আসসালামু আলাইকুম! প্রিয় পাঠক, আশা করি, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে সুস্থ রয়েছেন! আজ আমরা ‘মৃত্যু ভাবনা ও পরকালীন জীবন’ বই নিয়ে কথা বলবো; এই ‘মৃত্যু ভাবনা ও পরকালীন জীবন’ বইটি রচনা করেছেন বিশিষ্ট লেখক, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যিক এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান। ‘মৃত্যু ভাবনা ও পরকালীন জীবন’ বইটি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সারা জাগানো ও আলোচিত ইসলামি বই।

বই এর নাম : মৃত্যু ভাবনা ও পরকালীন জীবন
লেখক : এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও চিন্তুক। বাবা মরহুম বজলুল হক ও মা মরহুমা হেলেনা বেগম। দুই ভাই, এক বোন এর মধ্যে সবার বড়। ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার তারাকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হিফয, বি.এ. (অনার্স), এম.এ. পাশ করেন। তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার এবং মেয়ে তাহিয়া বিনতে মুশফিক ও তাশফিয়া বিনতে মুশফিক। তিনি কলাম, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গল্প ও শিশুতোষ লেখা লিখে থাকেন। মাসিক সংস্কার পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগে মাসিক তানযীমুল উম্মাহ’র সহযোগী সম্পাদক ও সাওতুল আতফাল শিশু পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়মিত লেখালেখি করছেন সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও দৈনিক জাতীয় পত্রিকার বিভিন্ন বিভাগে।
বই ক্যাটাগরী : ইসলামী বই
বইটির প্রধান বিষয় : দুনিয়ার জীবন, মৃত্যু, কবর, কিয়ামত, হাশর, জান্নাত ও জাহান্নাম।
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৪৪ টি
অধ্যায় : ৬ টি
মূল্য : ২০০ টাকা
বাঁধাই : হার্ডকভার
কাগজ : অফ হোয়াইট
প্রকাশ সাল : এপ্রিল, ২০২১ সালে ১ম প্রকাশিত
প্রকাশনী : তাশফিয়া প্রকাশনী
বইটির ধরন : হার্ড কপি
প্রাপ্তি স্থান : তানযীমুল উম্মাহ পাবলিকেশন্স ও দেশের অভিজাত লাইব্রেরীতে পাওয়া যাবে।মোবাইল : ০১৯১৩৭৭১৫৪৮

বই বিন্যাস :
১৪৪ পৃষ্ঠার এই বইটি ৬টি অধ্যায়ে বিস্তৃত। মূল আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে প্রথমেই সুন্দর একটি ভূমিকার মাধ্যমে লেখক তার লেখা শুরু করেছেন।
জীবন হচ্ছে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সময়ের সমষ্টি। এ সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। সকল মানুষকে এ সময়টি অতিক্রম করতে হবে। এ সময় পূর্ণ হওয়ার আগে কারো মৃত্যু হবে না। আবার এটাও ঠিক যে, দিনের পর যেমন রাত আসে এবং অন্ধকারের পর আলো আসে, তেমনি জীবনের পরে মৃত্যু আসবেই। দুনিয়ার সকল সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলে, কিন্তু মৃত্যু সমস্যার কোন সমাধান নেই। মৃত্যু শাশ্বত ও চিরন্তন সত্য। এটাকে প্রতিরোধ করা যায় না। একথাটিই আল্লাহ তা‘আলা কুরআনুল কারীমে একটি তত্ত্বের আকারে পেশ করেছেন, ‘‘প্রত্যেক প্রাণিকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের পরিপূর্ণ বদলা দেওয়া হবে। তারপর যাকে দোজখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ধোঁকার বস্তু ছাড়া কিছুই নয়।’’ [সূরা আল-ইমরান : ১৮৫]
এ মৃত্যু সবার জন্যই প্রযোজ্য। মানুষ, জ্বিন, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, গাছ-পালা, উদ্ভিদ, তরুলতা সবার মৃত্যু আছে। ফেরেশতাদেরও মৃত্যু আছে। মৃত্যুর উর্ধ্বে হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। তিনি কুরআনুল কারীমে বলেছেন, “ভূপৃষ্ঠের সবকিছুই ধ্বংসশীল। একমাত্র আপনার মহিমায় ও মহানুভব পালনকর্তার সত্তা ছাড়া।” [সূরা আর রহমান : ২৬-২৭]
মৃত্যুর সামনে সবাই অসহায়। কোনো শক্তি ও সম্পদের বিনিময়ে তাকে পিছানো যায় না। শক্তিহীন ও শক্তিধর সবাইকে এর সামনে আত্মসমর্পণ করতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের এক সেকেন্ডও বিলম্ব না করে তা উপস্থিত হবে। কে কোথায় আছে, তার কোনো পরোয়া নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়নপর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখামুখি হবে, অতঃপর তোমরা অদৃশ্য, দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন সেসব কর্ম, যা তোমরা করতে।” [সূরা জুমআ : ০৮]
মৃত্যু ভাবনা ও পরকালীন জীবন নামক শিরোনামে বইটির ১ম অধ্যায়ে মৃত্যু ও মৃত্যু সংশ্লিষ্ট নানাবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। কোনো মুসলিম মৃত্যুবরণ করলে উপস্থিত জীবিতদের করণীয়, মৃতের গোসল, কাফন, দাফন, জানাযা ও শোক প্রকাশসহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে লেখক তার এই বইটির ২য় অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন।
মৃত্যুর পরও যেসব আমলের সাওয়াব চালু থাকে, কবর, মাজার ও মৃত্যু সম্পর্কিত কতিপয় বিদয়াত, কোন মুসলিম মৃত্যুবরণ করলে তার জন্য জীবিতদের করণীয় বিষয় নিয়ে লেখক
৩য় অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন।
কিয়ামত, কিয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? কিয়ামত সংঘটন, কিয়ামতের ভয়াবহতা, কিয়ামতের দিন প্রথম ডাকা হবে আদম আলাইহিস সালামকে, কিয়ামতের দিবসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল মানুষের নেতা হবেন ও কিয়ামত দিবসে সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ‘আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দিবেন এসকল বিষয় নিয়ে বই টির ৪র্থ অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে।
হাশরের ময়দান, হাশরের ময়দান কোথায় হবে? হাশরের ময়দানের অবস্থা, হাশরের ময়দানে বিচারের কাঠগড়া, বিচারের জন্য নবীজির সুপারিশ, বিচারের কাঠগড়া স্থাপন, মানুষের উদ্দেশে আল্লাহর প্রশ্ন, প্রত্যেকের আমলনামা প্রদান, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাক্ষ্যপ্রদান, হাউজে কাউসার, পুলসিরাত ও পুলসিরাত ও জান্নাতের মধ্যে একটি প্রতিবন্ধক গেট থাকবে এ সকল বিষয় নিয়ে লেখক ৫ম অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন।
জান্নাতের নামসমূহ, জাহান্নাম, জাহান্নামের নামসমূহ, জান্নাত ও জাহান্নাম বর্তমান আছে কিনা?, জান্ন াতের অবস্থান, জাহান্নামের অবস্থান, জান্নাতীদের নেয়ামতসমূহ, জাহান্নামীদের শাস্তি, জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় এবং মানুষের করণীয় বিষয়ে লেখক মৃত্যু ভাবনা ও পরকালীন জীবন বইটির ৬ষ্ঠ অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন।
বইটির ৬ষ্ঠ অধ্যায়ে জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ৫০টি পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন লেখক। যা পাঠে পাঠক উপকৃত হবে, ইনশাআল্লাহ।

পাঠ প্রতিক্রিয়া :
লেখকের লেখার ভঙ্গি অত্যন্ত সহজ-সরল। যা সহজেই হৃদয়ঙ্গম করা যায়।
ভাষার প্রাঞ্জলতা, সংক্ষিপ্ত অথচ নিখুঁত ডিটেইলিং এবং প্রচুর রেফারেন্স তাঁর লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য। আর যেহেতু বইটা একেবারেই সাধারণ মুসলিমদের উদ্দেশ্যে লিখিত তাই প্রত্যেকটা বিষয়ে স্পষ্ট এবং বিস্তৃত অথচ সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে।
প্রিয় পাঠক, লেখকের অগণিত নির্ঘুম রাত, অক্লান্ত পরিশ্রম, দিনরাত গবেষণার ফলেই একটি বই রচনা সম্ভব হয়! এরপরে, বইটি পাঠক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে প্রকাশনিকে অনুরূপভাবে সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। ঠিক তেমনি; এইচ. এম. মুশফিকুর রহমানের সদ্য প্রকাশিত মৃত্যু ভাবনা ও পরকালীন জীবন বইটিও এর ব্যতিক্রম নয়।

আমরা আশা করি এ বইটি বাংলা ভাষায় মৃত্যু ও পরকালীন জীবন বিষয়ে আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হবে। একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে বইটি পাশে রাখা জরুরি। এতে করে মৃত্যু ও পরবর্তী জীবন সম্পর্কে জেনে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা করা সম্ভব হবে। আল্লাহ যেন এ কাজটি কবুল করেন, এর সাথে জড়িত সকল উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে তাঁর এই গুনাহগার বান্দাদের নাজাতের উসিলা বানিয়ে দেন। আমীন।