নষ্ট প্রেমে কষ্ট

নষ্ট প্রেমে কষ্ট মিলে
সরল জীবন কালো,
খোদার প্রেমে জীবন ধন্য
মন্দ জীবন আলো।
নারীর প্রেমে পাপীর দলে
জীবন যৌবন নষ্ট,
নাবীর প্রেমে মুক্তি মিলে
হয়না মানুষ ভ্রষ্ট।

প্রেম প্রেমেতে রসিক সেজে
পাপীর দলে গেলে,
প্রেমের ভেলায় সুখ মিলেনা
জীবন বিফল হলে।
ক্ষণিক সুখে নষ্ট জীবন
প্রেমে কষ্ট মিলে,
যৌবনেরি প্রেম খেলাতে
কষ্ট লাগে দিলে।

খোদার প্রেমে জীবন গড়ি
রাসুল প্রেমে ধর্ম,
জীবন যৌবন ধন্য হবে
বুঝলে প্রেমের মর্ম।
……………………………………………

মরণ ভাবনা

মাটি দিয়ে গড়া আমার মাটির দেহ খানা,
মাটির দেহ মাটির সাথে মিশে হবে ফানা।
নামাজ আমার সঙ্গী হবে মাটির ঘরে সাথী
বিত্ত বৈভব মিছে হবে থাকবেনা তো বাতি।।

মরণ একদিন মুছে দিবে পরিচয়ের খেলা
রঙ মহলে বালাখানায় কাটছে মিছে বেলা।
যশোখ্যাতি রঙ মহলে থাকবোনাতো আমি
ধূলীর সাথে ধূলী হবো মিশলে দেশের ভূমি।।

কোন খেয়ালে খেলছো বিধি ভবের বিশ্বলয়ে
দেহের পাখি উড়বে কখন থাকি মরণ ভয়ে।
একে একে বিদায় নিলো আপন জনে শতো,
রঙ মহলে ভাঙ্গলে মেলা কাঁদে আপন যতো।।

কতই খেয়াল কতই দেয়াল তুলছো তবু মনে
সময় বলয় টানছে তোমায় চলছো মরণ পানে।
কোথা থেকে আসছো তুমি কোথায় যাবে ফিরে,
মরণ ভাবনা ভাবো মানুষ মৃত্যু আসছে ধীরে।।

আদি আদম নেই তো ধরায় ধূলিমাটির কোলে,
জন্ম ধাঁধায় যাওয়া আসা চলছে মৃত্যুর দোলে।
সময় হলে আসবে মরণ এইতো বিধির লেখা
সহায় সম্পদ থাকবে পড়ে অবাক চোখে দেখা।
……………………………………………

নববর্ষ

সময় বলয় যায় চলে যায়
কালের গর্ভে কালে,
পুরাতনকে বিদায় জানাই
নতুুন বছর হালে।
নতুন বছর নতুন দিনে
প্রভাত আনে আলো,
দুঃখ কষ্ট সব ভুলে যাই
দূর হয়ে যাক কালো।

নতুনকে নেয় বরণ করে
রঙবেরঙের ফুলে,
বিদায় জানাই বিদায় বছর
ভুলগুলি যাই ভুলে।
বিদায় জানাই অশুভ সব
জ্বালায় জ্ঞানের আলো,
নতুন পাতায় স্বপ্ন সাজাই
স্বপ্নেরা হোক ভালো।

যাক মুছে যাক কুটিলতা
গান কবিতা প্রাণে,
শুদ্ধতারই স্বপ্ন সাজাই
ফুলের সৌরভ ঘ্রাণে।
……………………………………………

হিংসা-ক্রোধ

ক্রোধ-হিংসা মনের বোঝা
পাহাড় সম ভারি,
দিনে রাতে পোড়ে হৃদয়
পোড়া গন্ধ তারি।
কটু ভাষা আসে মুখে
চোখে জ্বলে আগুন,
হিংসাতাপের পোড়া গন্ধ
দগ্ধ করে স্বজন।

হিংসা-ক্রোধ বহ্নিশিখা
ধিকি ধিকি জ্বলে,
কাঠ-লাকড়ি পুড়িয়ে ছাই
ভালো আমল জলে।
ক্রোধ-হিংসা হজম করো
পারলে ধরো ধৈর্য
ধনে মানে হলেই বড়ো
চাই যে আরো সহ্য।

সহ্যগুণ আর ধৈর্যশক্তি
সবার মাঝে চাই,
বড়ো যদি হতে চাও
এর বিকল্প নাই।
……………………………………………

স্বাধীন পতাকা

স্বাধীনতা,দেখেছো কি
দেখতে কেমন হয় ?
লক্ষ শহীদ জীবন দিলে
স্বাধীনতার জয়।
লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে
কেনা স্বাধীনতা
লাল সবুজের পতাকাটা
বিজয় শোভনতা।

দেশের জন্য জীবন দিলো
বীরশ্রেষ্ঠ বীর যারা
তাঁহাদের ত্যাগ বিনিময়ে
বাংলা স্বাধীন ধরা।
লাল-সবুজের পতাকাটা
আমার বিজয় কেতন,
রক্তদামের বিজয় কেতন
করবো সবাই যতন।

লক্ষ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা
বীররা একাত্তরে,
জীবন মানে জয় এনেছে
১৬ই ডিসেম্বরে।
মুক্তিযুদ্ধ বিজয়গাঁথা
১৬ই ডিসেম্বর,
লাল সবুজে পতাকা মান
আমার অহংকার।

বাংলার শ্রেষ্ঠ গৌরবগাঁথা
বিশ্ব বিস্ময়ে দেখে,
বীর বাঙ্গালি বিজয় বর্ণে
অমর বাংলা লেখে।
অমর বাংলা স্বাধীন বাংলা
আমরা বাংলাদেশি
স্বাধীন দেশকে বাসবোভালো
সবার চেয়ে বেশি।
……………………………………………

নিত্য চাওয়া

সুস্থ সুন্দর জীবন চাইলে
জাগো সকাল বেলা
শিশির ভেজা সতেজ হাওয়ায়
ঘাম ঝরানো খেলা।

ভোরের হাওয়া বড় পাওয়া
হাজার টাকার দাওয়া
মাখলে গায়ে চলতে পথে
খোদার পরশ পাওয়া।

খুব সকালে চলতে পথে
সতেজ হাওয়া থাকে
সেই হাওয়াতে দাওয়া আছে
বলতে শুনি মাকে।

সুস্থ থাকতে সকাল বেলা
তাইতো আমি হাটি
মাংস ছাড়া শাকসবজিতে
পুষ্টি আছে খাটি।

খুব সকালে উঠো সবে
চলো নিয়ম মতে
সুস্থ সুন্দর জীবন পাবে
খুশি রবে তাতে।
……………………………………………

ভোরের ডাক

খুব সকালে আযান শুনি
আহা মুধুর সুরে
সেই সুরেতে মন ভরে যায়
মিষ্টি মধুর ভোরে।
কিচিরমিচির পাখির ধ্বনি
শুনি মায়ার ভোরে
দখিন বাড়ির মোরগ ডাকে
কুক্কুরু কুক্কুরু করে।

মায়ার ভোরের মায়াবী সুর
আনে সোনালি সকাল
আশার সকাল হয় যে শুরু
ঘুমিয়ে থাক মাতাল।
কাজের চাকা আবার চলে
সূর্যঘড়ি উঠে
সকাল দুপুর বিকাল বেলা
কৃষক ছোটে মাঠে।

সূর্য ডোবে পশ্চিম কোনে
কিচিরমিচির গানে
আঁধার আসে ঘুম পাড়াতে
শান্তি আনে প্রাণে।
……………………………………………

হিসাব খাতা

লোভ লালসার ভোগ-জোয়ারে
শাসন করো গায়ের জোরে,
জবাব দিহির নাইযে ভয়!
খুন খারাবী জৌলুস তোমার
ফেরবাজি আর ফন্দি ফিকির,
ক্ষমতা কি যাবার নয়!!

এই দুনিয়া ক্ষনস্থায়ী
ক্ষমতাও নয় চিরস্থায়ী,
চোখ বুঝিলে অন্ধকার।
পাপের বোঝা আর বাড়াস না
দালান কোটা আর গড়াস না
মরণ সবার সন্ধ্যাহার।।

মেতে আছো ভোগের নেশায়
পাপের ঘোরা করছো বোঝায়,
মরন কথার ভাবনা নাই!
মরন তোমায় মুছে দিবে
কবর তোমায় বুকে নিবে,
ধরায় তোমার নাইযে ঠাঁই।

যশোখ্যাতির আঙুর গেলাস
মুছে যাবে রঙের বিলাস
মৃত্যু তোমার জমজ ভাই!
লোভ লালসার ধোকায় পড়ে
পাপের বোঝা নিলে গড়ে,
ভাবছো পাপের বিচার নাই।।
……………………………………………

শিক্ষাঙ্গানে হায়েনা

বিদ্যাতয়নে নির্মল ছেলে
“আবরার” হয় খুন,
মানুষ নামের হায়েনা মানুষ
ওরা সমাজের ঘুণ।
বিদ্যায়তনে হত্যা পীড়ন
ঘটছে দিব্যলোকে,
যখন তখন ঝরছে রক্ত
সহ্য হয়না বুকে।

শোকের মাতম মায়ের কাঁদন
কোথায় মায়ের সোনা
স্বাধীন দেশের বিদ্যায়তনে
এখন লাশের দেনা।
লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদছে সমাজ
বাক স্বাধীনতা হীনে,
স্বাধীন দেশের মানুষ আজি
ধুকছে জরা ঘুণে।
মতের বিভেদ তোমার আমার
সমাজ বদলে রীতি,
সঠিক মতকে মানলে সবাই
ফিরবে শান্তি স্থিতি।
……………………………………………

শীতের দিনে

খুব সকালে শীতের দিনে
মিস্টি রোদে গেলে,
রোদ যে লাগে বেজায় মিটে
সময় বয়ে চলে।
মিস্টি রোদে শীতের দিনে
রোদ পোহাতে ভালো
বাবা ডাকে মায়ে রাগে
পড়ার সময় গেলো।

কনকনে শীত কুয়াশা বেশ
রোদ ওঠেনা যেদিন
গ্রাম শহর কুয়াশার রেশ
বাহির হওয়া কঠিন।
রাস্তা ঘাটে চলে গাড়ি
দিনেই আলো জ্বেলে
গরীব দুখির জীবন কাহিল
শীত কুয়াশা এলে।

কেউবা কাঁপে শীত কুয়াশায়
শীতের পোষাক ছাড়া
গরীব দুঃখী গ্রামের মানুষ
শীতেই দিশেহারা।