মোহাম্মদ আবদুল মান্নান Mohammad Abdul Mannan ইতিহাসবিদ ও গবেষক। ৩০ জুন, ১৯৫২ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলার, আড়াইহাজার থানার সত্যভান্দী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন আবদুল মান্নান।

মোহাম্মদ আবদুল মান্নান সব মিলে চারটা প্রাইমারী স্কুলের ছাত্র। বাজবী প্রাইমারী স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি পরীক্ষা দেন। সাতষট্টি সালে আড়াইহাজারের পাঁচগাঁও হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পাশ করে তিনি ঢাকায় আসেন। ১৯৭২ সনে তিনি হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজ থেকে ইন্টার মিডিয়েট এবং ১৯৭৮ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সম্মান সহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। দাদা মরহুম মৌলভী আজিম উদ্দিন, মা মরহুমা জোবায়দা বেগম ও বাবা মরহুম আব্দুল মালেকের নিরাপোস সংগ্রামী আদর্শ জীবন এবং সোনাখালী নামক এক শীর্ণকায়া খালের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা গ্রামীণ প্রকৃতি ও গ্রামের সংগ্রামী মানুষের জীবন আবদুল মান্নানের জীবনকে প্রভাবিত করেছে।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সংবাদপত্র জগতে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭০ থেকে ১৯৮৩ সন পর্যন্ত অত্যন্ত সাফলে’র সাথে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। দৈনিক আজাদ, দৈনিক সংগ্রাম ও সাপ্তাহিক সোনার বাংলায় তিনি সম্পাদকের পদ সহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিষ্ট (বিএফইউজে) এর সহকারী সাধারণ সম্পাদক হিসাবে (১৯৮০-১৯৮৩) নির্বাচিত হন।

১৯৮৩ সনে জনাব মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯০ সনে তিনি ব্যাংকের মূল স্রোতে চলে আসেন। এর পরে একের পর এক পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে তিনি ব্যাংকের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং উইংয়ে প্রধান হিসাবে কর্মরত আছেন। মাঝে ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সবগুলি দেশেই দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যাংকিং জগতে প্রতিভার স্বাক্ষর স্বরুপ ১৯৯১ ও ১৯৯৩ সনে তিনি প্রথম শ্রেষ্ঠ ম্যানেজার হিসাবে পদক লাভ করেন। এছাড়াও ব্যাংকের ডিপোজিট মোবালাইজেশন সহ সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য ১৯৯২, ১৯৯৪ এবং ২০০১ সনে তিনি পুরস্কৃত হন।

বাংলা, ইংরেজি, আরবী এবং উর্দূ ভাষায় পারদর্শী জনাব মোহাম্মদ আবদুল মান্নান প্রকাশিত গ্রন্থ: ১. ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থা ২০০৭, ২. বঙ্গভঙ্গ থেকে বাংলাদেশ ২০০৭, ৩. বাংলা ও বাঙালীর মুক্তিসংগ্রামের মূল ধারা ১৯৯১, ৪. আমাদের জাতিত্তার বিকাশধারা ১৯৯৪, ৫. ইসলামী গবেষণার নীতি ও পদ্ধতি ১৯৮৮, ৬. বাংলাদেশের পুলিশ ১৯৮৩, ৭. এই আমার বাংলাদেশ ২০০২, ৮. সৌদি আরবে বাংলাদেশী অভিবাসী ২০০১, ৯. সোনার দেশ বাংলাদেশ ২০০৭, ১০. বাংলার মুসলিম জাগরণে দুই পথিকৃতঃ শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী ও জালাল উদ্দিন আফগানী ২০০৭, ১১. কালোগেলাফ ২০১৫। এছাড়াও কিছু পুস্তিকা প্রকাশ হয়: ১. ইদুল আযহা ও কুরবানীর শিক্ষা ১৯৭২, ২. বাংলার মুসলিম নবজাগরণ ১৯৮৬, ৩. আমাদের রাষ্ট্রসত্তার বিকাশধারা ১৯৯৩, ৪. তুর্কিস্থানে রুশদখল ও বাছমচি বিদ্রোহ ১৯৯৪।

লেখাজোকা ও ব্যাংকিং আন্দোলনের পাশাপাশি জনাব আবদুল মান্নান অসংখ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত।

১. প্রেসিডেন্ট: ইয়াং মেন্জ মুসলিম এসোসিয়েশন (YMMA), ২. প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক প্রেসিডেন্ট: স্বদেশ সাংস্কৃতিক সংসদ, ৩. আজীবন সদস্য: আল্লামা ইকবাল সংসদ, ৪. সহকারী সাধারণ সম্পাদক: বাংলাদেশ ইসলামিক ব্যাংকারস এসোসিয়েশন (বিবা), ৫. আজীবন সদস্য: বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ, ৬. সাধরণ সম্পাদক: বাংলাদেশ রাইটারস্ ফোরাম, ৭. প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, ৮. ট্রাষ্টী: সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার, ৯. সদস্য, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি: বাংলা সাহিত্য পরিষদ, ১০. গবেষণা সম্পাদক: ঢাকা সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্র, ১১. সদস্য, ষ্টান্ডিং কমিটি: আলমানার অডিও ভিজুয়াল সেন্টার, ১২. সদস্য: বাংলা একাডেমী,

জনাব আবদুল মান্নান দেশীয় গন্ডী পেরিয়ে আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলেও অবদান রেখে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর লিডারশীপ ইন ফিন্যান্স (ICLIF) এর ফেলো সদস্য। তিনি বিভিন্ন সময়ে আর্ন্তজাতিক সেমিনার ও ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, চীন, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ সফর করেন।

ব্যক্তি জীবনে মোহাম্মদ আবদুল মান্নান তিন কন্যা সন্তানের জনক।