কথা বলছিলাম আশির দশক নিয়ে। তিরিশের পর বাংলা সাহিত্য আবারো তার মূলের দিকে যাত্রা করে। সাহিত্যে যা হয়। সাহিত্য কোন বদ্ধ পুকুর নয়। সাহিত্য নদীর মত প্রবহমান। সময়ের সাথে সাথে তার ভাষা পাল্টায়, শব্দে নতুনত্ব আসে, চেতনায় বিপ্লব ঘটে। নতুন ভাষায়, নতুন মননে, নবসাজে সাহিত্য ঝলমল করে ওঠে। এটা ঘটে মূলত সময়ের প্রয়োজনে। কিন্তু কাউকে না কাউকে সূচনা করতে হয়। যেমনটি আমরা দেখেছি আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের বেলায়। যুদ্ধ শুরুর আগেই কবিরা যুদ্ধ শুরু করে দেয়। পাকিস্তানী শাসকরা ইসলামের নাম ভাঙিয়ে শোষণ করছিল বলেই জনগণ শোষণের বিরোধিতা করতে গিয়ে তথাকথিত ইসলাম বিরোধিতায় জড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু সাম্য মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে যে ইসলাম, যে ইসলাম সার্বজনীন ও মানবতার জয়গানে মুখর মানুষ সে ইসলামকে চায়। যা মানুষে মানুষে হিংসা বাড়ায়, ঘৃণা বাড়ায়, শঠতা বাড়ায়, অনৈতিকতা বাড়ায়, প্রতারণা বাড়ায়, অহংকার বাড়ায়, লোভ বাড়ায়, হিংস্রতা বাড়ায় তা মানুষের স্বভাবের সাথে যায় না। যে আদর্শ মানুষে মানুষে সম্প্রীতি বাড়ায়, পরষ্পরের প্রতি দয়াবান হতে উদ্বুদ্ধ করে, তার প্রতিই মানুষের সহজাত আকর্ষণ। এতে করে সমাজে বয়ে যায় শান্তির সুবাতাস।
আশির জ্যোতিজোস্নার কবিকন্ঠগুলো সে সুবাতাসের জন্যই কন্ঠ উচ্চকিত করেছিল। সূচনায় মতিউর রহমান মল্লিকের নেতৃত্বে সপ্তরথি (কবি মতিউর রহমান মল্লিক, আসাদ বিন হাফিজ, সোলায়মান আহসান বুলবুল সরওয়ার, মুকুল চৌধুরী, হাসান আলীম ও কবি মোশাররফ হোসেন খান) কবিতায় নতুন সুর বাজালেও অল্পদিনেই তা যেমন আকর্ষণ করে প্রবীণদের, তেমনি সমকালীন কবিদের, এবং নব্বই দশকসহ পরবর্তী নবীন কবিদেরও। তাই এ ধারাটি দ্রুত পল্লবিত ও বিকশিত হয়।
আগেই বলেছি, এ কবিকন্ঠকে প্রথম শনাক্ত করেন কবি আল মাহমুদ। তিনি তাদের নামে বখতিয়ারের ঘোড়া কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন। (কবি মতিউর রহমান মল্লিক, আসাদ বিন হাফিজ, সোলায়মান আহসান ও বুলবুল সরওয়ার)। লাব্বাইক বলে এতে শামিল হন মুকুল চৌধুরী, হাসান আলীম ও কবি মোশাররফ হোসেন খান। একটু পরে যুক্ত হন কবি গোলাম মোহাম্মদ, নাসির হেলাল ও শরীফ আবদুল গোফরান। সিলেটের নিজামউদ্দিন সালেহ প্রচন্ড শক্তিমত্তার পরিচয় দেন সবুজের আগ্নেয় প্রপাত গ্রন্থটি লিখে। কাফেলায় শামিল হন যশোরের খসরু পারভেজ। কিন্তু এ দুজন বেশীদিন সরব থাকেননি।
এ তালিকা আরো অনেক দীর্ঘ করা যায়। কিন্তু আমি সেদিকে যাচ্ছি না। আমি আগে প্রবীণ কবিদের কথা বলি। কবি আল মাহমুদের বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র ছেড়ে ইসলামের দিকে ফিরে আসা তার কবিবন্ধু ও প্রবীণদের মধ্যে বেশ বড় রকমের একটি আলোড়ন তোলে।
আবদুল মান্নান সৈয়দ ফররুখ আহমদের শ্রেষ্ঠ কবিতা সম্পাদনা করতে গিয়ে ইসলামের সৌন্দর্য নতুন করে আত্মস্থ করেন। তার মায়েরও আশা ছিল তিনি ইসলামের একজন খাদেম হোন।
আমি এবং মল্লিক ভাই তখন বিআইসির দোতালায় একই রুমে বসি। উনি দেখেন মাসিক কলম আর আমি বাংলা সাহিত্য পরিষদ। আমাদের পাশের বিল্ডিংয়ের নিচতলায় আবদুল মান্নান সৈয়দের অফিস। আমরা সুযোগ পেলেই স্যারের ওখানে ঢু মারি। আড্ডা হয়, গল্প হয়। আমরা শিখি সাহিত্য, স্যার জানতে চান, আমাদের স্বপ্নের কথা। আল মাহমুদ ও আবদুল মান্নান সৈয়দ দুজনেই একাধিক প্রবন্ধ লিখে আশির দশকের এই নবযাত্রাকে অভিনন্দিত করেন।
কবি আবদুস সাত্তার বসতেন নবারুন ও সচিত্র বাংলাদেশ অফিসে। আড্ডা দেয়ার জন্য আমরা ওখানেও যেতাম। আর যেতাম ড. আশরাফ সিদ্দিকীর ধানমন্ডির বাসায়। কবি আফজাল চৌধুরী ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঢাকা কেন্দ্রের পরিচালক হয়ে এলে তখন তার অফিসও আমাদের আড্ডাখানায় হয়। তিনি বসতেন তোপখানা রোডে শিশুকল্যাণ ফাউন্ডেশনের দোতালায়। এছাড়া সৈয়দ আলী আহসান, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ এরা আমাদের ভালবাসতেন এবং আমাদের উৎসাহ দিতেন। তারা বিভিন্ন সভা সেমিনারে আমাদের আন্দোলনের সাফল্য কামনা করতেন। কবি আবিদ আজাদের আজিমপুরের প্রেসে যেতাম তার পত্রিকায় লেখা দিতে। দৈনিক বাংলার মোড়ে যেতাম কবি ফজল শাহাবুদ্দিনের আখড়ায়। এভাবে আমরা প্রথিতযশা কবি সাহিত্যিকদের আনুকূল্য ও সমর্থন লাভ করি, যা আমাদের সাহস ও উদ্দীপনা যুগিয়েছে।
তখন আমি ঢাকা কলেজে বাংলায় অনার্স পড়ি। ঢাকা কলেজে পড়ার সুবাদে আমি সরাসরি শিক্ষক হিসাবে পাই মশহুর শিক্ষাবিদ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ও কৌশিক সম্পাদক কামাল আতাউর রহমানকে। আমি তাদেরও প্রিয় ছাত্র ছিলাম।
তখনও বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র সেভাবে গড়ে ওঠেনি। ঢাকা কলেজের পাশে নিয়েয়ারের অফিসের এক কামরায় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার ক্লাশ নিতেন। কিসের ক্লাশ? বলতেন, বিশ্ব সাহিত্যের ক্লাশ। ওখানেই বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের উৎপত্তি হয়। আমি তখন বড় ভাইয়ের বাসা নিয়েয়ারের কোয়ার্টারে থাকি। মাঝে মাঝে ঢু মারি বিশ্ব সাহিত্যের ক্লাশেও।
ওদিকে অনার্সে ক্লাশমেট হিসাবে পাই কবি মোহন রায়হানকে। আদর্শিক দিক থেকে আমরা ছিলাম দুই মেরুর বাসিন্দা। আবার ক্লাশমেট হিসাবে আমরা পরষ্পর বন্ধু। ফলে সম্পর্কটাও সেভাবে ওঠানামা করতো। আমরা যখন অনার্সে তখন কলেজে ঢুকে ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন ও আমিরুল ইসলাম। তাদের প্রতিভা তাদেরকে আমার কাছাকাছি নিয়ে আসে। আমার স্নেহ ও ভালবাসা থেকে তারা কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি। তারাও আমাকে শ্রদ্ধা করতো বড় ভাইয়ের মত। মাঝখানে ফাটল ধরায় রাজনীতি। ছাত্র সংসদ নির্বাচন এলে ওরা দুইজন দুই প্যানেলে সাহিত্য সম্পাদক হিসাবে দাঁড়ায় প্রধানত পারিবারিক প্রভাবে। আমি ভিন্ন একটি প্যানেলে ভিপি পদে। কিন্তু তখন ছাত্রদলগুলোর মধ্যে এখনকারমত এত বিদ্বেষভাব ছিল না। ফলে তাদের সাথে কখনো আমাকে বৈরিতায় যেতে হয়নি। এই সম্পর্কের ফলে বৈরি বাতাসের খোঁজ যেমন আমি সহজেই পেতাম তেমনি আমি আমার স্বপ্নকেও সহজেই সনাক্ত করতে পারতাম।

আশির এ কাব্যান্দোলনের শুরুতে আমাদের হাতে শুধু স্বপ্নই ছিল। স্বপ্নের সাথে ছিল আশা ও ভালবাসা। আমরা আমাদের স্বপ্নের পক্ষে কিছু তাত্ত্বিক আলোচনা ও দিকনির্দেশনা চাচ্ছিলাম। যেহেতু সবার মত আমরাও জানতাম কবিরা বিভ্রান্তির উপত্যকায় ঘুরে বেড়ায়, তাই একটা সংকোচ ও দ্বিধা তখনো আমাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। বিষয়টা উত্থাপিত হলো বাংলা সাহিত্য পরিষদের পরিচালনা কমিটির মিটিংএ। সিদ্ধান্ত হলো, এ বিষয়ে একটা প্রবন্ধ লিখবেন জনাব আবদুল মান্নান তালিব। আগামী মাসের কমিটি সভায় তিনি সেটা পেশ করবেন।
তিনি তাই করলেন। প্রবন্ধটি শোনার পর বলা হলো, সিলেক্টেড ব্যক্তিদের নিয়ে এর ওপর এক বা একাধিক সেমিনার হবে। সেমিনারে সবাই খোলামেলা মতামত দেবেন। সেই মতামতের ওপর ভিত্তি করে তিনি প্রবন্ধটি আবার লিখবেন। তারপর সেটি আবার কমিটিতে পেশ হবে। কমিটিতে পাশ হওয়ার পর তা বই আকারে ছাপা হবে। যতদূর মনে আছে, সেমিনারে ছিলেন জনাব আবুল আসাদ, একেএম নাজির আহমদ, জামেদ আলী, সিদ্দিক জামাল, মতিউর রহমান মল্লিক, আসাদ বিন হাফিজ। সেই সেমিনারের ফসল “ইসলামী সাহিত্য : মূল্যবোধ ও উপাদান”। এটিই ছিল আমাদের প্রেরণার একমাত্র হাতিয়ার। আমরা বইটি বার বার পাঠচক্র করে বুঝতে চেষ্টা করেছি। অন্যদের বুঝানোর চেষ্টা করেছি।

দ্বিতীয় হাতিয়ারটি পাই আমরা মাসিক কলমের সৌজন্যে। কলম সম্পাদনা করেন কবি মতিউর রহমান মল্লিক। তাঁর পরিচিত এক ভাই নাম সম্ভবত মহিবুল্লাহ মিশরে আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। তিনি শিল্প সাহিত্য সম্পর্কিত মহানবীর সা. চল্লিশটি হাদীসের সন্ধান পান। বিষয়টি মল্লিক ভাইকে জানালে তিনি ওটি দ্রুত অনুবাদ করে পাঠাতে বলেন এবং সেটি পাওয়ার পর কলমে প্রকাশ করেন। কিন্তু কলম মাসিক পত্রিকা বলে এবং সার্কুলেশন কম থাকায় এ হাদিসগুলো তেমন প্রচার পায়নি।
এ ক্ষেত্রে তৃতীয় হাতিয়ারটি আমরা পাই কবি মুকুল চৌধুরী ও আসাদ বিন হাফিজের যৌথ সম্পাদনায় “রাসুলের শানে কবিতা” নামক গ্রন্থ থেকে। এখানে কলমের সেই হাদীসগুলো ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক আলোচনাসহ চৌষট্টি পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ সম্পাদকীয় ছাপা হয়।
এ ছাড়া এ বইতে সাহাবীদের কবিতা, অন্যভাষার কবিতায় বড়পীরসহ বড় বড় বুজর্গানে দ্বীনের কবিতা ছাপার ফলে কাব্যচর্চা যে নিন্দনীয় নয়, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর ফলে কাব্যচর্চা করার যৌক্তিকতাও স্পষ্ট হয়। নবীনরাসহ আমাদের মধ্যে আস্থার নবজন্ম হয়।
আশির দশককে নিয়ে বই লিখেন কবি মজিদ মাহমুদ। সবচে বৃহৎ কাজটি করেন কবি হাসান আলীম। তিনি আশির প্রায় পঞ্চাশ ষাটজন কবির কবিতা এক মলাটে আবদ্ধ করেন। যাদের প্রায় প্রত্যেকেই বিশ্বাসী মননশীল লেখায় বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে তোলেন। তিনি নব্বই দশক নিয়েও চমৎকার প্রবন্ধ রচনা করেন। কবি মুকুল চৌধুরী সাহিত্যে ইসলামের প্রভাব নিয়ে বই লিখেন, যা ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে মুদ্রিত হয়।
সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্র প্রতি বছরই সীরাত উপলক্ষে সমৃদ্ধ সীরাত সংকলন প্রকাশ করে। সে সব সংকলনে আশির দশক নিয়ে নানা প্রবন্ধ প্রকাশ পায়। সোলায়মান আহসান আশির দশক নামে কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করে। কিছু নিবন্ধ কবি মোশাররফ খানও লিখেন। কিন্তু তার কলমের যে ধার সে তুলনায় তা আমার কাছে অপর্যাপ্ত মনে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সোলায়মান আহসান ও মোশাররফ হোসেন খান নতুন করে কলম ধরলে আমরা আরো অনেক কিছু জানতে পারবো।

আশির দশকের এই বিপ্লবী কাফেলার প্রথম কবিতার বইয়ের নাম “শ্বাপদ অরণ্যে অগ্নিশিশু”। কবির নাম হাসান আলীম। বইটি বেরোয় কবির মায়ের জমানো টাকায়।।
এ বইয়ের একটু ইতিহাস আছে। বইটি বেরোনোর আগেই আমরা কয়েকজন পান্ডুলিপিটি পাঠ করি। তারপর আমরা একনাগাড়ে কয়েকদিন একসাথে বসে লাইন বাই লাইন পড়ি ও এডিট করি। যতদূর মনে পড়ে হাসান আলীম ছাড়াও এ আড্ডায় ছিলেন কবি মতিউর রহমান মল্লিক, আসাদ বিন হাফিজ, বুলবুল সরওয়ার ও মুকুল চৌধুরী। মোশাররফ হোসেন খান তখনো ঢাকা আসেননি, তিনি তখন যশোরের একটি মাসিক পত্রিকার সাথে যুক্ত। সোলায়মান আহসান কি কারণে যেন ঢাকায় ছিলেন না।
বইটির প্রচ্ছদ করেন একজন প্রফেশনাল আর্টিস্ট। সম্ভবত তখন তিনি দৈনিক আজাদের স্টাফ আর্টিস্ট। নাম মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম। তিনি লাল কালোতে চমৎকার একটি বাইকালার কভার করেন।

আগেই বলেছি, “শ্বাপদ অরণ্যে অগ্নিশিশু” ছিল আমাদের যৃথবদ্ধ স্বপ্নের প্রথম কবিতার বই। যদিও বইটি ছিল হাসান আলীমের, বইটি বেরোনোর পর মনে হলো ওটা আমাদেরই বই। আমি তখন ঢাবির বাংলায় মাস্টার্স করছি, হাসান আলীম সাইন্স ফ্যাকাল্টিতে থাকে। আমরা বন্ধুরা একেকজন দশ বারোটা করে বই নিয়ে বের হই এবং তা বিক্রি করে টাকা জমা দেই আলীমের কাছে, যাতে মায়ের আদরের ছেলে মায়ের টাকা ফেরত দিতে পারে। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সে সময়কার ছাত্রী বোনদের কাছে কৃতজ্ঞ, ছাত্রদের চাইতেও ছাত্রীদের কাছে বইটি বেশী জনপ্রিয় ছিল। ছাত্রী বোনরা নিজেরা আগ্রহ করে বই নিয়ে ডিএমসি ও বুয়েটে গিয়ে ফেরি করতেন। এভাবে অল্পদিনেই বইটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।
শ্বাপদ অরণ্যে অগ্নিশিশুর সাথে আমরা আরো একটি বইয়ের প্রচ্ছদ ছাপিয়ে ছিলাম। বইটি ছিল ছড়ার। নাম রাজপথের ছড়া। এর কভারও নূরুল ইসলাম ভাইয়ের করা এবং বেশ চমৎকার। লাল জমিনের ওপর এ্যাশ কালারের কয়েকটি চমৎকার কলম। সম্পাদনা করেছিলেন জনাব মাসুদ মজুমদার ও আসাদ বিন হাফিজ। বইটির শুরুতেই ছিল তুখোড় ছড়াকার আবু সালেহের সেই বিখ্যাত ছড়াঃ
ধরা যাবেনা ছোঁয়া যাবেনা বলা যাবে না কথা
রক্ত দিয়ে পেলাম শালার মরার স্বাধীনতা।
এ ছাড়াও যতদূর মনে পড়ে এতে ছড়া দিয়েছিলেন মাহবুব মোরশেদ, সৈয়দ মুসা রেজা, মহিউদ্দিন আকবর, মতিউর রহমান মল্লিক, আসাদ বিন হাফিজ, বুলবুল সরওয়ার ও আরো কয়েকজন। এটি একটি প্রতিবাদী ছড়ার সংকলন। রাজপথের ছড়া সে সময় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ছড়াগুলোতে পা চুলকানোর চাইতে বারুদের উত্তাপ বেশী ছিল। আমাদের সামনে তখন আল মাহমুদের মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, বখতিয়ারের ঘোড়া টগবগ করে ছুটছে। সেইসব উত্তেজনাময় সময়গুলো ছিল সত্যি অনন্য।

২৬/৭/২০। বিকাল ৫.০০টা।