কবে যাবে ভাইরাস দানব

উঁই ধরেছে বইয়ের পাতা
ইঁদুর কাটে অঙ্ক খাতা
ক্যালকুলেটর নিঝুম নিথর
পোকার বসত ব্যাগের ভিতর।

কলম ছাড়া কলমদানী
অঝর ঝরায় চোখের পানি
টিফিনবাটি ইঁদুর চাটে
আতঙ্কিত সময় কাটে।

রিডিংরুমে দাবার গুটি
পড়ার টেবিল নিছে ছুটি
স্কুলডেরেস শ্যামার জংয়ে
রূপ নিয়েছে নতুন রঙে।

খাটের নিচে শীতল ভূঁইয়ে
বছর কাটায় জুতা শুয়ে
বেলকুনিতে তারের সাথে
টাইটা ঝোলে দিনে রাতে।

কবে যাবে ভাইরাস দানব
এই শিশুরা হবে মানব।
……………………………………………

আষাঢ়

আকাশ মাঠে মেঘ ছুটে যায় বৃষ্টিঝরা ক্ষণ
তপ্তজমিন ঠাণ্ডা এখন সবুজ হলো বন।
মাঠের পরে মাঠ ভিজে যায় বাদল বাদল দিন
টিনের চালে নুপুররবাজে বাজে রিনিক ঝিন।

মেঠো পথে কাদা জমে পা চলে না পা
ধানের চাষে ব্যস্ত কৃষক জেগে ওঠে গাঁ।
জল ছুটে যায় নদীর পানে কীযে মনের মিল
অগাধ জলের ছড়াছড়ি উপছে ওঠে বিল।

পাওয়ারটিলার সাতরে চলে চষে ধানের ভূঁই
চিংড়ী ঘেরের বেঁড়িবাধে করে যে ধুইধুই।
আষাঢ় আসে বর্ষা নিয়ে ব্যাঙের কণ্ঠে গান
মাঠ ভিজেয়ে ঘাট ভিজিয়ে জুড়ায় মনপ্রাণ।
……………………………………………

বই

কালো কালির আঁচড়মাখা
পাতায় পাতায় বর্ণ আঁকা
শব্দ ঘেটে বাক্য ঘেটে
আমরা ধন্য হই;
তার পিছনে বই।

অজ্ঞতা আর আঁধার ঠেলে
আলোকিত মশাল জ্বলে
জ্ঞানে মানে সকল শাখায়
উপরে ওঠার মই;
তার পিছনে বই।

হৃদয় মাঝে কুসুম বাগে
মানবিকের পুলক জাগে
কপোটতা দূরে সরে
মুখে ফোটে খই;
তার পিছনে বই।
……………………………………………

কিশোর বেলার স্বপ্ন

কিশোরবেলার স্বপ্ন গুলো
আমারে দেয় গুতো,
মনের ভেলায় ভাসিয়ে তোলে
ঘুড়ি লাটাই সুঁতো।

জাগিয়ে তোলে নিত্যদিনে
দস্যি উদোমপনা,
রাতের বেলা আকাশটাতে
তারার সারি গোণা।

স্বপ্নগুলো উতলে ওঠে
কেমন যেন লাগে,
তখন কেবল সুরভি ছড়ায়
মনের গোলাপবাগে।

হাজার স্মৃতির দিনগুলোকে
ঢাকতে গিয়ে পাছে
আমার তারা ছাড়ে নাতো
টানে তাদের কাছে।

তাইতো আমি যাই হারিয়ে
হঠাৎ শুভক্ষণে,
পাখির কাছে ফুলের কাছে
মনের সন্তরণে।

ফুল-পাখিরা আমার পেয়ে
চড়ে নাগোরদোলা,
আমি তখন যাই হয়ে যাই
কেমন ভালা-ভোলা।

এমনি ভাবে চলতে থাকে
কিশোর বেলার ঢেউ,
আমার মাথায় ফুল গুজে দেয়
চুলের ভাঁজে কেউ।
……………………………………………

বকুল ফুল

মন ভরে যায় সকালবেলা
বকুলফুলের গন্ধ,
এলোমেলো শীতল হাওয়া
শিশির ঝরার ছন্দ।

পল্লীবালা সকালবেলা
বকুল গাছের তলে,
ঝরাফুলের মালা গেথে
যত্নে ঝুলায় গলে।

সুরভিভরা মন উতালা
বকুল ঝরা ফুলে,
সাজমহলে কাজ বেড়ে যায়
খোঁপায় বাঁধে চুলে।

হাতে বাঁধে বকুলরাখী
পল্লিগাঁয়ের কিশোর
বকুলফুলের মালা নিয়ে
দিন কেটে যায় শিশুর।
……………………………………………

ঔষধ পাঠায় ম্যাসেন্জারে

ঘরের পাশে কচুর পাতা
পাতার নিচে ব্যাঙের ছাতা
ছাতা সেতো ভীষণ সাদা
রোগে ভোগে ব্যাঙের দাদা!

ব্যাঙের দাদা সর্দি জ্বরে
শুয়ে থাকে একলা ঘরে
একলা ঘরে নাতির সাথে
ফোনে কথা গতরাতে!

ঢাকায় থাকে ব্যাঙের পোলা
গা চিকচিকে হলদে কোলা
হলদে কোলার শহরতলী
দালান কোটার অলিগলি।

দাদার জন্য দরদ কতো
ইমোই কথা অবিরত
দাদার যেনো সর্দি সারে
ঔষধ পাঠায় ম্যাসেন্জারে
……………………………………………

কুলি মুজুর

হাতুড়ি কোদাল চালায় যারা
দেশ গড়েছে তারা,
তাদের রক্তে বাবু সাব সব
তারাই সর্বহারা।

পায়নি কখনো শ্রমের দাম
ন্যায্য দাবি যেটা,
শোষনে শোষনে নির্যাতিত
খায় হাতুড়ি পেটা।

ওদের ঘামে মিল কারখানা
গড়ে চিলেকোটা,
ইটের গায়ে লেগে থাকে
রক্তের ছিটেফোটা।

ওদের ঘাড়ে সোয়ার হয়ে
পার হয় কতো জনে,
মালিক নামের ছুঁচোরা সব
তুলোধনা ধোনে।

সাহেব জনের হাসি ফোটায়
জীবনের বিনিময়,
তোমার আমার জন্য তারা
তিলে তিলে হয় ক্ষয়।
……………………………………………

খোলসে মাছের বিয়ে

খোলসে মাছের বিয়ে হবে
তাক ডুমাডুম ডুম,
সেই আনন্দে মাছের রাজ্যে
উধাও চোখের ঘুম।

ঘুম পালালো ঘুম পালালো
সানাই কাসার সুর,
জলের রাজ্যে মাছেরা সব
খুশিতে ভরপুর।

সেই খুশিতে হলদে কোলার
আলতা হলুদ গায়,
টাকনু জলে ছিটিং করে
এদিক ওদিক চায়।

হেড়ে গলায় গান ধরেছে
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ঘ্যাং,
সোনা, কুঁনো, গেছো, কোলা
হাজার শত ব্যাঙ।

খোলসে মাছে বর সেজেছে
টোপর মাথায় ঐ,
চিত্ত খুলে নৃত্ত করে
জলেতে রই রই।
……………………………………………

নতুন ধানের সুখ

নিখুঁত তুলির আচড় দিয়ে
আঁকা সোনার দেশ,
অগ্রাহায়ণে সোনালি তার
মাঠের পরিবেশ।

আইলজুড়ে কলমিলতার
সজিব সাদা ফুল,
তেপান্তরে দৃষ্টি সুদূর
নড়ে না একচুল।

নতুন ধানের গন্ধভরা
মাঠের সিমানায়,
কণ্ঠসুরে টিয়েপাখি
রঙিন ঠোঁটে গায়।

হালকা শীতে নবান্নতে
জেগে ওঠে গাঁ,
আইল দিয়ে হাটতে গেলে
শিশির ধোঁয়ায় পা।

চাষার মুখে গানের কলি
গর্বে ভরে বুক,
অনেক ত্যাগে পরম পাওয়া
নতুন ধানের সুখ।
……………………………………………

জরিনা

রংয়ের পরী রঙের পরী
কোথায় রং? সঙের পরী
পরী কোথায়? পরী না
ওমা এ যে জরিনা!

মাথাজুড়ে চুলের বেনু
বেনু কোথায়? ফুলের রেনু
হাতে যে তার ফুলের মালা
মালা কোথায়? ভাঙ্গাথালা!

গায়ে বুঝি বোরকা আঁটা
বোরকা কোথায়? ছেঁড়া-ফাটা
পুরনো ঝাঁপের সেমিকোট
কোট কোথায়? পেডিকোট!

দেখছি সবাই দেখছি ঠিকই
রাখনা ঘিরে চরতুর্দিকই
ঘরপালানো সেই জরিনা
সাহস করে হাত ধরিনা!