হেরে যাই নৈসর্গের কাছে

তোমার মুখের দিকে তাকানোর পর
আল মাহমুদের ‘পাখির নীড়’ র কথা মনে পড়ে যায়।
সবুজের ছাউনিঘেরা বাংলা মাটি
আমার সংসার
তুমি সে রতিকলার জ্যৌতি ছিটানো এক রমনী।

তোমার চোখের সাদৃশ্য খোঁজতে খোঁজতে
প্রকৃতি হেরে যায় কবিতার কাছে;
নদীর জলের ঘ্রাণে খোঁজে পাই
তোমার নাসিকারন্দ্রের
ভবিষ্যতের হাতুড়ি পেটানো শব্দরা কাঁদতে কাঁদতে
এসো দাঁড়ায় কবিতার ঘরে।

সে দিন পাহাড়ের পাদদেশ ঘেঁষে
বালিহাসগুলো যাচ্ছে ওড়ে
বনময়ুরীর মতো তুমি এসে দাঁড়ালে সামনে
সবুজের সবকলায় বিমোহিত কবিতা পুরুষ
দেখছে
আর দেখছে
দুচোখ ভরে সীমানাপ্রাচীর!

পাহাড়ের ঝর্ণা থেকে জল নিয়ে
একটু ছিটিয়ে দিতে দিতে
হেরে যায় ঐটুকু সময়ের কাছে।

তবু তোমাকে খোঁজতে খোঁজতে হারিয়ে যাই
নৈসর্গের কাছে,সুন্দরের কাছে।
পাখির নীড়ের ভেতর তোমাকেই খোঁজি
আপনার ভেতর দর্শন খুলে।
…………………………………………..

ক্রন্দন দেখেছি বৃক্ষের চোখে

ঘনমেঘের কোলে রেখেছি তোমায়
যেন সব বিষাদ ভিজে হয় একাকার,
বৃষ্টির ফোটায় ভেসে আসুক মায়াবি প্রেম
জলে ভিজে বেড়ে যাক ধারাপাত
কেটে যাক ভোগের কালিমা
সব রেখে ঢেকে দিবে তার মহিমায়।

মেঘের গর্জন হবে না বর্জন অঞ্জলিতে
সুদের বিপরীত অংকে মিলে যায় হিসেব
জলের ধারাপাতে ভেঙ্গে যায় পাহাড়ের ক্রন্দন
পাথরের চোখ ভিজে জলের হয় নিস্কাশন।

প্রাচীরের কার্ণিশে জলফোটা এঁকে যায় স্বপ্ন
মনের অজান্তে তোমাতে সুখ খোঁজে জলেভিজে
সে এক ক্রন্দন দেখেছি বৃক্ষের চোখে
রাজ মহারাজে আজ বৃষ্টিরা বড়ই অন্ধ
জাগিতক সোহাগে বেড়েছে মানবিক দ্বন্ধ।
…………………………………………..

ভেঙ্গে ফেলুন সামনে চলার কাঁটাতারের বেলুন

মন ভালো নেই;
দুঃখের খাতায় বসছে এক রাক্ষুসী!
বোগলের লোম ধরতে যে নারী দেখায় সাহস
সে বা তারা নিশ্চিত মধ্যরাতের মীনাক্ষী!

শব্দকে বলেছি খোলে ফেল -কাপড়ের গিট
তোর ভেতেরের সব দেখিয়ে টানলে ক্ষমতার বাহু!
কার ইশারায় হাত দিয়েছো তোর স্বজাতে!
ভোগ দিলে দিস! তাই বলে কী -ভাঙ্গবে ইজ্জতের শিকল!

মন ভাল নেই;
ঘরের নারী পরের হলে – চক্ষু হয় না শীতল পাটি
প্রধানমন্ত্রী দেখছে বসে ইজ্জতের টানাটানি
আমার ঘরে লাগলে আগুন -কে নিভাবে সোনার পুরুষ!
জাতের ঘরে বজ্জাতিদের রুখতে হবে শক্ত হাতে
সময়ক্ষেপণ করলে জানি, ধেয়ে আসবে আপন নীড়ে!

মন ভাল নেই;
ঘরের ভেতর হল বসিয়ে দেখছে যারা নাচের নাচন
ভোগবাদিতার অন্তরাড়ালে ঢেউ খেলে যায় সমানতালে
ভাঙ্গতে হবে অনাচারের কাঁটাতারের দেয়াল।
ম্যাডাম! রাত হয়ে যায় কালোপাথর
দিন হয়ে যায় আগুন
ভেঙ্গে ফেলুন সামনে চলার কাঁটাতারের বেলুন।
রাতভর উল্লাস নেটহীন বিবেকের বিছানায়!

খুউব ছোটকালে গরু ধরানো(প্রজনন প্রটেকশন)দেখেছি
প্রথম প্রথম অবাক হতাম!
তারপর তাকিয়ে নিতেম নিজের দিকে!
কামশেষে একটা গাইয়া লাথি দেয়া হতো গাভিকে!

ভোগের চিৎকার দিয়েই বাকিটা সহ্য করতো
হাম্বা হাম্বা রব বন্ধ হতো
মালিক কিছৃটা স্বস্থির নিশ্বাস নিতো।

কাম আর ক্রোধের পেয়ালায়
আজ ইনজেকশন প্রটেকশন
আর হাতুড়িপেটা ঠিকই আছে!
কিন্তু চিৎকার বন্ধ হচ্ছে না
বন্ধ হচ্ছে না ওল্টোলাথি!

সাতচল্লিশের দ্বিজাতিতত্ব আর আজকের রোডমার্চ
জাতিকে আবার ভাবতে বাধ্য করেছে!
বিশ্বাসের পেয়ালায় আজ মুখরোচক বিশ্বাস!
ক্রান্তিবেলায় দেখি হাইব্রিড আর মিথ্যা করজোড়!
রাতভর উল্লাস নেটহীন বিবেকের বিছানায়্!

মালিককে খুশি রাখতে পরীদের গায়ে আঁচড়
হাতুড়িপেটা এক সংগ্রাম
রক্তাক্ত ছবিগুলো হয়ে গেলো গুজব!
বিষাদের পেয়ালায় হলো রক্তপান!
প্রাণের দরোজায় দিয়েছে গাইয়া লাথি!
প্রটেকশনে প্রটেকশনে ঝড়ে গেলো কত পাতা!
…………………………………………..
জলজ প্রেমের হাতে সিন্দুকের চাবি

জুয়াড় আসরে বরাবরই হেরে যাওয়া যুবক
দু’ঠোঁটের কালো দাগ নিয়ে ভাবে
ধূমায়িত ঘ্রাণ অথবা নিকোটিনের ধোঁয়ায়
উষ্ণঠোঁটে বসে আছে হিমভালোবাসা !

লীলাদের ঢং এর ঠোঁট
উষ্ণতা খোঁজেছে বারবার!
আবেগের বাহুবল আর রসের আস্ফালন
স্বাদের জায়গায় চাষ বসায়
ভেঙ্গে দেয় এঁটেল মাটির চাপাতিবাসর

তবু জুয়াড় আসর ভাঙ্গে না!
জুয়ায় হারতে হারতে খোঁজে পায় সেতারার স্নিগ্ধতা
রুপালি চাঁদের কাছে বন্দক রাখা ইচ্ছেরা
মিলনের সুরে গেয়ে চলে জুয়াড়ি গান
তবু ছাড়ে না নিকোটিনের স্বাদ- বিষাদ!

হেরে যেতে যেতে রক্তের ঘ্রাণ খোঁজে
মায়াবি সুখটানের কাছে রেখে যাওয়া সূতো ধরে
ভেঙ্গে দেয় সুন্দরের ইচ্ছে পুরুষালী
কাকদের চিৎকারে শাড়ির ভাঁজ ভেঙ্গে যায়
ছিটকে পড়ে শিশিরের ফোটা
ভরে যায় চাষার ভোগের সবুজ ভূমি।

দাগ থেকে যদি কিছু একটা হয়ে যায়
সীমানার কাঁটাতার আর থাকবে না
জলজপ্রেমের হাতে সিন্দুকের চাবি হবে পরাভূত!
…………………………………………..

শালারা বোকাচোদা

আমি একটা বুর্জোয়া দেশের ভুয়া নাগরিক
আমার দেশে জল নেই, আছে তরল পানি
আমার দেশে নেই ভূয়ামন্ত্র, আছে সচল গণতন্ত্র!
আমার দেশে মেকি প্রেম নেই!’আছে ভালোবাসা!

আমার দেশে আছে সোনার ফসল,নেই খালিভৃমি
আমার দেশে আছে শ্রদ্ধাবোধ,হিংসায় মারি লাথি !
আমার দেশে ভোট নেই, আছে গণভোটের বুর্জোয়াগিরি!
আমার দেশে পা চাটাগিরি নেই! আছে মাল্য দান!

আমি প্রজাতন্ত্রের প্রজাই বটে, ঘুমচোখে দেখি সব রঙিন
কালো চশমার চেয়ে কালো পোষাকে ভয় পাই বেশী
আমি রাজাদের পাশে থাকা রাঙা বউ নিয়ে তামাশা করি
সবুজের শাড়িতে আঁকি রক্তাক্ত সোনার মিছিল!

আমার দেশের পাহাড়ের চূড়ায় দেখি মশাল মিছিল
ঘরে ঘরে টাঙানো হবে মিথ্যাবাদি রাখালদের ছবি!
ভোগের পেয়ালায় আঁকতে থাকি দেশপ্রেমের বাহুবল
ভাষার কদার্যে বড়ই সেলুকাস,মঞ্চে করি গলাগলি!

আমি বুর্জোয়া নাগরিক,করতে পারি না দর কষাকষি
পর্দার নাচন দেখে বলি জিন্দাবাদ,পতাকা রেখে বুকে।
শালারা বোকাচোদা লাল সবুজের দেশে
বোগলে আঁকড়ে রাখি হিংসা, মুখে বলি গণতন্ত্র শেষ!
…………………………………………..

দেশকে ভালোবাসা ঈমানী দায়িত্ব

সজনহারানো মানুষের চিৎকারে জমিন হচ্ছে ভারী
মুখের ভাষা বাইন্দা রাখা স্বৈরাচারির খবরদারী!
রক্তের রঙে সব করা যায় ক্ষমতার মাতাল চোখে
সবুজ ভূমি কাইপ্পা উঠলে মরবে সবাই ধুকে ধুকে!

মিথ্যা দিয়ে মিথ্যা ঢাকা যায় সত্যের আড়ালে
সত্যের সামনে শালারা চিল্লায় সত্য দাঁড়ালে!
ক্ষমতার মসনদে বাগদাদি কায়দায় চলছে ঘোঙরানো
বেঁচে থাকা ভূমিতে মৃত্যুরা আছে আজ সোজা দাঁড়ানো!

মানুষের রক্তে জমিন হতে চলেছে লালে লাল
মিথ্যার পতনে সত্যরা ডাকে ইয়েমেনি শাহজালাল।
জাগতিক কাজে বেহয়ারা ভুলে যায় পেছনের কথা
দরবারি কায়দায় ঘুরে দাঁড়াও ফেলে রেখে সব ব্যথা।

মালিকের হুকৃমের ফয়সালা হবে জিকির ফিকির পরে
দেশকে ভালোবাসা ঈমানী দায়িত্ব দেশের পতাকা ধরে।
…………………………………………..

আমার মৃত্যুর পরে

মরতে জানার মাঝে আনন্দ আছে
যদিও বাঁচতে জানার মাঝে কলুষতার হাতছানি ছাড়া কিছু নেই;
স্বপ্নের ইচ্ছের কাছে মৃত্যুরা গল্পের ছবি আঁকে
ভোগের শেষকাতারে এসে মৃত্যুর পরোয়ানা।

আমিও মরতে চাই, মরার মতো জাতির কোটায়
মরলে তোমরা উলুধ্বনির আয়োজন করো না
পারলে, চার তাকবীরের সহিত গোরে রেখে দিও ।

মাটিকে বলে দিও, সে অনেক পাপ করেছে!
নদী পাহাড়,কেউ গ্রহণ করতে চাইবে না নিশ্চিত!
ভূমির বন্ধুকধারীরাও আঁতকে উঠবে
ক্রসফায়ার করতে গিয়ে ভুল ট্রিগার চালাবে!

তাই মাটিকে বলে দিও তোমরা
পাপের বাধ্যতায় অনেক হয়ে গেছে অথবা করেছে!
সে ক্ষমা পাবে না জেনেও মাফ চেয়েছে
তবু মাটিকে বলো আলতো হাতে মৃদুচাপ দিতে
সে চাপে যেন চূর্ণতা ফিরে পায়
মাটিরও যেন ক্ষুধা মিটে!

ইচ্ছের কাছে অনেকবার পরাজিত হয়েছি
স্রষ্টার ডাকের কাছে ছিলাম বোকা হাদারাম
আমার মৃত্যুর দুয়ারে তোমাদের অভিবাদন চাই না
শুধু মাটিমিশ্রিত একটি বিছানা আমার কাম্য।
স্রষ্টা যেন শক্তি দেয় মাটির চাপ বইবার!
মুখে রেখে শুতে চাই- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহাদু লা শারীকালাহু —
…………………………………………..

হালকা গোলাপি ফুল ব্লাউজে

             (বাচিকশিল্পী আয়শা হক শিমু আপুকে)

সন্ধ্যার আলো – আঁধারির ফাঁকে
চোখ ধরে নেয় তোমার জাগতিক পোষাক
যে পোষাকে চোখ নাচে – আবৃত্তির ছন্দের দোলায়
তোমার হালকা গোলাপি ফুল ব্লাউজে
বাঙ্গালিয়ানা স্মৃতিবহণ করে হাঁটছে দৃষ্টির আয়োজনে
তোমাকে বহুবার দেখেছি,
চোখাচোখি হয়েছি,
কখনো সখনো কথাও বলেছি,
অতচ আজ তোমাকে দেখে কবিতা ডাক দিল
কোকিলের সুরে
বোবাসুরে আজ গাইছি তোমার গান
চিকনপাড়ের ছোট ছোট গোলাপের সাদাশাড়ি
বেশ লাগছিল
কবিতার মতো তোমার এলিয়ে দেয়া চুল
উড়ছিল সিনাবেয়ে
অবাকচোখে তোমাকে দেখে ভাবছি!
শিল্পরা কেনো তোমাকে ধরা দেয়!
ডাহুকভরা চোখে তোমার আবৃত্তি
বিমোহিত করে দেয় চিন্তার সব ধারাপাত।

তোমাকে খুউব ভালোবাসি,
সব শিল্পের কারুকাজ প্রয়োগে তুমি সিদ্ধহস্ত
তোমাকে ভালোবাসতেই হবে
শিল্পের সব আয়োজন থেকে ;
কবিতা তুমি হাঁটো এই শিল্পের সবটুকু ধরে
যে শিল্পের কাছে আজ কবি দায়বদ্ধ,
সবটুকু ভালোবাসায় তুমি বেঁচে থাকবে কিছুকাল।
…………………………………………..

গড়ে তোলো জোছনাময় বেলীফুলের সংসার

সে দিন হেলুনক্ষেতে তোমাকে দেখে
স্মৃতিরা গান ধরেছিল
লাল পেড়ের শাড়িটা ভাবতে বসিয়েছে
চোখ দুটো ছল ছল করে বলে যাচ্ছে
দর্শনলীলার এক মর্মস্পর্শ কিচ্ছা।

তোমার সোহাগরাঙা স্মৃতিগুলো আজো হাতড়ায়
মনোদরজা খোলে বলে -ভালোবাসি ইচ্ছে দুয়ার।

জলের কিনারায় খড়কুটোরা দাঁড়াতে পারে না
ভাসতে ভাসতে চলে যায় দূর অতিদূরে
ইলিশজালের মতো চক চক করে রোদের আকাশ
সুন্দরের পরাগায়নে সব বন্ধুরা আজ দাঁড়াও
খাপে রাখা মুষ্টিবদ্ধহাতে ভরসা রেখে,
যে হাতে কল্যাণরা গেঁথে রাখে ইতিহাসের দালিলিক প্রমাণ!

কালের সীমানায় এঁকে দিতে হবে কালোগিলাপ
ভেঙ্গে দিতে হবে অযাচিত সংসার!

কুদরতের সোহাগায় হেঁসে ওঠো বিশ্বাসীরা
ভরসার ভরাপাতিলে রেখে দাও আস্থারসবটুকু।

বাঁচতে চাও বলে গুটিয়ে থেকো না
শিল্পের আয়নায় খচিত করো তোমার চিন্তাটুকু
গড়ে তোলো জোছনাময় বেলী ফুলের সংসার।

সে সময় গুলোর কথা বার বার মনে পড়ে বলে
ডুবে থাকি তোমার রঙিন সময়ের পাল তোলে।

জলহীন চোখে দেখি রক্তের ঢেউ

বিকেলের রোদমাখা হাসি নিয়ে বসেছি ঘাটলায়
জলের সাথে মিশে গেছে হাসির পোয়ারা
ঢেউয়ের গায়ে সাঁতার কাটে পাতিহাস
স্বচ্ছে জলের নীড়ে দেখি তোমার হাসিমাখা মুখ।

জলের বীণায় যে সুর বাজে
ডাহুকের ডাকের কাছে হেরে যায় তাল
গোধূলিবেলার হিমবাতায়নে ওড়ে যায় শুভ্রবকের সারি
প্রকৃতির বাতায়নে হেসে ওঠে প্রেয়সির লাল ঠোঁটের হাসি।

শরতের আকাশে দেখি কাশফুলের ছোঁয়া
জলহীন চোখে দেখি রক্তের ঢেউ
নিদারৃন সুখে খুঁজি তোমার রেখে যাওয়া মনস্মৃতি
সব ভূল কাজে মিলে যায় বেগানা কান্ড
কবিতার গায়ে দেখি কোষহীন ছত্রাকের অঞ্জলি!