মুমূর্ষু মৃদঙ্গ

তুমি ভাবনায় আসলেই
আতুর ঘরের গন্ধ পাই!
তবে কি তুমিই সেই
যা আমার ধারণা ছিল তাই!
সুয়াচন্দন কিংবা মিস্টি কোন
পারফিউম নয় সেটা,
কেমন যেনো অনেকটা নিজের
শরীরেরই তামাটে গন্ধ!

অক্ষরেখা ধরে, ক্রমাগত এগিয়ে যাই
সেই গন্ধের ঘোরে…
তারপর বাতাসে হারাও, জিরাও,
আবার একটু দাঁড়াও…
অনেকটা উপাসনার মতো,
ধ্যানে, আরাধনায় অবিরত।
নিরাপদ দূরত্বে রেখে,
মৃদঙ্গ বাজাতে বাজাতে অতঃপর…

অতঃপর, তখন তপসী তপ্ত
তীরন্দাজের তীব্রতায় তটস্থ!
অগ্নিসংযোগে অংশবিশেষ অঙ্গার হয়,
লাগে ভয়, এই বুঝি হলো পরাজয়!
আর মুমূর্ষু আবেগের মৃত্যুও তখন
হাস্যকর পরিস্থিতিতে পরে হায়,
হয় সবার উপভোগ্য বিষয়বস্তু!
…………………………………………..

বিচার

উন্মুক্ত মনেও মাঝে মধ্যেই হয়,
বুভুক্ষ দানবিয় উত্তাপ।
নিয়তির চিত্তভ্রংশ অদৃষ্ট,
অথচ অভ্যস্ত হয়ে উঠে বিবেক…
খুব অচেনা লাগে তখন নিজেকে
পুঞ্জিত চেতনা, স্বভাবে, আচরণে…

মমত্বের দুরন্ত জ্বালায়, মায়াময় প্রিয়ত’ মা
কখনো কখনো মুখ ফিরিয়ে নেয়!
সম্পৃক্ত আবেগের গলা টিপতে,
অস্থির হয়ে ওঠে বাস্তব ব্যস্ততা…
আত্মসিদ্ধির ধ্যানে মগ্নতাই, একমাত্র পুঁজি…
তা ভেবে ভেবেই ক্লান্ত, শ্রান্ত, শান্ত আমি!

যাপিত জীবনের পান্ডুলিপির অক্ষর বুনছি কেবল!
…………………………………………..

আনাড়ি চাওয়া

আমি আজন্ম ঐ তোমার তুমিটাকেই চাই!
আবেগের বশে অথবা বাস্তবতা সমৃদ্ধ উপকরণে,
আলাদা আমিত্ববোধ ব্যঞ্জনাতে,
নৈসর্গিক খঞ্জনি বাজিয়ে হলেও…
সেই পুরাতন তোমার তুমিটা আমার যে খুব প্রিয়!

রুপকল্প কিংবা কোন কথাসাহিত্যিকের সৃষ্ট গল্পে,
সাধনায়, বশীকরণে অথবা তাবিজ কবজে…
বন্ধুদের আড্ডায় আহলাদের সুরে,
বা একা থাকা বেরসিক বেসামাল বৈরাগী বন্দিনী হয়ে,
আমার ঐ তুমিটা এসেই যাও…
আমায় নির্দিধায় আগলে নাও!

ধারাবাহিক নতুন বছরের আনাগোনায়…
আনন্দে, দুঃখে, উচ্ছ্বাসে, বিষাদে,আপন মননে-
কৌশলগত অভ্যাসে পরিণত হওয়া অদৃশ্য অনুভূতিতে,
যদিও একঘেয়েমি একটা পরিস্থিতি মনে থাকে জমে
পরক্ষণেই প্রবঞ্চনায় পরিপূর্ণ পিদিমেও
তোমার অস্তিত্ব টের পাওয়া এই আমি!

আর তাই বাধ্য হয়ে, এবাদতে নিজেকে ধুয়ে
সৃষ্টিকর্তার কাছে আত্নসমর্পণে, মাথা নুয়ে…..
আজন্ম ঐ তোমার তুমিটাকেই চাই,
চেয়েছিলাম হয়তো চেয়েগেছিও তাই!
…………………………………………..

চুম্বক চাহিদা

নক্ষত্র হবো বলে, উদোম আকাশে তাকিয়ে থাকা…
নেত্রপল্লবের জলে নদী ভরবে বলেই,
ঢেউয়ের পরে ঢেউ গণনা!

কষ্ট গুলিকে জমতে জমতে
শক্ত কাঠামো হওয়ায়,
বুঝতে পারি পাহাড় কেন এতো কাছে ডাকে!

মনের যতো আবীর শূন্যে ছড়িয়ে দেই, তাইতো
গোধূলি স্নান করার ইচ্ছেগুলি জমা রাখে।
অন্ধকার রজনীগুলি দীর্ঘশ্বাসে পরিপূর্ণ, তাই
ক্লান্ত দুই চোখ পূর্ণিমা রাতের অপেক্ষায় থাকে।

নষ্ট চাঁদ মন যখন আকুল-ব্যাকুল চাহিদায় লিপ্ত,
তখন জায়নামাজই সুপ্ত সুখের একমাত্র উপদেষ্টা!

ব্যস্ততায় কোলাহলময় সান্ধ্যনগরীতেও
পরিচিত আবেগি প্রহরগুলি,
প্রহরী হয়েই বায়বীয় স্বপ্ন আঁকড়ে রাখায়…
চঞ্চল চৌমনা চেনা-অচেনা চুম্বক চাওয়ায়!
…………………………………………..

বিজয় সুখ

স্বর্ণযুগের বিচিত্র স্বপ্নগুলিও
কিন্তু পিছ’পা হয়না,
স্নিগ্ধ ভোর, অলস দুপুর কিংবা
আবেগি রাতেও ভোলা যায়না।

জন্মগত অভ্যাসে, আপন মাটির টানে
দেশ প্রেমে,
জাগ্রত জনতা, বিষ্ময়কর এক গন্ডিতে
বন্দী ফ্রেমে।

এতো ব্যস্ত সময়, তবুও পর্যাপ্ত সময় নিয়ে
নিজের অবস্থান ভাবায়…
লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত
বিজয় করেছি জয়।

মাঝে মাঝে অকৃত্রিম এক চিন্তা মনে
জাগায় কেবল ভয়,
স্বাধীন দেশেও সবাই কি তবে
এখনো স্বাধীন নয়?
এ দেশ আমার, নাগরিক আমি,
আমিতো পরবাসী নই
দীর্ঘশ্বাসে এমন প্রশ্ন নিজের,
নিজেই হতবাক হই…

এতোসব সিন্ডিকেট, দন্দ, ক্লেশ, দলাদলি,
অস্থিরতা, হানাহানি..
অথচ প্রিয় জন্মভূমি’র দিকে তাকালেই
ভুলে যাই সব গ্লানি।

এতো বছর পরও, সেই প্রিয় সুরে
গেয়ে যাই বিজয়ের গান
এ দেশ আমার মাতৃভূমি, গর্বে বলি…
এই দেশ আমার প্রাণ।
…………………………………………..

স্ব-দেশ প্রীতি

পাওনি কি তুমি বাতাসে ভেসে আসা বারুদের গন্ধ,
তবে কেন রেখেছো উদ্রিক্ত হৃদয়ের দরজাটা করে বন্ধ?

বুঝনি কি তুমি কদর্য এ সময়ের আর্তনাদ,
তবে কেন অচাপল্য ভাব দেখিয়ে যাচ্ছ ছিদ্রান্বেষী প্রতিবাদ?

পারনি কি নির্ভীক মনে দমন করতে অপ-রাজনীতি,
তবে কেন দৃষ্টান্ত রেখেছিলে জননী রূপে কল্পিত স্ব-দেশ প্রীতি?

দেখনি কি নির্বন্ধ ক্ষমতার লোভে লোভীদের সহিষ্ণু বিচরণ,
তবে কেন সহ্য করছো বাঙালী হয়ে বাঙালীর শোষণ…
…………………………………………..

নকশীকাঁথা

অবগুণ্ঠন আঁধার সবটুকু ফেলে,
তোমার ভাষায়, যা আমার রূপকথা সাজিয়েছি…

এনেছি মুঠোভরে রংধনুর রং
বাদ যায়নি পূজার আলপনার আবীরও
কত ভাবনা জমিয়েছি, তোমার ভুল ভাঙ্গাবো বলে!

জোড়াতালি দিয়ে একটা কবিতা লেখার চেষ্টা,
অথবা পরিচিত গানের সুরেই বোঝাবো না হয়…
আর নৃত্যরত অবস্থায় তুমি দেখলে অবজ্ঞাই করতে পারবেনা!

শুনাবো বারমাসের তেরো পার্বণের উৎসকথা,
কিংবা শীতের শীতল বাহারী নকশীকাঁথা,
বা কড়া লিকারের এককাপ চা দিয়েই তোমার মন ভরাবো, দেখে নিও!

কখনো আবেগি হয়ে, ক্ষমা চেয়ে আরশিতে মহড়া
আবার কখনো সাজিয়েছি নাটক, ভাঙ্গাতে তোমার অভিমান।
কতবার স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছেগেছি সাত আসমান!

সবার সঙ্গে অলীক ভাব দেখাতেও পিছপা হইনি,
লোভনীয় প্রস্তাব উপেক্ষা করে, দিন গুনেছি…গুনছি!
মন মনিকোঠায় মৌলিক মায়াবী মায়ায়, মনস্তাত্ত্বিক মুক্তির মনস্কামনায়!

যুগল চোখের আঙ্গিনায় প্রতীক্ষার পুরাতন,
তোমার সেই তুমিটাকেই বোঝানোর
সেকি তীব্র ইচ্ছেরা আমায় আক্রমণ করে প্রতিনিয়ত!

অথচ তোমার ভাষায় আমার এই কথাগুলি সবই বাচ্চাদের রূপকথার ফুলঝুরি!
আচ্ছা আমার এতো চেষ্টা বৃথাই যাবে…
আর কতো বড় হলে বড় হবো বলতে পারো?!
…………………………………………..

চিংড়ী মাছের চচ্চড়ি!

তোমার পেষ্টি মাখানো কেকের প্রেমের চেয়ে,
আমার মিয়োনিজ আর সসের ফ্রেঞ্জফ্রাই নিয়ে,
চারিদিকে কতো মন্থন ছড়ায় দেখো দেখো!

তোমার ফ্রাইড রাইস এবং চিকেন ফ্রাই,
আমার পপকর্নের স্বাদের ধারে কাছে নাই।
সবাই অনায়াসে কেমম গ্রহণ করে, দেখে শেখো!

তোমার গরম গরম থাই স্যুপের স্বাদে
আমার ভাজা নরম ডালপুরীরা কাঁদে,
ভালবাসায় অন্তঃশীল স্পষ্টতা রেখো !

তবে কিসের এত বাহাদুরী, যেমন চিংড়ী মাছের চচ্চড়ি!
দেখনা,শীতের সময় বাজারে বাহারী সতেজ তরকারী..
তবুও চাও সয়া সসের সঙ্গে ইলিশ মাছের মালাইকারি!

সময় এখনো আছে, হয়ে যাও আমার মতন সংসারী!
…………………………………………..

স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রেম!

আমায় আর ভালবেসোনা তুমি…
প্রেমের এমন লুকোচুরি খেলায়, বেলা অবেলায় ক্লান্ত আমি।
এখনতো তুমি স্বয়ংসম্পূর্ণ, তোমায় যে পাবে সে হবে ধন্য।

বৈরী আকাশের মেঘেদের রাজত্ব্য দেখে দেখে,
তুমি অনায়াসে শিখে নিয়েছো দাসত্বের কার্যক্রম।
বৃষ্টির কাছে বিষণ্নতা ধার করতে পারো এখন তুমি যখন তখন।

চৈত্রের রোদ্দুরে প্রতীক্ষার তিক্ত অভিজ্ঞতা তোমার আছে,
বিস্তীর্ণ পথে কতবার হেঁটেছো,অর্জন করেছো নির্ভরতা।
উরন্ত পাখির দিকে তাকিয়ে ধৈর্য্য ধরতে শিখে গেছো,
উদাম আকাশের লজ্জায়, বুঝে নিয়েছো কি সুখ ফুলসজ্জায়।

আর কত দিবে অথবা নিবে আমাদের বায়বীয় ভালবাসার উষ্ণতা।

অনেকতো হলো আর কতো বলো..ভালবেসোনা তুমি,আমায় আর !
প্রেমের এমন লুকোচুরি খেলায়,বেলা অবেলার ক্লান্তি সহ্য করা ভার।
…………………………………………..

বায়নাপত্র

জোয়ারভাটার নিত্য খেলায়,
স্রোতস্বিনীর মন দোদুল দোলায়!
উন্মাতাল এক কুমারীর নাচন,
হাসায়, ভাসায়, কাঁদায় অকারণ!
সহচরী কেউ আসলে আসুক,
এমতাবস্থায় ভাসলে ভাসুক!
নিত্যানন্দে মাতাল ছন্দে, দন্দে…
মিশেল দেয় আবেগ সুখানন্দে!
ত্রিরত্নের, ত্রিমাত্রিক, তান্ডব লীলায়,
ইচ্ছেরা যখন সব পাপড়ি মেলায়!
শরীর শতাংশে সাপকাওলায় দেয়া মন্ত্র,
সন্ধি করা বন্দী দলীলের বায়নাপত্র…