দহন

মীরার এক একটা সময় আসে, যখন মনে হয় ভেঙ্গে ফেলবে সব কিছু। উলট-পালট করে ফেলবে এই সমাজ সংসার। ছিঁড়ে ফেলবে সমস্ত লৌকিক বন্ধন। কিন্তু চূড়ান্ত পর্বে এসে থমকে দাঁড়ায়। দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে ভাবতে থাকে সে কি করছে? তার তীব্র উত্তেজনা তখন ম্রীয়মান হতে শুরু করে। ম্লান থেকে ম্লানতর হতে থাকে তার উত্তেজনা। এক সময় সে ভেঙ্গে পড়ে নিরব কান্নায়। তার এই কান্না টের পায় না কেউ। একজন বুঝতে পারে হয়তো, কিন্তু সেও কিছুই বলে না তাকে।
মীরা এখন টেবিলে। খুব মনোযোগ দিয়ে লিখছে সে। হয়তো কোন প্রশ্ন কিংবা নোটের কপি করছে। টেবিলের ডান দিকে রাখা ছোট্ট ক্যাসেট প্লেয়ারটা বেজেই চলতে মৃদু শব্দে। গান আদৌ শুনছে কি-না সন্দেহ। এটা যে মীরার কোন ধরনের অভ্যাস তা কেবল মীরাই জানে। ক্যাসেট প্লেয়ার ছাড়া ওর পড়াই হয় না।
লিখতে লিখতে হঠাৎ থেমে পড়ে মীরা। ঝট্ করে তাকায় দরজার দিকে। কে যেন ভেতরে গেলো। সে কান পাতে। পায়ের শব্দ বোঝার চেষ্টা করে। পায়ের আওয়াজ থেমে যায় পাশের রুমের দরজায়। সে ভাবে, ‘কে এলো নাইম ভাই না তো? হবে হয়তো! হাঁটার ধরণটা তো তেমনই মনে হলো। যে-ই আসুক, খুব ব্যস্ত মনে হয়। হয়তো আম্মার সাথে দেখা করতে এসেছে কোন জরুরী কাজে। এখনই চলে যাবে হয়তো। তখনই দেখা যাবে লোকটাকে।’
মীরা বাইরের দিকে কান রেখে লেখায় মনোযোগ দেয়। তার ধারণাই সত্য হয়। মিনিট কয়েক পরেই আবার পায়ের আওয়াজ হয়। মীরা লেখা থামিয়ে হাতের তালুতে থুতনির ভর রেখে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে। এবার পায়ের আওয়াজটা একটু ধীর গতির। হয়তো কিছু ভাবতে ভাবতে আসছে আগন্তুক।
মীরা এবার প্রায় নিশ্চিত। নিশ্চয়ই নাইম ভাই। ওনার স্বভাবটাই ওরকম। নবাবী চালে হাঁটতে হাঁটতে কিছু একটা ভাবতে তিনি ওস্তাদ। তখন আর কিছুই খেয়াল করেন না। হয়তো পাশ দিয়ে খুব পরিচিত কেউ চলে গেলো। কিন্তু তিনি চিনতেই পারলেন না তাকে। অথবা পেছন থেকে ডেকে উঠলো কেউ। সাথে সাথে তিনি বুঝতে পারলেন না সে ডাক। একটু পর খেয়াল হয়, কে ডাকলো?
নাইমের এই স্বভাবের কথা মনে হতেই মীরা’র ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে। আগন্তুক তার দরজার সামনে চলে আসে। হ্যাঁ, মীরার ধারণাই সঠিক। নাইম মাথা নীচু করে কিছু ভাবতে ভাবতে চলে যাচ্ছে। মীরা মনে মনে তার রুমে নাইমের উপস্থিতি কামনা করে। ভাবে, নিজে থেকেই তাকাবে নাইম, অনুমতির তোয়াক্কা না করে ঢুকে যাবে রুমে। কিন্তু না, একবার তাকালোও না। নাইম দরজার আড়াল হওয়ার আগেই মীরা মন্তব্য ছোঁড়ে- বাব্বারে বাব্বা, ডাঁট কি দেহ। মনে হয় কত্ত বড় পণ্ডিত একখান।
মীরার খোঁচার জন্য প্রস্তুত ছিল নাইম। ও কিছু একটা ভাবছিল বলে মনে হলেও আসলে সে কিছুই ভাবছিল না। মীরা ওকে কিভাবে সম্ভাষণ করে এটাই পরখ করতে চেয়েছিল ও। মীরার কথায় সে হাসিমুখে ঘুরে দাঁড়ায়। সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মীরার দিকে। মীরা বই-খাতার দিকে মনোযোগ দিয়েছিল নাইমের তাকানোর আগেই। ও জানে নাইম দাঁড়াবেই। তাই মীরা ব্যস্ততা দেখাতে চেষ্টা করে। ভাবটা এমন যে, মীরা কাউকেই কিছু বলেনি। তার হাতে কোন সময়ও নেই।
নাইমও কম যায় না। সে হাসিমুখে মীরার দিকে তাকিয়েই থাকে। ভাবে দেখি কতক্ষণ পারে ও। মীরাও বুঝতে পারে, ওর দিকে তাকিয়ে আছে নাইম। সে ভাবে, দেখি কি করেন উনি। তার চোখের মনোযোগ অর্ধেক বই-খাতা আর অর্ধেক নাইমের দিকে। সুতরাং লেখায় ভুল হয় তার। কাটাকাটি করে। ‘খোদা হাফেজ’ বলে চলে যেতে উদ্যত হয় নাইম। মীরা চমকে ওঠার ভান করে। ব্যস্ত হয়ে ডেকে ওঠে, ‘নাইম ভাই, নাইম ভাই’। নাইম নির্বিকার ভঙ্গিতে তাকায় মীরার দিকে। মীরা তার দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে ওঠে। মাথা-চোখের ইশারায় ভেতরে ডাকে তাকে। নাইম ভেতরে ঢোকে। মীরা খুব আন্তরিক হেসে জিজ্ঞেস করে, ‘কেমন আছেন?’
উচ্ছলতায় পূর্ণ যেন এ জানতে চাওয়া। কেন যেন মীরা খুব খুশী আজ। আনন্দে পরিপূর্ণ তার চিত্তলোক। তার সেই আনন্দ নাইমকেও দোলা দেয়। হেসে ফেলে নাইম। বলে,
‘ভালো। তোমাকে খুব খুশী খুশী মনে হচ্ছে?’
‘হ্যা, আমার মনটা আজ খুব ভালো।’
‘যাক বাবা বাঁচা গেলো। শুলে খুব খুশী হলাম।’
‘বসেন না নাইম ভাই। আপনার সাথে কথা আছে।’
নাইম মৃদু হাসে। ও জানে তেমন জরুরী কোন কথা নেই মীরার। খুচরো আলাপই করবে, আর আজকে কি করেছে তার ফিরিস্তি টানবে। তবুও চেয়ার টেনে বসে নাইম। মীরার খাতাটা টেনে নেয় হাতে। এটা ওর একটা বাজে অভ্যাস। কোথাও বসতে গেলেই হাতের কাছে যেটা পাক সেটা তুলে নেবে। মীরা ওর হাত থেকে খাতাটা টেনে নেয়। ঈষৎ বিরক্তি প্রকাশ করে বলে, ‘ধুৎ, বসলে বললাম কথা শোনার জন্য। আর উনি খাতা দেখতে আরম্ভ করছেন।’
নাইম একটু আনইজি ফিল করে। বোকাটে হেসে বলে, ‘না, তোমার হাতের লেখাটা দেখতে চাচ্ছিলাম। আগের চেয়ে কিছুটা ভালো হয়েছে বলে মনে হয়।’
মীরা এবার সত্যি সত্যি বিরক্ত হয়। ‘আচ্ছা আফনের কি স্কুল মাস্টার হওনের শখ আছে?’
‘কেন?’
‘নাইলে অত হাতের লেখা হাতের লেখা করেন কে রে? আমি কি কইছি আফনেরে আমার হাতের লেখা দেহনের কতা?’
বিরক্তির মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে গেলে মীরা গেঁয়ো ভাষায় কথা বলে ওঠে। এটা তার পুরনো অভ্যাস। নাইম বুঝতে পেরেও যুৎসই জবাব ভেবে বলে বসে- ‘বারে, ভালোর প্রশংসা করব না? আর মাস্টার হলে ক্ষতি কি? আমার আব্বাও তো একজন শিক্ষক ছিলেন। আসলে শিক্ষকতা একটা মহৎ পেশা।’
‘আহারে আমার মহৎ পেশা! মাস শেষ অইলে ফুডা পয়সা থাহে না পহেডে। বউ পোলা মাইয়া থাহে না খাইয়া। আবার হেইডারে উনি মহৎ পেশা বানাইয়া ফালাইছেন।’
‘আরে, পয়সাটাই কি সব কিছু নাকি! মান-সম্মানের কোন মূল্য নেই?
‘হ্যা, হ্যা অবশ্যই, অবশ্যই। তবে স্যার, এখনকার মত আপনার সুললিত সুমধুর বাণী কপচানো বন্ধ করুন দয়া করে।’
নাইম এবার হেসে ফেলে মীরার অসহিষ্ণুতায়। ওর আলাপচারিতায় অহেতুক ভিন্ন প্রসঙ্গ এলে ও সাধারণত ক্ষেপেই যায়। অনেক সময় রেগেমেগে কথাই বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এখন মীরার রাগটা অত জোরালো নয়। মীরা আবার সেই লেখার প্রসঙ্গেই চলে যায়, ‘আচ্ছা নাইম ভাই, সত্যি করে বলেন তো, আমার হাতের লেখা কেমন?’
‘ভালো, খুব ভালো’।
‘সত্যি বলছেন?’
‘হ্যা, খামোখা মিথ্যা বলতে যাব কেন?’
মীরা খুব খুশী হয়। কাঁধ ঝাঁকিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। নাইম মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকে। মীরার আনন্দ যেন তার নিজের আনন্দ। মীরার মুখের হাসিতে তার মন ভালো হয়ে যায়। মীরার যেন কি একটা স্মরণ হয় হঠাৎ। সে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকায় নাইমের দিকে। চোখ নাচিয়ে বলে, ‘রাসুর খবর কি নাইম ভাই?’
মীরার এই আকস্মিক প্রসঙ্গান্তরে নাইম গুটিয়ে যায়। একটু বিরক্ত হয়, কি ভাবে মেয়েটা? আমি কি রাসুর সাথে প্রেম করি নাকি? যখনই দেখা হবে তখনই রাসুর কথা জিজ্ঞেস করবে, যত্তসব। নাইম একেবারে নিরাসক্ত ভঙ্গিতে বলে, ‘কি জানি, ওর সাথে আমার দেখা নেই বেশ কিছুদিন যাবৎ।’
‘কেন? ঝগড়া হয়েছে নাকি?’
‘ঝগড়া হতে যাবে কেন? এখন তো ক্লাস নেই আর আমাদের। এমনও হতে পারে- ওর বিয়ে হয়ে গেছে, এখন ও শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছে।’
নাইমের কথা বেশ কাজ করে। উৎসাহ হারিয়ে ফেলে মীরা। প্রসঙ্গ পাল্টায়- ‘আচ্ছা নাইম ভাই, আপনি আমাকে বেড়াতে নিয়ে যাবেন না?’
‘কোথায়?’
‘আপনাদের ক্যাম্পাসে।’
‘হ্যা, অবশ্যই নেব। কবে যাবে?’
‘কবে যাব?’ একটু ভাবে মীরা। বলে, ‘আচ্ছা ঠিক আছে, পরে বলবো। তবে সেদিন কিন্তু রাসু আপুকে অবশ্যই থাকতে হবে।’
নাইম ঘাড় কাৎ করে সম্মতি জানায়। মীরা একটু আনমনা হয়ে যায়। নাইম ক্যাসেট প্লেয়ারের দিকে মনোযোগ দেয়। হাত বাড়িয়ে ভল্যুম বাড়িয়ে দেয় সামান্য। গান সেতুবন্ধ রচনা করে তাদের নিরবতায়। মীরা সুমনের কথা ভাবতে থাকে। নাইম হয়তো রাসুর কথা। তবে তার হাত খেলা করছে ক্যাসেট থেকে ক্যাসেটে।
মীরা ভাবছে সুমনের কথা। সুমন এখন কি করছে? হয়তো পড়তে বসেছে, নয়তো গান শুনছে। মীরার মুখে মৃদু হাসির রেখা ফুটে ওঠে। খুব ভালো ছেলে সুমন। নাইম ভাইকে কি ওর কথা বলা ঠিক হবে? মীরা ভাবে, বলব নাকি না! মীরা ঠিক বুঝে উঠতে পারে না, বলাটা ঠিক হবে কি না। সুমনের কথা বললে কি নাইম ভাই কষ্ট পাবে? কিছুটা হয়তো পাবে। থাক, শুধু শুধু একজনকে কষ্ট দিয়ে কোন লাভই নেই। অবশ্য নাইম ভাই খুব ভালো মানুষ। কষ্ট পেলেও তিনি সেটা প্রকাশ করবেন না। বরং সানন্দেই শুভ কামনা করবেন আমাদের। তবুও তিনি আমার কাছ থেকে এতটুকু আশা করবেন না হয়তো। তিনি আমাকে খারাপও ভেবে বসতে পারেন। ‘খারাপ’ কথাটা ভাবনায় আসতেই মীরা চমকে ওঠে। ভাবে, আসলেই কি আমি খারাপ হয়ে যাচ্ছি? সে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। নিজেকেই সে প্রশ্ন করে, ‘আমি কি খারাপ হয়ে যাচ্ছি মীরা? প্রেম কি খারাপ হতে পারে? নাকি সুমন ভালো নয়?’
মীরা’র ভেতর থেকে যেন কেউ একজন বলে ওঠে, না মীরা তুমি খারাপ হচ্ছো না। তবে তোমার প্রেমে কোন নিষ্ঠা নেই। তুমি ছলনাময়ী, তুমি কেবল প্রেম করতে জানো, ভালোবাসতে জানো না।
মীরা আপন মনে হেসে ওঠে।
নাইম গানের দিকে মনোযোগ দিলেও মীরার ভাবান্তর লক্ষ্য করছিল। সে বুঝতে পারে না কি ভাবছে মীরা। তবে তার ভাবনাটা যে একটু জটিল এটা সে বুঝতে পারছে। নাইম জিজ্ঞেস করে, ‘কি ভাবছ মীরা?’
নাইমের কথায় টেবিলে ফিরে আসে মীরা। একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে তার বুকের গহীন থেকে। নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলে, ‘কিছু না’।
নাইম বুঝতে পারে কিছু একটা লুকাতে চাচ্ছে মীরা। সে আরো কৌতুহলী হয়ে ওঠে। জিজ্ঞেস করে, ‘নিশ্চয়ই কিছু একটা ভাবছিলে। অসুবিধা না থাকলে বলতে পার, আমি প্রচণ্ড আগ্রহ নিয়ে শুনবো।’
মীরা কিছু না বলে ক্যাসেট প্লেয়ারটা বন্ধ করে দেয়। ক্যাসেটটা বের করে রেখে দেয় বইয়ের উপর। টেবিলের উপর জড়ো করে রাখা ক্যাসেটগুলো হাতড়ায়। কোন একটা ক্যাসেট খুঁজছে যেন। একটা ক্যাসেট চোখের সামনে তুলে ধরে জিজ্ঞেস করে, ‘আমি কি ভুল করছি নাইম ভাই?’
নাইম হেসে ফেলে মীরার বোকাটে গম্ভীর কথায়। মীরার দিকে তাকিয়ে সহানুভূতিসূচক হেসে বলে, ‘হ্যাঁ, তুমি ভুল করছো।’
মীরা ঝট করে তাকায় নাইমের দিকে। নাইম ভাই কি কিছু বুঝতে পেরেছে তাহলে? তার চোখে জিজ্ঞাসা। আরো কিছু শোনার আকুলতা তার অবয়বে। নাইম বুঝতে পারে। সে সম্মোহনী হাসি ছুঁড়ে দেয়। বলে, ‘তুমি অবশ্যই ভুল করছ মীরা। তা না হলে তুমি আমাকে প্রশ্ন করতে না? এখনো তুমি ঘুরে দাঁড়াতে পার ইচ্ছে করলেই, তবে সেটা একান্তই তোমার ব্যাপার।’
মীরা কোন কথা বলতে পারে না এর জবাবে।
নাইম তার ছোট ভাইয়ার বন্ধু এবং এ বাড়িরই একজন সদস্যের মত। তার সাথে সম্পর্ক বন্ধুত্বের এবং রহস্যময়। মীরার প্রতি নাইমের দূর্বলতা আছে, কিন্তু কোনদিন তিনি সে কথা মীরাকে বলতে পারবেন না- এ বিষয়টা মীরা বোঝে এবং জানে। মীরা যে কি করে শাওনের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লো সেটা সে নিজেও বুঝতে পারছে না। এক বিয়ের আসরে হঠাৎ দেখা, দুষ্টুমি করতে গিয়ে এক-দুই কথায় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া। তা-ওতো বছর দুই হয়ে গেল। সুমন তার জীবনে না এলে সে নিজেই আগ বাড়িয়ে নাইমের মুখ দিয়ে কথা বের করিয়ে ছাড়ত। কিন্তু এখন তার পিছু ফেরার পথ নেই।
নাইমকে রহস্যময় মনে হয় মীরার। মনে হয় নাইম সবকিছু জেনে ফেলেছে। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে সব কিছু। কিন্তু আবার মনে হচ্ছে কিছুই জানে না নাইম ভাই। একটা বোকাসোকা মানুষ তিনি। কেবল মুগ্ধতা নিয়েই তিনি মজে থাকতে চান। মীরা হঠাৎ ভেতরে ভেতরে ক্ষেপে যায়। একটু হেসে ফেলে গুমোট ভাবটা কাটিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘নাইম ভাই, একটা প্রশ্ন করব, সত্যি কথা বলবেন?’
‘কি, প্রশ্নটা কি?’
‘না আগে বলেন, সত্যি কথা বলবেন।’
‘আহা, শুনিই না কি বলতে চাও। আমি কি তোমার সাথে মিথ্যে কথা বলি?’
মীরা হেসে ফেলে নাইমের ছেলে ভুলানো কথায়। বলে, ‘আপনি কি কাউকে ভালবাসেন?’
প্রশ্নটা শুনে নাইম প্রথমে ভাবনায় পড়ে, কিন্তু পরক্ষণেই লো ভল্যুমের অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। মীরা বোকা বনে যায়। নাইম হাসি থামিয়ে উঠে দাঁড়ায়, ‘আচ্ছা চলি খোদা হাফেজ।’
মীরাও ঝট করে উঠে দাঁড়ায়, ‘আপনি কিন্তু উত্তরটা দেন নি।’
‘না মীরা উত্তর দেই নি। খুব কঠিন প্রশ্ন করেছ তুমি। এর উত্তরটা আরো কঠিন।’
‘কেন?’
‘কারণ, ভালোবাসা খুব কঠিন ব্যাপার। সত্যি সত্যি আমি কাউকে ভালোবাসি কি-না তা আমি নিজেও জানি না।’
‘তার মানে আপনি আমাকে কিছু বলবেন না।’
‘বলবো না কেন, অবশ্যই বলবো। তবে জোর করে জানতে চাইলে তুমি সত্যি কথাটা জানতে পারবে না। প্রশ্নটা শিকেয় তোলা রইল। সময় মতো জবাব পাবে। চলি খোদা হাফেজ।’
খুব নাটকীয় ভঙ্গিতে চলে যায় নাইম। মীরা ক্ষেপে ওঠে নাইমের উপর। নিজে নিজেই গজগজ করে ওঠে সে। ‘অত হেঁয়ালী কিসের? কি ভাবে নাইম ভাই আমাকে? আমি কি এখনো বাচ্চা খুকি রয়ে গেছি নাকি! বলবে না ভালো কথা। কিন্তু এত নাটক করবে কেন? ধুৎ।’
মীরার মেজাজ একদম খারাপ হয়ে যায়। নিষ্ফল আক্রোশে দড়াম করে দরজা লাগিয়ে দেয় সে। হাই ভল্যুমে ক্যসেট ছেড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিছানায়। বুক ভেঙ্গে কান্না আসে তার। কেন যেন গলা ছেড়ে কাঁদতে ইচ্ছা করে এবং সত্যি সত্যি বালিশে মুখ গুঁজে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে মীরা। মীরা কাঁদতে থাকে। কান্নার বেগে ফুলে ফুলে ওঠে তার দেহ।