আবেগি পাখি

ওরে পাখি, নীল আকাশের পাখি, এই মেঘলা আকাশ মেঘের দুপুরে
তুমি আর কেঁদো নাকো এই শীতলক্ষ্যার তীরে
কেঁদো নাকো আর এই মেঘলা আকাশে উড়ে উড়ে
তোমার বেদনার এই সুরে
গোলাপের পাপড়ির মতো তার সেই চোখ দুটি বড্ড মনে পড়ে
এই বসুন্ধারার রাঙা রূপবতীর মতো
সে চলে যাচ্ছে আমায় ছেড়ে
আমার তারা ভরা আকাশ বাঁকা চাঁদের হাসি কেড়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে অনেক দূরে
আবার তুমি তোমার এই সুরে
কেনইবা তাকে ডেকে তোলো?

ওগো পাখি, নীল আকাশের পাখি,
এই মেঘলা আকাশ মেঘের দুপুরে তুমি আর কেঁদো নাকো এই শীতলক্ষ্যার তীরে
কেঁদো নাকো আর মেঘলা আকাশে উড়ে উড়ে।
…………………………………………..

মায়ের কল্পনা

মা… মাগো…
তোমাকে খুব মনে পড়ে,
ইচ্ছে হয় বার বার ছুটে যাই তোমার কাছে।
আমায় নিয়ে কত স্বপ্ন দেখেছো অন্তরে,
দশ মাস দশ দিন আমায় গর্ভে ধারণ করে।
কত অসহ্য যন্ত্রনা তুমি নিয়েছো বরণ করে,
এই পৃথিবী দেখিয়েছো আমায় ব্যথা আড়াল করে।
মা…মাগো…
কোন আশায় বুক বেঁধেছো আমায় নিয়ে,
জন্ম দিয়ে নিয়েছো কোলে তুলে,
আদর দিয়ে সোহাগ দিয়ে চুমু খেয়েছো গালে।
তোমার ডাকে সুর মিলিয়ে ডেকেছি মা.. বলে।

মা… মাগো..
কোন লালনা রেখেছো মনের ঘরে?
ছোট্ট ছিলাম, ছিলাম বিছানায় শুয়ে,
যতন করে ধরে আদর করে হাটতে শিখালে মোরে।
হাটতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেছি বলে,
তুমি চট করে দৌঁড়ে এসে কোলে নিয়েছো তুলে

মা… মাগো…
কত মজার গল্প বলে আমার মুখে,
দিয়েছো খাবার তুলে,
খাবার শেষে মুখটি আবার মুছে দিয়েছো তোমার অাঁচলে।

কখনো আমার অসুখ বিসুখ হলে
আমায় নিয়ে চলেছো তুমি দ্রুত হাসপাতালে।
প্রথম শিক্ষা দিয়েছো আমায় নিজের মত করে,
স্বরবর্ণ,ব্যঞ্জনর্ণ শিখিয়েছো মজার ছলে।
যখনএকটু বুঝতে শিখেছি নিয়ে গেছো ভর্তি করাতে পাশের বিদ্যালয়ে।
মা… মাগো…
কি স্বপ্ন দেখছো আমায় নিয়ে?
বড় হবে তোমার ছেলে, দেখবে জগৎ ঘুরে,
সম্মানে তোমার শীর উঁচু হবে বলে।
মা… মাগো…
তোমায় খুব মনে পড়ে,
তোমার মতো কেউ কভু আপন হবে নাকো।
…………………………………………..

জানতে ইচ্ছা করে

মন পাখি কেমন আছো?
কোথায় আছো? জানতে ইচ্ছা করে।
কোনো এক সন্ধ্যা বেলা মুঠো ভরে বাদাম নিয়ে আমার কথা ভাবছো কিনা জানতে ইচ্ছা করে।
এক বিকেল বেলাতে মেলাতে কেনা পায়ের নূপুর তোমার পায়ে কেমন আছে জানতে ইচ্ছা করে।
কেলেন্ডারের কোন দিনটি আমার মত খুব যন্ত্রনা তোমার টানা টানা চোখ তাকিয়ে থাকে খুব জানতে ইচ্ছা করে!
কোন ধ্বনিটি বাজনা হয়ে বেজে যায় তোমার মনের কোণে
ভালোবাসার কোন স্মৃতিটি তোমার মনের মাঝে দোলা দিয়ে ভাসিয়ে তোলে খুব জানতে ইচ্ছা করে
সকাল বেলা পাখির ডাকে ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমাকে মনে পড়ে কিনা জানতে ইচ্ছা করে
জানিয়ে দিতে চাইলে আমাকে পত্র দিও
আর না চাইলে না হয় ভুলেই যেও
যদি ভুলে গিয়ে থাকো তাতে কি? হয়তো একাধিক ব্যথায় ব্যথিত হবো তাতে কি?
আমি না হয় তোমাকে চেয়ে ভুল করেছি
নষ্ট গোলাপের পাপড়ি মেখে নিজেকে সাজিয়েছি তাতে কি আসে যায়?
এই ছোট্ট জীবনে কত আর ক্ষতি হবে?
এই অদৃশ্য ছায়া কত আর কষ্ট দিবে?
…………………………………………..

মনের রানী

ওগো মোর প্রিয় রাণী
আমার চোখের মণি
তোমায় নিয়ে বাঁধবো আমার
প্রেমের অট্টালিকা
তোমার হাতে পরাবো
রঙিন রেশমি চুড়ি
ঝুম ঝুম ঝুম আওয়াজ তাল ভাঙবে সকাল সাজে
তোমার কানে দিব মুক্তার দুল
সাজাবো তোমায় নিজ হাতে
খোঁপায় পরাবো ফুল
তোমার মেঘ কালো চুলে
ফিতা বেঁধে দেবো
পায়ে পড়াবো ঘুঙুর
নীল শাড়ি পরাবো তোমায়
কুচি করে দিবো আমি
চরণে আলতা হাতে আলতা
মাখিয়ে দেব
সাজাবো তোমায় মনের মতো
রংধনুর সাত রঙ মিশিয়ে দিয়ে। সাজাবো প্রেমের ঘর
তাকিয়ে দেখবো তোমার পানে
পলক পড়বেনা কো কভু
নয়ন জুড়াবো তোমায় দেখে
এসো আমার মনের রানী হয়ে।
…………………………………………..

শিক্ষা গুরু

দেখতে দেখতে অনেক বছর কেটে গেলো ভাই,
দেখেছি চেয়ে সেই আমি আর আগের মতো নাই।
হে শিক্ষক তুমি আমার শিক্ষা জীবনের গুরু,
হে শিক্ষক তুমি আমার জীবন চলার শুরু।
তুমি হচ্ছো জাতি গঠনের কারিগর,
তুমি ধরার উন্নত জাতীর শিকড়।
তোমারি কাছে আমি শিখেছি পাঠ্য কলা,
তোমার কাছে আমি শিখেছি পথ চলা।
তুমি শিখিয়েছো মানুষ কে ভালোবাসতে,
তুমি শিখিয়েছো অসহায় কে আপন ভাবতে।
তুমি গড়েছো এই সুন্দর জাতি,
তুমি দিয়েছো সবার জীবনের বাতি।
তুমি দেখিয়েছো আমাকে সঠিক পথ,
তুমি শিখিয়েছো কোনদিকে যাবো কোনদিকে দিবো বাদ।
তুমি শিখিয়েছো কাকে দিবো সম্মান,
তুমি শিখিয়েছো কাকে করবো অপমান।
তুমি জাগিয়েছো আমার জীবনের আলো,
তুমি শিখিয়েছো কোনটি সঠিক ভালো।
তুমি দিয়েছো আমাকে জ্ঞানের আলো,
তোমারি দানে হয়েছি আমি ভালো।
আজ হতে পারি আমি অনেক জ্ঞানী,
কিন্তু আমি তোমার কাছে ঋণী।
তোমারি দানে উন্নত হয়েছে জাতি তোমারি দান আগামি দিনের সাথী।
তুমি আমায় শিখিয়েছো ভালো ব্যবহার,
তুমি ছাড়া আমার জীবন অন্ধকার।
…………………………………………..

বীর বাঙালির কথা

গাহি বাংলার গান
এই বাংলা করেছে স্বাধীন,
লাখো শহিদের প্রাণ
ফিরে দেখো সেই দিন,
যেদিন ছিলো এই বাংলা,
শুধুই পরাধীন।
আটানার চাল দু টাকা দিয়ে কিনে খেতে হতো ভাই।
তখন বাঙালি এদেশের বুকে
ভাতে মরেছে তাই।
ওরা ভাতে মেরেছে পানিতে মেরেছে,
করেছে অত্যাচার,
সে সব কথা শুনলে যে মন,
করে যে হাহাকার।
বার বার যখন বাঙালির উপর করলো অত্যাচার
বীর বাঙালি উঠলো জেগে প্রতিশোধ নিবে তার।
বঙ্গবন্ধু ছিলো তখন এই বাংলার নেতা,
শুনেছি আমরা উত্তম সেই বীর বাঙালির কথা।
তিনি বাংলার বুকে দিলেন যখন স্বাধীনতার ডাক,
তাঁর ডাকেতে সাড়া দিলো, লাখো বাঙালির ঝাঁক
দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে পেলাম স্বাধীনতা,
এটাই হলো বীর বাঙালির আত্ম ত্যাগের কথা।
ওই শুনেছি বঙ্গবন্ধুর বজ্র আহ্বান,
চলো দীপ্ত পায়ে মুজিব লক্ষে কণ্ঠে মুজিবের গান।
তুমি জন্মেছিলে বলে জন্মেছিলো এই বাংলাদেশ,
বিনম্র স্রদ্ধায় শোকাহত জাতি,
শোকাহত এই দেশ।
যত দিন রবে এই বাংলার,
প্রকৃতি বহমান
ততো দিন রবে তুমি বঙ্গবন্ধু
ষেখ মুজিবুর রহমান।
তবে মিথ্যে শুনিনি ভাই,
এরই মত সুপ্রিয় সত্য এই বাংলায় নাই।
…………………………………………..

আকাশ তারার মেলা

নীল আকাশ কত নীল
কি করে বোঝাই তোমায়
জানো কি প্রিয়তমা,
মেঘকে যদি প্রশ্ন করি
কেন এমন রূপ
মেঘের উত্তর, ওপাশের
প্রেমের ভাষার কদর কমেছে
আকাশ আজ থমকে গেছে,
বারী হয়ে আছে নিরাকার
ঝরবে হয়ে চোখের অশ্রু
কাঁদবে নিরন্তর।
জানো কি প্রিয়তমা?
তোমার ছোঁয়ায় ভরেছিল মন
চারদিক দিন তারায় তারায় মেলা
আকাশটা তখন ঝলমল দিন
তারায় করতো খেলা
বাঁশ বাগানের মাথার উপর
চাঁদ মারতো উঁকি
আমি ডাকতাম এইযে চাঁদ
মজা করছো আবার নাকি
নীল আকাশ আলোর মেলা
ভেবেছিলাম সারা রাতের বেলা
তারার লুকোচুরি চাঁদের
জ্যোৎস্নার খেলায় যে বিশাল
ভরেছিল সারাটি আকাশ
এই দিন এই তারা এই
জোনাকি আজ করেছো কি অভিমান?
আমি তো ভাবি তোমায় নিয়ে
দেখবো বালুচর
দেখব আমি পাল তোলা নৌকা
যখন একটি নৌকায় টিম টিম
হারিকেনের বাতি জ্বলবে
তুমি গাইবে গান
ভরবে আমার প্রাণ
চারিদিকে বাঁচবে আকাশ তারার গান।