কে বা কবি’কে ভালোবাসে

আমি কবি মিথ্যা নয়
সে কলংক বলো,
ঐশ্বরিক বলো, গালি গলাবাজি,
দেয়ানখানা আমার দখলে
তুমি বল যত নামমাত্র কবি আমি
খ্যাতি নয় তব খান্ত নয়,
অপদস্ত কর যত
আমি প্রেমিক কবি অসত্য নয়,
হৃদয়ে ব্যাথা পেয়ে যন্ত্র যন্তু
গালি মন্দে পাল্লা করবে বারি।

কবিরা লাজুক নয় শভাষী মানুষ
এলোমেলো জীবন,
কারো কাছে ভববন্ধনে
ঝুঁকি হতে পারে ভেবে
পথে প্রান্তে পা’য়ে করে ক্ষয়
তবু কবি পথে পথে কবিতা রচে,
কবিকে ধুসে রমনী
কবির প্রেমে পড়ে নাকি কবিতার
কবি সে ভেবে আবার কবিতা রচে
নতুন কোনো রমনীকে খুঁজে
কবি মন বটে।

কোমল মন যদি গভীরে চলে যায়
ভয় করি কবি মন,
খুবই কোমলতায় ঝড়ানো প্রিয়
কলংক নিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী
পার করছি কবিরা বারবার প্রেমে পড়ে অসত্য নয়
প্রকৃতি রূপে রমনী,
নদী জল অশ্রু জল কবি তা বুঝে,
গাছের বাঁকলে লতায় ফুটে ফুল,
নারীকুল মধুর ফসলে মৌহ
মেঘ ঘটা কালো চুলের বাঁধনে কবি ডুবে
রমনী কি বুঝে কবিকে ধুসে।

রমনী রাঙায় চোখ ক্ষোভে
কবি তাতে দেখে ফাগুনের
কোকিলের যৌবন,
বর্ষার ভয় কবিকে নয়
কবি রোজ ভিজে
চির যৌবন কবি মন
কবিকে পাগল বলে লোকে
কবি আপন মনে কবিতা রচে, প্রেমে পড়ে,
কবিতা রমনী সাঁজে
কবি প্রেমিক অসত্য নয় বটে
কে বা কবিকে ভালোবাসে
কবি ভেবে মৃদু হাসে কবিতা রচে।
……………………………………………

নীরক্ষর

পথের নাকি শেষ হয়না
খুব কাছ থেকে দেগেছি গতিরোধ,
অনেকের মতো প্রশ্ন করেছিলাম
কি নেই আমার, আছে কি ?

নীরক্ষর, মানুষের অর্থহীন জীবন
প্রিয় মানুষ যেখানে মুখ পিরিয়ে নে
কিশের কারণ ?
অর্থই যদি হয়ে যায় সবকিছু।

কোথায় সে মূলভোদ
কি চেয়ে ছিলাম শুধু মানবতা,
জীবনের জন্য আর একটা জীবন।

সমাজ বাদি ভালো মানুষ
আমাদের চেনা মুখ,
শুধু বদলে যেতে দেখেছি
হাতের কর গুনে বন্ধুদেরকে বলিছিলাম
বুড়ো হয়ে গেছিরে, বুড়ো হয়ে গেছি
সমাজের বিত্তমান মানুষগুলান,
কিশোর যৌবন সব তাদের কেনা l
……………………………………………

গুন পোকা

গুন পোকার আচার্য গুণ
কাঠের বাহিরের সৌন্দর্য রেখে
ভেতরটা খেয়ে ফাঁকা,
কিছু মানুষের মধ্যে এ গুণ দেখা যায়
সৌন্দর্য বান্ধব,
কথা পাকাপোক্ত,
সদা হাস্য উজ্জ্বল মুখ
এরা সমাজের গুন পোকা
অথচ মানুষ তাদের আত্মীয়তায় মুগ্ধ।
পৃথিবীর সৃষ্টি লগ্ন থেকে
যাহা কিছু সৃষ্টি মানুষের প্রয়োজনে,
ধনী গরীব সব মানুষের সৃষ্টি,
ইশ্বর বিশ্বাসে,
সৃষ্টির ধ্বংস প্রাণের মৃত্যু
সব দৃশ্যমান
তবু মানুষের ইচ্ছে বাঁচতে।
……………………………………………

কবিতার শহর

কবিতার শহরের ফুটপাতে
হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত আমি,
গদ্য, পদ্য, ছন্দের ”দ” মাত্রা
শেখা হলো না আর
কবি ডাক শুনার ইচ্ছা বড়ই
কবি হয়ে উঠা হলো না আর আমার।
মা বলতেন আমার কেরোসিন পুড়িয়ে
রাতভর কি লেখে বাবু
কিছু পেতে দেখিনা,
এসবে ভাত আসবো?

কবিতার শহর বড়ই আজব মা
জীবন দশায় কবিকে চেনা যায় না
একদিন দেখ অনেক নাম দাম হবে
এশহর থাকবে, কবিতা থাকবে
এখন কবিকে চেনে না লোকে
কবি হয়ে উঠা হলো না আর আমার।

কবিতায় মানব মুক্তির কথা বলে
যুক্তি, তর্কে টইটম্বুর লোকে,
কবি নীরবে মৃদু হাসে তখনো
কিশোরী মেয়েটির নব প্রেমেন্দ্রে
কখনো প্রকৃতির সাথে মিশে
কবিতার মাত্রাবৃত্তে গভীরে হারায় কবি
নাহয় বন্ধুদের দেওয়া খ্যাতাব ”পাগল”
তোর কবিতা কে শুনে কান পাকায়
কবি হয়ে উঠা হলো না আর আমার।

কবিতার শহর কবিদের নয়
কবিদস্যদের দখলে,
কাগজে ছাপানো কালো অক্ষরের
বইটা খুলে মাঝামাঝি নাকে ছেপে ধরে
গন্ধ শুকে কবি, সৃষ্টি তার দেখে ফুটপাতে
কবির চোখ তখন যেন শিশির ভেজা
কবি ভাবে সব শিশির পায় না পায়ের ছোঁয়া
কবি হয়ে উঠা হলো না আর আমার।

কতবার জিজ্ঞেস করেছি মা
আমার জন্মতারিখটা না কবে?
তুমি জানো না, আমি জানি না,
আমার মরণপর খুঁজে নেভে লোকে,
এখন কবিকে চেনে না মা,
কবিতার শহরে হাঁটতে গেলে
হোঁচট খেয়ে কত কবি হয় পঙ্গু
কে কার খবর লয় এ শহরে
কবিরা কবিদের দেখি শত্রু
কবি হয়ে উঠা হলো না আর আমার।
কবিতায় কি আর ভাত দেবে মা
কবিতার হয় কৃত্রিম চাষ,
কবিতা লিখে কয়জন কবি
বসে মেলা অর্থ কড়ি, কবি কবি খেলা
বাজার ছড়া, কবির নয় মা কবিতার
কবিতার শহর কবিদের নয়
কবি হাঁটে পান্থপথে একা
কবি হয়ে উঠা হলো না আর আমার।
……………………………………………

হিসেব

তোমার প্রতিটা মূহুর্তের হিসেব চাওয়া
অনধিকার চর্চা কেবল,
বিশ্বাস করো তুমিহীন প্রতিটা মূহুর্ত
বিষণ্ণতায় কাটে আমার !
তুমি বলো অদ্ভুত !
আমি বলি জানিনা কোনটা প্রেম
কোনটা পাগলামী,
শুধু এ জানি তুমি আমার
আমারি থাকবে l
এটা হোক অনধিকার চর্চা
তোমার প্রতিটা মূহুর্তের হিসেব চাই, চাই,
আমার সবকিছুই তোমাকে গিরে
আমি কি পারিনা হিসেব নিতে ?
তুমিই তো আমার জীবন
তাহলে ঐ বারবার একটা কথাই
কেন বলো আমি আজব ?
আজব ! হ্যাঁ আমি আজব !
আজব না হলে কেউ কি
নিজেকে ভুলে এমন
পাগলের মত কাউকে ভালোবাসে
প্রতিটা মূহুর্তের হিসেব দিতে হবে তোমাকে !
……………………………………………

শাড়ী

উজানে মাঝি নৌকা ঘাটে লয়
কয় মাঝি শেষ হলোরে জীবন,
লরে বৈঠা গঞ্জে লয় চল
গায়ের লোঙ্গ তো মাঝির ভিজা
হাসিস নারে ভাই রতন l

তোর বৌদী কইছেরে আউস করে
কিনে দিতে বেনারশি শাড়ী,
গঞ্জে গেলে সাহষ হয় কি রতন
লবণ মরিছ কিনতে পুরায় ধন
ইচ্ছে করে উজানে গেলে না ফিরি ঘাটে
জীবন কয় দিন বাকি রহে l

ফিরাই যদি দেখি তোর বৌদীর মু”খান
চাঁদের লাহান হাসি,
কি দিয়াছি তারে,
জীবন যৌবন সব তো নিছি
হে রে… দিয়েছি চোখ ভরে জলে l

কপাল পোঁড়া আমার, কপাল পোঁড়া
যদি হয় মরণ, তয় বাঁচি
অহন ও আছি দেখে তোর বৌদীর মু”খান l

হে রে… রতন, কই কথা তোরে
ঘর সংসার হবেনেরে আমার কুছিৎ জীবন
সকাল হলে নদীর জলে দুপুর গড়ায় পিঠে
মরি যদি জলে দিসরে বাসাই
কুছিৎ জীবন গেলোরেতো জলে জলে
মরি যদি বলি বাঁচি হবে কি তোর বৌদীর
চাঁদের লাহান মু”খান তার কেমনে কয় মরি
লয় চল গঞ্জে যাই কিনবো আজ শাড়ী l
……………………………………………

অসভ্য

সভ্যতা দেখেছি!
মধুর বাসায় ডুব দিয়ে দেখি
চিরতার রস!
শুনেছি অসভ্যরা করে মৌ চাষ!
মৌ কলোনি সত্যি কি আধুনিক?

এখন আর লজ্জা হয় না
ছারপোকার মত আঁধারে নিত্য করি,
অ্যালকোহল ছড়িয়ে অষ্টহাসি!
এসব ছাই দৈনন্দিন খাদ্যশস্য
অসভ্যদের কলোনি পরিচর্যা করি।

রীতিমত চোখ এখন তল্লাট সরগরম!
অশ্লীল, অসভ্য, বর্বর, মূর্খতায় বর্ষীয়ান,
ডুমো মাছির মত ময়লার স্তূপ খুঁজি
অনাবৃত, অসভ্য! ভীষণ অসভ্য আমি
সম্ভ্রমহানি, পয়োধর অমার্জিত মেজবাবু !
……………………………………………

মানব

এই জগৎ সংসারী মানব, অবাক করে
বুদ্ধি মত্তায় সর্বোচ্চ উঁচু, জাতির উঁচু স্থান,
জগৎ সৃষ্টির কারণ মানব, মানবের কল্যাণ।
যখন দেখি বেদনায় কাঁদে স্বজন হারা মানব
যখন দেখি আঘাত করে মানবের দেহে মানব l
যখন দেখি তুচ্ছ কারণে ভাই করে ভাই খুন,
যখন দেখি অর্থের কারণে লড়ছে ভাই বোন l
যখন দেখি ক্ষমতার জন্য আমাকে দিচ্ছে বলি,
যখন দেখি অধিকার চাইলে বুকে করছে গুলি l
যখন দেখি অপরাধীর হচ্ছে জয় জয়কার,
যখন দেখি আদালতে ভুক্তভোগী পায়না বিচার l
যখন দেখি পথশিশু অনাহারে করছে হাহাকার,
তখন তুমি কত খাবার করছো ছারখার l
এই জগৎ স্রষ্টার দোষ দিবে কে ভাই আমি শুনি,
যেথায় তোমার জন্ম, আমারও একিই ভূমি l
যেখানে তোমার হবে দেওয়াল বন্ধ অন্ধকার ঘর,
একি রঙ একি দেওয়াল আমিও থাকবো জনম ভর l
এসো হে মানব, ফুলের ঘ্রাণ নিয়ে ফুলে ফুলে সাঁজাই,
জগৎ জুড়ে শান্তির পাল, সবাই মিলে উড়াই l
……………………………………………

মন

ও মন, মনরে তোর বয়স কত
মন বলে, সবে তো বাল্যকাল পেরিয়ে
যৌবনে পা রেখেছি,
তবে মরবে কখন, মিটবে কি তোর আয়েশ ?
বলে মন ও-রে বুদ্ধু তুমি,
এতো সুন্দর পৃথিবী কেনই বা ছাড়ি
মরিবার বেলায় বাঁচিতে চায় কয়দিন খানি ৷

মনের সাথে কথা বলি মন কি বলে,
মন বলে, যেথায় আছে প্রেম, যাও সেথায় চলে,
তবেরে মন বুড়ু যাহা তুই চাছস,
যৌবন বেলায় কি নদী, কি সে পাহাড়
কি করি নাই জয়, হারে…অবুঝ মন,
পাগলামি তুই করিস,
আমি কি আছি সেই কিশোর দল বল লয়ে
চুর মুর করে ভাঙিয়াছি ঝোপ, কি পেয়েছি তাতে
করেছি তো ক্ষয়, ও মন কি আর রয় ৷

মন-রে ও মন তুই এবার কয়,
কি পেলেরে তুই শান্ত হইবি, না চেয়ে রইবি
মন বলে কি সকাল, কি বিকেল, আমার উদাস দূপুর
সূর্যের উকি, সূর্য ডুবি আমার একি সমান
প্রেমের পিয়াস মিটেনা রে তুই বুড়ু বলিস
আঁয়না চেয়ে দেখি বয়স হল পঁচিশ,
বলিস কি-রে বুড়ু আমি, বল রে ও মন বালক
কি দিবিরে তুই মোরে, তোর বিদায় বেলা
একলা-রে তুই, যাবো আমি তোর সংঙ্গে
আর না-রে বুড়ু বলিস, আমি তোর চির প্রেমিক l
……………………………………………

বাল্যসখা মন

মাঝে মাঝেই পূর্ণিমার নেশায় পেয়ে বসে মনকে
চাঁদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকে প্রেমিকের মত,
পূর্ণিমার মহুয়াবনে পথভোলা পথিকের মত
আত্মমগ্ন হয়ে খুঁজে ভৈরবী।

ভেতরটা ষোলকলায় পূর্ণ হয়
অনুরাগের স্রোতধারায় মনের ঘরে,
খুব গোপনে মোহনবাঁশি বাজায়
হৃদয়ের গোপনকক্ষে তোলপাড় করে।
হাতছানি দেয় শৈশব
মেঘের ভেতর খুব নীরবে
আহ্লাদী সুরে কাঁদে বাল্যসখা মন
জ্যোৎস্না রাতে তীব্র সুখে কাঁদে।

মধূছোঁয়া মনডাঙ্গায় খোঁজে
হাহাকারের বোবা পাখি উড়ে বেড়ায়,
নিস্তব্ধ সবুজ ঘাসের ভেতর
মন ডাঙ্গাপথ আধাপোড়া ক্ষয়।
ফাল্গুনের স্পন্দন বাজে বুকের মাঝে
অনন্ত রক্তের স্রোতে,
টগবগে ফুটতে থাকে উচ্ছ্বাস
গোপনকক্ষ জ্যোৎস্না রাতে কাঁদে।