মোবারক আট নাম্বার ব্রিজের কাছে এসে, একটা বেঞ্চিতে বসে পড়ে। ভাবনা করার জন্য জায়গাটা চমৎকার। চিত্রনাট্যে এমন একটি দৃশ্য সংযোজন করলে কেমন হয়? দৃশ্যটিতে যে যার মতো ব্যায়াম করতে থাকবে। কারো কারো ব্যায়াম করার কসরত হবে হাস্যকর। পঞ্চাশ বছরের কাছাকাছি বয়সের দুই বন্ধু ব্যায়াম করতে করতে ক্লান্ত। তারা কথা বলছে হাঁফাতে হাঁফাতে। মোস্তফা, তুমি কি জানো? আমাদের মহল্লার একটি মেয়ে যে বিষ পান করেছে কৈ নাতো জানি না। আচ্ছা কার মেয়ে।
যাক, যেহেতু তুমি জানো না, সেজন্য তোমার না জানাই উত্তম। মানুষের দুর্বলতা যতো ঢেকে রাখবে ততই ভালো। আমরা সমস্যা নিয়ে আলাপ করবো, সমস্যাটা কে করেছে সেটা বড় কথা না। আচ্ছা আমি জানলে ক্ষতি কি?
ক্ষতি তোমার চেয়ে আমার বেশি হবে। কারণ, ঘটনা আলাপ করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির নাম উচ্চারণ করলে, তাদের উপর গিবত করা হবে। সে জন্য আমরা শুধু সমস্যা নিয়ে আলাপ করতে পারি।
ঠিক আছে, ঘটনাটা বলো, কারো নাম বলার দরকার নাই। কিন্তু এতো ভূমিকা রাখার কি আছে।
রাখছি এজন্য যে, সামাজিক একটা সমস্যা খুব দ্রুত ছড়াচ্ছে। পারিবারিক সচেতনতার মাধ্যমে সমস্যাটা মোকাবিলা করা দরকার।
বিষয়টা খুলে বলো।
বিষয়টা হলো প্রেম। অবৈধ প্রেমের কারণে সামাজিক এবং পারিবারিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা লেখা-পড়ায় খারাপ করছে। আÍহত্যা, উদাসীনতা ও হতাশার জন্ম দিচ্ছে। প্রেমের ডেফিনেশনটাই কিন্তু খারাপ। যেমন তুমি গভীরভাবে লক্ষ্য কর। নারী এবং পুরুষের গোপন অবৈধ সম্পর্কের নামই হলো প্রেম। বৈধ সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেউ প্রেম শব্দ ব্যবহার করে না। এছাড়া আরেকটা বিষয় হলো, নারী-পুরুষের বিয়ের ক্ষেত্রে চাপিয়ে দেয়া বয়স উঠিয়ে দেয়া দরকার। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা আঠারো বছর বয়সের অনেক আগেই শারীরিক এবং মানসিকভাবে মেচিউর হয়।
মোস্তফা হাসে।
কি ব্যাপার, তুমি হাসছো যে।
তোমার সিরিয়াসনেস দেখে, আফসোসের হাসি হাসলাম। তোমার এই চিন্তাটা হলো খণ্ডিত চিন্তা, তবে খারাপ না, তোমার ভেতরে অন্তত চিন্তাটাতো জাগ্রত হয়েছে। শোন বন্ধু, যা কিছু সমস্যা দেখছো, এ সমস্ত সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই শুধু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ঐ যে, আবার রাজনীতিকে টেনে আনলে।
তুমি যে চিন্তাটা ব্যক্ত করলে, ওটা কি রাজনীতি নয়? শোন তুমি সরাসরি রাজনীতি কর বা না কর, রাজনীতি দ্বারাই তুমি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছ। ঐ যে তুমি এক জায়গায় বললেÑ বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স চাপিয়ে দেয়া। বিষয়টা অত্যন্ত রাজনৈতিক। এখন বলো রাজনীতি ছাড়া তুমি কিভাবে ওটার মোকাবিলা করবে। রাজনৈতিক শক্তি সামর্থ্য অর্জনের মাধ্যমে তুমি ক্ষমতাবান হয়ে সামাজিক মোটিভেশনের মাধ্যমে এবং রাষ্ট্রের আইন দ্বারা সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে পারো।
তার মানে, আমার চিন্তাটা অসার।
না, চিন্তাটা খুবই মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ। কাজ শুরু করার আগে চিন্তাটা হলো মূলধন। তবে চিন্তাটা পরিষ্কার হওয়া দরকার। কনসেপ্ট নির্ভুল থাকলে কাজের সুবিধা। মোবারক হাঁফিয়ে ওঠে। এমন একটা দৃশ্যের মাধ্যমে চিত্রনাট্য শুরু করলে কেমন হবে। এমন চিত্রনাট্যের জন্য, শক্তিমান অভিনেতা দরকার হবে। নির্মাণ পরিচালক হতে হবে খুবই নিবেদিত। সকালের দৃশ্যটা ধারণ করতে হবে ফজরের নামাজ শেষ হবার সাথে সাথে। নামাজ পড়ে লোকজন বের হচ্ছে এমন দৃশ্যও ধারণ করা হবে। তবে সামান্য একটু কষ্ট করে, সূর্য উঠছে মনোহর এই মুহূর্তটা ধরতে পারলে সিনেমাটা বৈচিত্র্যে ভরে উঠবে।
মোবারক চিত্রনাট্যের পূর্ণাঙ্গ একটা কল্পনা করতে পেরে, আÍতৃপ্তবোধ করে। ঠিক তখন ইলা ফোন করে। মোবারক ফোন রিসিভ করে। ইলা এ্যারাবিয়ান ইস্টাইলে সালাম দেয়। সালামের উত্তর দেয়ার সাথে সাথে ইলা অভিযোগ করে।
কি ব্যাপার মোবারক ভাই। আট সকালে বাসা থেকে পালিয়ে কৈ গেছেন?
কি বলছো, পালানোর কি আছে? লেকের পাড়ে একটু হাঁটাহাঁটি করছি। তাহলে আমাকে নিয়ে গেলেন না কেনো।
তুমি কি অতো সকালে উঠবে। আর তোমার ঐ আট সকালটা আবার কি? আট সকাল মানে, আট সকাল।
শব্দটা ডিজিটাল করে ফেললে না। সারাজীবন শুনলাম সাত সকাল।
আপনি কি এখন বাসায় আসছেন?
হ্যাঁ এক্ষুণি আসছি।
তা হলে হোটেল থেকে, পরাটা আর ভাজি নিয়ে আসবেন। সম্ভব হলে গরুর পায়ার নেহারীও আনবেন। জিনিসটা আমার খুবই প্রিয়, আপনার কাছে কি টাকা আছে?
হ্যাঁ আছে।
মোবারক নাস্তা নিয়ে, বাসায় প্রবেশ করার কিছুক্ষণ পরই। পাশের বাসা থেকে মুক্তির মা আসে। দরজা খুলে ইলা। মুক্তির মা প্রায় কাঁদো কাঁদো। জিজ্ঞেস করেন, মোবারক কি বাসায় আছে মা? ইলা জবাব দেয়।
হ্যাঁ আছে, ভেতর আসুন।
মাগো, মোবারক তোমার কি হন। খুবই ভালো ছেলে। কাল রাতে যে না হলে আমার মুক্তি হয়ত বাঁচতোই না।
কেন আপনার মেয়ের কি হয়েছিল?
মোবারক তোমাদের কিছু বলেনি।
না কিছুইতো বলেনি।
মহিলা কেঁদে ফেলে। ইলা বিব্রত হয়। মহিলা এভাবে কান্নার মানে কি? আগ্রহ নিয়ে আবার প্রশ্ন করে, আচ্ছা খালা আম্মা খুলে বলেন।
মাগো, দিনকাল খুবই খারাপ। তুমি তো আমার মেয়েকে দেখ নাই। সংসারের বড় মেয়ে। ভালবাসা করেছে কোচিং স্যারের সাথে। সে সব বিষয় নিয়ে ঝামেলা। মেয়ে খেয়ে বসছে বিষ। অমন মেয়েকে দু’তলা থেকে নামানোর সাধ্যও ছিল না। আমাদের মোবারক অমন গভীর রাতে না গেলে কি অবস্থা যে হতো। আমার মেয়ে মুক্তির জ্ঞান ফিরছে, তাই সংবাদটা দিতে এসেছি। মোবারক এখন কি করছে?
গোসল করছে, আপনি বসুন এক্ষুণি চলে আসবে। আর এক কাজ করতে পারেন ঐ রুমে খালা আম্মা টিভি দেখছে তার সাথে দেখা করতে পারেন, আমি ততক্ষণে চা করে নিয়ে আসি।
না মা, চা খাবো না। তোমার খালার সাথে একটু দেখা করি।
আচ্ছা তোমার নাম কিগো মা?
ইলা।
ভালো নাম বলো।
ভালো নাম নেই। আমার নাম একটাই। আচ্ছা নামটা কি খুবই অসুন্দর? না মা, তানা আসলে ডাক নামের সাথে আরেকটা নাম থাকে না? আমি সেটা বুঝাতে চেয়েছি। আচ্ছা তোমাকে একটা কথা বলি মা।
বলো।
তুমি কিন্তু খুবই সুন্দর। তোমার মতো এমন সুন্দর মেয়ে হাতে গোনা তোমার কথাও সুন্দর, বেঁচে থাকো মা। আর আমাদের বাসায় আসবা আমাদের বাসা নিশ্চয়ই চিনো?
না- চিনি নাতো?
বলো কি, এই পাশের বাসা আমাদের। তুমি আজই আসবে। আমার মেয়ে মুক্তিকে দেখে আসবে।
আপনার মেয়ে মুক্তির আরেকটা নাম নিশ্চয়ই আছে। আমাকে একটু বলবেন।
নিশ্চয়ই বলবো। ওর আসল নাম, ফারজানা। মুক্তি বলে ডাকি। ঠিক আছে, আপনি আম্মার সাথে কথা বলুন। আমি এক্ষুণি আসছি।
ইলা রান্না ঘরে ঢোকে। বুকের ভেতর একটা ভাবনা সহনীয় মাত্রায় দাপায়। কি ব্যাপার। এতো বড় একটা কাণ্ড ঘটলো। একটি মেয়ে আÍহত্যা করতে গিয়ে মরতে বসেছিল। মোবারক ভাই গভীর রাতে গিয়ে সেই মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে বাঁচালেন। অথচ সেই ঘটনাটা কাউকে বললোই না। মোবারক ভাই এমন একটি ঘটনা না বলে, কি প্রমাণ করতে চাইছে? নিজেকে সাধারণ মানুষের থেকে, আলাদা হিসেবে দেখাতে চাইছে। সেকি নিজেকে অসাধারণ ভাবছে? ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করতে হবে।
ভালো আছেন আপা?
আপনে কেগো চিনতে পারলাম না।
আপা, এই পাশের বাসা আমাদের। আপনার ছেলে মোবারক খুবই ভালো। সে আমার মেয়ের জীবন বাঁচিয়েছে। মোবারক এবং ইলা দু’জন প্রায় একই সাথে ঘরে ঢোকে। ইলার হাতে চায়ের ট্রে। মোবারক কিছুটা শংকিত, তার মা যে কোন সময় কিছু বলে বসতে পারে।
মোবারক, তোমাকে ধন্যবাদ দিতে আসলাম বাবা। তুমি না থাকলে কি যে হতো। মুক্তি এখন পুরোপুরি সুস্থ। তুমি একবার বাসায় এসো। তোমার মাকেও সাথে নিয়ে এসো।
তা যাবো, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ দেবার কি আছে। প্রতিবেশির প্রতি এতটুকু দায়বদ্ধতা তো থাকেই।
তাও-বর্তমান যা দিনকাল, এমন পুলিশী কেইস জেনে কে এগিয়ে যায়? আচ্ছা বাবা আমি যাই। আপা বাসায় আসবেন।
আমার পোলার বউরে কেমন দেখলেন?
আপা খুবই সুন্দর। এক লাখে এমন একজন সুন্দরী কন্যা পাওয়া যায় না। মোবারকের মায়ের এমন কথায় মোবারক প্রায় হা-হাকার করে ওঠে। ইলা মোবারকের করুণ অবস্থা দেখে খুবই মজা পায়।
ইলার মোবাইল বাজছে। মণ্ডলের ফোন। কথা বলছে অন্যকেউ। পাসপোর্ট নিয়ে যাবার জন্য তাড়া। সময় খুবই কম। ইলা মোবারককে প্রশ্ন করে। আমরা কখন যাবো মণ্ডলের অফিসে। পাসপোর্ট চাচ্ছে। আচ্ছা ঠিক আছে আমরা এখনই রওয়ানা হবো। তুমি তাড়াতাড়ি তৈরি হও। আজ আবার ঐ দিনের মতো সাদা শাড়ি পরো না।
কেন, সাদা শাড়িতে কি খুব খারাপ দেখায় আমাকে?
খারাপ দেখায় না, তবে হিন্দি সিনেমার বিধবা নায়িকাদের মতো লাগে। আমি তো সত্যি সত্যিই বিধবা। আমার তো স্বামী টামি নাই।
তোমার অবস্থা হয়েছে এক বেকুব মুরিদের মতো এক বেকুব, পীরের কাছে আর্জি করে। হুজুর আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আমার একটি পুত্র সন্তান হয়। এভাবে কয়েক বছর যাবার পর। মুরিদ লোকটি পীরের কাছে অভিযোগ করে। হুজুর আমার তো কোন সন্তান এখনো হলো না। পীর বললেন তোমার স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাও। তোমার স্ত্রীর বয়স কতো? মুরিদ লোকটি নির্বিকারভাবে জবাব দিলেন। হুজুর আমারতো স্ত্রী নেই।
তোমার অবস্থা সেই লোকটির মতো। বিয়ে না করার আগেই বিধবা। আমারতো বিয়ে হবে না। বিয়ে না হওয়া মেয়েতো বিধবাই। বিয়ে হবে না কেন?
যার বাবা পাগল হয়ে রাস্তায় ঘোরে, মা, বিদেশী স্বামীর সম্পত্তির জন্য গ্রীসে অবস্থান করে। যে মেয়ে তার বংশ থেকে আলাদা তার কি আবার বিয়ে হয়?
আজকাল এগুলো কোন সমস্যাই না। এছাড়া তুমি সুন্দরী। চিন্তা কি?
তাহলে চিন্তা করতে না করছেন?
হ্যাঁ, না করছি। এবার তাড়াতাড়ি তৈরি হও।
খালাকে সাথে নিয়ে যাই। না থাক, দরকার নাই। মন্ডল পছন্দ করে না।
ঠিক আছে, খালা গাড়িতে বসে থাকবে। গাড়ি আজ আমি নিজে ড্রাইভ করবো।
তুমি গাড়ি চালাতে পারো?
ইয়েস। আমি তৈরি হয়ে আসি।
ইলা’র দৌড়াদৌড়ি দেখে খালা জিজ্ঞেস করে, কৈ যাছ ইলা। মণ্ডলের অফিসে যাবো, খালা আপনাকে সাথে নিয়ে যাবো। তোর মণ্ডলরে ভালো ঠেকে না, ঐহানে আমি যামু না।
খালা, আপনি গাড়িতে বসে থাকবেন। আর মজার একটা ব্যাপারও আছে আমি আজ গাড়ি চালাবো।
কস কি, তুমি গাড়ি চালাইতে পারছো?
হ্যাঁ, পারি। এখন তাড়াতাড়ি করেন।
খুকি, মেয়েদের মতো মোবারকের মা তৈরি হয়। ইলা গাড়ি ড্রাইভ করছে। ইলার ড্রাইভিং হাত বেশ পাকা। অজ্ঞাত কারণে যানজট কিছুটা কম। মণ্ডলের অফিসে পৌঁছাতে তেমন বেগ পেতে হয় না।
মণ্ডল একটি বিশেষ মুডে, নানান জায়গায় ফোন করছে। এক পর্যায়ে চোখের ইশারায় ইলাকে বসতে বলে। মণ্ডল সম্ভবত ইচ্ছে করেই, তার টেবিলের উল্টো পাশে কোন চেয়ার রাখেনি। একটি চেয়ার রেখেছে। মণ্ডলের চেয়ারের ঠিক পাশে। ইলা চেয়ারটাতে ভালো মতো আয়েশ করে বসতে পারে না। হাত নাড়াতে গেলেই যেন, মণ্ডলের গায়ে লাগবে। মণ্ডল টেলিফোনে খুব ব্যস্ত। ইলা লক্ষ্য করে, মণ্ডল তাকে নিয়েই কথা বলছে। চোখের ইশারায় ইলাকে দাঁড়াতে বলে। ইলা দাঁড়ায়। মণ্ডল ফোনে ইলার বর্ণনা দেয়।
শোনেন প্রযোজক সাহেব। এমন প্রেজেন্টেশন দেব অবাক হয়ে যানে। নতুন যে মেয়েটিকে নায়িকা করতে চাই। ওর উচ্চতা ৫ ফুট ছয় ইঞ্চি। এক্সেপশনাল ফেইচ। শরীরের গড়ন বলিউড। আমি প্রথম বার দেখেই মেয়েটিকে নায়িকা হিসেবে সিলেক্ট করেছি। দুবাই থেকে এসেই নতুন সিনেমা-নির্মাণে হাত দেব। নতুন সিনেমার নাম হবে ‘ফিগার’। হ্যাঁ হিন্দি সিনেমা জিছেম হয়েছে। তবে আমার সিনেমাটা অন্য রকম।
কথা বলার এক পর্যায়ে। মণ্ডল ইলার পিঠে হাত রাখে। ইলার ভালো লাগে না। দুইদিন হয় পরিচয়। সে বাবার বয়েসী লোকটা, এভাবে শরীরে হাত রাখে। শরীর ঘিনঘিন করে। ইলা কায়দা করে শরীরটা সরিয়ে নেয়। কথার আরেক পর্যায়ে কোমরে হাত রাখে। ইলার মেজাজ খারাপ হয়। এর পর ও কৌশলে নিজেকে সরিয়ে নেয়। মণ্ডল বুঝতে পেরে প্রশ্ন করে।
এখন করছো ক্যানো ইলা।
আমার সুরসুরি লাগে।
না, সুরসুরি কমাতে হবে। তুমি বুঝতে পারছো না। তোমার এখন ফিগার টেস্ট হচ্ছে। স্কীন টেস্টও করাতে হবে। অবশ্য তোমার ক্যামেরা ফেচ ভালো। শোন ইলা, ফিগার সিনেমায় আমি তোমাকে নায়িকা হিসেবে সিলেক্ট করছি। ঐ সিনেমায় গল্পের খাতিরে চুমুর দৃশ্য আছে। এখন তুমি বলো। নায়ক যখন তোমাকে চুমু খাবে। আর তুমি যদি বলো, সুরসুরি লাগছে। তখন কি অবস্থা হবে বলো?
ইলা কি বলবে, কিছুই বুঝতে পারে না। একবার ইচ্ছে করে বলবে। না তা থাক, আমি নায়িকা হবো না। আমাকে যেতে দিন। কিন্তু কেন জানি বলতে পারে না। ফিগার টেস্টের নামে মণ্ডলের শরীর হাতানো একটুও ভালো লাগে না।
ইলা, অনিচ্ছাসত্ত্বেও পাসপোর্ট জমা দিয়ে অফিস থেকে বের হয়। মন খুবই খারাপ, মনে মনে একবার ভাবে, এটাই কি চলচ্চিত্র জগতের অন্ধকার দিক?
মার প্রতি প্রবল একটা অভিমান ফুঁসে ওঠে। মা জেনে শুনে এমন একটা অন্ধকারের দিকে কেন যেতে বলছে। মা’র সাথে ভালো একটা বোঝা পড়া করা দরকার।