[মানুষের ভালোবাসা আর প্রেমে যে মানুষগুলো আজীবন স্মরণে থাকে তাদের মধ্যে প্রধান মানব হযরত মুহম্মদ সা.। তার আসমানী দায়িত্ব এতোটা নিখুতভাবে পালন করেছে যে পৃথিবীতে এক শান্তির অবারিত ফল্গুধারা প্রবাহিত হয়েছে। যা আজ প্রবাহমান। মানব কল্যাণে আসমানি চিন্তার এক অনন্য প্রয়োগকারী রসূলের প্রতি মানুষ যে ভালোবাসা পোষণ করে তাই নিয়ে আজকের আয়োজন। মুহম্মদ সা.। আশা করি পাঠক তাদের ভালোবাসায় এই সংখ্যাটি অনুধাবন করবেন। -আফসার নিজাম : সম্পাদক]

সূচীপত্র
নূর নবী : হাসান আলীম
সকল নামের সেরা : মোশাররফ হোসেন খান
সোনালী ভোর : শরীফ আবদুল গোফরান
পাখিচত্বর : মাঈন উদ্দিন জাহেদ
নবী আমার ছোট্ট মনের কবি : মনসুর আজিজ
আখেরী পয়গম্বর : খালীদ শাহাদাৎ হোসেন
মুহাম্মাদ সা. : মুস্তাফা ইসলাহী
মনের আয়নায় রাসুলের ছবি : তমসুর হোসেন
আরব্য প্রান্তর : ওয়াসিম রহমান সানী
ভালোবাসার জায়নামাজ : মুনশী ইকবাল
তোমাকেই স্মরি : নার্গিস নাহার রুনু
ইহুদী ও দয়াল নবী : মুহাম্মাদ আলী মজুমদার
এতিম শিশু : শাহিন আলম
শান্তির ধর্ম ইসলাম : নজির আহমেদ
বিশ্বনবী : শাহীন রায়হান
নূরের নবী : শেখ একেএম জাকারিয়া
নবী মুহাম্মদ সা. : মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন
প্রিয় মুহাম্মদ সা. : নাসির উদ্দিন আহমদ
এই রবিউল আউয়ালে : আহমদ আল কবির চৌধুরী
……………………………………………

নূর নবী
হাসান আলীম

শুরু থেকে জ্বলেছিল
আকাশে যে নূর,
জ্বলজ্বল করেছিল
তারা বহুদূর।
সে তো ছিল নূরনবী
প্রিয় আহমদ,
সে যে ছিল ভালবাসা
বুকের দরদ।
যদি তাঁর আলোকের
নাহত বিকাশ,
আঁধার জগত তবে
হত কি নিকাশ?
……………………………………………

সকল নামের সেরা
মোশাররফ হোসেন খান

সব মানুষের সেরা মানুষ
সব মানুষের সেরা
তারই প্রেমে ব্যাকুল ধরা
তারই প্রেমে ঘেরা।

তার প্রেমে যে সুধা কতো
গন্ধ বিলায় অবিরত
হীরার চেয়ে দামী সে যে
লক্ষ আঁধার চেরা।

বিশ্বটারে আপন করে
তার মতো কে নিতে পারে
তার মতো কে ছুঁতে পারে
সাত সাগরের ডেরা?

ফুল শাখাতে ফুলের দোলা
দিচ্ছে কি যে দোল,
রাসূল প্রেমে আজকে ও মন
আপনারে ভুল ভোল।

রাসূল নামে মুক্তো ঝরে
তার নামে যে হৃদয় ভরে
ঐ নামে যে জগত পাগল
সকল নামের সেরা,
হীরার চেয়ে দামী সে যে
লক্ষ আঁধার চেরা।
……………………………………………

সোনালী ভোর
শরীফ আবদুল গোফরান

ঘোর অমানিশায় দুলে ওঠে
মরুর সোনালী আকাশ
খোশবুতে ভরে যায় আমিনার ঘর
ঝলকে ওঠে পূর্ণিমার চাঁদ
নক্ষত্রের আলো হয়ে যায় ম্লান
খুলে যায় রহমতের দ্বার।

কুয়াশা কেটে গিয়ে উঁকি দেয় সোনালী ভোর
সমগ্র মাখলুকাত গেয়ে ওঠে সুমধুর গান
প্রেমে মশগুল হয়ে যায় তামাম জাহান! বলে-
সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম।
……………………………………………

পাখিচত্বর
মাঈন উদ্দিন জাহেদ

পৃথিবীর সব আহত শ্বেত কপোত দীর্ঘ পরিভ্রমণ শেষে
দানা কুড়ায় এখন মদিনার কবুতর চত্বরে।
তাদের বাকুম ডাক পথচারী মানুষের দৃষ্টি কাড়ে,
হৃদয়ে দোল তোলে মদিনা… মদিনা… মনোয়ারা…বলে।
সুদূর আফ্রিকার পান্নাওয়ালা মানুষেরা নিঃস্ব আরব ভূগোলে,
তাদের শক্তি সাহস আর ভালোবাসা বিলিয়ে যায় মদিনার ভালোবাসায় পক্ষিকূলে,
সাদাকা… সাদাকা… বলে আউড়ে যায় মানব হৃদয়কূলে।
কেউ কেউ তাদেরও পক্ষিকূল ভেবে দানাপানি ছিটায়-
যতসব ইহুদী স্বভাবে- পূঁজির সংস্কৃতিতে।
খুদকুঁড়ো কিনে কেউ কেউ ছিটিয়ে দেয় শানবাঁধানো পাখিচত্বরে,
নাগরিক দায় বাড়ে,
তবু পৃথিবীর সব আহত পাখি সবুজ গম্বুজের উপরে-নীচে
আহাজারি করে…

আহা শান্তি- যুদ্ধ মধ্যবর্ত্তী দিন কখন আসিবে?
……………………………………………

নবী আমার ছোট্ট মনের কবি
মনসুর আজিজ

নবী
তুমি আমার ছোট মনের কবি
আমার ফেনিল ঠোঁটের প্রথম ডাক
আম্মু শুনে হলো তো অবাক।

তুমি আমার প্রথম শেখা প্রথম বর্ণমালা
তোমার নামে তৃষ্ণা মেটে, মেটে হৃদয় জ্বালা
তুমি আমার প্রথম শেখা গান
তোমার নামে মেঘ মেদূরে বৃষ্টি অফুরান।

নবী
তুমি আমার ধ্যানের প্রথম ছবি
তোমার নামে এক হয়ে যায় কবিতা ও কবি
তুমি আমার আঁধার মনের রবি।

তুমি আমার প্রথম চলার পথ
তোমার নূরে পথ চলাতে দৃষ্টিরাও সৎ
তুমি বুলাও দুখির মাথায় হাত
আলোর ধারা আনো তুমি ঘোচাও আঁধার রাত।
……………………………………………

আখেরী পয়গম্বর
খালীদ শাহাদাৎ হোসেন

আকাশ বাতাস পানি কানাকানি করে
কে যেন আসিবে রাতে আমিনার ঘরে,
ফুলেরা সুরভি ছাড়ে মিশিয়ে কস্তুরী
নিশির শিশির ঝরে ভরে তসতরি।

শারদীয় জোসনায় পূর্ণিমার আলো
আলোড়িত ধরাধাম দূর করে কালো,
রাত জাগে গ্রহ-তারা হয়ে আত্মহারা
আগমনি প্রতীক্ষায় দিতেছে পাহারা।

থেমে গেছে কোলাহল থমথম রাত
পেরিয়ে গম্ভীরক্ষণ আসিবে প্রভাত,
সহসা প্রকৃতি কার এলান ছড়ায়
আখেরি পয়গম্বর এসেছে ধরায়।
……………………………………………

মুহাম্মাদ সা.
মুস্তাফা ইসলাহী

পৃথিবীতে কোনোদিন আসেনি তোমার মতো কেউ
পাবো না কখনো আর বিমল আলোর দীপ্ত ঢেউ।
বিশ্বজগতের রহমত হয়ে নবী আসিলে ভবে
তোমার নামে দরুদ পড়ে ওগো সৃষ্টিকুল সবে।
পাথর হৃদয় এসে তোমার পরশে যেতো গলে
অবিশ্বাসীরা তোমাকে ডেকেছিল আলআমিন বলে।
তুমিই প্রথম দিলে নারীকে মর্যাদা উঁচুস্থান
সাদা কালো অনারব আরবে নাশিলে ব্যবধান।
চিনিয়েছো বিধাতাকে বাঁচিয়েছো অগ্নি নার থেকে
কতো পাপীকে এনেছো জান্নাতের পথে ডেকে ডেকে।
মানব ও মানবতা মুক্তি পেলো অবিশ্বাসী বনে
লাত মানাত লুটিয়ে পড়লো তোমার আগমনে।
হৃদয়স্পর্শেই করেছো মানবতার স্বার্থক চাষ
কতো গোত্র জাতি এক-সাথে শান্তিতে করেছে বাস।
আইয়ামে জাহিলিয়াতে এনেছো জান্নাতী পরিবেশ
তুমি গড়েছো এ বিশ্বে প্রীতিময় সুখময় দেশ।
তোমার উপমা তুমি তোমার মতন আছে কে বা
তুমি শাসক হয়েও করলে না শাসন, করলে সেবা।
তোমাকে দিয়েই হলো পরিপূর্ণ আল্লাহর দ্বীন
অনাচার পাপাচার মিথ্যা সব হয়ে গেলো লীন।
যতোগুণ আছে ভবে সব তোমাতে নিয়েছে ঠাঁই
সবচেয়ে চরিত্রবান তুমি তোমার তুলনা নাই।

সবার আদর্শ তুমি তোমার অনুসরণেই জয়
তোমার অবাধ্যতায় আসে বিফলতা পরাজয়।
মুসলিমের প্রিয়তম দুজাহানের পবিত্র নাম
তুমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
……………………………………………

মনের আয়নায় রাসুলের ছবি
তমসুর হোসেন

প্রিয় রাসুলকে প্রত্যক্ষ করি তাঁর জ্যোতির্ম্ময় স্বরূপে
অনেক নিশীথে নিশাচর বিহংগের কলরবের মত
তাঁর মনোমুগ্ধকর আহ্বানে জেগে ওঠি,
তরঙ্গিত সাগরে দুলে ওঠা জাহাজের পাটাতনে বিন্বিত হয়
তাঁর বিচিত্র রূপের ছায়া।
এক রহস্যময় মৃগশিশু হয়ে শাল-গেওরার ম্যানগ্রোভে ছুটে বেড়ায় অবিরত।

মৃত্যুজড় নিদ্রার বিচূর্ণ অলস অন্ধকারে
রাত যখন বিষাক্ত দংশনে কেড়ে নেয় হৃদয়ের উল্লাস
তখন সংকীর্ণ প্রকোষ্ঠে তিক্ত মনোদৈন্যে জেগে ওঠে
যে নাম স্বস্তির প্রাণময় তরঙ্গে সুর তোলে তাঁর রঙ ভেসে ওঠে দূরের গ্রহলোকে
সবকিছু শুদ্ধ করে মনের আকাশে রাসুল নাম জোসনা হয়ে হাসে।

সে আরাধ্য মুর্শিদকে রাতের স্বপ্নে দেখব বলে
সফেদ পুষ্পে কক্ষ সাজিয়ে রাখি,
শিয়রের কাছে সযতেœ জ্বালিয়ে দেই দুষ্প্রাপ্য সুগন্ধি লোবাণ
ঝিমানো চাঁদের আলোয় সরব জিকিরে কাঁপিয়ে তুলি রাতের বাতাস।
মোবারক চরণে জান্নাতের ধুলি মেখে খুব সন্তর্পণে
তারার চপ্পল পায়ে ছন্দময় পদক্ষেপে হেঁটে আসে আমার রাসুল।
নিদ্রিত নয়নে অফুরন্ত বরকত ছড়িয়ে নিমিষে হারিয়ে যান তিনি
উষার ললিত আযানে সহসা জেগে আমি চিৎকার করে কেঁদে ওঠি,
রাতের প্রসন্ন ঘুমে স্বপ্ন হয়ে রাসুল আমার এসেছে বলে।
……………………………………………

আরব্য প্রান্তর
ওয়াসিম রহমান সানী

যে প্রান্তরে আদম হতে হযরত
বেহেস্তের সওগাত ফাতেমা আলী ইমামদ্বয়
রক্তে রক্তাক্ত আজো সেই কারবালার প্রান্তর।

অতঃপর তায়েফের বুকে সন্ধ্যা নেমে আসে
কালো পাথরের পাহাড় অকপটে ইতিহাস লিখে।
কালের সাক্ষী হয়ে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে
সগৌরবে পৃথিবীর আদি-অন্ত নিয়ে পাহাড়ে নূর ।

ঠোঁটে প্রস্তর নিয়ে যে পাখি নিক্ষেপ করেছিল
দ্বীন বিরোধী জালিমদের মাথায় বক্ষে,
দিনমান প্রদক্ষিন করছে কালো ক্বাবার চারদিক
সে আবাবীলের সাক্ষাৎ পেয়ে ধন্য হিযরতে ক্বাবা।

উন্মুখ হয়ে কার পায়ের চিহ্ন খোঁজে ধূলির মর্ত্যে ?
উত্তপ্ত ধূসর ধূলোমাঠ চারদিক জনশূন্য সুনসান ।
আজিজিয়া হতে মেষপাল, আর কতোদূর বাকি ক্বাবা !
ক্বাবার পাথরে মিশকাতের কী সুবাস …
যেনো ইব্রাহীম, ইসমাইল, প্রিয় মোহাম্মদের গায়ের সুঘ্রাণ।
……………………………………………

ভালোবাসার জায়নামাজ
মুনশী ইকবাল

সকল যুগের সেরা তিনি
রাহমাতুল্লিল আলামিন
নামটি যে তাঁর মুখে নিলে
তৃপ্ত হয় আমার জমিন।

তাকে আমি ভালোবাসি
রামধনুর ঐ রং যেমন
ভালোবাসি হৃদয় থেকে
দেখিনি তিনি কেমন।

কিছু কিছু ভালোবাসা
আছে এমন পবিত্র
কাওসারের ঐ সুধার মতো
মন জুড়ানো সুমন্ত্র।

তাঁকে আমি ভালোবেসে
মনের মাঝে শান্তি পাই
এমন শান্তি পৃথিবীর আর
কোথাও আমি দেখি নাই।
……………………………………………

তোমাকেই স্মরি
নার্গিস নাহার রুনু

ধরার পরেতে এলে হে আঁখেরী নবী,
স্বাগতম জানালো যে দুনিয়ার সবি।
কূল মাখলুক খুশি সালাম জানায়,
ফুলের বাগানে অলি গুন গুন গায়।

মুক্তির কাণ্ডারি তুমি হে রাসূল,
নবীদের সেরা নবী নেই কোন তুল।
হেদায়াত বাণী নিয়ে পাঠালেন রব,
আগমনে দূর হলো জাহেলিয়া সব।

পাপী তাপী খুঁজে পেল আলোকিত পথ,
ভুলে গিয়ে এক হলো সব মত পথ।
মানবতা ফিরে এলো আরবের ভূমে,
মরুধূলি ধন্য হলো তব পদ চুমে।

শুকনো বনেতে যেন ফুটলো কুসুম,
মেয়ে শিশু মা’র কোলে পড়লো রে ঘুম।
নেশার শরাব ছেড়ে ঈমানের নূরে,
মালিকের গুন গান গায় তারা সুরে ।

হেরার আলোর নূরে সব পথ চলে,
শান্তির পতাকা তলে ফিরে এলো দলে।
দুরূদের হাদিয়ায় তোমাকেই স্মরি,
তোমারই নাম নিয়ে যেন আমি মরি।
……………………………………………

ইহুদী ও দয়াল নবী
মুহাম্মাদ আলী মজুমদার

একদিন এক ইহুদী লোক
এলো নবীর ঘরে
তাকে পেয়ে নবীজী খুব
আদর যতন করে।

মজা পেয়ে সেই ইহুদী
খেলো অনেক খানা
রাতের বেলা নষ্ট করে
নবীর বিছানা।

ভয় পেয়ে তাই চুপিচুপি
ছাড়ল নবীর বাড়ি
কিন্তু ভুলে রেখে গেল
নিজের তরবারি।

তরবারি নিতে এসে
চোখ খুলে যায় তার
বিশ্বনবী না-রেগে সব
করছে পরিষ্কার!

দয়াল নবী বলল তারে
ক্ষমা করো ভাই
রাতের বেলা পেয়েছিলে
কত কষ্ট হায়!

বিশ্বনবীর ব্যবহারে
শীতল হয় তার প্রাণ
তাই ইহুদী কলমা পড়ে
হলো মুসলমান।
……………………………………………

এতিম শিশু
শাহিন আলম

জন্মের আগে বাপ হারালেন
ছয় বছরে মা
ভাবতে পারো শিশুর তরে
কষ্ট কেমন তা।

চাচার কাছে হলেন বড়
যত্নে অতিশয়
এই জগতে চাচা কি আর
বাপের মত হয়!

হয়তো অনেক বায়না ছিলো
অনেক ছিলো শখ
মা বাবা নেই, বলেননি তা
লুকিয়েছিলেন সব।

এতিম শিশুর দিন কেটেছে
ভাবনা নিয়ে নানা
তাই এতিমের কষ্ট তিনি
বোঝেন ষোলআনা।
……………………………………………

শান্তির ধর্ম ইসলাম
নজির আহমেদ

ঘোর অমানিশার গোর আজাব
উস্কে দ্যায় ইহজাগতিক তরক্কীর শ্রীবৃদ্ধির আকর্ষণ।
দাহ্য মন অপ্রকাশ্য
অগ্রাহ্য’র ধারাপাতে শিমুল তুলোর মত লাশ;
প্রকাশ্য দিবালোক হাস্যমুখ।

প্রথম উপমা শুনে আবেগে অস্থির শ্রোতা
জানতে চায়ঃপার্থিব কষ্টর সঙ্গে কবর কিংবা পরকালের উপমা কী যায়?

আমার ধীর স্থির চঞ্চল স্বভাব, ছুঁড়ে দ্যায় সহজ জবাব
শুনোঃকত আর ঘুমোবে বলো কুম্ভকর্ণ’র ঘুম(?)
এইবার জেগে ওঠো,
চোখ খুলে চোখ বুঁজে দ্যাখো চারদিকে ধর্ম প্রচারের ধুম।

ব্যথার নদীতে কথা আর কথা
কাজ ছাড়া শুধু কথায় কী জগৎ ভুলানো যায়?
মৃত্যুর পর অনন্ত সুখের নেশায়
আল্লাহ ও রাসুলের প্রেমবিমুখ কিছু উম্মাদ লোক
ইহকাল হাবিয়া দোজখ বানাতে চায়।

চারদিকে শান্তির নামে অশান্তি, ধর্মের নামে রক্ত নেশা
ক্ষুধার্তর হাহাকার, পীড়িত’র চিৎকার
দরিদ্র’র ক্রন্দন, উৎপীড়িত’র আর্তনাদ, শিশু বলাৎকার,
হারাম কামাই, হারাম দৃষ্টি, হারাম চিন্তার বাজার।

তাই বলছি
আমরা এখন কবরের ভিতর আছি।
সকালবেলায় কবরের মত অন্ধকার
দুপুরবেলায় কবরের মত অন্ধকার
বিকেলবেলায় কবরের মত অন্ধকার
রাতের চৌহদ্দী জুড়ে কবরের মত অন্ধকার

আমরা হয়তো মানুষ নই
মানুষগুলোর মনুষ্যত্ব থাকে, হিতাহিত জ্ঞান থাকে
মানুষেরা মানবিক হয়, প্রেমিক হয়।
আমাদের মানবিক উৎকর্ষতা হয়নি
কারও প্রতি কারও দয়া-মায়া, প্রেম-ভালোবাসা নেই।

আমরা দু’কুল বজায় রেখে চলতে চাই
চিন্তায় হারাম, দৃষ্টিতে হারাম পুষে হারাম খাই
আমরা চুরি-বাটপারী জেনা করি
আর মুখে করি ধর্মের বড়াই।আমরাই জাতখোয়া জাত
ভুলে যাই আল্লাহ-রাসুলের নাম, আমরাই
দলাদলি করে বিতর্কিত করে তুলি শান্তির ধর্ম ইসলাম।
……………………………………………

বিশ্বনবী
শাহীন রায়হান

তুমি না এলে নূর আলো জ্বেলে
হতো না ফুল পাখি নদী
উড়তো না প্রজাপতি ঝর্ণা-
ও, বইতো না নিরবধি।

থাকতো না মেঘ কোন ঝড়ো বেগ
ঝরতো না একফোঁটা বৃষ্টি
এই নদী অপরূপ সাগরও
হতো না কোনদিন সৃষ্টি।

তুমি এলে তাই রবের কৃপায়
দু’চোখে পেয়েছি আলো
ধরণীর বুকে শত নেয়ামত
যা কিছু রয়েছে ভালো।

ঘোর আঁধারে কান্ডারী তুমি
মানবতার মহান কবি
দুনিয়া আখিরাতে পথের-
দিশা, প্রিয় বিশ্বনবী।
……………………………………………

নূরের নবী
শেখ একেএম জাকারিয়া

আরবদেশে একটা সময়
চলত শুধু মন্দকাজ,
দয়া-মায়া, ভালোবাসা
ছিল নাতো প্রেমের সাজ।

খুনখারাবি রাহাজানি
থাকত লেগে সারাক্ষণ,
সুরা পানে মত্ত সবাই
কু-নেশাতে ভাসত মন।

মূর্তিপূজায় মগ্ন ছিল
এই দেশেরই সবমানুষ,
মন্দপথে চলত সবাই
ছিল নাতো বুদ্ধি, হুঁশ।

চৌদ্দশত বছর আগে
রাসুল এলেন এইস্থানে,
আল্লাহ ছাড়া নেইতো মাবুদ
প্রচার করেন সবখানে।

সেই রাসুলের নামটি হলো
নূরের নবী মুহাম্মদ,
সত্যনীতি কায়েম করেন
মিথ্যা নীতি করেন রদ।

প্রচার করেন খোদার বাণী
জগৎ করেন আলোময়,
জন্ম নিয়ে এই জাহানে
বিদায় করেন কালো, ভয়।
……………………………………………

নবী মুহাম্মদ সা.
মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন

বিশ্ব যখনি অজ্ঞতা, অনাচার
কত কুসংস্কারে নিমজ্জিত।
মানবতার মুক্তির বার্তা নিয়ে,
মা আমেনার কোলে তখনি
আগমন করেন নবী মুহাম্মদ সা.।
সৃষ্টি যদি তাঁকে না করত খোদা তাআলা,
সৃষ্টিই না হয়ত এই বিশ্ব জাহান।
হলেন যিনি সৃষ্টি জগতের সেরা,
মানবতার মুক্তি ও শান্তি স্থাপনে
করে গেছেন বিরল দৃষ্টান্ত।
কে ধনী, কে গরীব?
কে হাবশী গোলাম, কে কুরাইশ?
নেই কোনো ভেদাভেদ।
এই মর্মে ঘোষণা দিলেন যিনি,
তিনিই নবী মুহাম্মদ সা.।
……………………………………………

প্রিয় মুহাম্মদ সা:
নাসির উদ্দিন আহমদ

যে পথে হেঁটেছেন একদিন প্রিয় মুহাম্মদ
সে-পথে আমিও খুঁজেছি তাঁকে
মক্কা-মদীনায় কত পথের বাঁকে বাঁকে
পাইনি পদধূলি—কোথায় আমার প্রেমাষ্পদ
কে লুকালো তাঁর নছিহত
বৈভব বিত্তের অঢেল মৌচাকে!
যে গুহায় আলোর গোলক জ্বেলে এলেন জিবরীল
সুনসান এখনো পড়ে আছে অক্ষত
নেই শুধু আলোয় প্রণত
উজ্জ্বল হেদায়েতের কাঙ্খিত ব্যাপ্ত নিখিল!

কোথায় আবুবকর উমর উসমান আলী
কোথায় হামজা আবু ওয়াক্কাস মায়াজ মুয়াজ?
দেখি সজ্জিত ইমারত—পেট্রো-ডলারের দালালী
কোথাও নেই আহলে সুফফার দরবেশী কারুকাজ;
কোথাও নেই কাফ্রী বেলাল—বেহেশতী সুর
রঙিন সাজের স্বর্ণ আভায় নাচছে আজ আরব-সমুদ্দুর

চারিদিকে শকটের ধূলা ধাবমান
মক্কা-মদীনায় নেই পারস্যের সালমান
আছেন মহামান্য সম্রাট—নেই আবুজর গিফারি
আছে তারকা হোটেল, মল সারি সারি;
আছে জুব্বা—অধোরের চুম্বন—বিপন্ন-ঈমান
জ্বলে ওঠে বিশ্বাসের কঙ্কাল নিয়ে বাড়াবাড়ি!

দেখো ঐ যে পড়ে আছে বেখবর আরবের লাশ
কাছের ঘরে কাঁদে ইয়েমেনে সিরিয়ায় রক্তাক্ত ভাই
দেখি মক্কা-মদীনার পথে পথে তাই
খাসোগীর খুন নিয়ে মিথ্যার চাষাবাস!

এখন খুঁজি মনের পথে পথে তাঁর পদ-ধূলিকণা
জানি হিজাজের পথে আর তাঁর সাক্ষাত পাব না
তবু জ্বরাগ্রস্থ অস্থির রাতে হে পরোয়ার দিগার
স্বপ্নে দিও শুধু একটিবার তাঁর দীদার
আর দিও এই নাখান্দা বঙ্গের গোলামেরে
তাঁর জ্যোতির এক কানি-কণা।
……………………………………………

এই রবিউল আউয়ালে
আহমদ আল কবির চৌধুরী

আমার নবি আল আরাবি
তোমায় লাগে ভালো
ইতর জনের কষ্ট সয়ে
বিলিয়ে দিছো আলো।

রাসূলুল্লাহ তোমার পথেই
হলাম পথ যাত্রী
ঘোর নিদানে স্বরণ করি
দিবস এবং রাত্রি ।

এই মাহিনার এই দিবসে
সৃষ্টি তুমি অনন্য
তোমায় পেয়ে এই পৃথিবীর
কূল মাখলুক ধন্য ।

পরম প্রিয় আল্লা মহান
রহমতের দ্বার খুলে
পাপি তাপি নাজাত খুঁজি
এই রবিউল আউয়ালে ।

খোদার দেয়া শ্রেষ্ঠ নেয়ামত
সবার প্রিয় নবি
তোমার পথে জীবন সঁপে
ঘুচুক আধার সবি।