রমজান মানব জাতির জন্য রহমত সরূপ। বছরে ৩৬৫ দিন শরীরের কার্যক্রম চলতে থাকে। কাজ কর্ম না করলে হাত পা বিশ্রম পায়। ঘুমালে মাথা বিশ্রাম পায়। কিন্তু পেট সে আর বিশ্রাম নেয়ার ফুসরত পায় না। ক্ষুধা লাগলেও খাই না লাগলেও খাই। ক্রমাগত উদর পূর্তি করেই যাই। তাই পেট নামক ইঞ্জিনখানি আর বন্ধ হয় না। রমজানই পেটের এই বিশ্রামের সুযোগ করে দেয়। মহান আল্লাহ তা’লা আমাদের পেট নামক ইঞ্জিনকে সুস্থ্য রাখার জন্য কি চমৎকার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। কারণ যিনি পরিপূর্ণ মানুষ তৈরি করেছেনে তিনিই জানে কিভাবে তার সৃষ্টি সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে। আমরা সেই কাজটিই করে যাচ্ছি মহান প্রভুর নির্দেশ অনুয়ায়ী আমাদের সুস্থ্য রাখার জন্য। যারা অবাধ্য তারা একদিন এর খেসারত দেয়। পৃথিবীর উপর আমরা অত্যাচার করতে করতে, প্রভুর নির্দেশন না মানতে মানতে এমন এক পর্যায়ে চলে আসছি যে আজ পৃথিবীকে বাঁচানোর তাগিতে আল্লাহ করোনা নামক এক ক্ষুদ্র প্রাণ দিয়ে পৃথিবী সুস্থ্য রাখার ব্যবস্থা করেছেন। আমরা যদি আমাদের জীবনকে সুন্দরভাবে সৃষ্টিকর্তার নির্দেশিত পন্থায় না চলি তাহলে আমাদের জীবনও একদিন মহা সংকটে পর্য বষিত হবে আর জীবন নামের প্রাণটি সংহার হবে। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন যেনো তার নির্দেশিত পরিকল্পনা অনুযায়ি আমরা আমাদের জীবন পরিচালিত করতে পারি।
সৃষ্টিশীলন মানুষ মহান আল্লাহ অন্যতম প্রতিনিধি। আল্লাহর পরিকল্পনাকে মানুষের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য তাদের সৃজনশীলতাকে মেলে ধরেন। রমজান উপলক্ষে তাই তারা লিখিন আল্লাহর নির্দেশ। কবিতা, ছড়া, গল্প, গান ও প্রবন্ধের মাধ্যমে। আমরা চেষ্টা করেছি সেইসব লেখনিকে এক সাথে করে পাঠকের সামনে উপস্থাপনে। আমাদের প্রতিটি সংখ্যা ২০ জন কবির লিখনি দিয়ে প্রকাশ করছি। আজকে প্রকাশ করছি ‘রমজান সংখ্যা ২০২০ : পর্ব-১’। আশা করি এই সংখ্যার লেখা আপনাদের হৃদয়কে প্রশান্তি দেবে। আমাদের কার্যক্রমকে মহান আল্লাহ কবুল করুন। আমিন।। – আফসার নিজাম, সম্পাদক

সূ চী
তারাবি :: জসীম উদ্দীন
রমজানী চাঁদ :: শুভ্রাশ্রী মাইতি
রোজা :: ওমর বিশ্বাস
আহলান সাহলান শাহরুর রামাদান :: আনোয়ার আল ফারুক
এবারের রমজান :: শাহীন খান
নিজদোষ খুঁজি না :: শেখ একেএম জাকারিয়া
প্রথম রোজা :: হুসাইন দিলাওয়ার
পবিত্রতার আশ্বাস :: আবু রাইহান
সিয়াম :: মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর
প্রভূর খুশি :: আশরাফ আলী চারু
সিয়াম :: মিজান ফারাবী
মাহে রামদ্বান :: সৈয়দ ময়নুল কবরী
রোজা মানে :: তারিকুল ইসলাম সুমন
রোযার গাড়ি :: মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ
তিন তরফে ফয়দা :: মজনু মিয়া
পবিত্র মাসের শপথ :: হাসান আবু নাঈম
এক ফালি নয়া চাঁদ :: আবদুর রাজ্জাক বাবু
রমজানের চাঁদ :: আলতাফ হোসেন রায়হান
স্বাগতম রামাদান :: মুহাম্মাদ আলী মজুমদার
রমজান এলো :: মাহমুদ শরীফ

তারাবি
জসীম উদ্দীন

তারাবি নামাজ পড়িতে যাইব মোল্লাবাড়িতে আজ,
মেনাজদ্দীন, কলিমদ্দীন, আয় তোরা করি সাজ।
চালের বাতায় গোঁজা ছিল সেই পুরাতন জুতা জোড়া,
ধুলাবালু আর রোদ লেগে তাহা হইয়াছে পাঁচ মোড়া।
তাহারি মধ্যে অবাধ্য এই চরণ দুখানি ঠেলে,
চল দেখি ভাই খলিলদ্দীন, লুন্ঠন-বাতি জ্বেলে।
ঢৈলারে ডাক, লস্কর কোথা, কিনুরে খবর দাও।
মোল্লাবাড়িতে একত্র হব মিলি আজ সারা গাঁও।

গইজদ্দীন গরু ছেড়ে দিয়ে খাওয়ায়েছে মোর ধান,
ইচ্ছা করিছে থাপপড় মারি, ধরি তার দুটো কান।
তবু তার পাশে বসিয়া নামাজ পড়িতে আজিকে হবে,
আল্লার ঘরে ছোটোখাটো কথা কেবা মনে রাখে কবে!
মৈজদ্দীন মামলায় মোরে করিয়াছে ছারেখার,
টুটি টিপে তারে মারিতাম পেলে পথে কভু দেখা তার।
আজকে জামাতে নির্ভয়ে সে যে বসিবে আমার পাশে,
তাহারো ভালর তরে মোনাজাত করিব যে উচ্ছাসে।
মাহে রমজান আসিয়াছে বাঁকা রোজার চাঁদের ন্যায়,
কাইজা ফেসাদ সব ভুলে যাব আজি তার মহিমায়।
ভুমুরদি কোথা, কাছা ছাল্লাম আম্বিয়া পুঁথি খুলে,
মোর রসুলের কাহিনী তাহার কন্ঠে উঠুক দুলে।
মেরহাজে সেই চলেছেন নবী, জুমজুমে করি স্নান,
অঙ্গে পরেছে জোছনা নিছনি আদমের পিরহান।
নুহু আলায়হুছালামের টুপী পরেছেন নবী শিরে,
ইবরাহিমের জরির পাগড়ী রহিয়াছে তাহা ঘিরে।
হাতে বাঁধা তার কোরান-তাবিজ জৈতুন হার গলে,
শত রবিশশী একত্র হয়ে উঠিয়াছে যেন জ্বলে।
বুরহাকে চড়ে চলেছেন নবী কন্ঠে কলেমা পড়ি,
দুগ্ধধবল দূর আকাশের ছায়াপথ রেখা ধরি।
আদম ছুরাত বামধারে ফেলি চলে নবী দূরপানে,
গ্রহ-তারকার লেখারেখাহীন ছায়া মায়া আসমানে।

তারপর সেই চৌঠা আকাশ, সেইখানে খাড়া হয়ে,
মোনাজাত করে আখেরী নবীজী দুহাত উর্ধ্বে লয়ে।
এই যে কাহিনী শুনিতে শুনিতে মোল্লা বাড়ির ঘরে,
মহিমায় ঘেরা অতীত দিনেরে টানিয়া আনিব ধরে।

বচন মোল্লা কোথায় আজিকে সরু সুরে পুঁথি পড়ি,
মোর রসুলের ওফাত কাহিনী দিক সে বয়ান করি।
বিমারের ঘোরে অস্থির নবী, তাঁহার বুকের পরে,
আজরাল এসে আসন লভিল জান কবজের তরে।
আধ অচেতন হজরত কহে, এসেছ দোস্ত মোর,
বুঝিলাম আজ মোর জীবনের নিশি হয়ে গেছে ভোর
একটুখানিক তবুও বিমল করিবারে হবে ভাই!
এ জীবনে কোনো ঋণ যদি থাকে শোধ করে তাহা যাই।

মাটির ধরায় লুটায় নবীজী, ঘিরিয়া তাহার লাশ,
মদিনার লোক থাপড়িয়া বুক করে সবে হাহুতাশ।
আব্বাগো বলি, কাঁদে মা ফাতিমা লুটায়ে মাটির পরে,
আকাশ ধরনী গলাগলি তার সঙ্গে রোদন করে।
এক ক্রন্দন দেখেছি আমরা বেহেস্ত হতে হায়,
হাওয়া ও আদম নির্বাসিত যে হয়েছিল ধরাছায়;
যিশু-জননীর কাঁদন দেখেছি ভেসে-র পায়া ধরে,
ক্রুশ বিদ্ধ সে ক্ষতবিক্ষত বেটার বেদন স্মরে।
আরেক কাঁদন দেখেছি আমরা নির্বাসী হাজেরার,
জমিনের পরে শেওলা জমেছে অশ্রু ধারায় তার;
সবার কাঁদন একত্রে কেউ পারে যদি মিশাবার,
ফাতিমা মায়ের কাঁদনের সাথে তুলনা মেলে না তার।

আসমান যেন ভাঙ্গিয়া পড়িল তাহার মাথায় হায়,
আব্বা বলিতে আদরিয়া কেবা ডাকিয়া লইবে তায়।
গলেতে সোনার হারটি দেখিয়া কে বলিবে ডেকে আর,
নবীর কনের কন্ঠে মাতাগো এটি নহে শোভাদার।
সেই বাপজান জনমের মতো গিয়াছে তাহার ছাড়ি।
কোন সে সুদূর গহন আঁধার মরণ নদীর পাড়ি।
জজিরাতুল সে আরবের রাজা, কিসের অভাব তার,
তবু ভুখা আছে চার পাঁচদিন, মুসাফির এলো দ্বার।
কী তাহারে দিবে খাইবারে নবী, ফাতেমার দ্বারে এসে;
চারিটি খোরমা ধার দিবে মাগো কহে এসে দীন বেশে।
সে মাহভিখারী জনমের মতো ছাড়িয়া গিয়াছে তায়,
আব্বাগো বলি এত ডাক ডাকে উত্তর নাহি হায়।
এলাইয়া বেশ লুটাইয়া কেশ মরুর ধূলোর পরে,
কাঁদে মা ফাতেমা, কাঁদনে তাহার খোদার আরশ নড়ে।
কাঁদনে তাহার ছদন সেখের বয়ান ভিজিয়া যায়,
গৈজদ্দীন পিতৃ-বিয়োগ পুন যেন উথলায়!
খৈমুদ্দীন মামলায় যারে করে ছিল ছারেখার,
সে কাঁদিছে আজ ফাতিমার শোকে গলাটি ধরিয়া তার।
মোল্লাবাড়ির দলিজায় আজি সুরা ইয়াসিন পড়ি,
কোন দরবেশ সুদূর আরবে এনেছে হেথায় ধরি।
হনু তনু ছমু কমুরে আজিকে লাগিছে নূতন হেন,
আবুবক্কর ওমর তারেখ ওরাই এসেছে যেন।
সকলে আসিয়া জামাতে দাঁড়াল, কন্ঠে কালাম পড়ি,
হয়ত নবীজী দাঁড়াল পিছনে ওদেরি কাতার ধরি।
ওদের মাথার শত তালী দেওয়া ময়লা টুপীর পরে,
দাঁড়াইল খোদা আরশ কুরছি ক্ষণেক ত্যাজ্য করে।

মোল্লাবাড়িতে তারাবি নামাজ হয় না এখন আর,
বুড়ো মোল্লাজি কবে মারা গেছে, সকলই অন্ধকার।
ছেলেরা তাহার সুদূর শহরে বড় বড় কাজ করে,
বড় বড় কাজে বড় বড় নাম খেতাবে পকেট ভরে।
সুদূর গাঁয়ের কি বা ধারে ধার, তারাবি জামাতে হায়,
মোমের বাতিটি জ্বলিত, তাহা যে নিবেছে অবহেলায়।
বচন মোল্লা যক্ষ্মা রোগেতে যুঝিয়া বছর চার,
বিনা ঔষধে চিকিৎসাহীন নিবেছে জীবন তার।
গভীর রাত্রে ঝাউবনে নাকি কন্ঠে রাখিয়া হায়,
হোসেন শহিদ পুঁথিখানি সে যে সুর করে গেয়ে যায়।
ভুমুরদি সেই অনাহারে থেকে লভিল শূলের ব্যথা,
চীৎকার করি আছাড়ি পিছাড়ি ঘুরিতে যে যথা তথা।
তারপর সেই অসহ্য জ্বালা সহিতে না পেরে হায়,
গলে দড়ি দিয়ে পেয়েছে শানি- আম্রগাছের ছায়।
কাছা ছাল্লাম পুঁথিখানি আজো রয়েছে রেহেল পরে,
ইদুরে তাহার পাতাগুলি হায় কেটেছে আধেক করে।
লঙ্কর আজ বৃদ্ধ হয়েছে, চলে লাঠিভর দিয়ে,
হনু তনু তারা ঘুমায়েছে গায়ে গোরের কাফন নিয়ে।

সারা গ্রামখানি থম থম করে স্তব্ধ নিরালা রাতে;
বনের পাখিরা আছাড়িয়া কাঁদে উতলা বায়ুর সাথে।
কিসে কি হইল, কি পাইয়া হায় কি আমরা হারালাম,
তারি আফসোস শিহরি শিহরি কাঁপিতেছে সারা গ্রাম।
ঝিঁঝিরা ডাকিছে সহস্র সুরে, এ মূক মাটির ব্যথা,
জোনাকী আলোয় ছড়ায়ে চলিছে বন-পথে যথা তথা।

রমজানী চাঁদ
শুভ্রাশ্রী মাইতি

মাটির বুকে চিরে পোঁতা আছে কাঁটাতারের রক্তভেজা শেকল।
কান্না-ঘাম আর রক্তের কালো কালো শ্যাওলা তার সারা শরীরে।
যেখানে কাঁটাতার কম পড়ে, সেখানে বেড়ে ওঠা গাছেদের গলাগলি।
আজানের সুর এসে মিশে যায় সন্ধ্যারতির শাঁখের সুরে।
সেহরি আর ইফতারের থালায় পাশাপাশি হাসে চৈতী গাজনের ফল-মিষ্টি।
ফজরের নামাজের সময় হল গো- হাঁক দিয়ে ঈদগাহর পথে যায় রামা কৈবর্ত।
কোরান হাদিসের পবিত্র আয়াত তার ঠোঁটে।
কৃত্তিবাসী রামায়ণী গানে গুণগুণ করে ফুল তোলে বদরু মিঞা।
মন্দির চাতালে ফুল হাতে শুনবে রামায়ণী গান।
কান্না আর রক্তের কালশিটেগুলো মিলিয়ে যেতে থাকে গানের মরমী সুরে।
কাঁটাতারের ক্ষতবিক্ষত শরীর জুড়ে ভালবাসার জোছনাপ্রলেপ মাখায় রমজানী চাঁদ।

রোজা
ওমর বিশ্বাস

আজ সেহেরির খুশির বারতা
প্রাপ্তির কাল, সাধনার মাস পুণ্যতা জ্ঞানে
আজ এসে চাঁদ সেই কথা ঘরে ঘরে
বলে গেছে উঁকি দিয়ে।

এই চাঁদ সরু আজ
গোলের মতোন বাঁকা
পূর্ণতায় সে হবে একদিন পূর্ণ গোলক
তব শিল্পীর নিপুণ আঁকা।

এই সরু চাঁদে আমাদের রোজা শুরু
আমরাও যেন সে চাঁদের মতো
সরু থেকে হই সাধনায় পুরু।

এই মাস শিক্ষার সংযমে রাখা
ক্ষুৎপিপাসা ও ত্যাগের মহিমা
ইসলাম বলে যেভাবে
অন্য মাসের সাথে মিলাবার নয়
মুসলিম আমি- ঈমান-আমল
তাকওয়ায় তা যেন ঠিক হয়।

আহলান সাহলান শাহরুর রামাদান
আনোয়ার আল ফারুক

আহলান সাহলান শাহরুর রামাদান
রামাদান রামাদান মাবুদের মেহমান,
শাহরুল কুরআন শাহরুল ফোরকান
কুরআন পৃথিবীর বড় এক বোরহান
কুরআনে খুঁজে নাও জীবনের সমাধান।।

রামাদান রামাদান শাহরুল কুরআন
বেশি বেশি করো তবে কুরানের সুধাপান,
রামাদানে কিয়ামেও দাও খুব মনোযোগ
মহানের দরবারে দাও সব অনুযোগ;
কুরআনে আছে সব জীবনের উপাদান।

আমলের জিন্দেগী হোক শুধু তাকোয়ার
গুনারাশি আজ থেকে হয়ে যাক ছারখার,
রুকু আর সিজদায় লুটে যাও বারবার
যাও গড়ে যাও শুধু আমলের কারবার।।

রামাদান রামাদান শাহরুল কুরআন
কুরআন মানবের জীবনের অভিধান,
দিবানিশি ক্ষমা চাও ছেড়ে ছেড়ে আঁখিজল
গড়ে নাও জীবনটা কুরানের অবিকল;
মেনে চলো মেনে চলো কুরানের ফরমান।।

এবারের রমজান
শাহীন খান

এবারের রমজান, দ্বন্দ্বের
মন্দের
কষ্টে ভরা
ব্যাবসা বানিজ্য নেই
দুঃখে গড়া।

এবারের রমজান, ভাবনার
চিন্তার
কেমন কেমন
তারাবি নেই মসজিদে
ভাংয়া এ মন !

এবারের রমজান, দ্বীন দ্বীন
দুর্দিন
কান্না ঘেঁষা
কোথ্থাও কেউ নেই
ভগ্ন পেশা !

এবারের রমজান কোভিডে খেলো
ছিলো আশা ভালোবাসা হারিয়ে গেলো!

নিজদোষ খুঁজি না
শেখ একেএম জাকারিয়া

রমজান এলে ভাই
ভাব নিয়ে খাই খাই
মার্কেটে সবে যাই
চাল ডাল তেল নুন
পন্যের দাম বেড়ে
হয় তাই বহুগুণ!

দাম শুনে নেই হুঁশ
দোকানীর দেই দোষ
জোরে জোরে ধমকাই
কেন্ হায় বুঝি না
নিজদোষ খুঁজি না
তর্কটা করে যাই!

এইমাস সবুরের
এমাস সওয়াবের
গুণে দেখো কুষ্ঠি
ন্যায় কাজ করোরে
সৎপথ ধরোরে
দেহে হবে পুষ্টি।

সারাদিন খেয়ো না
পাপপথে যেয়ো না
দূর হবে মোষটা
সাহরি ও ইফতারে
খাও যদি পেটপুরে
খুশি হন স্রষ্টা।

প্রথম রোজা
হুসাইন দিলাওয়ার

প্রথম রোজা
খুশির আমেজ দারুণ মজা
নিচ্ছি মুখে
মনের ভুলে
ঠান্ডা পানি মিঠাই গজা।
প্রথম রোজা
প্রথম রোজা
সেহরি খাওয়ার দিচ্ছে তাড়া
উঠ্ জলদি
ছুট্ লাগা
ঠান্ডা হল ডালের বড়া।
প্রথম রোজা
প্রথম রোজা
ইফতারিতে পসার মেলা
মুড়ি ছলা
আঙুর কলা
খাচ্ছে না কেউ হয়নি বেলা।
প্রথম রোজা
প্রথম রোজা
খুলব রোজা আযান হলে
করব দোয়া
কাজের বুয়া
সবার সাথে সবাই মিলে ।

পবিত্রতার আশ্বাস
আবু রাইহান

আজীবন তোমার প্রত্যাশায়
হয়ে আছি নতজানু
অনন্তকাল ধরে এই ভাবে
নতজানু থাকবো
তবুও তোমাকে পাওয়ার
আশা রাখবো

বিষন্ন বাতাসে চারিদিক
হয়ে আছে বিমর্ষ উদাসীন
সম্পর্কের ক্ষয়িষ্ণু সেতুতে
জমছে প্রিয় ভালোবাসা ঋণ
সঞ্চরণশীল মন চায় স্বপ্নীল উড্ডিন

স্পর্শের আকাঙ্ক্ষায় বিগলিত
জমাট অভিমান
নিবিড় রাত্রির মোহময় স্মৃতিতে জেগে উঠছে
সম্পর্কের পিছুটান!

বিশুদ্ধ হতে শেখায় ত্যাগের মাস
রাতের শেষ প্রহর বয়ে আনে পবিত্রতার আশ্বাস!

সিয়াম
মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর

ধীর পায়ে এগিয়ে এলেন তিনি
কিছু বলবেন এমনটিই মনে হলো তার আচরণে
চাওয়া চাওয়ি করছেন অনুমতির জন্য
অনুমতি পেলেন
দাঁড়িয়ে গেলেন কবি, শুরু করলেন বক্তৃতা-
আমরা মুসলিম, ইসলাম আমাদের ধর্ম
আল্লাহর একমাত্র মনোনীত জীবন বিধান
পরিপূর্ণ জীবনাদর্শ
জীবনের প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা আছে এখানে
ইসলামের সংবিধান আল কুরআন
সংবিধানের ব্যাখ্যা রয়েছে হাদিসের বাণীতে
অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হলেন রাসূল মুহাম্মদ সা.
রাসূলের জীবন চরিত্র, তাঁর সুন্নাহ।
ইসলামের বুনিয়াদ ঈমান, মূল ভিত্তি
আরও আছে নামাজ রোজা হজ্জ যাকাত
স্থান কাল পাত্রভেদে প্রয়োজনীয় অগনিত ইবাদাত।
সময় এখন রমজানের
সিয়ামের মাস, কুরআন নাজিলের বসন্তকাল।
বসন্তের আবরণে তুমি কি নিজেকে সাজাতে চাও
ঈমানের পরিপূর্ণতা অর্জন করতে চাও কি
হ্যাঁ, এই বসন্ত মৌসুমে নিজেকে রাঙিয়ে নিতে পার
কুরআনের পাতায় পাতায় নিজেকে দেখতে পার
হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করতে পার সকল নির্দেশনা
মনে রেখো উপবাসে রোজা হতে পারে, সিয়াম নয়
নাদুসনুদুস দেহ গঠনে সিয়ামের কোন শিক্ষা নাই
অশ্লীলতা, মিথ্যাচার আর হিংসাত্মক আদর্শের মাঝে
সিয়ামের কোন কার্যকরীতা নাই
পানাহারের ধোঁকাবাজি চাইনা আর
লোক দেখানো উপবাস ছেড়ে দাও বলছি
হক্কুল্লাহের সাথে হক্কুলইবাদের দাবি চুকিয়ে দাও
আল্লাহকে ভয় কর
রোজা নয়, উপবাসের লৌকিকতা নয়
সিয়াম ধরো, কুরআন পড়ো, সুন্নাহ বোঝ
তোমার হাত ধরে ধরে
সিয়ামের ময়দানে আবারও ফিরে আসুক বিশ্ব সভ্যতা।

প্রভূর খুশি
আশরাফ আলী চারু

আমার নামাজ আমার রোজা
করবো আমি ঠিক মতো
তবেই প্রভূ খুশি হবেন
দূর করিবেন সব ক্ষত।
দূর করিবেন মহামারী
দূর করিবেন সব অভাব
দূর করিবেন আছে যতো
মন্দ আমার সব স্বভাব।
হোকনা যতই পাহাড় সমান
কষ্ট কিবা আর কিছু
নামাজ রোজাই নিবে আমায়
স্রষ্টা যিনি তার পিছু।
এই জগতে চাইনা কিছু
চাই শুধু চাই প্রভূরে
হোকনা যতই কষ্ট আমার
রাখবো রোজা তবুরে।

সিয়াম
মিজান ফারাবী

সিয়াম দিনে দান বাড়ালে
ভরবে প্রতিদানে
প্রভুর রহম পাবে সবাই
বাড়বে অযুত মানে।

আজকে যারা অনাথ-এতিম
করো তাদের স্মরণ
সিয়াম হবে আলোকিত
পেলেই তারা ভরণ।

সিয়াম হবে পূর্ণ তখন
থাকলে সবাই ভালোয়
ধনী গরীব বিবাদ ভুলে
মিশলে সাদা-কালোয়।

সিয়াম হলে মানবতার
থাকবে না কেউ দুখে
দুখের দিনে সাথী হলে
থাকবে সবাই সুখে।

সিয়াম এলে সাম্য-দানে
আসবে সুখের দিন
সিয়াম হলে সব মানুষের
মুছবে হাজার ঋণ।

মাহে রামদ্বান
সৈয়দ ময়নুল কবরী

ডাকছে আজি হাতছানিতে খোদার নিয়ামাত
ইচ্ছেমতো ভোগ করে নাও, করে ইবাদাত
মুসলমানের জীবন বিধান পবিত্র কোরান
এ মাসেতে নাজিল করলেন আল্লাহ মহান।
নামাজ পড়ো কোরান পড়ো, করো আত্মসংযম
খোদার কাছে দয়া মাঙি, চাই করম ও রহম
রহমত ররকত মাগফেরাতে, এলো মাহে রামদ্বান
আত্মশুদ্ধি ত্যাগ মহিমায়, কোঁড়ে নাও কল্যাণ।

রোজা মানে
তারিকুল ইসলাম সুমন

রোজা মানে খোদা ভীতি
রোজা রহমত,
রোজা মানে ভালোবাসা
ধৈর্যের পথ।

রোজা মানে খুশি ভরা
মোমিনের দিল,
রোজা মানে মনে ভীতু
হয় আযাযিল।

রোজা মানে শানে ঘষা
ঈমানের দম,
রোজা মানে শিখে থাকা
রিপু সংযম।

রোজা মানে পালনীয়
বড় আহকাম,
পাড়ি দিতে পরপারে
মহা পয়গাম।

রোযার গাড়ি
মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

দেখতে দেখতে কমছে রোযা
চলছে তাড়াতাড়ি,
নেকি কামাই করতে হলে
ধরো রোযার গাড়ি।

তাসবীহ জপো নামায পড়ো
রোযার গাড়ি চড়ে,
পরকালে যাও এগিয়ে
আপন আপন ঘরে।

বেশি বেশি দান করো আর
কুরআনখানি পড়ো,
রোযার গাড়ি চলছে জোরে
জলদি তারে ধরো।

চোখের পলক ফেলতে নাহি
রোযার গাড়ি উদাও,
তাড়াতাড়ি করো তুমি
নইলে যাবে তো ফাও।

তিন তরফে ফয়দা
মজনু মিয়া

রোজা আসে রমজান মাসে
মুমিনগণে জানে,
আছে ফয়দা রাখলে রোজা
আছে যে তার মানে।

রোজা হল রহমতের
প্রথম দশদিন ধরে,
আল্লাহ তায়ালার রহমত হয়
এটাই মনে করে।

দ্বিতীয় দশদিন মাগফিরাত
পাপী তাপী যারা,
মাগফিরাতের জন্য কাঁদে
রবের নিকট তারা।

শেষের দশদিন নাজাতের হয়
ক্ষমা চেয়ে নিয়ে,
আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করেন
আখিরাতে গিয়ে।

পবিত্র মাসের শপথ
হাসান আবু নাঈম

গরীব ধনীর ঘুছাতে ব্যবধান
বছর ঘোরে এল আবার ঐ রমজান।
আসমানের দরজা দিল খুলে
হয়োনা গাফেল, দিওনা ফাঁকি, খোদাকে ভুলে।

যা চাওয়ার চেয়ে নাও
যা দেওয়ার দিয়ে নাও।
এখনই সময় ক্ষমা চাওয়ার, নত মস্তকে খোদার দরজায়
গরীবের হক, যাকাত করিতে হবে আদায়।

রোগশোকে ভোগে অনাহারী
শুনি রোজ তাদের আহাজারী।
এসো আজ সকলে মেনে চলি খোদার অমোঘ বাণী
তাদের তরে বাড়িয়ে দেই আমাদের দু হাত খানি।

যুগে যুগে যারা নিপীড়িত, নিভৃতে জল ফেলে কাতরায়
আকাশে তাদের চোখ, খোদার গজবের অপেক্ষায়।

এসো আজ শপথ করি, ভুলে হিংসা বিদ্বেষ
সাম্যের সমাজ গড়ি, মেনে চলি খোদার নির্দেশ।

পবিত্র মাসের শপথ
এসো হই নবীর শ্রেষ্ঠ উম্মত। ।

এক ফালি নয়া চাঁদ
আবদুর রাজ্জাক বাবু

এক ফালি নয়া চাঁদ
ছুঁয়ে দিলো আসমান-
বয়ে গেলো আলোড়ন
শুরু হলো রামাজান।

শুরু হলো রোজা রাখা
রাত জেগে ইবাদাত,
ইফতার, ছেহেরীতে
ঝরে পড়ে রহমত।

পাষাণ হৃদয়ও বুঝি
গলে আজি- একাকার,
পাপী-তাপি যত মন-
কেঁদে সার বেশুমার।

ক্বদরের রাত এলে-
পড়ে রবে সেজদায়,
নাজাত করিও প্রভু-
ওগো মহাদয়াময়॥

রমজানের চাঁদ
আলতাফ হোসেন রায়হান

রমজানের চাঁদ রোজা রাখ
নিয়ত সহি করে
এই রোজা কাজে আসবে
রোজ হাশরের তরে।

রমজান মাসের রোজার ছোয়াব
অনেক বেশি জানি
আল্লাহ দিবেন রোজার ছোয়াব
আমরা সবাই মানি।

নামাজ পড় কোরান পড়
বেশি কর দান
অনেক বেশি ছোয়াব দিবেন
আল্লাহ মেহেরবান।

রোজার মাসে ইফতার পূর্বে
দোয়া কবুল হয়
এই কথাটি হাদিসে আছে
বহু প্রমাণ রয়॥

রমজানের ইফতার
রমজান মাসে রোজার শেষে
ইফতার যারা করে
স্বয়ং আল্লাহ ভাল জানেন
সেই বান্দার তরে।
ইফতার পূর্বে ইফতার নিয়ে
বান্দা বসে যখন
সৃষ্টিকর্তা খুশি হয়ে
পুণ্য দেন তখন।
আল্লাহ বলেন ফেরেশতা ডেকে
দেখ বান্দার কাজ
হুকুম ছাড়া ইফতার করতে
পায় তারা লাজ।
রোজাদার ব্যক্তির রোজার ছোয়াব
অনেক বেশি হয়
অপর ব্যক্তিকে ইফতার সময়
শরিক করে লয়॥

স্বাগতম রামাদান
মুহাম্মাদ আলী মজুমদার

স্বাগতম রামাদান, খোশ আমদেদ
মুছে যাক মানুষের সব ভেদাভেদ।
রোজা রেখে মেনে চলো রবের আদেশ
সব কাজে পাবে তবে শান্তি-আবেশ।
রোজা রেখে বুঝে নাও ক্ষুধিতের দুখ
ইসলামে খুঁজে নাও শান্তি ও সুখ।
আহলান সাহলান মাহে রামাদান
এই মাসে মসজিদে বেশি বেশি যান।

রহমত বরকতে ভরা এই মাস
এই মাসে যত পাপ করো সব নাশ।
রোজা রেখে ষড়রিপু করো খান খান
আল্লাহ নিজ হাতে দেবে প্রতিদান।
শেষ দশ দিনে আছে ক্বদরের রাত
কেঁদেকেটে ক্ষমা চাও তুলে দুই হাত।
আহলান সাহলান মাহে রামাদান
তুমি এলে নেচে ওঠে মুমিনের প্রাণ।

রমজান এলো
মাহমুদ শরীফ

রমজান এলো সিয়াম এলো
আবার বছর ঘুরে
ঝরছে খোদার রহম ধারা
নাওনা রহম কুড়ে।

এই সিয়ামের বদলা দিবেন
আল্লাহ তা‘লা নিজে
সিয়াম দেখায় ধনীর পেটে
ক্ষুধার জ্বালা কীযে!

রমজান এলেই শীকল পড়ে
ইবলিসেরই পায়ে
ভাগ্যবানে হয় যে শামিল
জান্নাতেরই নায়ে।

রমজান এলেই রহম ধারা
ঝরে খুবই বেশি
যায় ভুলে যায় পাপের কাজ
হিংসা রেষারেষি।

রমজান আবার যাবে চলে
সময় খুবই কম
দু’হাত দিয়ে রহম কুড়াও
নিওনা আর দম।

ভাললাগেনা অনেক কিছু
ছোট্ট সোনা চাঁদের কণা
কাজ করে পয়সা গোনা,
পেঁটার হাসি কাকের ডাক-
ভাললাগেনা মদন টাক।

নদীর বুকে বালুর চিক
ভণ্ড নেতা-ব্যর্থ কীক,
খাচ্ছে সমাজ ভণ্ড কিং
ভাললাগেনা লোডশেডিং।

চলছে গাড়ি তাড়াতাড়ি
গতি অতি বাড়াবাড়ি,
মিথ্যা-জুলুম-অন্যায়-
ভাললাগেনা বন্যায়।
সব জিনিসের ঊর্ধ্বগতি
মুনাফাখোর কোটিপতি,
রাস্তা-গলি-ভাঙা-কাদা
ভাললাগেনা ধরলে চাঁদা।

কষ্ট-ব্যথা-কান্না-দুুখ
থাকলে মানুষ অনাথ ভুখ,
কারোর হক কেড়ে নিলে
ভাললাগেনা আমার দীলে।

চোর-ডাকাত-খুনি-টাউট
ক্রিকেটে বোল্ড-ক্যাচ আউট,
খাদ্য-ওষুধ ভেজাল মোয়া
ভাললাগেনা গাড়ির ধোঁয়া।

কাজে ফাঁকি অফিস পাড়ায়
ইচ্ছে মত উপরি বাড়ায়,
বৃষ্টি-ঝড়ে খারাপ মন
ভাললাগেনা উজাড় বন।

বক ধার্মিক-ভ- গুরু
বাতের রোগে ব্যথায় উরু,
শিশু হত্যা-বাল্য বিয়ে-
ভাললাগেনা এসব নিয়ে।

ব্যবসা যখন শিক্ষা সেবায়
কার অপরাধ কে বলো দায়?
ডিস লাইনের অবাধ নীতি-
ভাললাগেনা এ-দুর্গতি।

বৈধ লোকের অবৈধ কাজ
পড়লে ধরা পায়না সে লাজ,
শান্ত-সবুজ হচ্ছে লীন-
ভাললাগেনা ফরমালিন।

পথে-ঘাটে-বাসে-রেলে
নিত্য চলা শুধুই ঠেলে,
অশান্তি আজ বিশ্ব জুড়ে-
ভাললাগেনা দিন-দুপুরে।

শ্রমের দাম পায়না চাষায়
নষ্টামী আজ ভালোবাসায়,
লিখলে আরো আগে-পিছু
ভাললাগেনা অনেক কিছু!