বাংলা সিনেমা কোন পর্যায়ে এবং এ সিনেমা শিল্পকে আরো এগিয়ে নেয়ার জন্য কি কি করা দরকার ঘুরেফিরে এমন আলোচনাই চলে। আলোচনার উপসংহার দাঁড়ায় এই আকাশ সংস্কৃতির সাথে লড়াই করতে হলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে এবং আরো খোলা মনে, খোলা প্রাণে ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে হবে। ক্যামেরার সামনে খোলামেলা বসন কোন দোষের না। এটা শিল্পের অংশ। যারা খোলামেলা পোশাকের সমালোচনা করে, তারা বাংলা সিনেমার শত্রু, তারা রাজাকার। রাজাকার শব্দটা বলার সাথে সাথে সারা হলরুমটার ভেতর হাততালিতে ভরে ওঠে। আলোচনায় আসে আরো প্রাজ্ঞ অগ্রজ। বাংলা সিনেমায় তার কি অবদান এমন ব্যাখ্যা দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন। এ পর্যায়ে তরুণ পরিচালক, অনন্ত সাহিদ এক রকম তদবীর করেই ডায়াসে দাঁড়ান। প্রচলিত আলোচনার বাইরে কথা বলার চেষ্টা করেন। কণ্ঠে খানিক ভীতি থাকলেও তা তারুণ্যে ঢেকে যায়। আমি অনন্ত সাহিদ, হলফ করে বলতে পারি, আমাদের বাংলা সিনেমার এই শিল্প মাধ্যমকে বাঁচাতে হলে স্বকীয়তা অর্জন করতে হবে। সিনেমা তৈরি মূল র’মেট্রিয়াল হিক্টোরি অর্থাৎ ভালো মানের দেশজ গল্প বাছাই। এরপর ভালো মানের মেধাবী শিল্পী এবং নির্মাণে বা পরিচালনায় নকলকে বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব আংগিকে মেধা ও মননশীল পরিচালকের হাতে সিনেমা নির্মাণ হলে মানুষ আবার সিনেমা হলে আসবে এবং আমাদের চলচ্চিত্র জগৎকে নোংরামী এবং মাফিয়াদের দৌরাÍ্য থেকে মুক্ত রাখতে পারলেই …।
বক্তব্যের এমন পর্যায়ে হইচই শুরু হয়ে যায়। এমন গণ্ডমূর্খকে এবং বেআদবকে মাইক দিয়েছে কে, এমন প্রশ্ন ওঠে পুরো মজলিশে। অনন্ত সাহিদকে ঠেলা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে নির্ধারিত বক্তাদের আলোচনার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু প্রযোজকরা বিরক্ত হওয়ায় আলোচনা স্থগিত করা হয়।
শ্রোতা শ্রেণীর প্রায় সকলকে বাদ দিয়ে গভীর আলোচনার জন্য। আলাদাভাবে বসার ব্যবস্থা করা হয়। সাত আট জনের তরুণী দলও ঠাঁই পায়।
আলোচনা করেন স্বয়ং আই আর মন্ডল। তার বক্তব্যের উদ্দেশ্যে তরুণী নায়িকা এবং নায়িকাদের সাথে আসা মায়েদের ব্যাপারে অভিনয় জগত, একটি আলাদা পৃথিবী এখানে সংকোচ ও সংকীর্ণতার স্থান নেই। প্রগতি এবং উন্নতির জন্য বাইরের দুনিয়ার দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।
যা বলছিলাম, আগামী দুই এক মাসের মধ্যে, আমরা একটা স্টেজ প্রোগ্রাম করার জন্য দুবাই যাব। সে স্টেজ প্রোগ্রামে নৃত্য-গান এবং মডেলিং থাকবে। সেখানে যারা চান্স পাবে তারা আগামী সিনেমার নায়িকা হিসেবে অভিনয় করতে পারবে। তো ওখানেতো আর গার্জীয়ানদের নেয়া যাবে না। আর আজকের এ অনুষ্ঠানে যারা আছে তাদের সবাইকে ও চান্স দেয়া যাবে না। কারণ আমার কাছে আরো বহু বায়োডাটা জমা আছে। পরিচালক আই আর মণ্ডলের এমন কথায় সবাই চমকে ওঠে। সবাই চান্স পাবে না মানে, যে কেউ আউট হতে পারে! নায়িকা হতে আসা তরণীদের সাথে আসা মায়েরা দ্বিগুণ উৎকণ্ঠিত। আকর্ষণীয় এমন সুযোগ কি ইহজীবনে আর আসবে?
আই আর মণ্ডল, আবার কথা বলেন। তার গলা বেশ ভারী। শোন মেয়েরা, যারা এবার সুযোগ পাবে না তারা কিছু মনে করো না। আগামীতে তোমরা অবশ্যই সুযোগ পাবে। সবাইকেতো আর এক সাথে সুযোগ দেয়া সম্ভব না। আর যারা এবার সুযোগ পাবে, তাদের জন্য সু-সংবাদ হলো, তাদের যাওয়া আসার বিমান ভাড়া। ফাইভ স্টার হোটেলে থাকা খাওয়া এবং নগদে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে পাবে।
এমন আকর্ষণীয় ঘোষণার প্রায় কাঁদো কাঁদো হয়ে ওঠে উঠতি তরুণী নায়িকা এবং তাদের সাথে আসা মায়েরা। প্রবল এবং বিরল একটি আতংক মায়েদের চোখে মুখে লাফায়। কেউ এ আতংক স্পষ্ট দেখতে পায় না। কিন্তু আই আর মণ্ডল সব বুঝতে পারে। মণ্ডলের ঠোঁটের কোণায় একটি হাসি লাফায় এবং সে জানে আজ এই প্রোগ্রাম শেষ হবার পরই, তার কাছে প্রচুর ফোন আসবে। মায়েরা আকুতি মিনতি করবে। কেউ কেউ তদ্বির করবে। ঘুষ-ফুঁসও সাধবে কেউ কেউ, কিন্তু কেউ বুঝতেও চেষ্টা করবে না, আই আর মণ্ডল ঘুষ খায় না।
আই আর মণ্ডল সবাইকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন করে, কার কার পাসপোর্ট আছে। কারণ পাসপোর্ট ছাড়াতো আর দুবাই যাওয়া যাবে না। আর যারা ইনভাইট করছে, তারা পাসপোর্টের খরচও দিবে। কে চান্স পায় আর কে পাবে না এ মুহূর্তে আমি তাও বলতে পারছি না। তবে সবার পাসপোর্ট আমি করে দিব, তবে শর্ত হচ্ছে যারা চান্স পাবে না তাদেরকে পাসপোর্টের খরচ দিতে হবে। অতএব আগামীকাল সবাইকে পাসপোর্ট সাইজের দশ কপি এবং স্ট্যাম্প সাইজের দুই কপি অর্থাৎ মোট বারো কপি ছবি আমার ম্যানেজার দিনেশের কাছে জমা দিতে হবে। আজকের মতে সবাই যেতে পারেন, রাত কম হয়নি। রাস্তাঘাটের অবস্থা ভালো না। হাইজ্যাক বেড়ে গেছে। কারো বেশি সমস্যা থাকলে বলবেন, আমার গাড়িতে করে দিয়ে আসবে। সৌজন্যবোধের ব্যাপার মাথায় রেখে কেউই গাড়ির সাহায্য চায় না। রাত দশটাতো আর বেশি সময় না। বর্তমান সময়ের তুলনায় আরো একঘণ্টা কম। চলে যাবার সময় অধিকাংশ নায়িকা এবং তাদের মায়েদের কপালের ভাজ বেশ স্পষ্ট দেখা যায়। সবাই চয়ে যাবার পর। এখন শুধু প্রযোজকেরা এবং পরিচালক আই আর মণ্ডল। প্রযোজকরা সবাই আই আর মণ্ডলের তারিফ করে। এমন তিক্ষè বুদ্ধি না হলে কি আই আর মণ্ডল। প্রযোজকদের উদ্দেশ্যে ছোট্ট ব্রিফ। তাহলো আমাদের মেয়ে দরকার দশজন, কিন্তু স্ট্যান্ডবাই আরো দশজন রাখা দরকার, এখানে আজ সাত আট জন ছিল। আমার অভিজ্ঞতা বলছে, সব ক’জনই যেতে রাজি হবে। কারণ একটি কৌশলে সবার ভেতর বিশেষ করে নায়িকা হতে আসা মেয়েগুলোর মায়েদের ভেতর একটি প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে দিয়েছি। তাদের মনের ভেতর এমন একটি বিষয় কাজ করবে যে যার কন্যা যেতে পারবে না, সে খুবই অপমানবোধ করবে। নিজে হেরে যাচ্ছে এমন মনে করবে। তারা কাল থেকে অথবা আজ রাত থেকেই প্রতিযোগিতায় নামবে।
এখন আপনাদের কাজ হলো, আমি টেকনিক করে আপনাদের কাছে পাঠাবো আপনারা খুব সাবধানে টেককেয়ার করবেন। সমস্যায় পড়লে আমাকে অবহিত করবেন। আর একটা কাজ করতে হবে। তাহলো সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আগামীকাল পরশুর ভেতর কিছু টাকা দিতে হবে। আপনারা সবাই আগামীকাল আমার একাউন্টে লাখ দু’য়েক টাকা জমা করবেন। তাছাড়া ছবিগুলোর পাসপোর্টও বানাতে হবে।
নিয়ম অনুযায়ী হলরুমের আলো রহস্যময় পর্যায়ে আনা হয়। হঠাৎ করেই কেমন আলো আঁধারিতে ছেঁয়ে যায় পুরো হলরুম। হোমথিয়েটারে ইংরেজি গানের মিউজিক একটি বিশেষ অবহ সৃষ্টি করছে।
বিদেশী রেড লেবেল, রাশান ভদকার সুন্দর বোতল টেবিলে স্থান পায়। মিড টাউন রেস্টুরেন্ট থেকে আনা। ফ্রেন্স ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই, আর ঝালকুচি গরুর গোস্ত। আলোচনা জমে ওঠে বেশ। সাত আটজন উঠতি তরুণী, দুবাই নাইট ক্লাবের হট কেক। ব্যবসা না হয়ে উপায় নেই। কোটি কোটি টাকার ব্যবসা জ্বলজ্বল করে।
আই আর মণ্ডলের হ্যান্ডফোন বেজে ওঠে। মণ্ডলের এপিএস কাম ম্যানেজার দিনেশ রিসিভ্ করে।
জ্বি বলেন।
ওলাইকুম…। বলেন কে বলছেন। না এখনতো স্যার কথা বলতে পারবেন না। জরুরি মিটিং হচ্ছে। আগামীকাল দুপুর বারোটায় ফোন করবেন। একে একে নূরী, বেবী, সুইটি, ঝিলিক, স্বপ্না, দিলারা, সবার ফোন আসে, ম্যানেজার দিনেশ সব ম্যানেজ করে।
প্রযোজকরা অবাক হন। কোটি টাকার ব্যবসা এবং বিশেষ প্রাপ্তির লোভে চোখে একটি বিশেষ দৃশ্য ভেসে ওঠে। গভীর রাত অবধি পান পিয়াসা চলতে থাকে। সাংস্কৃতিক চিন্তাবিদদের নেশা উচ্চাংগে উঠতে আরো সময় লাগে। পরিচালক প্রযোজক বন্ধুদের আÍস্থ করে। ধীরে ধীরে পান করো। ভাবনা করার কিছু নাই। নেশা অনেকেরই চূড়ায় উঠে যাওয়ায় কথার কল অনবরত চলছে। দুবাইতে বড় ডিপার্টমেন্টের মালিক জয়নালের অবস্থা বেগতিকÑÑ জয়নাল প্রশ্ন করে।
দাদা মণ্ডল, বলেন তো খোলাশা করে। চিন্তা করার কিছু নাই কেন?
কেন আবার, কিছু আন্দাজ করতে পারেন না। দেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার। কালো বাহিনীর সেই ক্ষমতা আর নাই যে, হুট করে যা ইচ্ছে তাই করে ফেলবে। কিন্তু ওস্তাদ, খুন খারাবীতো খুব বেড়ে গেছে। তা বাড়–ক, কিন্তু ক্রস ফায়ারের যুগতো গেছে। আরে বাবা কালো বাহিনীর আমলে শান্তিতে এক ফোঁটা মদও গিলতে পারি নাই। দাদা যাই বলেন, র‌্যাবের ক্ষমতা কেড়ে নেয়া উচিৎ হয়নি। খুন খারাবী খুব বেড়েছে! মশা বেড়েছে, গরম বেড়েছে, লোশেডিং বেড়েছে। গরমে ন্যাংটা হয় রাতে ঘুমাতে হয়। কি যে দুরবস্থা!
আরে বাবা, র‌্যাব কি মশা তাড়াতো, নাকি বিদ্যুৎ সাপ্লাই দিতো? র‌্যাব থাকতেও লোডশেডিং ছিলো, এখনো আছে। লোডশেডিং হলো ঢাকার বাংলা সিনেমার মতো, মানুষ পছন্দ করুক বা না করুন সিনেমা মুক্তি পাবে। তেমনি লোডশেডিং জনগণ পছন্দ করুক বা না করুক, লোডশেডিং হবেই, কি বলেন।
কয়েকজন উচ্চ কণ্ঠে সাপোর্ট দেয়, খুবই ন্যায্য কথা। ন্যায্য কথা হলে সামান্য করতালি দেয়া উচিৎ। সাথে সাথে করতালিতে হলরুম ভরে ওঠে।
আই আর মণ্ডল পান বন্ধ করে প্রতিবাদ করে। অবশ্য প্রতিবাদটা ফ্রেন্ডলি। দেখুন বাংলা সিনেমার ইতিহাস কিন্তু এতটা দুর্বল না। সত্তুর দশক, আশির দশক এবং বিচ্ছিন্নভাবে সব দশকেই ভাল কিছু কাজ কিন্তু আছে।
প্রযোজক ইলিয়াস হাসতে হাসতে উত্তর দেন।
ওস্তাদ আপনিতো বলেন এপেশনাল ইজ এট এক্সজামপল। ব্যাপারটা এখানে সে রকমের না। দেখুন ইলিয়াস সাহেব, আপনি এখনো কোন সিনেমা নির্মাণে বিশেষ অবদান রাখতে পারেননি। কোন সিনেমা নির্মাণে সংশ্লিষ্টতা না থাকার পরও আপনাকে প্রযোজকের মর্যাদা আমি দিয়েছি সে পুরুস্কারই দিচ্ছেন এইতো?
আহা আপনি ব্যাপারটা ওভাবে নিচ্ছেন কেনো? আমরা তো ফ্রাঙ্কলি আলোচনা করছি। ব্যাপারটা সহজভাবে নিন।
আপনারা সহজভাবে নিতে পারলেও আমি পারি না। কারণ এ ইন্ডাস্ট্রিতে আমি পঁচিশ বছর যাবত জড়িত।
এ কথা বলতে বলতে আই আর মণ্ডল কেঁদে ফেললেন। মণ্ডলের কান্নার ধরণ খুবই অদ্ভুত। অদ্ভুত এমন কান্নার কারণে সম্ভবত সবার নেশা চুড়ে গেল। মন্ডলের কান্না থামছে না। সবাই বিব্রত। ঠিক তখন, অন্দর থেকে একজন মহিলা ছুটে এসে মণ্ডলকে ভেতরে নিয়ে যায়। মণ্ডলকে ভেতরে নেবার কিছুক্ষণ পর মহিলা পুনরায় হলরুমে এসে সবাইকে কোন চিন্তা না করার জন্য বলে।
সামান্য বেশি পান করে ফেলেছে, সেজন্যই এই কান্না। দুই ঘণ্টা পর কান্না থেকে যাবে। আপনারা আনন্দ করুন, সে ঠিক হয়ে যাবে। ওর নেশার ধরণই হলো কান্না।
এমন পরিস্থিতির পর আর জমে ওঠে না, ভাঙ্গা হাটের মতো আই আর মণ্ডলের হলরুমটি ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যায়। বের হবার সময় সবার কানেই আই আর মণ্ডলের অদ্ভুত কান্নার শব্দ আসে। ভাবি প্রযোজক ইদ্রীস হাসান, ফোঁড়ন কাটেন তার বন্ধু শাহরীয়ারকে প্রশ্ন করে।
আচ্ছা, নেশার কি এ ধরনের ইফেক্ট হতে পারে, মানে কান্না?
চোখে মুখে পাণ্ডিত্য এনে শাহরীয়ার উত্তর দিবে, ঠিক তখন বিদ্যুৎ চলে গেলো।
ইদ্রীস হাসান বিরক্ত হন। বিরক্ত হলে তার মুখ ঠিক থাকে না। অস্রাব্য গালি দিয়ে প্রশ্ন তোলে, দেখলেন হতভাগা ডিজিটাল যুগের কারবার। রাত বারোটার সময়ে বিদ্যুৎ যায়। এটা কোন কথা হলো।
শাহরীয়ারও আর ভাব খুঁজে পান না। অথচ তার ইচ্ছে ছিল নেশা বিষয়ক ছোটখাটো একটা বক্তৃতা দেবার। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সেও খুব বিরক্ত।
মোবারকের ঘুম ভাঙলো ফজরের আজান শুনে। মোবারক আশ্চর্য হলো, এটা কোন নিয়তী, ফজরের আজান শুনেতো কখনো ঘুম ভাঙেনি। বয়স বাড়লো, নাকি অন্য কিছু। চল্লিশের পর নাকি ঘুম কমে যায়। রাজ্যের অসুখ বিসুখ শরীরে প্রবেশ করে। ধর্ম কর্মে মন বসে। চোখের জ্যোতি কমে যায়। তখন নাকের উপর চশমা ঝুলিয়ে ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা। লাভজনক আমল ও চিল্লাফিল্লায় যাওয়া।
কিন্তু মোবারক মিয়ার তো বয়স চল্লিশ হয় নাই। তাছাড়া বড় কোন অসুখ বিসুখও আল্লাহর রহমতে হয়নি। তাহলে সুখ ঘুম এতো ভোরো ভাঙলো কেনো।
অবাক হবার আরো একটা কারণ হলো, ঘুম ভাঙার পর খারাপ ঠেকছে না। বরং ভালো লাগছে। প্রশান্তির কোমল আদর সারা দেহ মনে সুনিপুণ শান্তি ছড়াচ্ছে। তৃপ্তির দীর্ঘ ঘুমের পর যেমন লাগে।
মোবারক ঘুম থেকে সাবধানে উঠে বাথরুমে যায়। এই সাবধানতার কি মানে বুঝে আসে না। এমন না যে এই বাড়িতে আর কেউ আছে। দরজা খোলার শব্দ হলেই কারো ঘুম ভেঙে যাবে। পৌনে চার কাঠার জমির উপর, পাঁচ রুমের একতলা বাড়িতে মোবারক একা থাকে। বাড়িটি তার মামাতো ভাইয়ের, সে পরিবারসহ কানাডাতে থাকেন।
প্রথমদিকে মোবারক দুই তিনজন বন্ধু বান্ধব নিয়ে থাকতো। মামাতো ভাই বিষয়টা জানতে পেরে ফোনে কঠিনভাবে নিষেধ করেছেন। এটা কোন ফ্রী কোয়ার্টার না যে দেশের সব লোকজন নিয়ে থাকবা। বর্তমানে কাউকেই বিশ্বাস নাই। শোন মোবারক, তুমি যে বন্ধুদের জায়গা দিবা সে বন্ধুরাই দেখবা এক সময় তোমার পাছায় লাথি মেরে ঐ বাড়ি থেকে ভাগাবে। তখন তুমি হারাবা ফ্রী থাকার জায়গা। আমি হারাবো বিদেশ থেকে অতিকষ্টের টাকায় কেনা বাড়ি । বিদেশে আমি কি কাজ করি জানো, জানো না… আমি এমবিবিএস পাস একজন ডাক্তার হয়ে লিমুজিন গাড়ি চালাই। আমি হলাম ড্রাইভার, বুঝলা? আরেকটি কথা শোন, পাশের বাড়ির মালিক তোমার উপর খুব খ্যাপা। সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করবা।