দৈন্যতা

ক্ষীণ হয়ে আসছে সময়,
অস্তিত্বের সংকটে মগজ।
ফুসফুস,রক্তনালী,
কুরে কুরে খাচ্ছে!
ভেদ করেছে শিরায় শিরায়।
তুমি কে? আমিই বা কে?
ভেবে দেখেছ কি কখনো?
সময়ের স্রোতে ভেসে আসা,
পূবালী বাতাস।
আবার ফিরে, অন্য কোন তটে।
এইতো নিয়ম! মেনে নাও-মেনে নাও!
মুক্তি এখানেই।
নয়তো ভুগতে হবে,
অস্তিত্ব হারানোর ব্যথায়।
আসা যাওয়ার খেলা চলে অবিরত,
স্মৃতির পাতা বেড়ে যায়।
আবার পৃষ্ঠা বদলায়,
নতুন দিনের সূচনায়,
নিকষ কালো আঁধারে,
শুক্লপক্ষের আবদারে;
নয় কি অলীক স্বপ্ন সম?
নিরাশার চাদরে ঢেকে রয়।
কাল্পনিক সংকটাময় প্রহর।
যাবে কেটে ঘোর,
আবার রবির কিরণে জাগবে ধরনী।
সেই অবধি টিকে থাকার লড়াই।
…………………………………………..

অস্ফুট প্রতিফলন

যদি, আমাকেই খুঁজতে হয় পথের দিশা,
বিরামহীন শহরের বুকে ছুটে চলতে হয়,
হে অগ্রজ, দিন ফুরাবে হেলায়;
সরাতে হবেনা কণ্টকাকীর্ণ পথ,

জঞ্জাল সাফের নেই কোন বালাই।
শুধু একটিমাত্র আলোর পথ চাই।
ঘামেভেজা শত মুখের হবে অবসান।
পথের মাঝে উপেক্ষিত ঘাসের ডগায়,
ভোরের ঝলমলে একবিন্দু শিশিরকণা,
সদা উদ্ভাসিত রৌদ্রজ্জ্বল দীপের আভায়।

শত বৎসর ধরে দুর্গম অশ্ম খুঁজতে খুঁজতে,
ফুলেল সংস্পর্শে পরিত্রাণ সংশয়।
“অমরত্বের” কাঙ্গাল নয় এই পিয়াসী মন!
আমিত্ব সন্ধানে নতজানু হৃদয়।
ভস্ম-চূর্ণ, রাং নাকি সোনা-পান্না।
সবই অচেনা ভূষণ এ কলেবরে।
…………………………………………..

প্রিয়তম

যেদিন থেকেই অস্থিমজ্জা জুড়ে,
তুমি করছো বসবাস।
সেদিনই হয়ে গেছে আমার সর্বনাশ
ক্ষনিকের দেখায় হৃদয় হরণ,
সেদিনই তোমায় করেছি বরণ।
এইতো সেদিন রাঙ্গালে আবিরে,
সেদিনই প্রবেশিলে হৃদয়ের গভীরে।
একটা ক্ষণ সে’তো মনে হয় শতাব্দী,
অনুভবে রয়েছে শেষ অব্দী।
যেমনি করে পথহারা পাখিরা খোঁজে,
ভালোবাসার নীড়।
তোমাতেই মন যেন চির স্থির।
প্রিয়তম,তোমার চোখে সাগরের বিশালতা,
এতো নয় আমার গল্পকথা।
রক্তরাঙ্গা লালের পরশে,
পাগলিনীর বেশে ছুটেছি হরষে।
চৈত্রের ক্ষরতাপে তৃষিত হৃদয়,
এতো তোমারই পরিণয়।
যে বাঁধন পারেনি বাঁধতে আমায়,
বেঁধেছ তুমি শীতলতার ছায়ায়।
নিঃশব্দে পা ফেলেছি যতবার,
তোমারই ঝংকারে চাঞ্চল্য শত সহস্রবার।
…………………………………………..

পড়ন্ত বেলা

আমার জানালায় উঁকি দিয়ে যায়,
পশ্চিমে হেলে যাওয়া রক্তিম রবি।
অপলক চেয়ে রই গেঁথে রাখি ছবি।

দিনশেষে নিভে যায় আলো,
সন্ধ্যার শুরুতেই পৃথিবী হয় কালো।
একফালি চাঁদ আসে মধ্য গগনে প্রকৃতি ঝলমলো।

দীর্ঘ একটা রাত কেটে যায়,
তারপর ভোর হয়।
তমসা কেটে আবার আলো দিয়ে যায়।

একলা ভাবি বসে নিরালায়,
এতরঙ, এতরূপ প্রকৃতিময়।
দিনের শেষে সবই একেলায় পড়ে রয়।

সায়াহ্ন এসে দুয়ারে দাড়িয়ে,
শোভামন্ডিত চারণ ভূমি।
অন্তিম প্রহর বুঝি এলো ঘনিয়ে।
…………………………………………..

শেষ প্রণয়

বিদায়ের বেলায় পথরোধ করবোনা,
জানাবোনা কোন অভিযোগ।
কিংবা প্রশ্নের বাণে জর্জরিত করবোনা তোমায়।
শুধু একটাই অনুরোধ যদি দিতেই হয়,
তবে দাও একগোছা লাল কাঁচের চুড়ি।
সযতনে তুলে রেখে দেবো;
যখন কাঁচের টুকরো ভেঙে,
রক্তাক্ত হবে পুরো হাত।
বুঝে নেবো পেয়েছি ভালোবাসার উপহার।
যখন কেউ শুধোবে আমায়,
এটা কিসের ক্ষতচিহ্ন,
তখন বলবো,এ আমার ভালোবাসার,
নানা রঙের ফুলে ভরা প্রতিদান।
…………………………………………..

ফাল্গুনী চিঠি

রঙে রঙে রঙ্গিন,
শীতের শেষ।
তবুও কাটেনি প্রতিক্ষার রেশ।
চারদিক মুখরিত কোকিলের সুরে,
কে যেন ডেকে যায় দূর থেকে দূরে…
এ নয় আমার ভাবনা,
নয়তো মিথ্যে প্রচারণা,
সেযে তুমি এতো আমার জানা।
পলাশের বনে বনে আগুন,
আগুন ঝরা ফাগুন।
দিকে দিকে লাল,নীল,সবুজ,
হৃদয় অবুঝ…
পূবালী বাতাস পেরিয়েছে ছাদ,
এলোকেশী চুলে মনটা বড্ড উন্মাদ।
কি পাবে আর কি’ই বা চাই,
ভেবে ভেবে না পাই।
মনের তুলিতে এঁকে যায়,
প্রকাশের রঙ নাই।
রাতজাগা পাখি,
ঘুম ঘুম আঁখি,
কে যেন বলে কারণে অকারণে,
আসবে গোপনে।
আড়ালে লুকানো কথা,
এ আমার হৃদয়ের আকুলতা।
…………………………………………..

বৃষ্টির ধ্বনি

ক্লান্তিহীন শুনশান শহরের বুকজুড়ে বিষাদময় প্রহর,
অবিরাম গতিতে ছুটেচলে নির্দিষ্ট সময়।
ল্যাম্পপোস্টের ক্ষীণ আলোয় অচেনা ঝিঁঝিঁ পোকাদের শোরগোল,
ভেসেআসা করুণস্বরে সাইরেনের সুর।
শ্রাবণধারায় ভিজে পরিশ্রান্ত নীড়হারা পাখি।
আনমনে ভাবে মন কত অলীক কল্পনা,
মৃদু আলোয় বৃষ্টির ফোঁটায় অবারিত প্রশ্নের ধারাপাত।
ঘুমন্ত শহরের বুকজুড়ে মানবতার আর্তনাদ ভেসে আসে।
ভেজা শরীর বেয়ে নেমে যায় অতৃপ্ত বাসনা,
কারা যেন ফিসফিস করে বলে তুমি নিষ্পেষিত।
ধোঁয়াহীন কফির মগে উষ্ণতার ছোঁয়া জাগে।
খুঁজেফেরে বিশ্বস্ততার ছায়াশীতল পরশ মাখা ভোর।
…………………………………………..

স্বপ্নচারিনী

নাইবা হলো আজ খোঁপা
এলোকেশেই রয়েছ তুমি বাঁধা।
তোমার দেওয়া পার্বতী নামটা,
যাবেনা তবু বৃথা।
বিনুণী নাইবা হলো গাঁথা,
বকুল,বেলী তবুও বলবে কথা।
চোখে নাইবা হোল টানা কাজল রেখা,
তবু ও চোখেই তোমার নামটি লেখা।
সেই যে তোমার অনামিকা।
নীলশাড়ী আর কালো টিপে,
নাইবা হলো দেখা কাশবনে,
তবুওতো নীলাঞ্জনা তোমার মনে।
হাতের চুড়ি রিনিঝিনি যদি না’ই বাজে।
তাতে কি’ইবা যায় আসে।
তবুও তোমার নন্দিনী,
সেই আগের মতই সাজে।
নূপুর পায়ে ঘন বরষায়,
নাইবা হলো স্নান।
তবুও তোমার সিমন্তনী,
হৃদয়ে রয়েছে চির অম্লান।
…………………………………………..

যাযাবর পাখী

আমি কি বৃক্ষ, বলো?
দমকা বাতাসে হলুদ হয়ে যাওয়া
পাতার মত খসে পরবো মৃত্তিকায়।

আমি কি চিত্রকর, বলো?
যে রঙ তুলির আঁচড়ে,
ক্যানভাসে এঁকে দেবো রঙিন ছবি।

আমি কি যাদুকর, বলো?
যাদুর দক্ষতা আয়ত্ত করে,
অনায়াসে কালো কে সাদা করবো।

আমি কি গায়েন, বলো?
যে কন্ঠের মাধুর্য দিয়ে,
নিস্ফল প্রান পুলকিত হবে।

আমি কি কবি, বলো?
যার প্রতিটি স্তবকে থাকবে,
বাস্তব ঘটনার যথার্থ চালচিত্র।

তবুও তোমাকেই ডুবে থাকা

প্রথম দিনের মিষ্টি সেই সুঘ্রাণ,
আজও বারবার নাকের ডগায় আসে,
বহু ভাবনার জাঁতাকলে পিষ্টহয়ে থমকে যায়।
বারবেলা এসে সম্মুখে দাঁড়ায়,
ভীত সন্ত্রস্ত বক্ষজুড়ে মেঘের ঘনঘটা।

চেনা চেনা মুখের ভীড়ে,
জল্পনা-কল্পনার চির অবসান জানিয়ে,
তারই মাঝে তোমাতেই বিভোর হয়ে থাকি-
অন্তরালে লুকিয়ে থাকা গোপন কথা,
বারবার হাতছানি দিয়ে বলতে চেয়ে,
তবুও এড়িয়ে যায় অজানা মোহনার স্রোতে।
সময়গুলো চলে যায় নিয়ম করেই,
কিন্তু কই, নির্ঘুম স্মৃতিরা জেগে রয় দিবারাত্রি।
আঁধারের আলিঙ্গনে কেটে যায় প্রতিটা প্রহর।