একটুকরো জমি

আমার মাতা পিতা কে বা কারা
কোথায় তাদের বাস,
তাদের পরিচয় কেউ কি বলতে পারো ?

স্টেশনের দোকানিরা বলে –
কেউ একজন আমাকে ডাস্টবিনে ফেলে রেখে যায় !
আমার নাকি নিষিদ্ধ পল্লীতে জন্ম।

যাত্রীদের ফেলে দেওয়া খাবার খেয়েই
আমার বেঁচে থাকা,
এভাবে আর কতকাল বাঁচবো কেউ কি বলতে পারো ?

অনেক সময় স্টেশনে আসা যাত্রী –
আর বড় বড় স্যারদের ট্রলি টানার
কাজ করে দেই,
তারা খুশি হয়ে পাঁচ টাকা দিয়ে বলে
একদিন সুখী হবি বাবা।

আচ্ছা এই সুখটা আবার কি
সুখী হলে কি ঘুমানোর জন্য –
আমার নিজের এক টুকরো জমি হবে
কেউ কি বলতে পারো ?

স্টেশনের প্লাটফর্মে যখন ঘুমিয়ে থাকি
তখন একদল পকেটমার এসে –
আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে যায়,
তারা আমাকে অনেক মারে !
তাদের সাথে পকেট মারতে বলে !
তারা আমাকে চুরি করতে বলে !

স্টেশনে থাকতে হলে নাকি –
তাদের সাথে চুরি করতে হবে !
কেউ কি আমায় বলতে পারো,
আমার ঘুমানোর জন্য এক টুকরো জমি নেই কেন ?

কেউ কি বলতে পারো,
বলতে পারো, আমি কোথায় ঘুমাবো ?

ভাবতে ভাবতে একটা ট্রেন এসে ধাক্কা মেরে
বাচ্চাটাকে দুখণ্ডে খণ্ডিত করে দেয়।
তারপর স্টেশন কর্তৃপক্ষ
বাচ্চাটার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করে।

ভালোই তো হল
বাচ্চাটা শান্তিতে ঘুমাবে,
তার নিজের জন্য এক টুকরো জমি হলো,
ভালোই তো হলো।
…………………………………………..

প্রকৃতির প্রেম

প্রকৃতির প্রেমে পড়েছি
আমি বারে বার,
জীবন থেকে হারিয়ে গেছে
যা ছিল হারাবার।

ভালোবাসবো গাছপালা
ভালোবাসবো পাখি,
নীল আকাশে মন ভরে
আমার দুটি আঁখি।

তুমি ছিলে নীরবতা
প্রকৃতি কোলাহল,
কিচিরমিচির গান শোনায়
চড়ুই পাখির দল।

কোকিল ডাকে কুহু কুহু
আরো বলে টিয়ে,
তারা নাকি বন্ধু হবে
ময়ূর নায়ে গিয়ে।

বাবুই পাখি বলে ডেকে
দেখো না কী আমায়?
কিসের এত সুখ চায়
চার দেয়ালের থানায়?

আসবে নাকি শুক্রবারে?
টুনটুনির বিয়ে,
গায়ে হলুদ দিবো সবাই
ঢাক ঢোল বাজিয়ে।

গেলাম তবে সন্ধাবেলা
মজা হলো ভারী ,
টুনটুনির দাদি খুললো
বিরাট গল্পের ঝুড়ি।
…………………………………………..

খুকির বন্ধু কাঠবিড়ালি

একদল কাঠবিড়ালি
কাঁঠাল বাগান জুড়ে,
ডালের উপর দৌঁড়ে বেড়ায়,
চুক চুক শব্দ করে।

কাঠি-কুঠির বাসা তার,
ভেতরে আন্দারমহল !
খুকি যাবে সেই বাসাতে,
চাই না অন্য কোন মহল।

খুকি যাবে সেই বাসাতেই,
ধরেছে যে বায়না,
সাজবে খুকি, বেড়াতে যাবে,
কিনে দিতে হবে আয়না !

খুকি নাচে, সঙ্গে দেখো
কাঠবিড়ালি নাচে !
বেড়াতে এসে সেই খুশিতে
খুকি নতুন সাজে।
…………………………………………..

শ্রমিকের অসুখ

আড়াই মন মাথায় নিয়ে
শ্রমিক ঘাম ঝরায়,
ঘাম শুকানোর দু মাস বাদে
মূল্য তার পায় !

অট্টালিকা গড়তে গিয়ে
শ্রম দিচ্ছে যারা,
তাদের ঘরে অনাহারী
দুঃখে জীবন ভরা।

ঘাম ঝরানো কষ্টে যার
তোমার মহাসুখ,
তবে কেন লেগে থাকে
শ্রমিকের অসুখ।

কাহার শ্রমে তুমি এতো
কামিয়েছে নাম?
মূল্য কি দিয়েছো ততো
যতো ঝরিয়েছো ঘাম ?
…………………………………………..

করোনা পরিস্থিতি

মানুষ সকল প্রাণের ভয়ে হবে যে উধাও,
কখনো ভেবে দেখছো কি এমন করে –

রইবে কোথায় বাহাদুরি-
চলবে না আর ঘুরা-ঘুরি,
হিংস্র মানব শান্ত হবে!
অত্যাচারি ক্লান্ত হবে।

অনাহারীর মিছিল হবে !
মামলা – হামলা বন্ধ হবে,
ছোট্ট শিশু কাধে নিয়ে –
হাজার কিলো হাঁটতে হবে।

পাশের বাড়ি রোগী হলে
দেখতে যাওয়া দ্বন্দ্ব হবে,
বিশ্ববাসীর অর্থনীতির –
চাকা ঘোরা বন্ধ হবে।
…………………………………………..

সমাজের শাসক

সমাজের শাসক আমি
মুখে পরেছি মুখোশ!
শতবার দোষ করেও বলি –
নেই কোনো দোষ, আমার নেই কোন দোষ !

সাধু সন্ন্যাসী আমি,
আমি মহাজ্ঞানী !
সমাজের মুখে কালো মুখ আমার
সোনার চেয়েও অধিক দামি।

নেতা সেজে বসে আছি
কিছু না জেনেও,
আমি সব জানি, আমি সব জানি ।

মিষ্টি কথায় মন ভুলিয়ে
মানুষকে দিয়ে ধোকা,
এই সমাজের শাসক আমি
দেখো মানুষ কত বোকা।
…………………………………………..

কবি বলে ডেকো

তুমি আমায় প্রথমবার
কবি বলেই ডেকো,
আমায় না হয় একটু খানি
মনের মাঝে রেখ।

তুমি ছাড়া পৃথিবীটা
শূন্য কেন বল ?
আমায় ছারা তুমি
একলা একা, কেমনে অগো চলো !

তুমি যেন শীতলপাটি
মোর কবিতার ছন্দ,
এক পলকেই প্রেম এসেছে
হয়েছি যে অন্ধ।

তোমার আমার হয়না দেখা
হয়না কথা বলা,
অনেক প্রহর এক সাথে
হয়না কেন চলা ?

তুমি ছাড়া জীবন আমার
শূন্য পথের পথিক,
দুজন মিলে হারিয়ে যাব
যে পথটা সঠিক ।

কবি বলে ডাকো যদি
মনটা ভরে যায়
শত ব্যথা আর অতৃপ্তি
তৃপ্তিতে পূর্ণতা পায়।

তুমি আমায় প্রথমবার
কবি বলেই ডেকো
আমায় না হয় একটু খানি
মনের মাঝে রেখ ।
…………………………………………..

শেখ মুজিব

এ দেশে এক রত্ন আছে,
আছে খাঁটি সোনা,
নাম তাঁর শেখ মুজিব
সকলের তা জানা
রত্ন সে তো – রত্ন ভাণ্ডার
ভালোবাসার ছবি,
আমার জীবনের প্রিয় মানুষ,
প্রিয় একজন কবি ।

যার কলমে লিখেছি এ দেশ,
আমার মাটি – আমার ঘাঁটি
সোনার বাংলাদেশ ।

আশ্চর্য তাঁর সেই ভাষণ,
কোমল হৃদয়ের শাসন।
করে সবার মন জয়,
হবে নাকো তাঁর ক্ষয়।

যতোদিন এ দেশের মানুষ
পৃথিবীতে থাকবে,
ততোদিন, ততোদিন শেখ মুজিব… অন্তরেতে বাঁচবে ।
…………………………………………..

আমি বিদ্রোহী নই

সাম্যের কথা কই আমি
সাম্যের কথা কই,
আমার দেশে সাম্য আছে
আমি বিদ্রোহী নই।

বিশৃঙ্খলা দেশটা ভরে,
মানুষ মারে মানুষ ধরে,
নেতা সকল দেশ লুটে খায়
মুজিবসেনা কই।

সাম্যের কথা কই আমি
সাম্যের কথা কই,
আমার দেশে সাম্য আছে
আমি বিদ্রোহী নই।

দেশের সকল ঘরে ঘরে
বঙ্গবন্ধু আবার আসুক ফিরে।
অত্যাচারী শাসক গুলো
ঘূর্ণিঝড়ে যাক না পরে !
…………………………………………..

বিশুদ্ধ অক্সিজেন মা

মা ছাড়া পৃথিবীটা দুঃস্বপ্ন !
মা ছাড়া একাকীত্ব,
মা না থাকলে পৃথিবীটা বিষাদ।
মা ছাড়া অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রভাত।

অমূল্য সম্পদ মা,
রত্নের চেয়েও দামি
বিশুদ্ধ অক্সিজেন মা,
মা যে নয়নের মণি।