জীবনটা-ই এমন

এই দুনিয়ায় অনেকেই ঘুমায়
রঙ্গিন সোনার খাটে,
সম্বলহীন, গৃহহারা কারো
ফুটপাতেই রাত কাটে।

অবৈধ পথে কেউবা আবার
দু ‘হাতে টাকা কামায়,
হজার-টাকার বস্ত্র কারো গায়ে
শতছিদ্র কারো জামায়।

কেউবা আবার গড়ছে নিবাস
গহীন, গভীর জঙ্গলে,
কেউবা আবাস গড়তে চাহে
দূর, বহুদূর মঙ্গলে।

জীবনটা কারো অসুখেই কাটে
কারো কাটে হেসে-খেলে ,
জীবন-নদীটা কাহারো আবার
অবিরাম ভাটায় চলে।

অপচয় ক ‘রে কেউবা খাবার
ড্রেন, ডাষ্টবিনে ছিটায়,
চোখ মেললেই দেখি অনেকেরই
চাল-চুলো নেই ভিটায়।

কেউবা চলে রাজার চালে
বহু দামী গাড়ি হাঁকিয়ে,
কেউবা এসব নিরাশ-চোখে
দেখে অপলক তাকিয়ে।

অঢেল ধনের মালিক অনেকেই
সুখের ঠিকানা পায়না,
কাতরে মরেও সুখ-পাখিটারে
খাঁচায় ঢুকানো যায়না।

জীবনটা-ই এমন,
চলছে কারো মহা-সুখে
কারো যেমন-তেমন।
…………………………………………..

নেই

এখানে ক্লান্তি আছে শ্রান্তি নেই।
ভ্রান্তি আছে, বিভ্রান্তি আছে,
ক্লেশ আছে, শ্লেষ আছে
প্রশান্তির আবেশ নেই,
ভাল থাকার পরিবেশ নেই।

এখানে দিক আছে, দিক-নির্দেশক নেই।
পথ আছে, পাথেয় নেই।
মন আছে, মনের-মানুষ নেই
অন্তর আছে, অন্তর্দৃষ্টি নেই।

এখানে অনেকের বেশ আছে,
অধিকাংশের কিছুই নেই।
অনেকেই নেবার আছে,
দেবার বেলায় কেউ নেই।

এখানে কাজ আছে কীর্তি নেই।
সমস্যার পাহাড় আছে,
সমাধানের হাত নেই।

এখানে আলাপ আলোচনা আছে,
অহেতুক কাল-ক্ষেপণ আছে,
সিদ্ধান্তের পথ নেই।

এখানে সৎ-সাহসের অভাব আছে,
অবান্চিত প্রভাব আছে।
দূর্বিনীত স্বভাব আছে,
নৈতিকতার আকাল আছে,
কথায় কাজে মিল নেই।

আরো অনেক কিছুই আছে,
“আসল ” তেমন কিছুই নেই।
 …………………………………………..

এ কী অবস্হা!!

চুরি-চামারীতে ভরে গেছে দেশ, চারিদিকে এ কী অবস্হা!
নিত্য-পণ্যের চাইতেও এখানে খুন-খারাবিটা সস্তা!
গুরু-মশাইরা দিয়েছে যাদের চুরিবিদ্যার মন্ত্র,
ওরাই চুরমার করবে গুরুর স্বদেশ, রাষ্ট্রযন্ত্র।

রডের বদলে ব্রিজ অার ভবনে ব্যবহার করে ‘বাঁশ ‘টা,
অল্প ক ‘দিনেই ব্রিজ ও ভবন হয়ে যায় ‘মরা-লাশ ‘টা।
দূনীতিবাজ, লুটেরারা সব খেয়ে ফেলছে পুরো দেশটা,
ভাবনা শুধুই দেখবো কবে এই লুটতরাজের শেষটা।

ক্রসফায়ারের জন্যে তুলে দেয় ‘প্রদীপ ‘এর হাতে অস্ত্র,
ওদের হাতে পুরো দেশটাই যেন অসহায়, বিবস্ত্র।
প্রদীপেরা আজ সব জা ‘গাতেই জেঁকে বসে আছে ক্ষমতায়,
জামাই-আদরে উঠছে বেড়ে ‘মা ‘আর ‘মাসির ‘মমতায়।

নিত্য-নিয়ত দেখছি এ কী পড়শির ষড়যন্ত্র!
নির্বোধ ভেবে দিয়ে যায় শুধু কুটচাল, কু-মন্ত্র।
এ জীবনেও কি শেষ হবেনা পড়শির ঋণ(?) পরিশোধ?!
তাঁর কাছে কেন গণ্য এদেশ এত নীরিহ, নির্বোধ?

চোর, লুটেরা, প্রদীপদের হাতে থাকবে ক্ষমতাটা যতদিন,
এ বাঁধা থেকে উত্তরণের আশা-ভরসা অতি ক্ষীণ।
থামবে সেদিন এসব কঠিন অনিশ্চিৎ পথযাত্রা,
কমবে যেদিন চুরি, লুটপাট ক্রসফায়ারের(?) মাত্রা।
…………………………………………..

মানবতা মৃতপ্রায়

যুগে-যুগে এ কী দেখি অশান্ত এ দুনিয়ায়,
সমাজ, রাষ্ট্র চারিদিকে মানবতা মৃতপ্রায়!

মানবতা মৃতপ্রায় অশান্ত- সিরিয়ায়,
ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, অসভ্য-বার্মায়।

সবখানে, সব দেশে, অশান্ত-ইরাকে,
প্রতিবেশী দেশে-ই বেশী মানবতা বিপাকে!

স্বদেশ, বিদেশ, আর প্রতিটি সমাজে,
লুটছে সবে মানবতা দারুণ খোশ-মেজাজে!

মানবতা লুন্ঠনে নীতিকথার আড়ালে,
কুটনীতি, কুটচালের কড়া নাড়ে মোড়লে।

সম্প্রীতি, ভালবাসা কিছুইতো বুঝেনা,
মানবতার-রক্ত চুষে খায় হায়েনা।

বিবেকহীনে বুঝেনাকো মানবতার মূল্য,
আচরণে প্রকাশে সে পশু-সমতুল্য।

এই সমাজে শুধুই দেখি মূল্যবোধের আকাল,
মানবতা বিপন্ন রোজ, নিত্য-সকাল-বিকাল।

শত্রুতা সব ভুলে গিয়ে হই সকলে মিত্র,
সবাই মিলে গড়ে তুলি মানবতার ক্ষেত্র।

সব ভেদাভেদ ভুলে হওয়া চাই মানবিক,
মৃতপ্রায় মানবতা জেগে উঠা স্বাভাবিক।
…………………………………………..

হরেক রকম কষ্ট

মনে কষ্ট, জনে কষ্ট,
কষ্টে ভরা কালটায়।
পাথরচাপা কষ্ট বুকে,
কষ্টের রেখা ভালটায়।

খাইতে কষ্ট, নাইতে কষ্ট,
কষ্ট আয়-রোজগারে।
কষ্ট ছাড়া যায়না ধরা
সুখের আলোক-শিখারে।

শেখায় কষ্ট, দেখায় কষ্ট,
কষ্ট জীবন গড়তে।
কষ্ট-ই তো সাহস জোগায়
জীবন-যুদ্ধে লড়তে।

ঘরে কষ্ট, বাইরে কষ্ট,
কষ্টে ভরা সমাজটা।
হরেক রকম কষ্ট দেখে
বিগড়ে থাকে মেজাজটা।

কষ্ট ছাড়া কেষ্ট মেলা ভার,
কষ্টটারে পিষ্ট করে
যে-জন দৃপ্ত পদভারে
সমুখপানে যায় এগিয়ে
ধন্য জীবন তাঁর।
…………………………………………..

মামা

বরগুনার বড় মামার,
অতি বড় গুন।
এক হাতে তাঁর মোবাইল চলে,
অন্যটায় ল্যান্ডফোন।
রশিদ মিয়ার চাকরি হলো,
‘বড় মামা ‘র জোরে,
তা না হলে বাস হতো তার,
গভীর আস্তাকুঁরে।
জমি-জিরাত বিক্রি করে,
টাকা দিল বাবায়,
সেই টাকাতে বড় মামা,
বাড়ি করে ঢাকায়।
এই মামা তো সেই মামা নয়,
এইটা একটা দালাল,
ঘুষের টাকায় পকেট ভারী,
তা-ও নাকি হয় হালাল!
এই মামাটা সবার চেয়ে,
অনেক চালাক-চতূর,
তাঁর কারনে হেলাল মিয়ার,
পকেট এখন ফুতুর।
হেলাল মিয়ার বড় ছেলে,
পইড়া মামার ফান্দে,
সব হারিয়ে এখন সে হায়!
পথে পথে কান্দে।
দিন-রজনী কাঁদছে হেলাল,
শেষ হয়নিকো কাঁদার,
বড় মামা এখন দেখি,
সমাজের “গড্ফাদার “।
…………………………………………..

সুখের মন্ত্র

সুখের জন্য কেউবা চড়ে
ময়ূরপঙ্খী নায়,
মনের সুখে কেউবা ঘুমায়
রঙ্গিন ফুলশয্যায়।

কেউবা আবার খুঁজে বেড়ায়
ফুটপাতে-ই সুখ,
শত চেষ্টায়ও কেউ দেখেনা
একটু সুখের মুখ।

কেউবা আবার সুখের জন্য
জীবন বাজী রেখে,
পরের সুখের সন্ধানে সে
রঙ্গিন স্বপ্ন দেখে।

পরের সুখের খোঁজে নিজের
সুখ দেয় জলাঞ্জলি,
দু ‘হাত ভরে বিলায় শুধু
সুখ-ভরা অঞ্জলি।

সুখের জন্য চুরি ক ‘রে
কেউবা পকেট পুরে,
চুরির টাকায় দেশ বিদেশে
অট্টালিকা গড়ে।

অসৎ পথে আয়-রুজিতে,
সুখ কবে, কে পায়?
অভিশাপ আর ঘৃণা বয়ে
আজীবন কাটায়।

মনের সুখই বড় সুখ
এটা যে না জানে,
শত চেষ্টাও বুঝবেনা সে
সঠিক সুখের মানে।

সুখি হতে চাও?
অল্পতেই তুষ্ট হবার
মন্ত্র শিখে নাও।
…………………………………………..

ইচ্ছে করে

ইচ্ছে করে সমাজের সব অসঙ্গতি ভাংতে,
ইচ্ছে করে সমাজটাকে ভালবাসায় রাংতে।

আমার খুবই ইচ্ছে করে ডানা মেলে উড়তে,
এই সমাজের অসততা শক্ত পায়ে চুড়তে।

ইচ্ছে করে অত্যাচারের স্টিমরোলার সব গুড়িয়ে দিই,
ইচ্ছে করে প্রেমের ফসল দু ‘হাত ভরে কুড়িয়ে নিই।

ইচ্ছে করে উচ্চস্বরে বিপ্লবীগান গাইতে,
ইচ্ছে করে সুবোধ-নীতি ‘র রূপসাগরে নাইতে।

দেখতে আমার ইচ্ছে করে করে রঙ্গিন- সুন্দর পৃথিবী,
সুখের বাগান সাজিয়ে তোলা হোক সকলের স্বভাব-ই।

ইচ্ছে করে বুক ভরে নিই স্বচ্ছ বায়ূ অনাবিল,
দেখি সবার নির্মল হাসি, খোলা মন আর সাচ্চা দিল্।

আমার শুধুই ইচ্ছে করে দেখতে সুন্দর সমাজটা,
ইচ্ছে করে ভেঙ্গে ফেলি অত্যাচারের দেয়ালটা।

ইচ্ছে করে ভেঙ্গে ফেলি ‘বাক্ ‘এর সকল রুদ্ধদ্বার ,
ইচ্ছে করে গুড়িয়ে দিতে প্রতিবেশীর কাঁটাতার।

ইচ্ছে করে ঘুষখোরেরে জোরসে মারি কিল-ঘুষি ,
সত্য-ন্যায়ের মশাল জ্বালি,
অন্যায়েরে দূরে ঠেলি,
সুখের ফসল নিক তুলে নিক
যতজনে যা খুশি।

মনে ইচ্ছে যতই থাকুক,
মনের জ্বালা যতই বাড়ুক,
করতে হবে সবাই মিলে সঠিক-সুন্দর কাজটা।
তুলতে হলে ইচ্ছের-ফসল,
বুনতে হবে ও ভাই সকল
মনের ক্ষেতে ভালবাসার পুষ্ট-সতেজ বীজটা।
…………………………………………..

দালাল

ঐ যে দেখ পাশের বাড়ির অঞ্জনে,
ব্যস্ত সদা দাদা ‘র মনোরঞ্জনে।
সদা দাদা ‘র পা চাটাতে ব্যস্ত রয়,
তাঁকে সবাই নব্যযুগের নিমকহারাম, দালাল কয়।

দেশের খেয়ে নিজের দেশকে(?) উপাধি দেয় ‘খয়রাতি ‘,
নিজের ঘরে মোমবাতি নেই, পরেরে দেয় ঝাঁড়বাতি!
ঘরের খেয়ে পরের দেশের গুণ গাওয়াতে ব্যস্ত সে,
সংগোপনে করছে আঘাত আপন দেশের(?) বিশ্বাসে।

এরা-ই দেশের আসল শত্রু, হালজামানার রাজাকার,
শত্রুর সাথে রাত্রি কাটায়, দিনে করে অভিসার।
অঞ্জনেরা আর কিছু নয় এ জামানার জগৎশেঠ,
বাপের জমি চাষ করে সে অন্যজনের পুরায় পেট।

এক পা তাহার নিজ ঘরেতে(?), অন্য পা টা বাহিরে,
মায়ের স্বার্থ নিশি রাতে বিলিয়ে দেয় সে সখারে।

দেখার যে কেউ নেই!
দেখবে যাঁরা তাঁদের যেন হারিয়ে গেছে খেই!!??
…………………………………………..

হারামজাদা-হারামখোর

হারামজাদা-হারামখোরে সুযোগ বুঝে
কাজ করে!
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সে নিত্য-পণ্যের
স্টক করে।

রোজা এলে-ই অতি লোভে নিত্য-পণ্যের দাম বাড়ায়
যে চোরা ‘য়
লোকে বলে -কোন কালে চোর ছিল তাঁর
বাপ-দাদা ‘য়।

চোর শুধু নয় হারামজাদা, হারামখোরও
লোকে কয়,
তাঁর পরাণে রহম নেই, নেই
পরকালের ভয়!

আমজনতা প্রশ্ন করে জন্ম তাঁহার
ঠিক কি, না?
রমজানেতে এক এ সত্তর পাপ-পূণ্য
সে জানেনা?

সিন্ডিকেটে-দাম বাড়িয়ে-কষ্টদাতা
মানুষ নয়,
হিংস্র পশু ‘র চেয়েও অধম,
নরকের কীট হয়।

আমজনতায় কষ্ট দিয়ে বেচা-কেনা ‘র
গুল্লি মার্!
হারামজাদা-হারামখোর তুই জলদি ক’রে
এ দেশ ছাড়্।