নীল দেশ
(রঁদেল কবিতা)

হেমন্তের গাছের পাতা ঝরার মতো
ঝরে পড়ছে মানুষেরা,
পড়ে থাকছে যেখানে সেখানে তারা,
সংসারের বন্ধন ছিন্ন করতে হচ্ছে খসে পড়া তারার মতো,
নোনা আঁখি নিয়ে নীল আকাশের পানে তাকিয়ে আছে আত্মীয়রা।

হেমন্তের গাছের পাতা ঝরার মতো
ঝরে পড়ছে প্রিয় মানুষেরা,
নিথর দেহও গায়েব হচ্ছে অক্সিজেনের মতো।

করোনার থাবা,
অক্সিজেনের ঘাটতিতে তারা,
জীবনের সমুদ্রে ডুবতে হচ্ছে তাদের জাহাজের মতো,
হেমন্তের গাছের পাতা ঝরার মতো
ঝরে পড়ছে মানুষেরা।
……………………………………………

শঙ্খ ঘোষ

তুমি জন্মেছিলে ১৯৩২ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের চাঁদপুরে
অমলাবালা ও মনীন্দ্র ঘোষের পৃথিবীতে।
তুমি বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জীবনানন্দ দাশের উত্তরসূরী;
তুমি শুধু কবি নও, তুমি একজন শিক্ষক, লেখক ও গবেষকও;
তুমি সাহিত্য নামক জলধারার প্রধান নদী,
শাখা নদী ও উপনদীতে সন্তরণ করেছ;
তুমি লিখেছ অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ, গদ্যগ্রন্থ ও প্রবন্ধ,
লিখেছ শিশুদের বইও;
তোমার কলমের ছোঁয়াতে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য;
তোমার কলম গর্জে উঠেছে
অন্যায়ের প্রতিবাদে।
তুমি পেয়েছ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার,
পদ্মভূষণ পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার সহ অনেক পুরস্কার।
তুমি না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছ ২১ শে এপ্রিল ২০২১ সালে
তবু তুমি মানুষের স্মৃতির পাতায়,
ইতিহাসের পাতায়
অমর হয়ে রয়েছ।
তোমার কবিতার কথা অনুরণন হয় আকাশ বাতাসে,
তোমার শব্দেরা কথা বলে যায় কানে কানে,
তোমার কবিতার কথা শুনলে বড়ো মনে পড়ে তোমাকে,
শুধু তোমার কবিতার কথায় নয়, আমার মনের আকাশে
কবিতা উঁকি দিলে বড়ো মনে পড়ে তোমাকে
তোমার পূর্বসূরীদের সাথে।
……………………………………………

আনন্দ পেতে

বড়ো কবি হতেই হবে
এমন কোনো কথা নয়।
পুরস্কার পেতেই হবে
এমন কোনো কথা নয়।
বড়ো কবি হয়তো পারিনি হতে
তাতে কোনো আফসোস নাই।
হয়তো পারি নি উঁচুমানের কবিতা লিখতে
তবে মনের মাধুরী মিশিয়ে মনে আনন্দ পেতে
কিছু কথা লিখে যায়-
আবেগের কথা, জীবনের কথা,
মানুষের কথা, প্রকৃতির কথা।

স্রিয়মান ঈদের সুঘ্রাণ
মোঃ ইজাজ আহামেদ

রমজান পথের শেষ প্রান্তে
ঈদের সুঘ্রাণ ছড়িয়েছে আকাশে বাতাসে
সবার মনের আকাশে উঁকি দিয়েছে
আনন্দের তারারা
কিন্তু কয়েকবার উঁকি মেরে লকডাউনে চলে গেছে
অতিমারিতে কান্নার রোল শুনে
খসে পড়ছে নক্ষত্ররা।
……………………………………………

শ্রাবণের একদিন

শ্রাবণের আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা,
গুরু গুরু করে শুরু করেছে গর্জন মেঘেরা;
আমি সজিনা, নারকেল গাছ ও টিউব কলের পাশে দাঁড়িয়ে;
ঘর থেকে বেরিয়েছিলাম হাত মুখ ধুবো বলে;
মেঘের গর্জনে বিদ্যুতের ঝলকানিতে চকিত চমকিত আমি;
ভীত হয়ে থমকে দাঁড়িয়ে থাকি;
তারাও যেন ভীত হয়ে আকাশের পানে তাকিয়ে
তবু শ্রাবণ মনে জাগায় শিহরণ,
রোমাঞ্চিত হয় মন;
শ্রাবণের বৃষ্টি দেখতে খুব ভালো লাগে;
প্রকৃতিও আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে উঠে;
মন বিমোহিত হয়ে কবিতা লিখে;
আমি তাকিয়েছিলাম অন্তরীক্ষের দিকে;
থামলো গর্জন ও বজ্রের ঝলকানি;
আমাদের দিকে নেমে এলো বৃষ্টি;
আমার ভয়ের মনের দেশে
খুশির বৃষ্টি এলো হেসে;
আমার মন উঠলো নেচে
শ্রাবণের গানে।
……………………………………………

আক্রমণাত্মক ব্যাটিং
(ট্রায়োলেট কবিতা)

মাঠে মাঠে আইপিএল চলছে,
দর্শকহীন গ্যালারি।
সারা দেশে অতিমারী করোনা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে,
চুটিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছে;
শ্মশানের ধোঁয়ায় আকাশ বাতাস ছেয়ে গেছে;
টিভি আর মোবাইলের পর্দায় আটকেছে চোখ সারি সারি;
সারা দেশে ক্রিকেট আর করোনার আইপিএল চলছে;
অসহায় দেশবাসী।
……………………………………………

মানুষ আজও পারলোনা বুঝতে

করোনা এসেছে, এসেছে পঙ্গপাল,
পৃথিবী জুড়ে লক ডাউন।
দাপিয়ে বেড়াচ্ছে করোনা সারা পৃথিবী জুড়ে।
ভাইরাসের আক্রমণে
সারি সারি লাশ পরছে দেশে দেশে।
দিন দিন বেড়েই চলেছে অদৃশ্য অস্ত্রহীন আক্রমন,
এক তরফা অস্ত্রহীন যুদ্ধে পরাজিত মানুষজন।
মানুষের কর্মকান্ডের কারণে
মানুষের প্রতি রাগান্বিত ঈশ্বর ও প্রকৃতি
তবু মানুষ উপলব্ধি পারলোনা করতে;
এখনও মানুষে মানুষে হানাহানি,
সাম্প্রদায়িকতার বিষ মনে মনে;
সাম্প্রদায়িকতার আল্পনা যেন কিছুতেই চায় না মুছে যেতে
মানুষের মনের আঙিনা থেকে;
মানুষ আজও পারলোনা বুঝতে।
……………………………………………

অচেনা

একদিন বের হলাম ভ্ৰমনে অপরাহ্নে,
সাইকেলে করে চলে গেলাম সেই পথগুলিতে
যেই পথগুলিতে স্কুল জীবন কেটেছে;
আম বাগানের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া মেঠো পথ;
সবুজ মাঠের মধ্যে চলে যাওয়া লাল মাটির পথ;
ক্ষেতে চাষে ব্যস্ত থাকতো চাষী;
চারিদিকে শুধু সবুজের সমারোহ;
আকাশটা সবুজের সীমানায়
মিশে যেত দিগন্তরেখায়;
কিন্তু আজ সেই বাগান নাই,
নাই আঁকা বাঁকা সাদা ও লাল পথ;
দিগন্তরেখা দেখা যায় না;
কংক্রিটের পথ,
উঁচু উঁচু বাড়ি, সব অচেনা;
বৃষ্টি ভেজা মাটির গন্ধ এখনো আমার নাকে লেগে আছে
কিন্তু সেই গন্ধ নেই, আজ আর পাইনে।
অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
সময় পরিবর্তন করে দিয়েছে।
……………………………………………

আষাঢ়ে

আষাঢ়ের টিপ টিপ বৃষ্টিতে
আমি জানালার ধারে বসে
চেয়ে দেখি আকাশের পানে;
আকাশটা যেন মন ভারী করে দুঃখে বিলাপ করছে আর সজল কালো চোখ থেকে জল পড়ছে;
সূর্যের দেখা নাই, চারিদিকে কালো মেঘের আনাগোনা,
মাঝে মাঝে বজ্রের ঝলকানিতে চমকে উঠা
তবু বৃষ্টি বড়ো ভালো লাগে;
মনে এক অনাবিল আনন্দ উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে;
জানালা দিয়ে বৃষ্টি ধরি হাত বাড়িয়ে;
বৃষ্টির ফোঁটা জানালা বেয়ে চুঁইয়ে পরে
আর আনন্দের আল্পনা এঁকে যায় মনের গহীনে;
আষাঢ়ের বৃষ্টি বড়ো ভালো লাগে;
মাটিতে আল্পনা আঁকে,
আল্পনা আঁকে গাছে গাছে,
জলে বৃষ্টির ফোঁটা টুপুর টুপুর করে পরে,
দেখতে বড়ো ভালো লাগে;
কচু গাছ জানালার পাশে,
কচু পাতায় বৃষ্টির ফোঁটা মুক্তোর মতো দ্যুতিময় হয়ে উঠে;
বৃষ্টি খুব ভালো লাগে।
……………………………………………

সুখ

সুখ পাখি মনের জানালা দিয়ে আসে যায়,
আমরা সর্বদাই থাকি তার অপেক্ষায়;
সে ডানা মেলে যখন উড়ে আসে দুঃখের রাজ্যে,
তার মহাত্মা পারি বুঝতে,
আনন্দের ভেলায় চড়ে পাড়ি দি দিগন্তরেখা পেরিয়ে সুখ-স্বপ্নের দেশে
আর মনের আকাশে স্বপ্নেরা, ইচ্ছেরা ডানা মেলে হাসে;
আসলে সুখ আপেক্ষিক ব্যক্তিবিশেষে;
একই অবস্থা কারো কাছে সুখের,
আবার কারো কাছে দুঃখের।
……………………………………………

একপলকের দেখাতে

একপলকে তোমাকে দেখে
স্বপ্নের ভেলায় চলে গেছি রূপকথার দেশে;
মেঘের ভেলায় তোমার রূপসাগরের বর্ণনা পাঠিয়েছি দেশ – দেশান্তরে;
স্মৃতির ভেলায় বহন করে চলেছি সেই দৃশ্য ক্ষণে ক্ষণে;
সেই মুগ্ধতার ভেলায় তোমাকে নিয়ে আজও ভেসে যাই স্বপ্নের দেশে।