মরে গেছে প্রেমনদী মহানন্দা নামে

নন্দিনী স্রোতস্বিনী প্রমত্তা প্রেমনদী মহানন্দা
অপরূপ দুইপারে সুখি জনপদ, শীতলা মৃদূমন্দা
পলিমাটি দিয়ে গড়া উর্বর সবুজের মাঠ
সুদূর বসে কংক্রিটের অট্টালিকায় স্মৃতি করি পাঠ।

যেখানে হারিয়ে এসেছি কিশোর কচি প্রাণ
যৌবনের দুর্দান্ত আবেগমাখা সুখ অফুরাণ
বালিয়াড়ি পথে সব সাথির মিছিল
বাল্য-গল্পে হাসিমুখে খালিপায়ে হাঁটা খিলখিল।

সম্প্রীতির বাহুবন্ধনে রেখেছে সে কাছে
পাশের আমবাগানে কতো কথাস্মৃতি লুকিয়ে আছে
ভুলি নাই রুমি সুমি কবিতা বীথির ধাম
তেমনি কি এই মনে হারিয়ে গেলো মহানন্দার নাম?

বুকের উপর এফোঁড় ওফোঁড় ব্রীজের সেলাই
বুক চিরে চলে কতো যানবাহনের সারি
বুক ফাটে, নিচে বালুচর, নৌকার সারি নেই আর
শীর্ণকায়া কংকালসার।
শৈশব কৈশর যৌবন ফিরে গেছে
প্রেম নেই মনে, চলাতে নয় ছন্দা
মরে গেছে আমার প্রেমনদী মহানন্দা।

কোমরের রশি হয়ে পেঁচিয়ে রাখে গ্রামীন সীমানা
কোথায় সৃষ্টি, শেষের ঠিকানা ছিলো নাতো জানা
যখন জেনেছি সব বিচ্ছেদের আগুন জ্বলে মনে
হয়তো দেখা হবে শেষদিন,
অনন্ত কথা হবে নিঃশব্দ আলাপনে।
……………………………………………

প্রিয়মুখ

এই সেই রমনা পার্ক এখনো তেমনি আছে
সুবাসিত প্রস্ফুটিত ফুলে মায়া ছায়া ঘেরা
যেন কিছুটা ধূসরতায় মোড়া
চক্করে হেঁটে যায় সারি সারি কতো লোক
বৈকালিক ভ্রমনে
হারিয়ে গিয়েছে শুধু একটি নাম
যা আছে দিবানিশি এই মনে সর্বক্ষণে।

সেদিনও ছিলো এমনি বিকেল, সোনা ঝরা মিষ্টি রোদ্দুর
জোড়া হাতে জোড়া চায়ের মগ
হাতের বাঁধনে হাত, মনে অনুরাগ
তাকিয়ে বিভোর ছিলাম ধোঁয়ায় উড়ে উড়ে
মহামিলনের সাগর কিনারে স্বপ্নীল কোন সুদূরে।

হারিয়ে গিয়েছে কতো মধুক্ষণ স্বপ্ন আশা
অবচেতন মনে ভাবি
সবুজ কুঁড়ির মাঝেও থাকে অব্যক্ত ভালোবাসা
সব কুঁড়ি থেকে ফোটে না ফুল, মেলে না পাপড়ি দল
সমাজের বাধা মিলনে তোলে বিচ্ছেদের সুর
বাকিটা জীবনে দীর্ঘশ্বাস বেদনা বিধুর।

আবার এসেছিলাম সেই কুঞ্জবন
স্মৃতির পেখম মেলে উঁকি দিয়ে গেলো উর্বশীর বাহুবন্ধন
দুখের সাগরে হাবুডুবু খাই চেয়ে উন্মুখ
তরল শেষে শূন্য কাপে দিচ্ছি চুমুক
কায়া হয়ে আসে নাই কেউ, একা একা গুণে যাই
কতোটা বছর গেছে, দেখি নাই সেই প্রিয় মুখ।
……………………………………………

দিন যায় দিন আসে

যেই দিন চলে যায় সেই ছিলো ভালো
মিথ্যের আশ্বাসে পিষে মরে আলো।
সময়ের সাথে চলা এটা জানা শেখা
দেখা যাক বিশ মাঝে কোন বিষ লেখা।

সুখ দুখ সাথে করে চলে যায় বর্ষ
হিংসা ও দ্বেষ থাকে মন খোঁজে হর্ষ।
চেয়ারের নিচে আঁটা জনমের আঠা
অধিকার ছুঁড়ে দিয়ে হয়ে গেছি পাঁঠা।

পুকুরের পরে চুরি সাগরের জল
অহমের বাণী শুনি নেই সাদা ফল।
হাতে পায়ে মুখে বেড়ি আশা গাঙচিল
ইচ্ছের মুখে আঁটা শেকলের খিল।

তবু আশা বেঁচে থাকে গহীনের তল
যদি বিশ দিয়ে শীষ আনে খুশি জল।
মুছে দিয়ে ঊনিশের মিছে প্রত্যাশা
বিষ হোক সকলের ভাষা ভালোবাসা।
……………………………………………

সময়ের পিঠে চড়ে আসে অসময়

বিবেককে দূরে ঠেলে যারা হয় বন্য
অহমের শিখা জ্বলে ক্ষণিকের জন্য।
কখন যে এসে পড়ে অজানা খবর
গোপনে গোপনে হয় খোঁড়া সে কবর।

সময়ের পিঠে চড়ে অসময় আসে
জালিমের ঠোঁট তবু কিছুদিন হাসে।
দেয়ালে যখন ঠেকে মজলুম পিঠ
ফোঁস করে জেগে ওঠে বিদ্রোহ ভিত।

পাহাড়ের পরে উঠে দেখে যারা নিচে
আকাশ মাথার পরে ভাবে কিসে পিছে?
বাতাসের দোল খেয়ে পড়ে গেলে তলে
পতন কোথায় যাবে ঠেকাবে কি ছলে?
……………………………………………

সুখ দুখ

সুখে আছে নবীনেরা অচল সে প্রবীনেরা
দুখে আছে যুবকেরা বুকে যার বল
সুখে আছে নেতা যারা সরকারি দলে তারা
দুখে আছে বিরোধীরা খুঁজে কৌশল।

সুখে আছে ঘুষখোর নেশা সুদ মদখোর
দুখে আছে সজ্জন চলা তার ভারী
সুখে, যার হাতে সই অশ্লীল ছবি বই
দুখে আছে পাঠবই, কবিদের সারি।

সুখে আছে পরীবানু স্বামী ডাকে জানু জানু
দুখে আছে পরঘরে যায় যার স্বামী
সুখে আছে দাদা ভাই যেথা সেথা ঘুরে তাই
দুখে আছে ময়েজেরা পায় না যে দামই।

হাতে মুখে জোর যার সুখ আছে ক্ষমতার
দুখে আছে নিয়মের খাত
সুখে আছে অনিয়ম মিথ্যের গাও দম
দুখে আছে মানবতা হাত।
……………………………………………

প্রত্যাশিত গোলাপ

সারারাত জেগে মনের মাধুরীতে গেঁথে মালা
বেদীতে করলে অর্পন, নাকি নিজেকেই সমর্পন
অর্চণার ফুলে লিখা ছিলো তোমার অভিলাষ
খোঁজো নাই বোঝ নাই অলিখিত প্রেমের গ্রন্থন।

সুতোর ফোড়ের পরতে পরতে ইচ্ছাজলের দাগ
অব্যক্ত কথাকলি তোমার প্রস্থানে এখন সবাক
ধোয়া তুলসি পাতার আবরণে ঢেকে গেছো
বিলাসী মননের যৌবন, হয়েছি হতবাক।

গোধূলির আগমনে তোমার প্রস্থান পদচিহ্ন
শিশির আচ্ছাদনে প্রেমালোকে জ্বলজ্বল করে
বাতাসে ভাসে গায়ের সুগন্ধ, বলে, দেখা হবে
আবারও বসন্তবাহারে সেই ক্যাম্পাস- অন্তরে।

আবারও যদি ফাগুন হাওয়ায় ভেসে আসো
হাতে করে আনবে জানি একটি গোলাপ কলি
অপেক্ষার প্রহরপ্রান্তে লজ্জার মাথাটি খেয়ে
দেখবো প্রিয়ার রূপে, সাথে প্রেমের মননথলি।
……………………………………………

সময় অসময়

লালসা জানালা খুলে হাসো ফিকফিক
আনন্দ করে যাও অহমে একাকী
তোমার কারণে কতো হারিয়েছে দিক
ভাবো নাই সে কথাটি রেখেছো তা বাকি।

আজ তুমি আলোকের শিখা দেখে যেই
মিথ্যের মায়াজাল বুনছো যা অন্যে
মহাকাল বলে যায়, বিপদ তাতেই
আঁধারে বিলীন হবে ঘৃণিত জঘন্যে।

দিনের আলোক নয় সদা বহমান
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে নামে অন্ধকার
অনুকূলে সময়কে গাঁথে রহমান
অনিয়মে পুঁতে ফেলে মহা ছন্দকার।

ছান্দিক সৃষ্টির মোহমায়া রূপে
প্রাণে জাগে যথারীতি টিকে থাকা সাধ
অসময় যদি ঠেলে আঁধারের কূপে
মৃত্যুকে কাছে ডেকে গনবে প্রমাদ।
……………………………………………

অব্যয়

খেয়ালি বেভুল মনে হতাশার বায়
ব্যাথাগুলি কাঁদে যার বিরহী জ্বালায়
হাতের মুঠোয় তবু গেলো নাতো ধরা
এ জীবন রয়ে গেলো অফসলে খরা।

পুষে রেখে ভালোবাসা হৃদয়ের মাঝে
যারে খুঁজি রাত ভোর বিকেল ও সাঁঝে
বুকে চেয়ে যারে এই আপনার করে
অধরার দুখ শুধু গেছে চোখে ঝরে।

কর্মের ক্ষেতে করে আগাছায় চাষ
খুঁজে গেছি কাদাজলে পচা নির্যাস
সারা গায়ে বয়ে যায় পাপী দুর্গন্ধ
এতোদিন চোখ ছিলো তারে বিনা অন্ধ।

আমার সবুজ দেহ অবুঝ হৃদয়
ডাক দিলে তার কাছে যাবো নিশ্চয়
তবে কাছে ফিরে যেতে লাগে কেন ভয়
ছেড়ে দিয়ে টেনে ধরে…চির অব্যয়।
……………………………………………

উষ্ণ পরশ পেতে

প্রিয়জনের উষ্ণ পরশ পেতে
মুখে ফোটে কোকিলকণ্ঠি গান
পলাশ শিমুল রঙ ছড়িয়ে ক্ষেতে
ঠোঁট হয়ে যায় আকর্ষণের টান।

হিমেল বুকে ওমের বাহার দেখে
পরীর দেশে যায় পালিয়ে শীত
স্বর্গসুধার পতাকা যায় এঁকে
কানের কাছে ঘুমজড়ানো গীত।

মাঘের রাতে পূর্ণিমা সেই ধরায়
কিরণ ছুঁড়ে হৃদয় গহীন তলে
দুয়ের ভিতর একের যুদ্ধ কড়ায়
সাঁতার দিতে হারায় উষ্ণ জলে।

শীত তাড়াতে অভিনয়ের ছলে
আঠার মতোন লেগে থাকে যেনো
কে শেখালো এমন মন্ত্র বলে
হিম ছাড়াতে প্রিয়জনকে কেনো।