রমজান মানব জাতির জন্য রহমত সরূপ। বছরে ৩৬৫ দিন শরীরের কার্যক্রম চলতে থাকে। কাজ কর্ম না করলে হাত পা বিশ্রম পায়। ঘুমালে মাথা বিশ্রাম পায়। কিন্তু পেট সে আর বিশ্রাম নেয়ার ফুসরত পায় না। ক্ষুধা লাগলেও খাই না লাগলেও খাই। ক্রমাগত উদর পূর্তি করেই যাই। তাই পেট নামক ইঞ্জিনখানি আর বন্ধ হয় না। রমজানই পেটের এই বিশ্রামের সুযোগ করে দেয়। মহান আল্লাহ তা’লা আমাদের পেট নামক ইঞ্জিনকে সুস্থ্য রাখার জন্য কি চমৎকার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। কারণ যিনি পরিপূর্ণ মানুষ তৈরি করেছেনে তিনিই জানে কিভাবে তার সৃষ্টি সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে। আমরা সেই কাজটিই করে যাচ্ছি মহান প্রভুর নির্দেশ অনুয়ায়ী আমাদের সুস্থ্য রাখার জন্য। যারা অবাধ্য তারা একদিন এর খেসারত দেয়। পৃথিবীর উপর আমরা অত্যাচার করতে করতে, প্রভুর নির্দেশন না মানতে মানতে এমন এক পর্যায়ে চলে আসছি যে আজ পৃথিবীকে বাঁচানোর তাগিতে আল্লাহ করোনা নামক এক ক্ষুদ্র প্রাণ দিয়ে পৃথিবী সুস্থ্য রাখার ব্যবস্থা করেছেন। আমরা যদি আমাদের জীবনকে সুন্দরভাবে সৃষ্টিকর্তার নির্দেশিত পন্থায় না চলি তাহলে আমাদের জীবনও একদিন মহা সংকটে পর্য বষিত হবে আর জীবন নামের প্রাণটি সংহার হবে। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন যেনো তার নির্দেশিত পরিকল্পনা অনুযায়ি আমরা আমাদের জীবন পরিচালিত করতে পারি।
সৃষ্টিশীলন মানুষ মহান আল্লাহ অন্যতম প্রতিনিধি। আল্লাহর পরিকল্পনাকে মানুষের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য তাদের সৃজনশীলতাকে মেলে ধরেন। রমজান উপলক্ষে তাই তারা লিখিন আল্লাহর নির্দেশ। কবিতা, ছড়া, গল্প, গান ও প্রবন্ধের মাধ্যমে। আমরা চেষ্টা করেছি সেইসব লেখনিকে এক সাথে করে পাঠকের সামনে উপস্থাপনে। আমাদের প্রতিটি সংখ্যা ২০ জন কবির লিখনি দিয়ে প্রকাশ করছি। আজকে প্রকাশ করছি ‘রমজান সংখ্যা ২০২০ : পর্ব-২’। আশা করি এই সংখ্যার লেখা আপনাদের হৃদয়কে প্রশান্তি দেবে। আমাদের কার্যক্রমকে মহান আল্লাহ কবুল করুন। আমিন।। – আফসার নিজাম, সম্পাদক

সূ চী
মাহে রমজান :: খালীদ শাহাদাৎ হোসেন
সাওয়াব খোঁজার মাস :: আমিনুল ইসলাম
রোজাদার ব্যক্তি :: মোস্তফা কামাল সোহাগ
অফার :: দীদার মাহদী
আবার এলো রমজান :: আবু জাফর
রমজান :: জাহাঙ্গীর ডালিম
রমজানের এই মাসে :: শরীফ সাথী
মাহে রমজান :: তানি হক
রমজান :: ইসলাম তরিক
মাহে রমজান :: মাহমুদুল হাসান খোকন
রমজান :: জয়নব জোনাকি
রোজা :: হামিদ হোছাইন মাহাদী
রোজার ছড়া :: ইসমাইল জমাদার
রমজান–এর ‘রমানা’ :: গাজী ইউসুফ হাফিজ
গজল :: মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ফকির
পবিত্র মাহে রমজান :: মোঃ মনিরুল ইসলাম মামুন
রমজান এলো :: আনোয়ার শাহাদাৎ জুয়েল ফকির
সিয়াম সাধনা :: উম্মে হাবিবা
সেই সুর! :: আবদুস সামাদ
রমজান :: আব্দুল হাকিম

মাহে রমজান
খালীদ শাহাদাৎ হোসেন

নাজাতের নাবা নিয়ে এলো মাহে রমজান
রমজান মানে ত্যাগ, বেশি নয় কম খান।
রমজান মাস এলে দাম বাড়ে জিনিসের
যদি লাগে একপোয়া, অযথা কিনে সের।

রমজান মানে নয় ইফতারী-ভূরি ভোজ,
রমজান মানে হলো- অভাবীর নেবো খোঁজ।
কৃত্রিম অভাব ছলে, রমজানে বেশি দাম,
সুদ ঘুষ সম দোষ এ আয় হয় হারাম।

সব জানে রমজানে শয়তান বন্দী,
গায়েবী মদদে চলে, ব্যবসায় ফন্দি।
তাকওয়ার বিনিময়ে কারো জোটে পূণ্য,
কারো বাড়ে রোজগার আখেরাত শূন্য।

যেন-নিষ্ফল না হয় কষ্টের উপবাস,
সচেতন থাকি সদা রমজানে পুরোমাস।

সাওয়াব খোঁজার মাস
আমিনুল ইসলাম

সাওয়াব খোঁজার মাস এলো ফের
এলোরে রমজান
সকল গুনাহ মাফ করে দেন
আল্লাহ মেহেরবান।
সারা মাসে আকাশ হতে
রহমধারা ঝরে
আল্লাহ ভীতি জাগায় রোজা
মুমিনের অন্তরে,
আমরা শুধু খুঁজে নেব
যা কিছু তাঁর দান।।
নিজের হাতে আল্লাহ দিবেন
রোজার বিনিময়
হৃদয় হতে দূর হয়ে যায়
বিচার দিনের ভয়,
চলার দিশা দিলেন মালিক
দয়া অফুরান।।

রোজাদার ব্যক্তি
মোস্তফা কামাল সোহাগ

রোজাদার ব্যক্তি রোজা রাখে
পাপ থেকে দূরে
এমন সুন্দর মহৎ প্রাণ
পাবেনা কোথাও ঘুরে।

সময়মত সেহরী খেয়ে
রাখে তারা রোজা
আখেরাতে তাদের হিসাব
হবে অতি সোজা।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে
দিনে খাওয়া বন্ধ
ইফতার দিয়ে রোজা খোলে
পায় যে মনে আনন্দ।

কুরআন পড়ে হাদিস পড়ে
তারাবী পড়ে ঠিক
মরার পর কবর তাদের
করবে ঝিকিমিক।

অফার
দীদার মাহদী

দারুণ অফার দারুণ অফার
আসলো ঘরের দোরে,
এই অফারের সুযোগগুলো
নেয় না যেনো চোরে৷

একটা নফল করলে পালন
ফরজ সমান নেকি,
করলে পালন একটা ফরজ
সত্তরে গুণ সেকি!

তিরিশ দিনের চলবে অফার
পুরো রমজান জুড়ে,
হয় না যেনো হাতছাড়া তা
এদিক সেদিক ঘুরে৷

যে কোরআনের জন্য এ মাস
শ্রেষ্ঠ হলো তাকে,
সবাই শিখে দিই ছড়িয়ে
এই পৃথিবীর বাঁকে৷

আবার এলো রমজান
আবু জাফর

শান্তির বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র মাহে রমযান,
শৃঙ্খলিত হলো এবার অবাধ্য জিন ও শয়তান।
বন্ধ হলো জাহান্নামের সকল দরোজা এমাসে,
খুলে গেল জান্নাতের সব দরোজা অনায়াসে।

আল্লাহ মহান করবে দান অগণিত নাজ-নিয়ামত,
সজ্জিত হলো সকল বেহেশ্ত সব তাঁর’ই রহমত।
মাহে রমযানের রোজা রেখে শক্ত করবে ঈমান,
আল্লাহ বলেন আমি নিজেই দেবো এর প্রতিদান।

নাজাতের বাণী নিয়ে আগমন মাহে রমজান,
সৃষ্টির জন্যে স্রষ্টার এযে এক শ্রেষ্ঠ অবদান।
আল্লাহর দরবারে চাই বারেবারে হায়াত করো দান,
আবার সবাই যেন ফিরে পাই পবিত্র মাহে রমযান।

রমজান
জাহাঙ্গীর ডালিম

বছর ঘুরে আসলো আবার
রহমতের সেই মাস
প্রাণে প্রাণে জাগলো আবার
আনন্দ উচ্ছ্বাস।

ঘরে ঘরে শান্তি আসে
প্রাণে প্রাণে গান
খোদার প্রেমে মজবে সবাই
সারা দোজাহান।

বেহেশতের দরজাগুলো
খুললো রহমান
মাগফিরাত আর নাজাত নিয়ে
এলো রমজান।

রমজানের এই মাসে
শরীফ সাথী

মায়াভরা মমতাময়
রমজানের এই মাসে,
চারিদিকে যেন শুধু
পবিত্রতা হাসে।

সিয়াম সাধন
মিষ্টি বাঁধন
জীবন যাপন
করে আপন
আল্লাহ ভালবাসে,
মায়াভরা মমতাময়
রমজানের এই মাসে।

করলে রোজা
আল্লাহ খোঁজা
হয় পথ সোজা
যায় মত বোজা
সবার অনায়াসে,
মায়াভরা মমতাময়
রমজানের এই মাসে।

রোজা
সৃষ্টিকর্তার মিষ্টি আদেশ
দৃষ্টিতে অনন্য,
মুসলমানের জন্য দামি
নয় মোটে নগণ্য।

সকল বিভেদ দ্বন্দ্ব ঠেলে
সকল খারাপ মন্দ ফেলে
করতে জীবন ধন্য,
বছর ঘুরে এলো রোজা
এই আমাদের জন্য।

সিয়াম সাধন আপন বাঁধন
একটি মাসের রোজা,
পরিশুদ্ধ জীবন যাপন
সুখেরই দিন খোঁজা

রমজান মাসে করণীয়
মোস্তফা কামাল সোহাগ
ঝগড়া থেকে বিরত থাক
লোভ লালসা দূরে রাখ
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়
ত্রিশ রোজা কায়েম কর।

মিথ্যা বলা ছেড়ে দাও
হালাল রুজি সবাই খাও
বেশি বেশি পড় কোরআন
অচল লোককে কর দান।

তারাবি নামাজে হও সামিল
সাফ রাখ তোমার দিল
সেহরী খেয়ে রাখ রোজা
রোজা রাখা অতি সোজা।

ইফতার দিয়ে রোজা খোল
পাপের পথ সবাই ভোল
ঈমান আমল ঠিক রাখি
আল্লাহ আল্লাহ বলে ডাকি।

আল্লাহর কাজে থাকি মাতি
আঁধার ঘরে জ্বলবে বাতি।

মাহে রমজান
তানি হক

এলো রে এলো… ওই মাহে রমজান;
মানবজাতির তরে আল্লহতায়ালার শ্রেষ্ঠ দান;
পুণ্যের সূর্য উদয় হয়ে, পাপের হবে অবসান;
জং গুলো সব ঝোরে গিয়ে,ঈমান করবে শাণ;
রহমতেরই ডালি নিয়ে আসছে ওই! মাহে রমজান!

ওই দেখ! বন্ধু সকল… ঐযে অমূল্য ধনের খনি;
আজকে কে নেবে বল হীরে, পান্না ,জহরত আর মণি;
পারো যদি নিতে নিজের করে, তবে হবে আখেরাতের ধনি;
হবে নাকি কেউ আখিরাতের ধনি? চাও নাকি কেউ অমূল্য ধনের খনি?

বেশি বেশি দান করে,দানের সওয়াব নিও তুলে;
তাহাজ্জুদের পুণ্য টুকু নিতে মন যেন না যায় ভুলে;
পড়বে কোরআন প্রতিদিন সুরের দরজা খুলে;
সেই কোরআনের মধুর সুরে সবার মন উঠবে আনন্দে দুলে।

ভুলেও যেন একটি রোজা তোমার বন্ধু! না হয় ক্বাযা;
ফকীর নয় তারাবীর নামাযের পুণ্যের যেন হতে পারো রাজা;
হেসে খেলে ভুল করে হায়! পেওনা ভুলের কঠিন সাজা!

রমযানেরই পুণ্যে আমি তুমি হতে চাই যে ধনবান;
সেই ধনের বিনিময়ে পাব রোজাদারের পুরষ্কার,রাইয়্যান!
আল্লাহ্ তায়ালার দান, মোবারক হো… মোবারক হো… মাহে রমজান !

রমজান
ইসলাম তরিক

দাও খোদা বেড়ে দাও ঈমানের দৃষ্টি
রমজানের রোজাটা মুমিনের কৃষ্টি।
রহমতে পূর্ণ
পাপরাশি চূর্ণ
রমজানের ফলটা আহা বেশ মিষ্টি।।

রমজানের এই ডাকে সাড়া দেয় বুদ্ধ
মাসব্যাপী চলমান ঈমানী যুদ্ধ।
মুমিনের আমলে
পূণ্যের শ্যামলে
শয়তান হয়ে যায় ভয়াবহ ক্রুদ্ধ।।

পাপরাশি মুছে দিয়ে মুক্তির চেষ্টা
এই রোজা মিটে দিক আত্মিক তেষ্টা।
মন্দকে নাচাতে
আত্মাকে বাঁচাতে
রমজানে বেড়ে যাক ঈমানি বেশটা।।

রমজান মুমিনের রহমতলুব্ধের
রমজান মুনাফিকের অতিশয় ক্ষুব্ধের।
জীবনের যুক্তি
পরিমিত মুক্তি
ভেবে দেখো রমজান কতটুকু মুগ্ধের?

মাহে রমজান
মাহমুদুল হাসান খোকন

বছর ঘুরে আবার এলো
পাক মাহে রমজান,
মুসলিমের সিয়াম এলো
যাতে করে দম পান।

ফজরের আজান থেকে
মাগরিব হলে তবে,
খাদ্য খেতে বলে ডেকে
এভাবেই চলে সবে।

মন্দ কাজ ত্যাগ করতে
চায় সব রোজাদার,
মাস শেষে পূণ্য ধরতে
আছে যত বোঝা যার।

ফরজ সিয়াম ধর সবে
রমজান এক মাস,
রবের হুকুম গড়ে তবে
দিব সবে এক পাশ।

রমজান
জয়নব জোনাকি

রমজান মানে কি
শুধুই উপোষ
উদর খালি রাখা ?
কুরআন খতম,
তাসবিহপড়া
পানাহার মুক্ত থাকা ?

রমজান মানে কি
ইফতার পার্টি,
নামিদামি খানা পিনা ?
মাথায় টুপি,
মসজিদে নামাজ
কুলসমুক্ত বিনা ?

রমজান মানে কি
দ্বিধা দ্বন্দ্ব,
তারাবীহ সংখ্যার রাকাত?
নাম কামাতে
ভিড়ের মাঝে,
লোকদেখানো জাকাত ?

রমজান মানে কি
দ্রব্যমূল্যের
দ্বিগুণ দাম বাড়া ?
ক্ষমা পাওয়ার,
আশায় থাকা,
আত্মশুদ্ধি ছাড়া ?

রোজা
হামিদ হোছাইন মাহাদী

আম্মুকে আজ বলছে খোকা
রাখবে ত্রিশ রোজা,
চাইবে ক্ষমা করতে জমা
ভালো কাজের বোঝা।

পড়বে কুরান পড়বে হাদিস
বুঝে বুঝে রোজ,
কোথায় আছে দেখবে খোকা
ক্ষমার আয়াত খোঁজ।

সাহরি খেতে জাগবে যখন
পড়বে তাহাজ্জুদ,
বলবে খোকা মালের যাকাত
করতে পরিশোধ।

মসজিদে সব করবে আদায়
সকল ফরয নামাজ,
ব্যস্ততা সব রাখবে ফেলে
থাক না যতই কাজ।

রোজার ছড়া
ইসমাইল জমাদার

‘ছোট্ট মেয়ে পারবি নাকো রাখতে রোজা তুই!’
এই বলে মা রোজ ফাঁকি দেয়, কাটলো রোজা দুই।
আজকে আমি রাখবো রোজা পণ করেছি দেখো
আয়েশা, শিরিন সবাই রাখে, মুই পারবো নাকো?

ডাকলে না মা সেহেরিতে? ভয় লেগেছে বুঝি?
এই গরমে রাখবে রোজা এতই সোজাসুজি!
এই দ্যাখো মা, সকাল থেকে শুকিয়ে আছি বেশ,
রোজা আছি তাই রেগে নেই, ছেড়েছি বিদ্বেষ।
ভাইটি আমার রং-পেন্সিল সব নিয়েছে কেড়ে,
তবু দেখো রাগ করিনি, যাইনি আমি তেড়ে।
সকালবেলা কাঁচের গ্লাস কে ভেঙেছে জানো?
রোজাদার এই ছোট্ট মেয়ে; সত্যি বলছি, শোনো।

এবার বলো পারছি কি না রোজার হুকুমদারি?
কেন যে মা বারণ করো হায়! রোজা রাখতে পারি।
তেষ্টাতে মোর শুকায় গলা, ক্ষিদেয় জ্বলে পেট।
কেবল বান্ধবীদের কাছে যেন না হয় মাথা হেঁট!
ভাঙতে রোজা বলবে না মা, খিল্লি দেবে সবে।
এই তো দুপুর, আর কিছুক্ষণ রোজা রাখতে হবে।
ওদের সাথে পাল্লা দেবো, বলবো ওদের ডেকে
আমিও পারি রাখতে রোজা, জানুক সকল লোকে।

ছোট্ট মেয়ের কথা শুনে তার সুরমা দেওয়া মা
বললো ডেকে জেদ করে তো রোজা হয় না মা!
তোমার রোজা, কষ্ট রোজা! কিন্তু আছে ‘রিয়া!’
লোক দেখানো হয়না রোজা, জানবে তোমার হিয়া।
খোদার হুকুম করবে পালন নিয়েত বুকে রেখে,
রাখবে রোজা? সেহেরিতে ডাকবো রে আজ থেকে।

রমজান–এর “রমানা ”
গাজী ইউসুফ হাফিজ

(‘র’তে রহমত ‘মা’তে মাখফেরাত আর ‘না’তে নাজাত = ‘রমানা’)

হে মুসলমান! নিয়ে রহমত এলোরে রমজান,
রাখো রোজা কায়েমে সালাত
পাপ–শাপ হতে পেতে পরিত্রাণ।
যেই মুসলমান পেলো রমজান,
তার মত নেই কেউ ভাগ্যবান,
ঠিক করো তাই ইমান–আমান
আর মুখের জবান;
প্রথম দশদিন পাবে রহমত ওহে মুসলমান!!

হে মুসলমান! কমাও কর্ম আল্লাহর ফরমান,
সিয়াম সাধনে হও আগুয়ান
কায়মন দিলে পড়োগো কোরআন,
বাড়বে জ্যোতি পাবেই প্রমাণ,
বাড়বে রিজিক দেবেন মেহেরবান,
করো তাই তাঁর দীদার সন্ধান
জমিন আর আসমান,
দ্বিতীয় দশদিন পাবে মাখফেরাত
দেবেন রাহমান!!

হে মুসলমান! পাবেরে নাজাত যাবে পেরেশান,
এই দশদিনের বিজোড় রাতে
পাক রাব্বানা নাজিলেন কোরআন,
পেলোনা নাজাত যে নাফরমান,
তার জীবনে রয় দ্বিধা- সন্ধিহান,
তাই হে মুসলিম হওগো সাবধান
ঠিক করো ইমান,
শেষ দশদিনে পাবেগো নাজাত
প্রেমে হও কোরবান!!

গজল
মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ফকির

ওই শোনা যায় মধুর আযান
চল্ রে মুমিন ভাই,
পাক পবিত্র হয়ে সবাই
নামাজেতে যাই।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি
জামাতেরই সাথে,
সত্তুর গুন সওয়াব বেশি
লাভ করিবো তাতে।
নামাজ ছাড়া মাটির ঘরে
কোন মূল্য নাই।

আযান হলে কাজকর্ম সব
বন্ধ করি সবে,
নিজের আমল নিজেই করি
কেউ দিবে না ভবে।
অন্তরেতে ভয় করিয়া
হালাল চিনে খাই।

কেউ জানে না কখন যে কার
ফুরিয়ে যাবে দম,
নাম তালিকা হাতে নিয়ে
ঘুরতে আছে যম।
নিজকে সঁপি ভাল কাজে
মুখে দুরূদ গাই।

পবিত্র মাহে রমজান
মোঃ মনিরুল ইসলাম মামুন

জীবনটাকে পাপ মুক্ত
করতে সরল সোজা
মহান আল্লাহ পূণ্য ভরে
দিছেন ত্রিশ রোজা।
ত্রিশ রোজায় ত্রিশ ফরয
শোনেন মুমিন বান্দা
নেয়ামত পেতে বন্ধ করুন
মন্দ সকল ধান্দা।
কোরআন পড়ুন,নামাজ পড়ুন
রাখুন ত্রিশ রোজা
কাঁধ থেকে নেমে যাবে
পাপের সকল বোঝা।
বিধান মেনে পালন করুন
পবিত্র মাহে রমজান
তারই সাথে শরিক হতে
সবাইকে আজ সমজান।

রমজান এলো
আনোয়ার শাহাদাৎ জুয়েল ফকির

এলো রমযান বছর ঘুরে
মুমিন মুসলমানের দ্বারে দ্বারে
নেকের পাল্লা করতে ভারী
তৈরি হয়ে নাও তাড়াতাড়ি।

রহমত বর্কত নাজাত পেতে
চাইতে হবে দিনে রাতে।
ঈমান তোমার করতে তাজা
রাখতে হবে ত্রিশ রোযা।

আল্লাহ্ ভীতি করতে অর্জন
রোযা রেখো অরে সুজন।
বালেগ সকল নর-নারী
ফরজ বিধান হবে জারী।

ঈমান এবং চেতনার সাথে
রাখলে রোযা এই মাসটিতে
আল্লাহ্ তায়ালা করবেন ক্ষমা
সামন পিছনের সকল গোনাহ।

সিয়াম সাধনা
উম্মে হাবিবা

মাহে রমজানে গঠন করো তাক্বওয়াপূর্ণ জীবন,
যে যেমন পার পাক-সাফ করো আপন দেহ ও মন।

এই রমজানে আত্মার সাথে আত্মার হোক মিলন,
ধনী-দরিদ্র অসহায় সবার সমান দিবস-যাপন।

তসবী-তারাবী পড়ো দিবা-রাতি করো এক খোদার ইবাদত,
সিয়াম সাধনায় করে নাও লাভ চিরসুখের ও আড়ৎ.

ভোররাতে করো সাহরী,সন্ধ্যায় ইফতারের আঞ্জাম,
উপবাস রও সারাদিনভর গাও যে প্রভূর গুণগান।

অরাতি-বন্ধু-সহোদর কারো করোনা কোনরূপ ক্ষতি,
অভীপ্সা করো প্রভূর নিকটে হয় যেন নেক-প্রাপ্তি।

সেই সুর !
আবদুস সামাদ

রোজা যায়, রোজা আসে
বদলে না’তো মানুষ !
যেমন ছিল, তেমন থাকে
ফিরে না’কো হুঁশ ।

কাদের তরে! ঝরে পরে!
এত নেয়ামত ?
রাশি রাশি ভোগ করেও
পাইনা হেদায়াত !

দুঃখী জনের দুঃখ বুঝতে
রোজা হলো ফরজ,
সাম্য মেত্রীর শিক্ষার যত
এই মাসেই সহজ।

সিয়াম মাসে করবে সবে
সুদ-ঘুষ বর্জন,
প্রেম-প্রীতি ভালবাসায়
ভরবে এই ভুবন।

সিয়াম শিক্ষায় লক্ষ মানুষ
কষ্ট করলো দুর !
এমন সিয়াম কবে আবার
তুলবে সেই সুর !

রমজান
আব্দুল হাকিম

রমজান এলে যায় গো চলে
সব ভেদাভেদ দ্বন্দ্ব
পুণ্য দিয়ে নেয় সাজিয়ে
পাপের দুয়ার বন্ধ।

ভালো কাজে সকাল সাঁঝে
আমল করে পূর্ণ
হৃদের কানন মায়ার বাঁধন
অহং হল চূর্ণ।

আমির-ফকির নেকি-বধির
হিসাব নিয়ে ব্যস্ত
দিনে-রাতে ইবাদাতে
ধ্যান করেছে ন্যস্ত।

শেষের ভাগে নিদ্রা জাগে
রাতের কিয়াম করে
হাদিস কুরান পড়ে জুয়ান
নিত্য ফজর পরে।

সাদকা করে দু’হাত ভরে
বেহেস্ত যার সন্ধি
গরিব দুঃখী সবাই সুখী
একই কাতার বন্ধি।

ইফতারে তাই আর্জি জানায়
ওগো মেহেরবান
পুণ্য দিয়ে দাও ভরিয়ে
আমাদের রমজান।