মোবারকের মামাতো ভাই খুব ভোরে এসে বাসায় পৌঁছলো। কানাডার দীর্ঘ বিমান জার্নিতে তার স্বাস্থ্য দুর্বল হবার কথা, কিন্তু সে রকম কিছু না। সে খুবই প্রাণবন্ত। অনেকটা চিৎকার চেঁচামেচি করে কথা বলছে। এভাবে কথা বলা তার ছোটবেলার অভ্যাস। মোবারকের ওপর সে খানিকটা রাগ। বিয়েটা এক দিনের জন্য না পেছানোর কি কারণ?
ভাইজান, আমি এই বিয়ের কিছুই জানি না। তুমি মা’র কাছে জিজ্ঞেস করো।
মোবারক তোর চালাকি আমি ভালোই বুঝি। সব না জেনেই তুমি বিশ্ব সুন্দরী ইলাকে বিয়ে করেছো। চালাকি করার জায়গা পাও না।
ঠিক সে সময় ইলা চা নিয়ে প্রবেশ করে।
ভাইজান চা…।
একি করছো বইন। নতুন বউয়ের এভাবে তো চা নিয়ে আসা ঠিক না। যাও তুমি বিশ্রাম নাও।
ভাইজান আম্মা আপনাকে ডাকে।
ফুফু ঘুম থেকে উঠেছে।
হ্যাঁ।
মোবারক এবং তার কানাডা ফেরত মামাতো ভাই এক সাথে ঘরে ঢোকে। ফুফু তুমি এইটা কি করলা। আমি আসার একদিন আগেই মোবারকের বিয়ে দিলা।
এতো কতা কছ ক্যা? দরকার অইলে আবার তুই বিয়া পড়া।
ফুফু তুমি এইসব কি কও। একবার বিয়া পড়ানোর পর আবার বিয়া পড়ানোর কী আছে?
না থাকলে না। এহন ক তোর বউ বাচ্চারা কেমন আছে? ওদের নিয়া আইলি না ক্যা।
ওরা সবাই ভালো। সবার পরীক্ষা, বউ চাকরি করে। কিভাবে আসবে বুঝো না।
আচ্ছা, এহন মোবারক কি করবো কিছু ঠিক করছোছ।
ফুফু আমি ঠিক করছি। এই বাড়িটা মোবারককে লিখে দিবো। তবে একটা শর্ত থাকবে। তা হলো বাড়িটা কখনো বিক্রি করতে পারবে না।
ভাইজান হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?
তোর ভাবি সারাক্ষণ এই বাড়িটা বিক্রির কথা বলে বলে আমার মাথা খারাপ করে দেয়। এই জন্য এই চিন্তা। শোন আমি তোকে আপাতত কিছু টাকা পয়সাও দিবো। তুই এবং তোর বউ মিলে স্কুল চালু কর। না চাইতেই সব কিছু পাবার খুশিতে মোবারক হঠাৎ থ হয়ে যায়। একবার ভাবে একেই কি বলে বিয়ের ভাগ্য।

বাড়িটা দু’তলা করা হয়েছে মটিফাই করে। নিচতলার পুরোটা স্কুল। ঢাকার বিখ্যাত একটা স্কুল থেকে শাখা নিয়ে শুরু করেছে। ছাত্রছাত্রী ভালো। মোবারক এবং ইলার ভালো আয়। দু’জনে মিলে ঠিক করেছে, তারা আগামী বছর একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা নির্মাণ করবে। সেই সিনেমার গল্প লেখা শেষ করেছে মোবারক। এখন আবার সেই গল্প থেকে চিত্রনাট্য তৈরি করা শুরু করেছে। রাতদিন চিত্রনাট্য নিয়ে মোবারক ব্যস্ত। সে ব্যস্ততাকে উস্কে দিতে ইলা যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। খুব শীঘ্রই সুটিং শুরু হবে। সিনেমার নামও ঠিক করা হয়েছে।
‘পিলখানার রক্ত’
ইলা বলে এমন নামের সিনেমা কি আলোর মুখ দেখবে? মোবারক ভাই আপনি সিনেমার নাম পরিবর্তন করেন। ‘পিলখানার রক্ত’ নামটা দেখলে সরকার এই সিনেমা মুক্তি দিতে চাইবে না। বিশেষ করে বর্তমান সরকার দিবেই না।
নাম না হয় পরিবর্তন করলাম, কিন্তু তুমি আমাকে মোবারক ভাই মোবারক ভাই করছো কেনো। আর আমি তো তোমার স্বামী।
তাতে সমস্যা কি। মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই।
তার মানে কিছুদিন পর তুমি যখন মা হবে তোমার বাচ্চাদের সামনেও ভাই ভাই করবে?
তাতো চিন্তা করি নাই মোবারক ভাই।
শোন সিনেমার নামটা পিলখানার রক্ত থেকে, রক্তাক্ত পিলখানা রাখছি।
ঐ একই হলো, এই সরকার এই সিনেমা প্রদর্শনের অনুমতি দিবে না।
এখন না দিলে নাই। আগামীতে কোন দেশপ্রেমিক সরকার আসলে তখন মুক্তি পাবে। মোবারক চিত্রনাট্যে মনোনিবেশ করে। পাশে তার স্ত্রী ইলা।

সমাপ্ত