মোবারক মিয়া চিত্রনাট্যটা শেষ করতে পারছে না। গল্পটা নিজের লেখা, অথচ চিত্রনাট্য তৈরি করতে গিয়ে বার বার থেমে যেতে হচ্ছে। কারণ পরিচালক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে এ সিনেমা তার হাত দিয়ে নির্মাণ করা সম্ভব নয়। গল্পটাকে গল্প হিসেবেই মেনে নিতে পারেননি। গল্পটা নাকি প্রতিবন্ধী। কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন বেশ কটা যুক্তি। যুক্তিগুলো নিয়ে বারবার চিন্তা করেও কোন কুল পায়না মোবারক। তার চিন্তাগুলোকে পরিচালক প্রতিবন্ধী কেন বলছে? আরে বাবা প্রতিটি গল্পের চিত্রনাট্যে গান থাকবেই এটা কেমন কথা? পরিচালক রীতিমতো নির্দেশ দিয়েছেন। কমপক্ষে ছয়টা গান, আর মারামারি বিষয়ক চার পাঁচটা দৃশ্য থাকাও জরুরি। নায়কের বাহাদুরি না দেখালে সেটা আবার সিনেমা? মোবারক ইরানী সিনেমার দৃষ্টান্ত উল্লেখ করায় পরিচালক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এটা বাংলাদেশ…। পরিচালকের যুক্তিটাও ফেলে দিতে পারে না। এটাতো আসলেই বাংলাদেশ। এমন সব ভাবনার ভেতর, উত্তরা থেকে দূর সম্পর্কের এক খালা তার সপ্তদশী কন্যাকে নিয়ে হাজির, ঘুষ বাবদ দুইশ’ লিচুর একটা ঝাঁকড়া সাথে নিয়ে এসেছে। মোবারক মিয়া চিত্রনাট্যের ভেতরে বেশিক্ষণ থাকতে পারলো না। খালা ইনিয়ে বিনিয়ে তার কথা শুরু করছে।
-বাবা শোনো, আমি কিন্তু তোমার ক্ষমতা সম্বন্ধে সব জানি। বিশেষ একটা দাবি নিয়ে আমি তোমার কাছে আসছি। আমার দাবি তুমি ফেল্লে ইহধামে আমি খুবই মর্মাহত হবো। কয়েকজনের কাছে তোমার ব্যাপারে উঁচু মুখে আমি কিন্তু তোমার কথা বলেছি। আমার উঁচু মুখ তুমি অবশ্যই চুনকালী মেখে নিচু করবে না। এমন একটি একুশ ক্যারেক্ট সোনামুখি আশা নিয়ে তোমার কাছে আসছি বাবা। মোবারক এমন অনুরোধের পর মাথানিচু করে আর থাকতে পারে না। চিত্রনাট্য লেখা বন্ধ করে, সোজা মুখোমুখি হয়ে বসে, মায়ের বয়েসী দূর সম্পর্ক খালার কথা শোনার চেষ্টা করে। ইদানীং নিজেকে খুব একটা সাধারণ মানুষ মনে হয় না। তার একটা কারণও নিজে নিজে আবিষ্কার করেছে। সাধারণ মানুষ শুধুমাত্র খাওয়া, পড়া, থাকা ও নিজের পরিবারকে নিয়েই চিন্তা করে, সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবেশ নিয়ে তাদের তেমন চিন্তা থাকে না।
মোবারক মিয়া গভীরভাবে লক্ষ্য করছে, তার ভেতর শুধুমাত্র নিজ পরিবারের চিন্তাই ঘুরপাক খায়না, তার ভেতর ইহজগত, পরজগত, সমাজ, রাষ্ট্র, ধর্ম, জাতি পরিবেশসহ সবকিছুই প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। কোন বিষয়কেই সহজে উপেক্ষা করতে পারে না। ইদানিং ঢাকা শহর থেকে গাছপালা উজার হয়ে বড় অট্রালিকায় ভরে যাচ্ছে, এমন বিষয়েও মন ভারি হয়ে থাকে। এমন স্পর্শকাতর মন নিয়ে নাকি পৃথিবীতে বেঁচে থাকা যাবে না। বন্ধুদের এমন প্রেসক্রিপশন মোবারককে ভাবিয়ে তোলো। অবশেষে মোবারক নিজে নিজেই বুঝতে পেরেছে। সাধারণ বন্ধু মনের ও মনের এমন বন্ধুদের প্রেসক্রিপশনে মন খারাপ করার কিছু নেই।
মোবারক খালা আম্মার কাছে অনুমতি নিয়ে চায়ের অর্ডার দেয়। চা-সমন্ধে ছোট ব্রিফ করে খালাকে। খালা চা-টা পান করি বিশেষ একটা কারণে। তা হলো লেখালেখির কাজ করতে, শরীর ক্লান্তিতে ভরে ওঠে। চায়ের পাতার লালাভ রঙের সাথে আছে ক্যাফেইন যা রক্তকে অধিক পাতলা করে, আর চিনি হলো কার্বোনেট যা শরীরে শক্তি যোগার করে এবং উষ্ণ পানির সাথে আমরা যখন পান করি তখন দ্রুত ক্লান্তি দূর হয় এবং কাজকর্মে আমরা জীবন্ত হয়ে উঠি এবং চায়ের আরেকটা গুণ হলো ক্যানসার প্রতিরোধে শরীরকে যোগ্য করে। চায়ের এমন গুণাগুণ শুনে খালা বেশ খুশি। খালার চোখে মুখে সে খুশি লাফায়। খালা আগ্রহ নিয়ে চা খায়। তার সপ্তদশী কন্যা ইলাকে ধমক দিয়ে চা পানে বাধ্য করে। ইলা মুখে খিস্তি এঁকে চা খায়।
মোবারক মিয়া, বেশ আগ্রহ নিয়ে খালাকে প্রশ্ন করে, খালা আপনাকে কি উপকার করতে পারি।
বাবা, উপকার বললে ভুল হবে, তুমি বরং ইলাকে নতুন একটা জীবন দান করতে পারো। ও খুবই মেধাবী এবং লক্ষ্মী যদিও লেখাপড়ায় একটু অমনোযোগী, তবে অভিনয় এবং গানে-নাচে ওর তুলনা নেই। ওর নাচ দেখলে তুমি বুঝতেই পারবে না, এ মাধুরী দিক্ষিত নাকি আমাদের ইলা। তাছাড়া তুমি ভালো করে দেখো ইলার ফিগার কিন্তু পুরোপুরিই ভারতীয় নায়িকা এবং মডেলদের মতো। তুমি এর ভেতর সময় করে বাসায় আসো। তোমাকে সব কিছু দেখাবো। ইলার নৃত্য না দেখে তুমি বুঝতেই পারবে না, ওর ভেতর কি রতœ কি মেধা লুকিয়ে আছে।
মোবারক, খালার এমন বক্তব্য শুনতে শুনতে পুনর্বার চায়ের কাপে চুমুক দিতে ভুলে যায়। ঠিক ভুলে যাওয়া নয়, আশ্চর্য হয়েই চায়ের কাপে চুমুক দিতে পারছে না।
মোবারকের এমন আশ্চর্য হওয়া, খালা অন্যভাবে গ্রহণ করে। খালা মনে করে, মোবারক মিয়া তার কথা এবং মেয়ের সৌন্দর্যে বিমোহিত, অতএব এবার আর চিন্তার কিছু নেই। বাংলা সিনেমার নায়িকা হওয়া আর কোন ব্যাপারই না। মোবারক মিয়া ইচ্ছা করলেই দেশের নামকরা, বড় কোম্পানির মডেল হওয়া খুবই সহজ হবে। এখন মোবারক মিয়ার মর্জির উপর সব নির্ভর করছে। কিন্তু মোবারকের হাবভাব বোঝা কঠিন। সে সাহায্য করবে কি করবে না এখনো বোঝা যাচ্ছে না। তবে চেষ্টা চালাতে হবে। চেষ্টাই হলো সব। শোন বাবা মোবারক ইলাকে আমি তোমার হাতে সমর্পণ করলাম। যেভাবে, যে কোন উপায়ে তুমি ওকে নায়িকা হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ দিবা। আর কোনভাবে যদি, মোবাইল কোম্পানির মডেল বানাতে পারো। তুমি চেষ্টা করলে অবশ্যই পারবে। টাকা পয়সা যা লাগে আমি দিবো। তুমি অনেক মেধাবী, তুমি অবশ্যই রতœ চিনতে ভুল করবে না।
আসলে খালা আম্মা, আমি ইদানীং খুবই ব্যস্ত। একটা চিত্রনাট্য তিনবার ঠিক করার পরও পরিচালক এবং প্রযোজকের মনপুত হচ্ছে না। তাছাড়া কাউকে নায়িকা করার ক্ষমতাও আমার নেই। আর আজকাল ফিল্ম বা মিডিয়া জগতে যে প্রতিযোগিতা এবং একটি অন্ধকার দিকও আছে…
আহাÑÑ এজন্যইতো আমি তোমার কাছে এসেছি। শোন বাবা, এইখানে বিশ হাজার টাকা আছে তুমি রাখো। আরো যা লাগে দিবো, বিভিন্ন জায়গায় খরচ আছে আমি জানি। তুমি খরচ করো এবং চেষ্টা করো তোমার এই খালা তোমাকে ঠকাবে না।
মোবারককে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে খালা বিশ হাজার টাকা মোবারকের পকেটে গুঁজে দেয় এবং মোবারকের বাসা কাম তিন রুমের পুরো ফ্লাট খালার নিয়ন্ত্রণে। কারণ, মোবারকের অনুমতি ব্যতিরেকে খালা তার মেয়েকে হিন্দি গান গাওয়ার নির্দেশ করে।
সপ্রতিভ ইলা হিন্দি গানে সুর তোলে। ঝোলিকে পিছে কিয়া হে-
ঝোলিকে পিছে কিয়া হে, চুনরী কি পিচে কিয়াহে …
ভালমন্দ মিলিয়ে ইলা ভালই গাইলো। হিন্দি ভাষা খুব যতেœর সাথেই গলায় ধারণ করেছে।
শোন বাবা মোবারক। তোমাকে একটা কথা বলি। তুমি আবার মাইন্ড করো না। তুমি বললে না, মিডিয়া জগতে একটি অন্ধকার দিক আছে। অন্ধকারের ঠিক উল্টেপিঠেই কিন্তু আলো। একদম ঝক্ঝকে আলো। আবার শুভ্র আলোর ফোয়ারায় তুমি অন্ধকারও দেখতে পাবে।
তুমি কি প্রমাণ চাও বাবা।
না, খালা আম্মা দরকার নাই। আসলে আমি আমার নিজের দুর্বলতার কথা বলতে চাচ্ছিলাম। তাহলো ইলাকে নায়িকা বানানোর অমন ক্ষমতা আমার নেই।
তোমার ক্ষমতা সম্বন্ধে আমার ভালো ধারণা আছে। তুমি শুধু চেষ্টা করো, তাহলেই চলবে। তুমি আর না করো না বাবা।
মোবারক বিব্রত হতে হতে আর কিছু বলতে পারে না। এই কিছু বলতে না পারার অক্ষমতা মোবারক বহু ঝামেলায় ফেলেছে। আজ সম্ভবত নতুন একটি ঝামেলা বেশ ভালোভাবেই পেয়ে বসছে। তবে পকেটে পুরো বিশ হাজার টাকার একটি উষ্ণতা, ধীরে ধীরে তাপ ছড়াচ্ছে। উত্তাপটা খারাপ ঠেকছে না।
মোবারক অসহায়ের দৃষ্টিতে খালার দিকে তাকায়। সে তাকানো দেখলে অল্প বুদ্ধির মানবও বুঝতে পারবে। এখন বিদায় হওয়া উচিৎ। খালারতো বুদ্ধি খারাপ না। কিন্তু সে বিদায় হচ্ছে না কেনো, এমন দুশ্চিন্তায় মোবারকের দুই ভ্রুয়ের মাঝে বিরক্তি চিহ্ন ভেসে ওঠে। খালা সে চিহ্ন দেখে প্রায় চিৎকার করে ওঠে। বাবা মোবারক, তোমার নিশ্চয়ই মাথা ব্যথা হচ্ছে। মোবারক না না করতে গিয়ে, হ্যাঁ বলে আরেক বিপদে পড়ে। হ্যাঁ খালা, খুব মাথা ব্যথা। আপনি আসুন, আমি এখন ঘর অন্ধকার করে ঘুমাবো। মোবারকের এমন কথায় খালা প্রায় চিৎকার করে ওঠে।
কি বলছো বাবা, তোমাকে এ অবস্থায় ফেলে আমি কিভাবে যাই বলো?
তুমি বরং তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ো। এই ইলা তুমি দ্রুত লাইট বন্ধ করো এবং এদিকে এসো। এই নাও টাইগার বাম, এবার ভালোমতো তোমার ভাই মোবারকের মাথায় মেসেজ করো। ইলা মায়ের কথামতো কাজ শুরু করলো। মোবারকের ইচ্ছা অনিচ্ছা কোন কাজে আসলো না। ব্যথাটা ওঠলে মোবারকের স্বাভাবিক বুদ্ধি আর কাজ করে না। প্যাথেডিন নেয়া রোগীর মতো বহুক্ষণ অচেতন থাকে।
তবে ইলার কায়দা মতো, মাথার এপাশ থেকে ওপাশে হাত চালানো মেসেজ খুব পীড়াদায়ক না, বেশ মোলায়েম ও শ্রান্তির নিবিড় পরশ বেশ লাগে। গভীর ও আরামদায়ক ঘুম যখন ভাঙলো,তখন সন্ধ্যার আকাশে মেঘের বেশ তোড়জোড়। খালা রান্না ঘর থেকে খানা খাদ্যের হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে খাওয়ার জন্য হাত মুখ ধুয়ে বসার অনুরোধ করে। মোবারক অবাক হয়ে লক্ষ্য করে। তার খাটের এক কোণায় কুঁজো হয়ে একটি হুরপরী শুয়ে আছে। অমন ঘুমন্ত হুরপরীর ঘুম ভাঙানো তার সাহসে কুলোয় না। খাওয়া দাওয়ার পর খালা যখন বের হবে। তখন বাইরে বৃষ্টি নেই। ঘড়িতে সরকারের চাপিয়ে দেয়া সময় সন্ধ্যা আটটা। ঘুটঘুটে অন্ধকার। বিদ্যুৎ চলে গেছে, এক ঘণ্টার আগে আসবে না। অথচ লোডসেডিং কমানোর জন্যই বাহাদুর সরকার একঘণ্টা এগিয়ে এনেছে ঘড়ির কাটা। খালা ফোন করার আধঘণ্টার মধ্যেই গাড়ি চলে আসছে। পাজেরো গাড়ি। গাড়িটি খালার অফিসের। খালা একটি এনজিও’র উঁচু লেভেলে চাকরি করেন। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারেই খালা বিদায় নেন। অন্ধকারের ভেতরও ইলাকে স্পষ্ট দেখা গেলো। চলে যাবার পর, মোবারকের মনে হলো দিনটাতো খারাপ গেলো না। অন্ধকারের ভেতর বসে বসে অন্ধকার দেখে। অন্ধকার দেখতে দেখতে আতকে ওঠে। এই সে দিন অন্ধকারের ভেতর আর্মী অফিসার হত্যাকারীরা পালিয়ে গিয়েছিল। আহা অন্ধকার আর লোডশেডিং দেশের ভবিষ্যতকে কি নিদারুণভাবে থমকে দিচ্ছে।
এমন হাজার সমস্যার ভেতর দেশের প্রধানমন্ত্রী সেদিন রাত এগারোটা বাজার সাথে সাথে নিজ হাতে দেশের বারোটা বাজালেন, কি আশ্চর্য, এখন এক ঘণ্টা আগেই দেশে রাত বারোটা বাজে। রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়। ফাঁকা রাস্তায় চুরি হাইজ্যাক হয়। আর মন্ত্রীরা এই গরমের ভেতরও কালো কোট পরে হাসিহাসি মুখ করে বলে, আহা বেশ বেশ…। বাংলা সিনেমার জগতে বর্তমানে সুপার ডুপার, পরিচালক বলতে একটি নামÑÑ আই আর মন্ডল। পরিচালক আই আর মন্ডলের ছবির সংখ্যাও প্রায় শ’খানেক ছাড়িয়ে যাবে। এর ভেতর, কৃষক কেন কৃষক। স্বামী কেন স্বামী, গরীব কেন গরীব এবং বড় লোক কেন বড় লোক। খুবই সারা জাগিয়েছে।
আই আর মন্ডলের ছবি দেখতে গিয়ে কিছু বিরল ঘটনাও ঘটেছে। গাজিপুরের একটি সিনেমা হলে স্বামী কেন স্বামী ছবি দেখতে গিয়ে গর্ভবতী এক মা বাচ্চা প্রসব করেছে? ঐ বাচ্চা প্রসব করার সংবাদ দৈনিক পত্রিকায় ছাপা হবার পর, সারাদেশে হৈচৈ পরে যায়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো ঐ গর্ভবতীর প্রসব নাকি স্বাভাবিকভাবে হবার কথা ছিল না। সিজারিয়ান হবার কথা। তাও আবার দেড় মাস পরে হবার কথা। এখন কথা হলো ডাক্তারের ভুল পরামর্শ নাকি সিনেমার কারিশ্মা। ঐ সিনেমায় প্রসবের একটি দীর্ঘ দৃশ্য আছে!
সে মহান পরিচালক, আই আর মন্ডল তার স্টুডিও কাম বাসার হলরুমে বসে আছেন।তার আশপাশ ঘেষে আরো বেশ ক’জন সহকারী পরিচালক। সিনেমা অংগনের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখেন এমন রথী মহারথীরা বসে আছে। কয়েকজন প্রযোজক মহোদয়ও নরম কেদারায় আধোশায়ীত বসে আছে।
প্রায় সবার মুখেই সিগারেট। হলরুমটার উত্তরে ঠিক দেয়ালের কোণাঘেষে। ছোট্ট স্টেজ। গায়ে হলুদের স্টেজের চেয়ে খানিক বড়। সে স্টেজে বেশ কয়েকটি চেয়ার রাখা। সামনের টেবিলে থরে থরে সাজানো ফুল। সিনেমা জগতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা জরুরি মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেবে, কীভাবে কম খরচায় ছবি নির্মাণ করা যায়। ইতোমধ্যে কয়েকজন উঠতি নায়িকা এবং মধ্যম শ্রেণীর হিট নায়িকাও আসন গ্রহণ করেছে। তবে অধিকাংশ নায়িকারা আসন গ্রহণ করার আগে পরিচালক আই আর মণ্ডলের পা ছুঁয়ে সালাম ও প্রণাম শেষ করে তবেই নিজ নিজ আসন গ্রহণ করছে। আই আর মণ্ডলের খাস ইশারায় উঠতি নায়িকারা কয়েকজন প্রযোজকের পা ছুঁয়েও সালাম করে। প্রযোজকরা কেলানো হাসির সাথে নিজ নিজ ভিজিটিং কার্ড প্রদান করে এবং কৌশলে আশীর্বাদ করার ছলে নায়িকা দেবীদের খাসচরের মতো উদোম পিঠ ছুঁয়ে দেয়। উঠতি নায়িকাদের সাথে আসা মায়েরা গর্বে বুক উঁচু করে রাখে। বুক উঁচু রাখার জন্য কিছু খরচপাতিও করে। ভাগ্যিশ দেশে এখন প্রচুর বিউটি পার্লার হয়েছে। তা না হলে শরীর এবং মুখের রূপচর্চার কিযে হতো।
ইতোমধ্যে সভা শুরু হয়েছে। জ্ঞানগর্ব বক্তৃতা ঠিক বক্তৃতাও না উন্মুক্ত আলোচনা বলা যায়। মাইক্রোফোন নিয়ে টাইপরা উপস্থাপক শুভসন্ধ্যা এবং লেডিস এন্ড জেণ্টস্ বলে উন্মুক্ত জরুরি আলোচনার সূত্রপাত করেন।