দক্ষিণ এশিয়া তথা ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসন প্রতিষ্ঠা ইতিহাসের এক অত্যাশ্চর্য, কৌতূহল-উদ্দীপক ও শিক্ষণীয় অধ্যায়। পলাশীতে বাংলাদেশের ইতিহাসের বাঁক পরিবর্তন ঘটে। ঢাকা-মুরশিদাবাদের ঘটে ভাগ্য বিপর্যয়। আর অবাক উত্থান হয় কলকাতার। সে পলাশীর পটভূমি ব্যাপক। ঘটনা প্রবাহের মনস্তত্ব জটিল।
দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলাম প্রচার শুরু হয় মুহাম্মদ সা-এর নবুয়তকালে। সাত শতকের মাঝামাঝি দক্ষিণ আফগানিস্তান মুসলমানদের অধিকারে আসে। উমাইয়া খলিফাদের সময় (৬৩২-৭৫০) প্রথম ওয়ালিদের খিলাফতকালে সিন্ধুর রাজা দাহিরের জলদস্যুতার পটভুমিতে মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে মুসলিম সেনা দল ৭১২ সালে মাকরান হয়ে দেবল বা বর্তমান করাচী জয় করে নীরন, শেহওয়ান ও সিসাম, রাওয়ার, ব্রাহ্মণাবাদ, মুলতান হয়ে মালব ও গুজরাট পর্যন্ত অগ্রসর হন। এই বিজয়ের পথ ধরে ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে গ্রীক, মিসর, সিরিয়া, মেসোপটেমিয়, পারস্য সভ্যতা-সংস্কৃতির যোগাযোগ কায়েম হয়।
সাত শতক থেকে এগারো শতকের মধ্যে পারস্য, বাইজান্টাইন, সিরিয়া, জেরুজালেম ও উত্তর আফ্রিকায় মুসলিম শাসন কায়েম হয়। সমরখন্দ থেকে লাহোর পর্যন্ত, আর আটলান্টিক হয়ে স্পেন পর্যন্ত মুসলমানদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের তিনটি প্রধান পথ মুসলিম নিয়ন্ত্রণে আসে।
মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের প্রায় আড়াইশ বছর পর গজনী বংশের (৯৬৩-১১৮৬) সবুক্তগীন (৯৭৭-৯৯৭) কান্দাহার, লামগান ও জালালাবাদ, পেশোয়ার অধিকার করে ভারতের উত্তর-পশ্চিমের গিরিপথের দুয়ার মুসলমানদের জন্য খুলে দেন। ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র পুনর্গঠনের সূচনা হয়। তার ছেলে মাহমুদ (৯৯৭-১০৩০) বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফার কাছ থেকে সুলতান উপাধী নিয়ে তুর্কী-পারস্যে রাজ্য বিস্তারের কৌশল হিসাবে পুব সীমানায় উত্তর-পশ্চিম ভারতীয় রাজ্যগুলিতে অভিযান চালিয়ে পাঞ্জাব, সিন্ধু ও মুলতানের কিছু এলাকা দখল করে ‘উত্তরাপথের’ রাজাদের পররাজ্য গ্রাসের শক্তি ভোঁতা করে দেন। ফলে এ সময় পূর্ব ভারতে পাল রাজাগণও স্বস্তিতে কাটান।
গজনীর তুর্কিস্তানী ঘোরী বংশীয় (১১৭৫-১২০৬) সুলতান মুহাম্মদ ঘোরী উচ্চ, মুলতান, পেশোয়ার, সিন্ধু, পাঞ্জাব অধিকার করে ১১৯২ সালে তারায়েনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পৃত্থিরাজকে পরাজিত করেন। তিনি ভারতে মুসলিম শাসনের সূচনা করেন। ১১৯৪ সালে আজমীর, বেনারস ও কনৌজ অধিকার করে তিনি সেনাপতি কুতুবউদ্দীন আইবেককে রাজ্যগুলির দায়িত্ব দিয়ে গজনী ফিরেন। কুতুবউদ্দীন ১১৯৭ সালে দিল্লী, গোয়ালিয়র, বিয়ানা অধিকার করেন।
সে বছরই তার সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী দুইশ সৈন্য নিয়ে বিহারের প্রধান দুর্গগুলি জয় করেন। এর পর মাত্র আঠারো জন অগ্রবর্তি ঘোর সওয়ার নিয়ে তিন বাঙলায় সেন রাজা লক্ষণ সেনের রাজধানী নদীয়ায় হাজির হন। ভিনসেন্ট স্মীথ লিখেছেন: The Raja who was in dinner slipped away by a backdoor and retired to the neighbourhood of Dacca. অর্থাত রাজা লক্ষণ সেন দুপুরের খাওয়া ফেলে পেছন দরোজা দিয়ে পালিয়ে যান এবং ঢাকার কাছে আশ্রয় নেন। (V. A. Smith: Oxford History of India.) ইখতিয়ার উদ্দীন বাঙলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন। মোহর আলীসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিকের মতে ১২০৩ সালের মার্চ মাসে এ বিজয় সূচীত হয়।
মুহাম্মদ ঘোরীর ইনতেকালের পর ১২০৬ সালে কুতুবউদ্দীন আইবেক দিল্লীতে মুসলিম সালতানাতের সূচনা করেন। তুর্কী মামলুক সুলতানদের (১২০৬-১২৯০) পর খলজী বংশ (১২৯০-১৩২০), তুগলক বংশ (১৩২০-১৪১৪), সাইয়েদ বংশ (১৪১৪-১৪৫১), লোদী বংশ (১৪৫১-১৬২৬), সুরী বংশ (১৫৪০-১৫৫৫), মোগল বংশ (১৫২৬-১৮৫৮) ভারতবর্ষে রাজত্ব করেন।
মোগল সম্রাট আওরঙ্গযেব আলমগীরের (১৬৫৮-১৭০৭) ইনতেকালের পর দিল্লীর কেন্দ্রীয় শাসন দুর্বল হয়। শাহ আলম বা প্রথম বাহাদুর শাহ (১৭০৭-১৭১২), জাহান্দার শাহ (১৭১২-১৭১৩), ফররুখশীয়র (১৭১৩-১৭১৯), মুহাম্মদ শাহ (১৭১৯-১৭৪৮), আহমদ শাহ (১৭৪৯-১৭৫৪), দ্বিতীয় আলমগীর (১৭৫৪-১৭৫৭)-র আধা শতকের শাসনামলে সাম্রাজ্যে বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তি মাথা তোলে। প্রদেশ বা সুবার শাসকগণ স্বাধীন নবাব হয়ে বসেন। প্রদেশগুলির মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতার সুযোগ কমে যায়। এই অবস্থায় ইয়োরোপীয় বনিকরা বানিজ্যের শর্ত লংঘন করে স্থানীয় কিছু লোককে সহযোগী বানিয়ে রাজত্ব দখলের দিকে পা বাড়ায়। জন্ম হয় পলাশীর।
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীসহ ইউরোপীয় কোম্পানী-বণিকদের জাতীয় মানসিকতা সম্পর্কে ১৮৬৮ সালে উইলিয়াম হান্টার লিখেছেন: ‘They were not traders, but Knight-errant and Crusaders… Their national temper had been formed in their contest with the Moors (Muslims) at home.’ অর্থাত ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর লোকেরা নিছক ‘বণিক’ ছিলেন না; বরং তারা ছিলেন ‘নাইট-এরেন্ট’ বা দুঃসাহসিক বীরব্রতী অভিযাত্রী ও ‘ক্রসেডার’।… স্বভূমিতে মুর বা মুসলমানদের সাথে (স্বসৃষ্ট) দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ভেতর দিয়ে তাদের জাতীয় মানস বা মেযায গঠিত ছিল ।’ (A Brief History of the Indian People, 1868, p-167)
মেরিয়াম ওয়েবস্টার ডিকশনারিতে ‘knight-errant’ মানে: ‘a knight travelling in search of adventures in which to exhibit military skill, prowess …. আর ‘Crusader’ মানে: ‘a person who participated in any of the military expeditions undertaken by Christian powers in the 11th, 12th and 13th centuries to win the Holy Land from the Muslims.’)
প্রাচ্যের মুসলমানদের হাত থেকে পবিত্র ভূমি পুনরুদ্ধারের নামে এগারো-বারো-তেরো শতকে ইউরোপের লড়াকু জাতীয়তাবাদী খৃস্টানরা ধর্মযুদ্ধের নামে খৃস্টান শক্তিকে ‘ক্রস’-এর পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করে। ১০৯৫ সাল থেকে ১২৯১ সাল পর্যন্ত তিনশ বছর স্থায়ী এই যুদ্ধকে তারা ‘ক্রসেড’ নাম দেয়। ১০৯৫ থেকে ১১৪৪ সাল পর্যন্ত যুদ্ধে খৃস্টানরা এগিয়ে থাকে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে তারা পরাজিত হয়।
ক্রসেডের শেষ সময়ে মধ্য-এশিয়ায় মোঙ্গলদের ধ্বংসকান্ড শুরু হয়। ‘ক্রসেডাররা মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদেরকে উস্কানি দেয়। ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে মামলুক সুলতান শামসুদ্দীন ইলতুতমিশ (১২১০-৩৬) তাদের রুখে দেন। কিন্তু হালাকু খানের বাহিনী ১২৫৬-৫৮ সালে আব্বাসীয় শাসকদের শক্তিকেন্দ্র বাগদাদ ধ্বংশ করে দামেস্কের সদর দরোজা পর্যন্ত পৌছে যায়। এই ধ্বংসকান্ডের পর মুসলমানদের কেন্দ্র ইরাক থেকে মিসরে এবং এর পর তুরস্কে সরে যায়।
মধ্য-এশিয়ার বিপর্যয়ের পর দিল্লীর শাসনকেন্দ্র মুসলমানদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মধ্য এশিয়ার বহু মুসলমান তখন ভারতীয় বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় হিজরত করেন।
এমনি সময়ে পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো ডা গামা দিল্লীর লোদী সুলতানদের শাসনামলে (১৪৫১-১৫২৬খৃ) ১৪৯৮ সালের ২০ মে মালাবার উপকূলে পৌঁছান। মুসলিম বণিকগণ সেখানে তাকে বাধা দেন। কালিকটের স্থানীয় হিন্দু রাজা জামুরিন তাকে অভ্যর্থনা জানান। ছয় মাস ছয় পর ভাস্কো ডা গামা জামুরিনের চিঠি নিয়ে পর্তুগালে গিয়ে ১৫০২ সালে ফিরে আসেন। ১৫০৫ সালে পর্তুগীজ নাবিক ফ্রান্সিককো দ্য আলমেডিয়া দেড় হাজার লোক-লশকর নিয়ে ভারতীয় উপকূলে পৌছেন।
‘ক্রসেডীয় মনস্তত্ত্ব’ নিয়ে এই ইয়োরোপীয়ররা নৌপথে ‘তরবারি’ হাতে ডাকাতি করেন আর স্থলভুমিতে ‘বাইবেল’ হাতে ধর্ম প্রচার করেন। আল ফানসো দ্য আল বুকার্ক মালাবার উপকূলে ১৫১০ সালে গোয়া দখল করে প্রথম ইয়োরোপীয় উপনিবেশ কায়েম করেন। ১৫১০ থেকে ১৫১৫ সালের মধ্যে পর্তুগীজরা কোচিন, দমন, দিউ দখল করেন। ‘তরবারি’র দাপট দক্ষিণ উপকূলে কেন্দ্রিভূত থাকলেও ‘বাইবেল’-এর মিশন বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। নানা স্থানে গীর্জা কায়েম হয়। তাদের হাত মোগল দরবার পর্যন্ত পৌছে যায়।
মোগল সম্রাট আকবর (১৫৫৬-১৬০৫) তথাকথিত দীন-ই-ইলাহির নামে নতুন ধর্মমত সৃষ্টি ও নিজেকে ইমাম-ই-আদিল বা ধর্মীয় বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত দেয়ার অধিকারী ঘোষণার পেছনে এই খৃস্টানদের ভূমিকা ছিল বলে কিছু ঐতিহাসিক মত রয়েছে। নতুন ধর্মে খৃস্টানদের ‘ঘন্টা’ আর তাদের তিন প্রভু বা ‘ফাদার গড’, ‘মাদার গড’ ও ‘সান গড’কে স্বীকৃতি দেয়া হয়। খৃস্টানদের ত্রিত্ববাদকে মর্যাদা দেয়া হয়।
১৫৮০ সালের শুরুতে জৌনপুর প্রদেশের কাজী বা প্রধান বিচারপতি মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াজদী আকবরের বিরুদ্ধে ফতওয়া জারী করে আকবরকে ধর্মত্যাগী ঘোষণা করেন। কয়েকটি প্রদেশে বিশেষত পূর্ব ভারতের বাংলাদেশে ও বিহারে এবং জৌনপুরে প্রচন্ড বিদ্রোহ দেখা দেয়।
বাঙলার বারো ভূঁইয়ারা মোগলদের বিরুদ্ধে দাঁড়ান।
কথিত দ্বীন-ই-ইলাহীর জগাখিচুড়ি সমাজে চিন্তার বিভ্রান্তি ও বিশৃংখলা তৈরী করে আকবর ভারতীয় মুসলমানদের সংস্কৃতির সীমানা পাহারাহীন করে ফেলেন। কোন কোন ঐতিহাসিক আকবরকে তাই ‘ধ্বংশের নকীব’ বলেছেন। শায়খ আহমদ সরহিন্দী (১৫৬৩-১৬২৪ খৃ.) এই সাংস্কৃতিক বিপদ সম্পর্কে জাতিকে সতর্ক করেন। শায়খকে গোয়ালিয়র দুর্গে বন্দী করলে সামরিক বাহিনীতে বিদ্রোহের শংকা দেখা দেয়
সম্রাট আকবরের সময় ঢাকায় খৃস্টান মিশনারীদের ততপরতা বাড়ে। ‘হিস্টরী অব কটন মেনুফেক্চারারস অব ঢাকা’ গ্রন্থে বলা হয়: আকবরের সময় ‘ঢাকা শহরের ৪ মাইল উত্তরে’ তেজগাঁও-এ খৃস্টান মিশনারী সেন্ট অগাস্টাইন ১৫৯৯ সালের আগে প্রথম গীর্জা নির্মাণ করেন। History of the Cotton Manufacturer of Decca District, Calcutta Review, 1845: Page 250; James Taylor: Topography of Dacca; জেমস টে’লর: কোম্পানী আমলে ঢাকা, বাংলা একাডেমী, পৃষ্ঠা ১৯৫)
খৃস্টানরা তখন থেকেই পরিকল্পনা করে জমি কিনতে থাকেন মুসলিম সমাজে এ নিয়ে শংকা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ১৬৪০ সালে ঢাকা সফরকারী সিবাস্টিয়ান ম্যানরিকের বিবরণ থেকে জানা যায়: ‘ঢাকার মৌলবীগণ মদ্যপায়ী ও শুকরভোজী’ এই ‘কাফের’দেরকে তাড়াতে নানা উপায়ে চেষ্টা করেন। সে কথা আকবরের কানে যায়। ‘দিল্লীশ্বর’ খৃস্টানদের কাজে বাধা দিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তিনি তেজগাঁয়ের কাছে খৃস্টানদেরকে জমি দান করেন।
পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো ডা গামার ভারতীয় উপকূলে নোঙর করার একশ বছর পর ১৬০০ সালে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বণিকরা এখানে আসেন। এর পর ১৬০২ সালে ডাচ, ১৬০৪ সালে ফরাসী, ১৬১২ দিনেমার, ১৬৩৩ সালে স্পেনের বনিকরা আসেন। ১৬০০ সালের ৩১শে ডিসেম্বর তারিখে ইংল্যান্ডের রাণী প্রথম এলিজাবেথ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীকে একটি সনদ দেন। এই সনদে কোম্পানীকে উত্তমাশা অন্তরীপের পু্ব দিকের সব দেশে একচেটিয়া ব্যবসার অধিকার দেওয়া হয়।
তার পর স্রোত অনেক গড়ায়। ভাস্কো ডা গামার দেশের ক্রসেডারদের তৈরি করা পথ বেয়ে ব্রিটিশ ক্রসেডাররা ভারতীয় মুসলিম শাসনের অবসান ঘটায়। ঢাকার পুরনো ইতিহাসকার যতীন্দ্রমোহন রায় আকবরের সময়ে তেজগাওয়ে তৈরি করা গীর্জাকে তাই পলাশীর ‘প্রথম সোপান’ বলেছেন। তিনি লিখেছেন: ‘রোমান ক্যাথলিক খ্রীষ্টিয়ানদিগের বঙ্গদেশে জমিদারী লাভের ইহা প্রথম সোপান স্বরূপ হইয়াছিল।’ (যতীন্দ্রমোহন রায়: ঢাকার ইতিহাস, শৈব্যা প্রকাশনা বিভাগ (কলকাতা) ২০০০, পৃষ্ঠা ২৭১-২৭২)