমার থমকে গেছে চাঁদ।
মিহি ব্যদনার সূর্য।
নীল কুয়াশার অস্পষ্ট আয়না,
চায়ের কাপ বাস্প রেখারর মূল্যইবা কি? তবুও,
ক্ষাণিকটা ক্ষণ, রাঙিয়ে যায়, সুখ অনুভূতিকে
হৃদয়ের রক্তবাস্প নাইবা দেখলে, বাস্পেরও
জল আছে নাইবা ভাবলে।
পরির হাসি কষ্ট এ বুকে স্বর্গ এঁকে যায়।
আর এখন আমি ঘণ দনা দানা এক দুখের সাগর