একতাই বল

কৃষক-কুলি যাচ্ছে মরে পাহাড়ি ঢল, বানের পানি, পামরে
ডেঙ্গু নিয়ে আর পারি না, আমার দেশে ডেঙ্গু মারে কামড়ে।
মশা এবং বানের পানি, পাহাড়ি ঢল আমার ঘর-সংসারে
আয়রে সবাই আমজনতা বানের পানি, ডেঙ্গুটারে ধ্বংসারে।

নিয়ম করে পথ চলা ও নিয়ম করে ওষুধ খাব নিত্য রে
নিজের মতো রাখব ভালো আপনজন ও প্রতিবেশী-ভৃত্যরে,
এমনিভাবে, সচেতনায় যাবেই চলে বন্যা-খরা- ডেঙ্গুও
সত্যি বলি, আমার দেশে পাল্টে দেব ডেঙ্গু এবং টেঙ্গুও।
…………………………………………..

তুমি নদী হয়ে গ্যাছো

নদী ধুয়ে দ্যায় সবাইকে
নিয়ে যায় হিমাচল, নীলিগিরি
অচেনা,
অজানা দারুণ দিগন্তেজ্জ
নদী মৃতকে দ্যায় জীবন
মূককে দ্যায় প্রাণোচ্ছ্বল
সাবলীল ভাষা।

আমাকে কাঁদিয়েছে নদী
বঞ্চিত করেছে তাবৎ ঐশ্বর্য
ভালোবাসা, নুনের হাটবাজার থেকেজ্জ

আমি কেঁদে কেঁদে রাত্রিরে বর্ষার
পিরামিড হয়ে যাই,
কষ্টের পাহাড় গলে ঝলসে ওঠে আগুন।

নদী দেখলেই তোমাকে মনে পড়ে
উজানের আছাড়িপিছাড়ি তমস্যায়
তুমি নদী হয়ে গ্যাছো।
…………………………………………..

চুম্বন-১

এসো আমরা চলে যাই
জনান্তিকে, রাস্তায়
টর্নেডো, টাইফুন ছেড়ে
জৌলুসপূর্ণ রৌদ্দুরেজ্জ

এসো আমরা বিশ্রাম করি
নৈশ নীড় ও বালাখানায়
বালিয়াড়ি পাড়ে
ঘুমিয়ে শুনি পড়শির পদাবলি
এসো আমরা চুম্বন করি
হাতে
গালে,
নাভি-নিতম্বে
নিম্ননাভিমূলেজ্জ
চুম্বনের এই মহাযুদ্ধজ্জ মিলনের চেয়ে
বলো পৃথিবীতে দামি আর কি হতে
পারে?
…………………………………………..

তোমার সৌন্দর্যে

তোমাকে দারুণ লাগে
যখন তুমি কোর্তা-কামিজে উড়তে থাকজ্জ

আমার ভেতরে শিহরণ জাগায়
তোমার শাড়ি-চুড়ি
বৃষ্টিভেজা তনুদেহজ্জ

আমি মধ্যরাতে চিৎকার করি
যখন দেখি নিয়ন আলোয়
তুমি নাইট গাউন পরে হাঁটছ
খেলছ
হাসছজ্জ

যখন দেখি তুমি আভরণশূন্য
নিরাভরণ
পেয়ালা হাতে সমুদ্রের ধারে, রৌদ্দুরে
আমি নিশ্চুপ, নির্বাক হয়ে যাই
তোমার বাহুযুগল, কটিদেশ
…………………………………………..

প্রহরের প্রথম রৌদ্র
হে প্রহরের প্রথম রৌদ্র!
আমি তোমার জন্য গড়েছি একটি বড় বাড়ি বারান্দা
যেখানে খাল আছে- রাত্রিরে ডেকে যায় ডাহুক।

তুমি প্রাণ-প্রকৃতিরে ভালোবেসেছিলে
এখানে হাঁসেরা সোনার ডিম পাড়ে।

তুমি প্রেমের কথা বলেছিলে
আমি বাতাস কেটে কেটে বাহারি বসন্তে তৈরি করেছি রাস্তাÑ

তুমি সাগর-সমুদ্র চেয়েছিলে
এখানে ছলছল করে রাত্রিরে ধবল জোছনায় পাহাড়ি ঝরনা।

হে রৌদ্র! এখন বলো তুমি কার? পৃথিবী না আমার…

যদিও আমি অল্পই করেছি তোমার জন্য
আমি অল্পই করেছি আমার জন্য।
…………………………………………..

প্রেমের শুভ্রতা
আমি তাকে ছুঁয়ে দেখেনি
ধরে দেখিনি তার নীল চোখ-
বুকের সুডৌল মাংস
উরুদেশ বা নরম নিন্মনাভিমূল…
বসবাস করিনি এক ছাদের নিচে।

অথচ আমাদের যৌবন ফুরিয়ে গেল
যৌবনের অজানা আয়না ও আদ্রতায়…

অবশেষে বুঝলাম-
পৃথিবীতে প্রেমের শুভ্রতা
মৌ মৌ ঘ্রাণ ছাড়া আর কিছুই সত্য নয়…

কিন্তু আমি দক্ষিণে যাই না
যেখানে শোনা যায় কৃষ্ণের বাঁশির সুর…
…………………………………………..

পেলব মাংস
সমুদ্রের ধারে নিয়ে গেলাম বেদনায় ব্যাপৃত হওয়া আমার এই প্রেমময় দেহ।
ব্যথার পিরামিড
তাজমহল-
কাটা কৈতর…

নগ্ন হয়ে ডুব দিলাম সমুদ্রের গহিনে কয়েকবার।
আবারও
আবারও
আমি আবারও আপাদমস্তক ডুব দিলাম সমুদ্রেÑ
স্বর্ণ হয়ে ভেসে গেল আমার সুডৌল সুন্দর
সঘন সুন্দর বস্ত্রহীন- নিরাভরণ দেহ
নিন্মনাভির নিন্মাঙ্গ, উরুদেশ- পায়রা হয়ে উড়ে গেল
বেদনায় ব্যাপৃত হওয়া আমার এই প্রেমময় দেহ
দেহের আধেক
সরু গলি-
লবণসমেত পেলব সমস্ত মাংস…
…………………………………………..

ছিলাম আমি

আমি তখনকার কথা বলছি
যখন না ছিল শেষ, না ছিল শুরু-
দিন ও রাত্রি।

ছিল শুধু ডিম্বাণু, শুক্র-চারিদিকে অথৈই সমুদ্র
আয়না ও আলোর কুণ্ডলী…

কিন্তু তখনো রৌদ্দুরে ভাসছিল সঘন
জোয়ার জোছনা-আমার পৌরুষের
শাদা-শুভ্র আলোভেজা রঙ…

অন্ধ প্রেমিক
আমি তার সাথে প্রেম অথবা কামকলা কিছুই করতে পারছি না।
কেননা, তার ছায়া, মায়া- সুডৌল দেহ
উরু বা তলদেশ
যোনি- কিছুই খুঁজে পাচ্ছি না আমি।

আমি এক অন্ধ প্রেমিক।

হে নদী সাগর-সমুদ্র আমাকে সাহায্য করো।
…………………………………………..

আলোর বৃষ্টি

চোখের গভীরে রোদ-রাত্রি
কঠিন-কোমল সৌন্দর্যের মর্মর পাথর
হাঁসগুলো ভেসে যায় বিশাল সমুদ্র
জলের উজানে ভাসে জলমুগ্ধ মাছ-শব্দহীন

বর্ষায়-বৃষ্টিতে ফোটে ফুল
উল্লসিত পাথর-পৃথিবী
ঝরে যায় প্রতারক প্রেম-জোছনা
অবিশ্রান্ত বৃষ্টির মেঘ
অসীম বিশ্বাসে ছুটে আসে প্রজ্বলিত ঘোড়া
এক আলোর পৃথিবী।
…………………………………………..

কোনো এক শ্রাবণ সন্ধ্যায়

কোনো এক শ্রাবণ সন্ধ্যায় তোমাকে দেখছিলাম
বেহায়া বাতাস উড়াচ্ছে তোমার চুল ও শাড়ির আঁচল
স্বর্গ-অপ্সরীর মতো কটিদেশ, নদী ও নিতম্বসহ তুমি চলে যাচ্ছ-
আমি বিলীন হয়ে যাচ্ছি সন্ধ্যার শেষ সূর্যের মতো
মথিত সঙ্গমশেষে দিগন্ত যেখানে নুয়ে পড়ে-
গোলাপি ঠোঁট, তোমার মায়াবী চোখের মিটিমিটি তারায়।
একবার তুমিও চেয়ে দেখ এই নীল চোখের দিকে
ফেরাতে পারবে না চোখ- আটকে যাবে গভীর আইরিসে।
চলো দুজনেই ভিজে যাই কোনো নীরব নৈঃশব্দ্যে…
এবং আমাকে কাছে ডাক
জড়িয়ে ধরো
যেনো বর্ষার বৃষ্টিতে ভিজে যায় এই দেহমন।
আমাকে আর ফিরায়ে দিঅ না তোমার ওই নিপুণ সলজ্জ চোখের ভাষায়।
ছলাকলাহীন এই রাত্তিরে আমাকে ভাসাও তুমি, তোমার গ্রন্থিত সাগর-সমুদ্রে
তোমাকে ছাড়া এখন আমি একটা অস্থির অবহেলিত সময়ে পড়ে আছি।
দক্ষিণা বাতাসও লাগে না আমার শরীরে-
আমি একা
নিদারুণ একেলা পড়ে থাকি
সারাটা দুপুর বিকেল আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
তুমি এসো, এসো প্রিয়তমা! ঢেলে দাও অবিমিশ্র রোদ ও কামনার জল
দারুণ দহলিজে আমার…
প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসায় পৃথিবীতে নেচে ওঠে ব্যকুল বিমুগ্ধ ভ্রমর।
তুমি ছাড়া আশ্বিনের অমাবস্যায় ডুবে যাচ্ছে আমার সামনের মাঠ-ঘাট বৃষ্টিভেজা তেপান্তর।
অযাচিত, অন্ধকার শক্ত-শূন্য শিহরণে কেঁপে যাচ্ছে আমার সমস্ত বেলাভূমি।
তুমি এসো আমার এই নির্জলা নীল ভূমিতে
আপেল, আতর অথবা লেবুফুলের চাষে মগ্ন হবো দুজনে
বিপ্রতীপ মধুর হবে আমাদের এই চাষবাস, চাষের তৈজসপত্র বৃষ্টি ও বৃষ্টির বেসাতি
যখন দেখি তোমাকে ছাড়া জোছনার তীব্র আলো আছড়ে পড়ে আমার ভিটেবাড়ি, বারান্দার চারপাশে;
আমি মর্মাহত হয়ে ফিরে আসি, আমি বারবার ফিরে আসি নৈঃশব্দ্যময় নিবু নিবু আমার জলের বিছানায়…
এসো প্রিয়তমা! আমরা পৃথিবীতে নামিয়ে আনি আরেকটা ঐশ্বর্যময় সাগর
মানুষের দেহঘরে আষাঢ়স্য রোদের রোশনাই।
তিরতির করে সামনে হাঁটি সমুজ্জ্বল তারার মতো;
পথ চলতে কখনও ব্যর্থ হয় না পাথর-প্রেমিক।
এবং আমি দ্রুত বুঝতে পারি
প্রেমের সরলতা
সফলতা
ব্যর্থতা-
ফিরে যাওয়া কোনো বিবসন মানবীকে আমার ভালো লাগে না-
তুমি কি ফিরে যেতে চাও কোনো এক অবারিত অন্ধকার গহ্বরে
খুলে দিলাম দিগন্তসম খাঁচার দুয়ার…
বীক্ষ্যমাণ বশরাই গোলাপের আশীর্বাদে আমি পৌঁছে যাব আমার গন্তব্যে
অমীমাংসিত কোনো সৌন্দর্যের ভেতর আমি পৌঁছে যাব
আমার ব্যথার বিড়ম্বনাসহ…
আমি গলে গলে যাব কোনো এক শান্ত-শুভ্র শ্রাবণ সন্ধ্যায়
আমাকে আর পাবে না
আমি গলে গলে যাব
গলে গলে…
…………………………………………..

কালাম সমাচার

বরের নামও কালাম ছিলো
কিন্তু এ বর ভুল কালাম,
বিয়ে বাড়ি এখন দেখি
‘কালাম’ নিয়ে তুলকালাম।

বিয়ে হলো ভুল কালামের
সবার মতে স্বস্তিতে,
কালাম এখন সুখে আছেন
ইস্টিশনের বস্তিতে।

হঠাৎ দেখি মাথা খারাপ
ঢুকল ঘরে মূল কালাম,
নিজেই তখন নিজের পিঠে
অল্প কিছু চুলকালাম।

আর কিছু না শুরু হলো
বউ নিয়ে ফের তুলকালাম,
কোনো কিছু দিচ্ছে না ছাড়
দস্যি ছেলে মূল কালাম।