স্বাক্ষর

চারিদিকে নিরানন্দে ভেস্তে যাচ্ছে আনন্দবাজার
আনন্দবাজারে ক্রমশ ঘন হচ্ছে
চরিত্র হারিয়ে মাটি খোঁজার হেডলাইন
কোথাও মাটি হারিয়ে চরিত্রানুসন্ধানের হেডলাইন
হেডলাইনের পাড়াতেই দাঁড়িয়ে আছি
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি অবাক পৃথিবী
প্রণামের মত ক্রমশ নু’য়ে পড়ছে
খাঁটির খুঁটিগুলো…

এসবের পরেও আমার অবাধ্য চোখ
পশ্চাৎ দরজা ভেঙে দৌড়ে যাচ্ছে-
সোঁয়া পড়া সেই অন্নপ্রাশনের রোদে
যেখানে গণনান্তে জ্যোতিষ গণিত
বড় বড় হরফে সগৌরবে ঘোষণা করেছিল
আমার শতায়ু…
কিন্তু, বিশ্বাস করুন-
এই এবড়ো-খেবড়ো দীর্ঘ জার্নিতে আমি নেই
এই দীর্ঘ জার্নিতে আজও আমি
স্বাক্ষর করিনি…

আমি কদাপি আর ঢুকতে চাইনে
অতিলোভে তাঁতী নষ্ট হওয়ার ক্লাইমেক্সে
জন্মলগ্ন থেকেই মাথার উপর
ঝুলে আছে খরবারের খাঁড়া
নীলফুলে বড়ঠাকুরকে স্যালুট জানিয়ে
বেশ তো পেরিয়ে যাচ্ছি খরবারগুলো
বরং এই ভালো…

বরং এই ভালো
আচমনে ধুয়ে নিয়ে কলম
আমন্ত্রক ছুঁয়ে আছি কবিতার নিত্য-সেবা
সচন্দন পুষ্পবৎ শব্দে শব্দে অঞ্জলি দিচ্ছি
শব্দব্রহ্মকে…
হে শব্দব্রহ্ম, যদি আমি সুফলা হই–
যদি পারো, মৃত্যুর পর আমাকে
যতদিন খুশি বাঁচিয়ে রেখো
এই মরণোত্তর নিরাকার জার্নিতে
আজ আমি স্বাক্ষর করে গেলুম…
……………………………………………

আলংকারিক সাইরেন

বহু হাজার হাজার বছর আগে অনায়াসে খসে পড়েছে
মানুষের অতিরিক্ত অঙ্গ পুচ্ছ…
চাপা পড়ে গ্যাছে সেই পুচ্ছ অবলুপ্তির কাহিনী
বিবর্তনের স্রোতে বারবার পাল্টে গ্যাছে সভ্যতার আদল
তথাপি চিরাচরিত মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নির্ঘন্টে
ফুটে ওঠেনি প্লাস-মাইনাসের আশ্চর্য কোনো স্থায়ী দৃষ্টান্ত
অর্থাৎ মাসে দিন সংখ্যা ও বছরে মাস সংখ্যার মতই
আঙ্গুল দন্ত ইত্যাদি সংখ্যাতে অপরিবর্তিত মানুষ
একই মহিমায় দৌড়ুচ্ছে ওজন ও মাপ-পরিমাপের তত্ত্ব
আজও মাইনাস খাইনি গন্ডা বা ডজন নির্ধারক সংখ্যা
অথচ এক তাড়া বিড়িতে পঁচিশ মাইনাস ফাইভের ধাক্কা
আর এক দিস্তা কাগজে চব্বিশ মাইনাস টু-য়ের ল্যাং
এত বড় বদহজমে একটি ঢেকুরও ওঠেনি এ যাবৎ
আশ্চর্য এই বিবর্তনের তাত্ত্বিক শিরোনাম খুঁজতে গিয়ে
বার বার ধরা পড়েছে মানুষের লালসাপূর্ণ ওভার অ্যাক্টিং
যে চাপা অন্ধকারের আজও কোনো সংজ্ঞা নির্মান হয়নি…

ইদানীং বিবর্তনের নবতম সদ্য উপসর্গে স্তম্ভিত বৈজ্ঞানিক মগজ
অধুনা একতাড়া বিড়ি বা এক দিস্তা কাগজের মতই
চব্বিশ ঘণ্টা আগেই নাকি মুড়িয়ে যাচ্ছে দিন
এ তো গল্প শেষ না হতেই নটে গাছ মুড়ানোর বিজ্ঞপ্তি
অতএব, যতই ডালে ডালে চলো আর পাতায় পাতায় হাঁটো
অন্তরালে কনিষ্টাঙ্গুলিতে যিনি ধরে রয়েছেন বিশ্ব-ব্রহ্মান্ড
একমাত্র সেই নিরাকার কান্ডারীর তাত্ত্বিক ইশারায়
তোমাদের সমস্ত অহেতুক মুন্সিয়ানার পুরষ্কার দিতে-
পৃথিবীও সগৌরবে প্রস্তুত হচ্ছে…

বস্তুত এই কবিতা তারই আলংকারিক সাইরেন!
……………………………………………

স্বপ্ন-খরা

ইদানীং ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন-খরা দিয়ে হাঁটছি
নতুন এক অজ্ঞাত কুলশীল উপসর্গ
অনেকদিন কোনো স্বপ্ন হেডলাইন হয়ে ওঠেনি
ব্রেকফাস্টের ক্লাসে, স্বভাবতই বৈকালিক রোদ্দুরে
মার খাচ্ছে জল-পংক্তি…

তবে কি ওরা গর্তে, নির্মোক ত্যাগের সময়?
নাকি রাত ঘুমে স্বপ্নচোর ফাঁদ পেতেছে নীল নিমন্ত্রণ?
এই চোরা ছিদ্র দিয়েই কি স্বপ্নেরা অনিবার্য নির্বাসনে?
নাকি নিঃশব্দে পেরিয়ে এলুম ওভারফ্লোয়ের বয়স?

রাত-ক্যালেন্ডারে খুঁজি এই উপসর্গের শিরোনাম
নতজানু বিনীত চোখ ছুঁড়ে দেব কোন চোখে?
কাকেই বা বলি, হে মহানুভব-
উপসর্গ নিভিয়ে জ্বেলে দাও অবচেতন চ্যানেল
পরোক্ষে উর্বর এই সুবর্ণ জলোচ্ছ্বাস
অনেকদিন প্লাবিত করেনি অবচেতন তটভূমি…
……………………………………………

সেতু

ভালো থাকা ও মন্দ থাকা
মধ্যিখানে দাঁড়িয়ে আছি
সপ্তর্ষির নীচে
ঋদ্ধ আমি ইষ্টমন্ত্র আলোয়
ঘাটতি সামলাতে
এখনো বিক্রি হইনি…

আসলে এই দাঁড়িয়ে থাকা
থমকে থাকা নয়
ফল্গুর মত গড়াচ্ছি
গড়াতে গড়াতে এগোচ্ছি
অখন্ড অভীষ্টে…

যে সেতু চড়ে
তুমিও ছুঁতে পারো
বিশ্বরূপ দর্শনের দরজা…
……………………………………………

নির্মেদ কবিতা

আর কোনো কিছুতেই উৎফুল্ল বা বিচলিত হইনে
মহা কাঠিন্য ভাঙতে ভাঙতে পৌঁছে গেছি
নিরুত্তাপ কোমল অলোকমালায়
অর্থাৎ শেকড় ছুঁয়েছে নক্ষত্র-উপমা
অদ্ভূতভাবে দাঁড়িয়ে গেছি এই অনুভবের চাঁদে
এখন একই ঔজ্জ্বল্যতায় ছুঁয়ে থাকি
সমস্ত জয়-পরাজয়…

বরং ভালো আছি নির্মেদ কবিতা…
……………………………………………

নাভিশ্বাসের শব্দ

প্রতিনিয়ত সময় বয়ে যাচ্ছে একই রোজনামচা
বিবিধ বিষয় ভারে ভারাক্রান্ত প্রেক্ষাপট
কোথাও কীর্তন, কোথাও কেত্তন
পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছে মান্যতা ও লঙ্ঘন
রক্তদান শিবিরের পিছনে জেগে আছে নৃশংসতা
সর্বনাশী ঘাতকের রক্তাক্ত হাত
চারপাশে সংখ্যাভারী অপ্রাসঙ্গিক অতি অভিনয়
আর অযৌক্তিক তীব্র হাততালি
ক্রমাগত দু’চোখে বাড়িয়ে যাচ্ছে ছানি
এরকম সেতুর নীচে কূটনৈতিক অন্ধকার
মুখোশ মুখোশ দোর্দন্ড দাদাগিরি
এবড়ো খেবড়ো হাজারো বদহজমী দৃশ্যপট
চিবিয়ে খাচ্ছে হজম বাড়ির ঐশ্বরিক রোদ
যাবতীয় সাধন-ভজন ধ্যান-আজান ও ভালোবাসায়
সংক্রমণ হেঁটে বেড়াচ্ছে শুঁয়োপোকা…

এই সময়ের সমস্ত ই.সি.জি রিপোর্টে প্রকট
সত্যম শিবম সুন্দরমের বিপর্যস্ততা
তবে কি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বিধ্বংসী ঔদ্ধত্যসূচী
পরাক্রমী ভাইরাসের মারণ কামড়
ঈশ্বরের ক্রমাগত ভারসাম্য রক্ষার খেলা-
নাকি সূর্য-পৃথিবীর চুক্তিপত্রে সমাপ্তি ঘণ্টার ইঙ্গিত?
……………………………………………

অবাঞ্ছিত জয়

যে কথা একমাত্র অন্তরালেই মানায়
যে কথা নিঃশব্দে উহ্যে রাখাই শ্রেয়
যে কথা কারও অসুখবেলা ছুঁয়ে
নু’য়ে পড়া কোনো গাছের ইতিকথা
যে কথা রাত আকাশে অরুণবেলা
আত্মত্যাগের রোদ…

কটূক্তি ছুঁড়ে সে কথার প্যান্ট খুলে ফেললেও
সে কথা ন্যাংটো হয়না
বরং সে কথা পরমকথা পরমহংসময়
সে কথা বার বার চিনিয়ে দেয় ঈশ্বর সঙ্গ…

তথাপি ভ্রাম্যমাণ এক কলমচর্চা রোদে
পূর্বাভাসের উঠোন জুড়ে ঢাক বাজালো
সুজনবেলার এক আঁধার ঘাঁটা কলম
জনৈকের বিষ মাখানো নষ্ট বিশ্লেষণে
সে কথা হলো অনাবশ্যক ভূমিকা
সে কথা হলো লাঞ্ছিত কবিতা…

অবশেষে লাঞ্ছিত কবিতা ভূষিত হলো
আদিগন্ত অবাঞ্ছিত জয়ের মুকুটে
আর ভয়াবহ খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে
ন্যাংটো হলো নষ্ট বিশ্লেষক…
……………………………………………

তিন আঁজলা প্রতিবেদন

অদ্ভুত নীরবতায় ঘন হচ্ছে সৃষ্টিনাশী কলম
আকাশে সাইরেন বাজাচ্ছে কালপুরুষের কুকুর
মাত্রাধিক অন্ধত্ব বধিরতা নিয়ে
সবাই এখন গোগ্রাসে গিলে খাচ্ছে
সময়ের উলঙ্গ চমৎকারীত্ব
মিনি মাগনার নাটক…

ভূতের মত দীর্ঘ হচ্ছে কলঙ্কিত অধ্যায়
আদিগন্ত নষ্ট ঝাঁঝে ফ্লপ খাচ্ছে
ধ্যান-জ্ঞান-ত্রিসন্ধ্যা জপ-
ছিঁড়ে খুঁড়ে তচনচ হচ্ছে ঐশ্বরিক ভেতর
রক্তের গোপনখানায় জিভ কামড়ে
হয়ত রক্তাক্ত হচ্ছেন নিরাকার ঈশ্বর…

আমার জানা নেই ঈশরের পোস্টবক্স
অন্ধকারে জ্বেলে আছি উজ্জ্বল তিন চোখ
করপুটে একযুগ ঊর্ব্বর আবেদন
শব্দের গভীরে খুঁজছি পদ্ম-গন্ধ-রোদ
শব্দের সমুদ্রে খুঁজছি ব্রাহ্মদরজা
শব্দের মন্দিরে খুঁজছি রাতুল চরণ…
……………………………………………

যাপন-দর্পণ

জেরে জেরে জর্জড়িত জলকথা
প্রতিদিন পিছিয়ে পড়ছি যাপনের ক্লাসে
কখনও দিনের কড়িবরগা ধরে ঝুলে থাকি
রাত্রি যাপনের জটিল জ্যামেতি
কখনও রাত্রি জুড়ে ঘুরপাক খেলি
দিন যাপনের সিঁড়ি ভাঙা নিরুত্তর গণিত…

সহজে খোলেনা যখন জলদরজা-খিল
স্লিপ খেতে খেতে অথৈ শূন্যতায় ডুব সাঁতার
একটি জাগ্রত হাতও দেখাতে পারেনি ঠুঁটে সংসার
কোথাও বেজে ওঠেনি মুঠোভর্তি বিশল্যকরণী অভয়
অবশ্য সে নির্ভরতা নিঃশ্বাস আমার জলপাঠ্য নয়
আমি শক্ত করে ধরে আছি বিশ্বাসের হাত
যে হাত ধরে আপন শুশ্রূষায় ডুব
তুলে আনি নিষ্কন্টক বিজয়শঙ্খ…

পথ ভুলে কতবার ঢুকে গেছি মায়াকানন
তথাপি প্রশ্রয় দিইনি মায়া কান্নাকে
আজন্ম নত আছি যে অদৃশ্য চৌকাঠে
সেখানেই মাথা ঠুকে মায়াকানন জিতে
বেজে উঠি উত্তরপাড়ার রোদে
বিশ্বাসের আরশিতে দেখি আরোধ্য ঈশ্বরের মুখ…
……………………………………………

বিপর্যস্ত সেতুর উপর দাঁড়িয়ে

ভাবতে ভাবতে আটকে আছি
লকডাউনের পাতায়
পবিত্র ঈদের চাঁদ পেরিয়ে
পরবের আরো কত বিষণ্ণ প্রেক্ষাপট
ছুঁয়ে যেতে যেতে-
হেলে দুলে হেসে উঠবে কাশফুল
তখনো কাঁপতে থাকবে বিপর্যস্ত সেতুটা…

বস্তুত, কারো বুকপকেটে আজ
সেই প্রসন্নময়তা নেই
আমি পারি না, দুঃসময়কে কবরে রেখে
অজস্র অমলকান্তি শব্দের রসায়নে
ভালো থাকার চিঠি লিখতে…

বরং বাবুই পাখির মতো অনায়াস বুননে
নির্মাণ করতে পারি আবহমান প্রশ্ন-বাড়ি
যেমন, কেমন আছো- মা-মাটি-মানুষ?
কেমন আছো হে-হৃদয়পুরের ঠাকুরমশাই?
কেমন আছো মধ্যবিত্ত প্রান্তিক সঙ্গীত?
এখন চারিদিকে কী টুপিয়ে পড়ছে-
মানুষের সূর্যাস্ত?
কবে ফিরবে-ভালো থাকার মরশুম?

এসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে
আটকে আছি লকডাউনের পাতায়
যে চাবিতে কাল তালা খুলেছিলো
আজ সে কথা শোনে না…
……………………………………………

প্রসঙ্গ: বিরক্তি-জন্ম

পবিত্রগন্ধী কোনো শুভ সুচনাকে নিয়ে
আমার কোনোরকম দ্বিধা নেই
আমি অপলক তাকিয়ে থাকি মধ্যবর্তী কলমের দিকে
যে কোনো রঙয়ের শুভারম্ভের মধ্যবর্তী কলম
কখনও পিছলে গেলে বা ধর্মচ্যুত হলেই-
মধ্যিখানে বেড়ে ওঠে ব্যবধানের উঁচু গলা…

অর্থাৎ রৌদ্রোজ্জ্বল প্রসঙ্গ যখন
অতি নাটকীয় ঢঙে ঢুকে পড়ে অপ্রাসঙ্গিক বৃত্তে
তখনই ঘরে -বাইরে গ্রহণ লাগে বিশুদ্ধ কীর্তনে
মন জুড়ে শেকড় ছড়ায় গাঢ় বিরক্তি-জন্ম…

ইদানিং লম্বা একটা অদ্ভুত বিরক্তি-জন্ম
টের পাচ্ছি ফেসবুক মেসেঞ্জারে…
শুভ যোগে সকাল -দুপুর -বিকেল -সন্ধ্যা -রাত্রি
একশ্রেণীর শব্দকৃপণ বন্ধুদের এই পঞ্চাহ্নিক নিয়ে
শুরু হয়েছে গুঞ্জন, বিস্তর কথা উঠছে-
যে পঞ্চাহ্নিকে সত্যই কোনো বৈদিক মন্ত্র মাহাত্ম্য নেই
নেই কোনো রসোত্তীর্ণ বিশুদ্ধ কবিতার ঘ্রাণ…

যাবতীয় দুধসাগর পরমায়ুর শিহরে এখন
ঝাঁঝালো গোচনা খেলছে রহস্যজনক ক্রীড়মানেরা
যে নষ্ট দর্শন দর্শনেন্দিয় সামলে নিলেও
ভেতরে মুহুর্মুহু মূর্ছা যাচ্ছে পরমহংস রোদ
বস্তুত ঠুটো জগন্নাথ হয়ে আমরা বিরাজ করছি
প্রমাণিত সত্যের লাল খাতায়…

যেহেতু এ নিয়ে, এ যাবৎ জাতীয় কোনো জরুরীসভার জন্ম হয়নি
সেহেতু, আজও কালের গর্ভান্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছে
চক্রব্যুহ জেতার ওয়ার্কশপ…
আজও সপ্তরথীর অট্টহাসিতে ভারাক্রান্ত বাতাস
অজান্তে খেলেই চলেছে নষ্ট অক্সিজেন…
……………………………………………

অন্তর্নিহিত তীর্থ

একদা একটা জীবন্ত সত্য
ক্রমান্বয়ে বিষ তির খেতে খেতে
চির পরাজিত তথ্য হয়ে
বুক জুড়ে দগদগে কার্বোঙ্ক
বোঝেনা শিশুঘুম
বোঝেনা রূপকথা, ঠাকুরমার ঝুলি
যে টন-টন কট-কটানিপনায়
আজও হাঁপিয়ে উঠছি…

কখনও বর্গি আক্রমণের মত
একরাশ নিঃস্তব্ধতা এসে
কেড়ে নেয় কলম
ভালো থাকার শির কেটে
শ্মশান খেলে…

স্বরলিপিহীন এই শ্বাসকষ্ট পাঠে
চর্মচক্ষুর এক কলমও রোল নেই
রোল নেই মনহীন মনেরও
কবিতার এই অন্তর্নিহিত তীর্থ
তোমার জন্য নয়…

আজও, হোঁচট জিততে শিখলেনা…