নিত্য সদাই

প্রতিদিনের নিত্য বাজার সদাই
হাফ ছেড়ে নেই বাঁচার উপায়!
চাল ডাল মুদি সদাই দরকারী
দিনে দিনে বাড়ে অজুহাতে
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির শোরগোল-
থাকেনা যেন বেশি বেশিক্ষণ।

রাজনৈতিক অস্থিরতায় দাম
বেড়েছে আছে মন্দা অর্থনীতি,
যায় না বাদ বিশ্বের কোন মহামারী।
দুর্যোগ আর হাজার অজুহাত
আছে বলার জন্য রেডী লোকবল,
জনগণ নিশ্চুপ যেন দিশেহারা
বাড়ছে না তার আয়ের পাল্লা।

প্রতি বার্ষিক বাজেট আসলে
বাজ যেন পড়ে নিত্য সদাইএ।
পণ্যের দাম কমা বাড়নো নামে
খেলা চলে দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে।
শিশু খাদ্য দুধ জীবন রক্ষাকারী ওষুধ
কখনো কমা যেনো তাদের বারণ।
কি যেন এক অদ্ভুত নিয়ম সব যেন
সয়ে যায় বাংলার বীরের জনগণ।।
…………………………………………..

কষ্টের রত্ন ভাণ্ডার

আমার তো কষ্টে নেই নিচ্ছি জীবনের দীক্ষা
তোমরা বলবে এতে হাজার রং এর আছে-
লাল কষ্ট নীল কষ্ট হয়তো বা ধূসর কষ্টের মেলা
অনুভূতি রংয়ের মেলা আমার জীবনের বায়না।
অশ্রু মানসিক যন্ত্রণা এবং হৃদয়ের রক্তক্ষরণ
সব অনুভব করেছি এটা আমার ডাইরিতে লেখা।

রোজ কষ্ট গুলো লিখে রাখি আপন মনে ভেবে-
বেমালুম ভুলে গেছি মিশে গেছি লেখায় মাঝে
ভালোবেসে কষ্টের বর্ন অনুভূত হয়েছে রত্ন ভাণ্ডার-
কষ্ট আমার কষ্ট লাগে না ভালোবাসি লেখায়
নিজের লেখা নিজে পড়ে হয়েছে বেশ আর্কাইভ
সোনালী অতীত আমার কষ্ট দিয়েছে রত্ন ভাণ্ডার।
…………………………………………..

মন্ত্রী হতে হবে

মন্ত্রী হতেই হবে-
ছেলে আমার ছোট্ট
তোমরা সব হাসছো
এটাই আমার লক্ষ্য।

হাজারো জনতা
হোক না ভাড়া করা,
অন্য যেকোনো দলের
অর্থে হবে প্রিয় ও আদর্শ।

নানান সব ডিগ্রিধারী
ধন্না দিবে দিবারাত্রি
সাংবাদিকের অপেক্ষা,
নেতা কর্মীর কলরব
আঙ্গিনা থাকবে সারাক্ষণ।

দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ায়
লাগবে না নিজের অর্থ,
ব্যবসা-বাণিজ্য দাপটে
ধনী হবে বিদেশ শীর্ষ ।

সরকারি সব প্রণোদনা
সেবার নামে মিলবে
দেশের সব অর্থ দিয়ে-
বিদেশি সম্পদ পাহাড়
একের পরে এক গড়বে।

প্রভাবশালী শীর্ষ মিডিয়া
ছেলের হবে মস্ত কাভারেজ।
বিজনেস যত এওয়ার্ড
আমায় দিবে উপহার।
…………………………………………..

সম্পর্ক

আমার উদ্দেশ্য তোমার সাথে একটি সম্পর্ক করা-
এর তুমি কি নাম দিবে ইচ্ছে প্রেম না ভালোবাসা
আমি বলছি না তুমি আমার জীবন তুমি আমার মরণ
শুধু এতোটুকুই এক হয়ে থাকতে চাই একসাথে মরতে
না না একি মরার কথা বলছি কেন তা বড় বেমানান
জন্মিলে মৃত্যু মানুষ হলে প্রেম থাকবে ভালোবাসা
আর এসবের মাঝেই সম্পর্কে তোমাকে রাখতে চাই।

জানো আমি রংধনুর স্বপ্ন দেখি শুধু তোমাকে ঘিরে
রংধনু যেমন তেমন প্রত্যেকটাই তোমায় দেখা যায়-
ভালোবাসা কি পাগল করে না পাগলরা ভালোবাসে!
শাহবাগের ফুল গুলো সব কি নিতে ইচ্ছে করে-
তুমি আমার একমাত্র ফুল তোমায় দিব বলে তবে।
ঝুম বৃষ্টিতে ভেজা আজ জ্যোৎস্না দেখা তোমায় নিয়ে
নদী পাহাড় ছুটে বেড়ানো শখ আমার যে বড্ড
আমি বলছি না ভালোবাসো আমায় রেখো সম্পর্কে।।
…………………………………………..

সুন্দরীর অপেক্ষা

সুন্দরী কমলা র অপেক্ষায় আছি
কোমলতা মিশে থাকবে তার হাসি।
কোন চাউনীতে বুঝিয়ে দেবে
একে অপরকে ভালোবাসি।
প্রচণ্ড রোদের মাঝে ছোট সময় নিয়ে
লেবুর শরবত বানিয়ে থাকবে-
সযত্নে আমার অফিসের কাপড়
সকালে তাড়াহুড়াতে মিলবে।
হোক না অনেক মনের কষাকষি
ম্যাচিং করে ঘুরে বেড়ানোর রঙে
রিকশায় যাব এদিক-সেদিক
দিনশেষে মিলে অপলক চাহনি।
ঝুম বৃষ্টিতে বৃষ্টি মিশিয়ে চা
টং দোকানে করে ঠাসাঠাসি ।
জোছনায় গল্প হীন নির্ঘুম রাত
বলতে হবে না ভালোবাসি তোমায়
অজান্তেই জানিব এই সাজানো বাগান।
…………………………………………..

লক্ষ্য একটাই নেতা

রাজনীতিতে অতশত তো বুঝি না
জনগণ জন প্রীতি আর জন কল্যাণ,
সবটুকু লোক দেখানো এক শোডাউন
মিথ্যে কথা প্রতিশ্রুতি ফুলছড়ি।
নেতারা শুধু আদর্শ নামের দেশ প্রেমিক
আমরা শুধু দেখি সাধারণ নির্বিকার-
পেশা ও শ্রমজীবী ছাত্র ও আমলা
করতে হবেই লেজুড়বৃত্তির চর্চা-
ছাত্র রাজনীতি নেই কোন মানা
এই সুযোগ নিচ্ছে রাজনৈতিক দলেরা,
দেশের জন্য তৈরি হওয়া তরুণেরা
ছুটে বেড়াচ্ছে শুধু অর্থ লগ্নি লক্ষ্যে নেতা!
ধর্মীয় নেতা আছে সে খেতাব মেলা
ডাক্তাররা বাদ দিয়ে চিকিৎসা
দলীয় স্বপক্ষের বাস্তবায়নের ব্যস্ততা।
শিক্ষক তুমি ছিলে জ্ঞানের আলো
তকমা আজ তুমি দলীয় মুখপাত্র।
আইনের লোকেরা ও রাজনৈতিক দলে
সরকারি-বেসরকারী হতে হবেই-
পদ আমার নেতা-করী রাজনীতি
বাকি কাজ গুলো মাঝে সাজে সারি।
বিশ্বের নামধারী ধনীর মাঝে মোদের
দলীয় নেতা ব্যবসায়ী এক নামে চিনই।
প্রবাসে গিয়েও দলীয় নেতৃত্ব হাত পাতে
পাড়া গলি মহল্লা দেখি ব্যানারের নেতা
সাধারন জনগণ আমরা কোণঠাসা।
তারপরও সবকিছু যেত মানা-
জনগণের জীবন জীবিকা না হলে কোন ঠাসা।
ভারি এক লক্ষ সবার হতে হবে নেতা
রাজনীতি ছাড়া যেন মানুষ হওয়া জানেনা!
…………………………………………..

কাজ দিবে কাজ

কাজ দিবে আমায় একটা কাজ,
গ্রামের মেঠোর ভের মাইল পথ হেঁটে
খেয়া নদী আর গরু ছাগলের সাথে
করে এসেছি মোটর ট্রাক গাড়িতে।
অশিক্ষিত নই পাস করেছিস ফাইপ-
অনাহারে-অর্ধাহারে পারছিনা গ্রাম্য,
জীবন-জীবিকা তালগোল সবই আজ।
বিদ্যা বুদ্ধি পেটে না হয় আমার কম-
ছোট বেলায় এতিম আমি দিইনি সুযোগ।
পয়সার যত সব আত্মীয়-স্বজন করে দুরদুর
ভিটামাটি মিটিয়ে নিল এতিমের আগের
সব দেনা পাওনা মহাজন আর মোড়ল।
বয়সে আমি কিশোর বালক তাতে কি
চালাতে রিক্সা ভ্যান ভারী যত কাজ।
না হয় বেশি সময় করব কাজ যদি দাও,
পেটে দুটি ভাত না তুলে গায়ে হাত।
গ্রাম থেকে শহরে এসেছে না খেয়ে দুদিন-
সাহায্য না কাজের বিনিময় খেতে চাই
কাজটা বড় দরকার কাজ দিবে কাজ!
…………………………………………..

শুকনো ফুল

আমাকে ভুলে যাওয়ার কারণটা কি তোমার জানা আছে
জানি আজ তুমি অন্যের হয়তো বেশ ভালো আছো

মোহাম্মদ সাঈদ হোসেন, তরুণ সংগঠক ও লেখক। জন্মস্থান ফেনী: ১৯৮৭, আবাসস্থল: ঢাকা। উন্নয়ন অধ্যয়ন এ স্নাতকোত্তর, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ঢাকা। পেশা: ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড। ই-মেল:saeedhossainbd@gmail.com.

মোবাইল:+8801717636457,; https://www.facebook.com/mohammhadsaeed.hossain