শীতের আগমন

আসছে শীত কাপঁছে দেশ
পৌষ ও মাঘ দু’মাস মিলেই শীতকাল।
এই এক বাংলার অনন্য ঋতু।।
কুয়াশায় আচ্ছন্ন শীতের সকাল
ঘুম ভাঙ্গলেও বিছানা ছেড়ে উঠতে চায়না মন!
জানালার ফাঁকে ঢুকে থাকা রোদের গন্ধ
যেনো এক অন্য অনুভূতি।
মাঠেঘাটে তাকালেই চোখে পড়ে
খেজুরগাছের আগায় ঝুলছে রসের হাড়ি।
সারি বেঁধে উড়ে চলা অতিথি পাখির দল।
অসহায় মানুষদের হাসি ফুঠাতে
সমাজকর্মীরা ছু্ঁটে বেড়ায় শীতবস্ত্র নিয়ে।
…………………………………………..

অমর একুশ

বাঙ্গালির অভিন্ন প্রতীক যদি থেকে থাকে,
তাইতো হচ্ছে এই অমর একুশ।
একুশের সামনে কৃতজ্ঞতায় মাথায় নোয়ায় না,
এমন বাঙ্গালি কোথাও নেই।
শহীদের রক্ত দানে সৃষ্টি হলো অমর একুশ,
যার ভ্রুণ থেকে জন্ম নিল মাতৃভাষা বাংলা।
মহান ২১শে’র কথা আমরা এখনো ভুলতে পারি না।।
বুকে রক্ত মাখা নিয়ে শহীদ হন,
সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত সহ অনেকে।
প্রভু হে ক্ষমা করে দাও আর করুণা তবে,
স্থান দাও তাদেরকে জান্নাতের এক প্রশস্থ ময়দানে।।
…………………………………………..

শরৎ

বাংলার সংসার ষড়ঋতুর রঙ্গশালা,
এ দেশ ঋতু বৈচিত্রের লীলাভূমি।
বর্ষার বিষনতা অতিক্রম করে,
জ্যোৎস্না ও পুষ্প সুষমা নিয়ে আগমন করে শরৎ।
চাঁদের কিরণে পথ ঘাট অপরূপ,
সৌন্দর্য মন্ডিত হয়ে উঠে রাত্রিকালে।
প্রফাত শেফালী ফুলের,
সৌরভে ভরে উঠে শরৎ।
সুনীল গগনে মাঝে মাঝে,
সাদা মেঘ স্তূপীকৃত হয়ে বেড়ায় শরতের।
দিনের সোনালী রোদ্দুরের ঝিলিমিলি,
রাতের ধবধবে জ্যোৎস্নার ক্লান্তি নিয়ে শরৎকাল।
…………………………………………..

স্বাধীনতা তুমি

স্বাধীনতা তুমি অর্জিত হয়েছ,
লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে।
স্বাধীনতা তুমি অর্জিত হয়েছ,
লাখো মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে।
এখনো ভূলে নি ৭১’র ২৫ মার্চ
কালো রাতের স্মৃতি বাঙ্গালী জাতি।
হয়ত ভূলতে পারবে না আজীবন।।
নিরস্ত্র বাঙ্গালীর ওপর
জল্লাদ বাহিনীর বর্বরোচিত নগ্ন হামলা।
স্বাধীনতা তুমি অর্জিত হয়েছ,
রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে এই বাংলাদেশ।
স্বাধীন সর্বভৌমত্ব রাষ্ট্র হিসেবে,
স্থান পেয়েছ পৃথিবীর মানচিত্রে।
…………………………………………..

প্রিয় জন্মভূমি

সবুজ সোনার বাংলাদেশ
আমার প্রিয় জন্মভূমি।
সবুজ মাঠে সোনার ফসল
চারদিকে ছড়াছড়ি।
ষড়ঋতু ছয়টি রুপে
সাজে সোনার মাঠ।
গাছে গাছে মধুর প্রাণে
কিচির মিচির ডাক।
নীল আকাশে উড়ে বেড়ায়
অতিথি পাখির দল!
হে প্রিয় জন্মভূমি
প্রাণের চেয়ে ভালবাসি তোমায়।
তোমার সুখে আমার সুখ
তোমার দুঃখে দুঃখী।
তোমায় নিয়ে দেখি আমি
রঙ্গিন স্বপ্নের মুখ।
…………………………………………..

শীতের পোশাক

ভোরের ঘাসের বুকে শিশিরের টলমলে উপস্থিতি
রাতের কুয়াশা হাড়কাঁপানো শীতের পূর্বাভাস।
শপিংমল-ফুটফাটে জমে উঠেছে
কত বাহারি রঙের শীতের পোশাক।
শীত নিবারণে মন চাই ফ্যাশনেবল পোশাক
শীতের পোশাক যেনো হয় রঙিন বৈচিত্র্যের ছোঁয়া।
দিন দিন বেড়েছে কদর শীতের চাদরের
শীতের সকালে চাদর ছাড়া হয় না শরীরের উষ্ণতা।
…………………………………………..

বসন্ত

প্রিয় বাংলাদেশ ছয়টি ঋতুর দেশ
ঋতুরাজা বসন্ত যেনো এক অনন্য অপরুপ।
শীত শেষেই ঋতুরাজা বসন্তের আগমন
ফাল্গুন-চৈত্র মিলেই বসন্তের ছোঁয়া।
বসন্ত মানেই গাছে গাছে নতুন সবুজ কচিপাতা
সবুজ কচিপাতা রূপ দেখলে জুড়িয়ে যায় মন।
বসন্ত মানেই গাছে গাছে নতুন ফুল
বাতাসে ফুলের গন্ধে চারদিকে ছড়াছড়ি।
মধু আহরণে আসা মৌমাছির
গুঞ্জন চারদিকে মুখরিত।
বসন্ত মানেই মধুর কন্ঠে কোকিলের ডাক
বসন্ত মানেই প্রকৃতির নতুন মুখ।
…………………………………………..

পথ শিশু

পথ শিশুদের নেই কোনো ঠিকানা
এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ায়।
কত শত ছেঁড়া কাপড় পরে
দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে।
থাকে সারাবেলা অনাহারে
শুধু খায় ডাস্টবিনের নষ্ট খাবার।
একমুঠো খাবার জোগাতে তবুও পারে না
টাকার জন্য পিছু ছাড়ে না।
রাত হলে শুয়ে পড়ে
রাস্তার ফুটপাত কিংবা স্টেশনের পাশে।
বুকে থাকে কত হাজারো স্বপ্ন কত আশা
সব শেষে কিছু হয় না গড়া।
…………………………………………..

গ্রীষ্মের দৃশ্য

গ্রীষ্মকালে পড়ে গরম
যায় না ঘরে থাকা।
গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপে,
খাল-বিল, ডোবা-পুকুর যায় শুকিয়ে।
গ্রীষ্মকালে প্রকৃতির বুকে,
আঘাত হানে কালবৈশাখী ঝড়।
সবার মনে ঝড় তুফান,
আনে কেবল ভয়।
চোখ জুড়ানো মন মাতানো,
কত বাহারি ফল-ফলাদি।
আম কুড়ানো গাছ তলাতে,
থাকে সবার নজর।
কাঁঠাল পাকে ঝাঁকে ঝাঁকে,
খেতে লাগে দারুণ মিষ্টি।
…………………………………………..

বর্ষার হাসি

বর্ষা নতুন সাজে সাজায় প্রকৃতির রং,
প্রকৃতিতে ফিরে আসে সজীবতা।
গ্রীষ্মের তাপে মাঠ-ঘাট ফেটে হয় চৌচির,
বর্ষায় ফিরে আসে সেই সজীবতা।
গাছে গাছে সবুজ পাতা,
আর নানা ফুলের সমারোহ।
জমিতে জমিতে ধান,
কৃষকের মুখে হাসির বান।
প্রকৃতি এক অপরূপ সৌন্দর্য গড়ে ওঠে,
আর মানব মনে বয়ে আনে আনন্দের জোয়ার।
…………………………………………..

জ্যোৎস্নার রাত

জ্যোৎস্নার রাতে প্রকৃতি চন্দ্রে,
রূপালি আলোতে যায় ভেসে।
চোখ জুড়ানো মন মাতানো,
কত সৌন্দর্যের মনোরম ?
নীল আকাশে মিটমিটি তারা,
প্রকৃতির সৌন্দর্য করে মনোরম।
পূর্ণিমা চাঁদের আলো করে ঝলমল,
বৃক্ষরাজি মৃদু বাতাস নড়ে।
জ্যোৎস্না রাতে প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য,
ক্ষণিকের জন্য দূর করে দুঃখ-কষ্ট।
…………………………………………..

আল মাহমুদ মানে

আল মাহমুদ মানে
সৌজন্য ও শিষ্টাচারের ছোঁয়া।
আল মাহমুদ মানে
স্রষ্টার বিশ্বাসে আলোকিত চেতনার আবেগ।
আল মাহমুদ মানে
সোনালী কাবিনের কবি।
আল মাহমুদ মানে
বাংলা গল্পের এক আশ্চর্য সাহসী রূপকার।
আল মাহমুদ মানে
শব্দালংকারের নান্দনিকতা।
আল মাহমুদ মানে
কবিতার ছন্দের নতুনত্ব।
আল মাহমুদ মানে
মিথলজিক্যাল রোমান্টিক কবি ।