এ দেশ আমার

এদেশ আমার মায়ের মতো
স্নিগ্ধ ছোঁয়া ঢালে
এ দেশেরই ঋণ শুধিতে
পারে কে কোন কালে।

পায়ের নিচে কোমল মাটি
দেহ মাটির গড়া
সবুজ শ্যামল প্রকৃতিতে
চলছে বাঁচা মরা।

যেদিক তাকাই চোখ জুড়ে যায়
বাঁচার সাধ আরো
এই না ভুবন ছেড়ে যেতে
মন চাই না কারো।

এই মাটিতে ঠাঁই নিয়েছি
ঘুরছি আপন মনে
এই মাটিরই রূপের রসে
খুশি প্রতিক্ষণে।

মুক্তার মতো দেশটি আমার
চিকচিক করে হাসে
রূপ রসে বিচিত্র এ দেশ
রূপ সাগরে ভাসে।
…………………………………………..

সবুজ শ্যামল গাঁও

গ্রামের মেঠো পথে আমি
সুখ সমুদ্রে ভাসি
কষ্টগুলো তুচ্ছ হেথায়
সুখ যে রাশি রাশি।

বন বাদাড়ে পাখির সুরে
খুঁজি ছন্দ খানি
গ্রামের জীবন স্নিগ্ধ অতি
জুড়ায় পরাণখানি।

মৌমাছির মৌ মৌ গন্ধে
বাগিচায় প্রাণের খেলা
মধুর রস খুঁজতে গিয়ে
কাটে সারা বেলা।

মাথার উপর বিশাল আকাশ
স্নিগ্ধ গাছের ছায়া
গ্রামের পথে দেখতে পাবে
কী যে ভীষণ মায়া।

পাখপাখালির মিষ্টি সুরে
বিমোহিত আমি
শহর ছেড়ে গ্রামে এসে
পথ খুঁজে নাও তুমি।

প্রজাপতির বর্ণিল ছটা
দেখতে যদি চাও
সব ছেড়ে এসো তবে
সবুজ শ্যামল গাঁও।
…………………………………………..

ফলের কথা

আমের রসে জুড়ায় এ প্রাণ
কন্ঠে খেঁজুর মিষ্টি
জাম্বুরা আর কামরাঙা খেয়ে
বাড়ে চোখের দৃষ্টি।

নানান রঙের কলা আছে
আছে লিচু, লেবু
আনারস আর পেঁপের কথা
ভুলিনি যে কভু।

কাঁঠাল বেচার ধুম লেগেছে
গ্রামের হাঁটে আজি
ডাবের পানির শীতল ছোঁয়ায়
কমলো রৌদ্রের ত্যাজ-ই।

বেল ও লেবুর শরবত খেয়ে
জুড়াই পরাণ খানি
তরমুজ ও আঁখের রস খেয়ে
শীতল শুষ্ক প্রাণ-ই।

আনার, কদবেল, জলপাই খাই
পানিফল, আমলকী
চালতার আচার খাওয়ার তরে
জিহ্বায় পানি একি!

আরো আছে নানান ফল
বাঙ্গি, চিনাবাদাম
আপেল, কাঠলিচুর মিষ্টি রসে
বুঝবে তাদের দাম।
…………………………………………..

পাখির চোখে স্নিগ্ধ ভুবন

সকাল বেলায় কিচির মিচির
ডাকে নানান পাখি
নিদ্রা শেষে সুখের পরশ
জাগে দুটো আঁখি।

শান্ত শীতল ভোরের আলো
নয়ন জুড়িয়ে যায়
বাঁচার মায়া প্রাণের মায়া
স্বপ্ন রাঙা গাঁয়।

নানান রঙের পাখপাখালি
মিষ্টি তাদের গলা
সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ে
বাঁচার তরে চলা।

রঙে যেমন কন্ঠে তেমন
বিচিত্রতায় ভরা
দরদ গলায় সুরের ছোঁয়ায়
জাগে বসুন্ধরা।

এমন দেশটি কোথায় পাবে
শান্ত পরিপাটি
পাখির চোখে স্নিগ্ধ ভুবন
আমার দেশটি খাঁটি।
…………………………………………..

ফুল বাগিচা

ফুল বাগিচায় ফুলের সৌরভ
বিমোহিত মালী
পথিক আজি ফুলের সাথে
গড়েছে মিতালী।

ফুল বাগিচায় ফুলের সৌরভ
গন্ধে বিমোহিত
পথিক আজি তার’ই ছোঁয়ায়
যেন পুরোহিত।

নয়ন ভরে দৃশ্য দেখে
প্রাণে লাগে দোলা
এই যে দৃশ্য কোমল অতি
ছন্দে আত্মভোলা।

দেহে শিহরণ জাগে তার
মনে জাগে ঢেউ
এমন দৃশ্য দেখতে চাইনা
নাই যে এমন কেউ।
…………………………………………..

সাবধানে পথ চলা

স্বাস্থ্যবিধির ঘেরাটোপে
থাকছে না আর কেউ
বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছায়
জনস্রোতের ঢেউ।

যেমন খুশি চলছে তেমন
সেলুন, মুদি, সুপারশপে
সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি
বাড়ছে রোগ বীরদর্পে।

সবাই যেন যাচ্ছে ফিরে
রোগটির পূর্ব দিনে
রোগটি আরো বাড়তে পারে
সাবধানতা হীনে।

জনপরিসরে লোকসমাগম
ভীত সন্ত্রস্ত মন
কখন জানি কী হয়
উৎকণ্ঠায় সারাক্ষণ।

চিন্তায় আজি বাতাস ভারী
মন নেই আর ভালো
কখন যে দূর হবে
হতাশার এই কালো।

নির্দেশনা মেনে চলে
পা বাড়াবো পথে
সবসময় চলবো পথ
সাবধানতার সাথে।
…………………………………………..

ঈদের ছড়া

পাখির ডাকে ভোর হলো আজ
ভাঙলো গভীর নিদ
বছর শেষে আবার এলো
সবার ঘরে ঈদ।

সবখানে আজ ঈদ এসেছে
খুশির বার্তা নিয়ে
গরীব দুখীর পাশে থাকবো
সম্প্রীতির মন দিয়ে।

সবার মুখে হাসির ঝিলিক
ঝলমলিয়ে উঠুক
ঈদ মোবারক এই ধ্বনিতে
আনন্দের ফুল ফুটুক।

বাতাসে আজ খুশির ছোঁয়া
আন্দোলিত আমি
ঈদ মোবারক জানাই তোমায়
গ্রহণ করো তুমি।
…………………………………………..

করোনার দিনে ঈদ

বিশ্ব যখন করোনায়
কাঁপছে থরোথরো
ঈদের খুশি ঘরের কোণে
হাত বাড়িয়ে ধরো।

ঈদের খুশি নেই আজ
ঈদ আসেনি ঘরে
আত্মীয় -স্বজন ঈদের দিনে
আছে বহুদূরে।

প্রতিবছর এমন দিনে
কত মজা করি
ঈদের এই দিনে আজি
কাঁপছে বিশ্ব ডরি।

সবাই মিলে নাইবা করলাম
এবারে ঈদে মজা
পরের ঈদে থাকবো সবাই
সুখের সন্ধানে খোঁজা।

এবারের ঈদে মজা নেই
দুঃখ নেই তাতে
পরের ঈদ হয় যেন
আনন্দের সাথে।

মায়ের মুখে হাসি নেই
ছেলে নেই ঘরে
ঈদের এই দিনে আজি
আছে ফাঁকা ঘরে।

বনের পাখি মনের সুখে
নীল আকাশে উড়ে
মায়ের মুখে হাসি নেই
কষ্ট হৃদয় জুড়ে।

বাতাস আজও ঠিকই বহে
পাখি গায় গান
আজকের এই খুশির দিনে
খুশিতে নেই প্রাণ।
…………………………………………..

কুনোব্যাঙের বিয়ে

কুনোব্যাঙের সাধের বিয়ে
হচ্ছে বুঝি কাল
সেই খুশিতে তেলাপোকা
দিচ্ছে আজি ফাল।

টিকটিকিটা ভীষণ খুশি
বিয়ের দাওয়াত পেয়ে
মজা করে খাবার খাবে
বিয়েবাড়ি গিয়ে।

কুনোব্যাঙে স্বপ্নঘোরে
লুটোপুটি খায়
বিয়ের শাড়ি গায়ে পরে
শ্বশুরবাড়ি যায়।

শ্বশুরবাড়ি খুবই কাছে
একোন হতে ওকোন
যাওয়া কিন্তু মিস হবেনা
কান পাতিয়া শোন।

বিড়ালছানা সামনে এসে
করছে মিউ মিউ
সবাই মিলে খাচ্ছে খাবার
বাদ পড়েনি কেউ।

চুপিচুপি ইঁদুরছানা
ফন্দি আঁটে মনে
দাওয়াত বিনে খাবার খাবে
অতিথিদের সনে।
…………………………………………..

ফুল

রঙ বেরঙের ফুল ফোটে
সুন্দর ধরণীতে
ইচ্ছে মতো রোপন করি
গ্রীষ্ম, বর্ষা,শীতে।

ফুল আমার খুবই প্রিয়
পবিত্রতার ছোঁয়া
তোমার কানে গুঁজে দেব
ওহে লক্ষ্মী প্রিয়া।

কোন ফুলটি ভীষণ প্রিয়
জানিয়ে দিও প্রিয়া
তোমার মন ভরিয়ে দেব
তাহার সুবাস দিয়া।

জীবনতো একটাই ভবে
সাজাও ফুলের মতো
যত চাও গুঁজে নাও
ফুটছে অবিরত।

ফুলের রাণী গোলাপ ওহে
দেখতে চমৎকার
ফুলের মতো জীবন গড়ে
সাজাবো সংসার।