মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন ঔপন্যাসিক। পাপাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার (বর্তমান জেলা) শাহাজাদপুর (উপজেলা) থানার চরবেলতৈল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অবিভক্ত ভারতবর্ষের পূর্ববঙ্গের উত্তরাঞ্চলে যমুনার তীরবর্তী নিম্ন সমতল ভূমিবেষ্টিত এই চরবেলতৈল গ্রাম। ঢাকার নর্মাল স্কুল থেকে পাস করে প্রথমে তিনি জলপাইগুড়ির একটি নীলকুঠিতে চাকরি করেন; পরে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে সিরাজগঞ্জের ভাঙ্গাবাড়ি মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয়, সলঙ্গা মাইনর স্কুল ও রাজশাহী জুনিয়র মাদ্রাসায় চাকরি করেন। কিছুদিন তিনি ডাকঘরে পোস্টমাস্টারের দায়িত্বও পালন করেন।

নজিবর রহমান ১৮৯২ সালে স্বগ্রামে একটি মকতব স্থাপন করেন যা পরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেখানেই শিক্ষকতা করেন। তিনি যখন সলঙ্গায় শিক্ষকতা করতেন তখন সেখানকার হিন্দু জমিদার গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ করলে তিনি তার প্রতিবাদ করেন, ফলে সে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহূত হয়।

প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা (১৯১৪) লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর অন্যান্য উপন্যাস: প্রেমের সমাধি (১৯১৫), চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি (১৯১৭), পরিণাম (১৯১৮), গরীবের মেয়ে (১৯২৩), দুনিয়া আর চাইনা (১৯২৪) ও মেহেরুন্নিসা। তা ছাড়া রয়েছে বিলাতী বর্জন রহস্য (১৯০৪) ও সাহিত্য প্রসঙ্গ (১৯০৪) শীর্ষক দুটি আলোচনা গ্রন্থ। নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন। নজিবর রহমান ১ কার্তিক ১৩৩০ বঙ্গাব্দ হিসেবে ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সকাল ৭/৮ টায় ৬৩ বৎসর বয়সে দুরারোগ্য যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল। সমাজ সচেতন সাহিত্যশিল্পী মোহাম্মদ নজিবর রহমানকে তাঁর হাটিকুমরুলস্থ বসত বাড়ির উত্তর-পশ্চিম কোনায় সমাধিস্থ করা হয়।