রমজান মানব জাতির জন্য রহমত সরূপ। বছরে ৩৬৫ দিন শরীরের কার্যক্রম চলতে থাকে। কাজ কর্ম না করলে হাত পা বিশ্রম পায়। ঘুমালে মাথা বিশ্রাম পায়। কিন্তু পেট সে আর বিশ্রাম নেয়ার ফুসরত পায় না। ক্ষুধা লাগলেও খাই না লাগলেও খাই। ক্রমাগত উদর পূর্তি করেই যাই। তাই পেট নামক ইঞ্জিনখানি আর বন্ধ হয় না। রমজানই পেটের এই বিশ্রামের সুযোগ করে দেয়। মহান আল্লাহ তা’লা আমাদের পেট নামক ইঞ্জিনকে সুস্থ্য রাখার জন্য কি চমৎকার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। কারণ যিনি পরিপূর্ণ মানুষ তৈরি করেছেনে তিনিই জানে কিভাবে তার সৃষ্টি সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে। আমরা সেই কাজটিই করে যাচ্ছি মহান প্রভুর নির্দেশ অনুয়ায়ী আমাদের সুস্থ্য রাখার জন্য। যারা অবাধ্য তারা একদিন এর খেসারত দেয়। পৃথিবীর উপর আমরা অত্যাচার করতে করতে, প্রভুর নির্দেশন না মানতে মানতে এমন এক পর্যায়ে চলে আসছি যে আজ পৃথিবীকে বাঁচানোর তাগিতে আল্লাহ করোনা নামক এক ক্ষুদ্র প্রাণ দিয়ে পৃথিবী সুস্থ্য রাখার ব্যবস্থা করেছেন। আমরা যদি আমাদের জীবনকে সুন্দরভাবে সৃষ্টিকর্তার নির্দেশিত পন্থায় না চলি তাহলে আমাদের জীবনও একদিন মহা সংকটে পর্য বষিত হবে আর জীবন নামের প্রাণটি সংহার হবে। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন যেনো তার নির্দেশিত পরিকল্পনা অনুযায়ি আমরা আমাদের জীবন পরিচালিত করতে পারি।
সৃষ্টিশীলন মানুষ মহান আল্লাহ অন্যতম প্রতিনিধি। আল্লাহর পরিকল্পনাকে মানুষের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য তাদের সৃজনশীলতাকে মেলে ধরেন। রমজান উপলক্ষে তাই তারা লিখিন আল্লাহর নির্দেশ। কবিতা, ছড়া, গল্প, গান ও প্রবন্ধের মাধ্যমে। আমরা চেষ্টা করেছি সেইসব লেখনিকে এক সাথে করে পাঠকের সামনে উপস্থাপনে। আমাদের প্রতিটি সংখ্যা ২০ জন কবির লিখনি দিয়ে প্রকাশ করছি। আজকে প্রকাশ করছি ‘রমজান সংখ্যা ২০২০ : পর্ব-৩’। আশা করি এই সংখ্যার লেখা আপনাদের হৃদয়কে প্রশান্তি দেবে। আমাদের কার্যক্রমকে মহান আল্লাহ কবুল করুন। আমিন।। – আফসার নিজাম, সম্পাদক

সূ চী
আমি আমার আকাশে দিয়েছি উড়াল পাখি… :: মাওলানা জালালউদ্দীন রুমী
রোজা :: জগলুল হায়দার
প্রহরী মনিরুজ্জামান :: মাহে রমজান
রমজান :: আহসান সাব্বির
রোজা এলো তাই :: আবু জাফর
আহলান সাহলান আহলান :: আশরাফুল আলম
মাহে রমজান :: সাজিদুর রহমান
কাফি :: অধ্যক্ষ ডাঃ এম এ এইচ ফারুক
রমজান :: মোঃ মনোয়ার হোসাইন
মাহে রমজান :: ফাতেমা জাহান লুবনা
পবত্রি মাহে রমযান :: এ, কে, এম, শাহ আলম
আকাশে রোজার চাঁদ উঠেছে :: মোঃ ইউসুফ
রমজান :: মোঃ গোলাম মোস্তফা টুটু্ল
খোকার পণ :: মুহাম্মাদ আলী মজুমদার
রমজানের চাঁদ উঠিছে ঐ :: মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
মাহে রমজান :: আব্দুস সবুর
বিদায় মাহে রমজান :: আনোয়ার হোসেন মামুন
মাহে রমজান :: মোঃ ফিরোজ খান
স্বাগতম রমজান :: রোকসানা মোর্তজা
রমজান তুমি এলে :: মোশারফ রায়হান

আমি আমার আকাশে দিয়েছি উড়াল পাখি…
মাওলানা জালালউদ্দীন রুমী
তরজমা: সায়ীদ আবুবকর

হে চাঁদমুখ প্রিয়তমা,
রোজার মাস এসে গেছে
টেবিল ঢেকে ফ্যালো
এবং খুলে দাও প্রশংসার পথ।

উপবাসের মাস এসে গেছে,
সম্রাটের ব্যানার এসে হাজির;
তোমার হাতকে গুটিয়ে নাও খাদ্য থেকে,
আত্মার টেবিল এসে হাজির।

আত্মা মুক্ত হয়ে গেছে বিচ্ছিন্নতা থেকে
এবং বেঁধে ফেলেছে প্রকৃতির হাত;
ভুলের হৃদয় পরাজিত হয়ে গেছে,
এসে গেছে বিশ্বাসের সৈন্যরা।

উপবাসই আমাদের কুরবানি,
এটাই আমাদের আত্মার প্রাণ;
এসো আমরা শরীরকে কুরবানি দেই
যেহেতু আত্মা এসেছে অতিথি হয়ে।

ধৈর্য হলো মিষ্টি মেঘ,
এখান থেকে বর্ষিত হয় জ্ঞান;
কারণ এটা এমনই এক ধৈর্যের মাস
যে-মাসে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল।

তোমার হাত ধুয়ে ফ্যালো, ধুয়ে ফ্যালো মুখ,
তুমি খেয়োও না, কথাও বোলো না;
সেই কথা খোঁজো এবং খোঁজো সেই আহার
যা এসেছে নীরবতা পালনকারীদের কাছে।

রোজা
জগলুল হায়দার

এই যে রোজা উপাষ থেকে রাখছি যারা পুরাই
আসেন তারা হাদিস থেকে মুক্তা কিছু কুড়াই।
রোজা মানে নয় তো কেবল খাওয়াদাওয়ার ছুটি
রোজার ছোঁয়ায় আসেন খানিক মানুষ হয়ে উঠি।

মানুষ হলে চর্চা ছাড়ি, হারাম এটা জানাই
রোজা কি আর হবে যদি নিত্য গিবত বানাই।
হিংসাটাকে বুকে যদি থরে থরে সাজাই
তয় হবে না রোজা যতোই, রোজার ঢোলই বাজাই।

প্রতিবেশী ভুখা রেখে পেটটা যদি ভরাই
ভেসে যাবে তখন কিন্তু রোজার সকল বড়াই।
কিম্বা যদি অশ্লিলতার গালিগালাজ চালাই
রোজা থেকেও রোজা তখন করবে পালাই পালাই।

চোখের রোজা মুখের রোজা কানের রোজাও হারাই
তাইলে রোজা হারিয়ে যাবে খানাপিনা ছাড়াই।
ভুল মুনাফার জন্যে খালি চাইলে বেশি টাকাই
লাভ হবে না কিতাব খুলে আসেন এবার তাকাই।

তাই রোজাকে করতে রোজা সজাগ থাকি সবাই
নিজের ভুলে উপাষ থেকেও না হোক রোজা জবাই।
রোজা যদি হয়রে রোজা মাফ হবে সব গুনাই
এই রোজাতে নবীর বাণী ফের বিনয়ে শুনাই।

প্রহরী মনিরুজ্জামান
মাহে রমজান

রমজান এসে গেছে
ইফতার খুলি,
ঠিকমত করি সবে
ইবাদত গুলি।

গরীবের হক গুলি
ফেতরা যাকাত,
মন দিয়ে কুরআন
পড়ি দিন রাত।

তারাবীতে ঠিক মত
মসজিদে সব গিয়ে
সেহরীতে খাই তবে
ভাই বোন নিয়ে।

নিজে খাই ডেকে দেই
পাড়া প্রতিবেশী
চাঁদ দেখে মনভরি
করি হাসি খুশি।

রমজান
আহসান সাব্বির

যার পিয়াসে অধীর হৃদয়ে কেটে যায় অনুক্ষণ,
রহমতেরই বারিধারা নিয়ে হলো তার আগমন।
বাঁকা চাঁদ আজ নিয়ে এলো ফের মুক্তির বারতা,
জেগে ওঠো ওরে ঈমানের জোরে ঝেড়ে ফেল জড়তা।
শুভ্র আবেশে শুদ্ধ পরশে এলো এই রমজান,
শৃঙ্খলে বাঁধা বন্দী হয়েছে দুশমন শয়তান।
বন্ধ হলো যে নরকের দোর খুললো স্বর্গ দুয়ার,
আসমান থেকে নেমে এলো দেখ রবের ক্ষমার জোয়ার।
নাজাতের শেষ দশ দিনে খোঁজ মহিমা মাখানো রাত,
ইবাদত করো মন-প্রাণ ঢেলে পেতে পার জান্নাত।
নাজাতের এই দরিয়ার জলে পিপাসা মেটাও ওরে!
পাহাড় সমান পাপগুলি সব ধুয়ে মুছে যাবে ঝরে।
সিয়াম শুধু উপবাস নয়- সে তো সীমাহীন সাধনা,
তাকওয়ার পথে ত্যাগ কর যত নফসের বাসনা।
মাহে রমজান রবের তরফে নিখাদ প্রশিক্ষণ,
তার শিক্ষায় আলোকিত কর কলুষিত এ জীবন।
ক্ষুধার জ্বালায় অনুভব কর গরীব-দুঃখীর জঠর,
মানুষের তরে বিলাও নিজেকে হয়োনা কখনো কঠোর।
জান্নাত বাগে দুয়ার রয়েছে নাম তার রাইয়ান,
রোজাদার তরে শুধু এ দুয়ার- রবেরই সেরা দান।
রাসুল বলেন রাখ যদি রোজা পূর্ণ ঈমান লয়ে,
কালিমা মুক্ত হয়ে যাবে তুমি আগেকার পাপ ধুয়ে।
রমজান মাসে নাজিল হয়েছে দিশাময় ফুরকান,
রহমত ভরা এই মাসে তাই বরকত অফুরান।
রমজান! এ যে মাস নয় শুধু- জান্নতি চেতনা,
কাতর বুকের আরাধনা সে যে- মুমিনের বাসনা।

রোজা এলো তাই
আবু জাফর

রোজা এলো তাই রহমত ও শান্তি নিয়ে এলো
রোজা এলো তাই মনের শয়তান শৃঙ্খলিত হলো
রোজা এলো তাই ছেহরী-ইফতারে বরকত এলো
রোজা এলো তাই দেহ মনের সংযম শুরু হলো
রোজা এলো তাই মনের কালো দূরকরে ফেলো
রোজা এলো তাই উদার মনের প্রদ্বীপটা জ্বালো
রোজা এলো তাই শরীর-স্বাস্থটাও যাচ্ছে ভালো
রোজা এলো তাই ব্যবসা বানিয্যও ভালো হলো
রোজা এলো তাই সংসারে শান্তির দেখা দিলো
রোজা এলো তাই নামাজ পড়তে লাগে ভালো
রোজা এলো তাই মনে ঈদের খুশি ফিরে এলো

আহলান সাহলান আহলান
আশরাফুল আলম

আহলান সাহলান মাহে রামাদান
রামাদান রামাদান রামাদান
ঘুরে ঘুরে ঘরে ঘরে এলো যে রমজান
রহমত বরকত মাগফিরাতের
হে মাহে রমজান।
আহলান সাহলান,আহলান।
মাহে রামাদান
রহমতের মাস,ক্ষমার পেয়ালা
মাগফিরাত অফুরান
উপবাসে আল্লাহ খুশী
আল্লাহ আল্লাহ জয়গান
রামাদান রামাদান রামাদান
আহলান সাহলান আহলান।
মাহে রামাদান।।
ক্ষমার দুয়ার খোলা এমন
আল্লাহ স্বয়ং দিন প্রতিদান
পাপী তাপী যত আছো
তার দিকেই হও আগুয়ান
দানের খাতা,প্রাণের খাতা
খুলেই দেখো হে আমান
রামাদান রামাদান রামাদান
আহলান সাহলান আহলান।
মাহে রামাদান।।
বছর শেষে বোনাসের মাস
পবিত্র এ রমজান
ধুয়ে মুছে দিবেন প্রভু
সকল পাপের খতিয়ান
সেই কাতারে শামিল করো
রহম করো হে রহমান
আহলান সাহলান আহলান
মাহে রামাদান।।

মাহে রমজান
সাজিদুর রহমান

আসলো আবার রোজা
তাইতো আমার নতুন করে
সোজা পথটি খোঁজা।

রমজানের এই মাসে
অতীত দিনের গোনাহ যতো
আমার চোখে ভাসে।

চাইবো আমি ক্ষমা
আমল নামায় যতো গোনাহ
লেখা আছে জমা।

শপথ নিলাম আজ
মন্দ যতো ছেড়ে দিয়ে
করবো ভালো কাজ।

সেহরি খাবো ভোরে
নামাজ থেকে অলসতায়
থাকবোনা আর দূরে।

আজ করেছি পণ
ইবাদতে এখন আমি
আবার দেবো মন।

করবোনা ভুল কভু
আমার মনের ছোট্ট আশা
কবুল করো প্রভু।

কাফি
অধ্যক্ষ ডাঃ এম এ এইচ ফারুক

আমার ভিতর আছে যত
পাপ কালিমার ঝাঁপি,
দিনে দিনে বনছি আমি
মস্ত বড় পাপি।
যত আছে পাপের বোঝা
গুনাহ রাশি রাশি,
তোমার রহম দ্বারে আমি
যাচ্ছি ক্ষমা যাচি।
ক্ষমা তুমি করে আমায়
শুদ্ধ করে নাও,
রহমত বরকত মাগফিরাতের
ছোঁয়া তুমি দাও।
তোমার রহম ধারায় আমায়
কর তুমি ধন্য,
আমি যেন হতে পারি
মাহবুব বান্দায় গন্য।
এই রমজানে মুছে দাও
আমার পাপের ঝাঁপি,
তুমি আল্লাহ হয়ে যাও
আমার তরে কাফি।

রমজান
মোঃ মনোয়ার হোসাইন

বছর ঘুরে ফিরে এল রমজানেরই মাস,
সব পাপাচার ভুলে মানুষ করুক সুখে বাস।
রহমতের এই মাসে যারা রাখবে সকল রোজা,
পরকালের শাস্তি হতে কমবে তাদের বোঝা।
এই মাসেতে ক্ষমা চাওয়ার এলো সঠিক সময়,
ভালোর পথে ফিরে এসে নিজকে করো বিজয়।
এই মাসেতে জাহান্নামের শাস্তি হবে হ্রাস,
বছর ঘুরে ফিরে এলো রমজানেরই মাস।

মাহে রমজান
ফাতেমা জাহান লুবনা

রঙিন ভবের রঙিন আশা চোখে লাগায় ঘোর,
উন্মাদ এই মত্তশালায় আমিও দিয়েছি দৌড়।
করেছি পাপ জেনে না জেনে এ ভবের রঙ্গশালায়,
হয়তো রয়েছে পাপরাশি মোর শীর্ষ পর্বতমালায়।
এসেছে যখন মম প্রান্তরে পবিত্র মাহে রমজান,
শুনব না আমি আর তবে পাপ পথের আহবান।
টুটে যাক মোর পাপরাশি পেয়ে সংযমের হাওয়া,
একটি মাসের সাধনায় হতেম যদি অলি আওলিয়া!
মাহে রমজান রহমত বরকতময় সংযম -সাধনার মাস,
প্রতি রাতে ক্ষমা পায় মহান আল্লাহ্ র কত পাপীষ্ঠ দাস।
পবিত্র কোরআন নাজিল হয় এই মাসেরই কদরের রাত্র,
ইবাদত করে পূর্ণ করব আকাশ জমীনের পাত্র। (আমীন )

পবত্রি মাহে রমযান
এ, কে, এম, শাহ আলম

মাহে রমযান
বছর ঘুরে আবার এল মাহে রমযান
বুকে তবুও বসত করে শত শয়তান,
হুশ হারিয়ে বেহুশ মোরা, নাই কোন খোঁজ
পূণ্যের কথা ভুলে গিয়ে পাপ করি রোজ,
ভুল করয়িাও ভাল কাজ করতে পারি না
নামায রোজা করতে যেন মনটা চায় না।
ভাল হব ভাবি শুধু, তবুও ভাল হই না
শেষ হয়ওে হয় না শেষ মনের দোটানা,
বিত্ত সুখে বিভোর হয়ে থাকি আনমনে
মাতাল তালে বাজনা বাজে মনের গহীনে।
চিত্ত মোদের মত্ত থাকে মায়াবি মোহে
পাপ রাশিদের জয়:ধ্বনি বেজে চলে রূহে,
অতৃপ্ত আত্মাগুলি হয় না কভূ সুখি
বেলা শেষে হতাশ বেশে, বাসায় ফিরে পাখি।
এসো সবে একসাথে শপৎ করি এখনি
রমযানের মহিমা দিয়ে রাঙাব ধরণি।।

আকাশে রোজার চাঁদ উঠেছে
মোঃ ইউসুফ

আকাশে রোজার চাঁদ উঠেছে
পূন্যের মাস যে এসেছে
শয়তানের পায়ে শিকল পড়েছে
বরকতের মাস ফের এসেছে
এসেছে ঘুরেফিরে মুমিনের ঘরেঘরে
আমলের মেলা যে বসেছে
আকাশে রোজার চাঁদ হেসেছে।
জান্নাতী সু – বাতাস বইছে
আল্লাহু আল্লাহু পাখি গাইছে
ফুলেফুলে মৌমাছি আনন্দে নাচিনাচি
আল্লাহর গুণগান গাইছে
থেমেগেছে ঘোরআজাব পাপিরা পেয়েছে মাপ
আনন্দের হাসি তাই হাসছে
আকাশে রোজার চাঁদ হেসেছে।
রহমতের ফোয়ারা বইছে
নাজাতের তরী কে কে বাইছে
সিয়াম আর কিয়ামে পান – আহার নিয়মে
আল্লাহর আদেশ মানছে
বেহেস্তে যাবার তরে সিয়াম পালন করে
নাজাতের গাড়িতে উঠেছে
আকাশে রোজার চাঁদ হেসেছে।

রমজান
মোঃ গোলাম মোস্তফা টুটু্ল

বছর ঘুরে আবার এলো
পবিত্র সেই রোজা
পাপ পূণ্যের হিসেব করে
চলবো সঠিক সোজা।

আয়রে যুবক আয়রে নবীন
সব ভেধাভেদ ভুলে
রাখবো রোজা খুশি মনে
পড়বো কুরআন দুলে।

শপথ নিলাম আজকে সবাই
রাখবো সকল রোজা
মিথ্যে কথা বলবো না আর
কমবে পাপের বোঝা।

খোকার পণ
মুহাম্মাদ আলী মজুমদার

এবার খোকা পণ করেছে
রাখবে তিরিশ রোজা
বলল মাকে, ‘সাহরীতে মা
ডাকবি সোজা সোজা।

আমি এখন অনেক বড়
বয়স সাত ছুঁই ছুঁই
ছাড়লে রোজা পাপ হবে খুব
বুঝিস না মা তুই?

সবার সাথে সাহরি খেয়ে
হবো রোজাদার
খোদার হুকুম মেনে চলে
প্রিয় হবো তাঁর’।

রমজানের চাঁদ উঠিছে ঐ
মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রমজানের চাঁদ উঠিছে ঐ মুমিনেরে খোঁজ করি,
কইরে মুমিন আসিছে রোজা মুক্তির পথ ধরি ।

রোজা যে তোর বিজয় নিশান, মুক্তির ঢাল হয়ে,
পিছু না হঠে রোজাদার ঐ চলিছে প্রভূর ভয়ে !

স্বাগতম, স্বাগতম -হে রোজা, মুসলিম উম্মাহর নীড়ে..
মুমিনের মুক্তি সেই স্থানে লিখয়াছে রোজা ওরে !

জাগিবে মুমিন জাগিবে মুমিন খাইবে সেহরী খানা
আল্লাহর ভয়ে রোজাদার বান্দা দিবসে করিবে মানা ।

রহমত ,মাগফেরাত, নাজাত,মুক্তি আনিছে রোজাখানি
কদর রাত্রিতে কোরআন আসিছে মানব মুক্তির বাণী!

তবু মানব অগ্নি জ্বলিছে শয়তানের পথ লয়ে
আসিলে রমজান মেলি দেয় পাখা অশুভ চক্র হয়ে ।

সেই চক্রে ভাল নেই রোজাদার, বাংলার বুকে বুকে,
সুযোগ সন্ধানি সেই কোকিলেরা রাখিয়াছে বড় দুঃখে !

নিয়ন্ত্রনহীন বাজার চলিছে অলি গলি সবখানে,
রোজার নামে ছুটিতেছে তারা শয়তানের গানে গানে..

রমজান মাসে হু হু করি, ছদ্মবেশীরা ডাক ছাড়ি,
বাংলার বুকে চৈতালী খরা পত্রহীন বৃক্ষ সারি সারি !

ফিরে এসো মুমিন, ফিরে এসে গাও,রোজার মর্যাদা বুঝে
রোজার বদলা আজি নাও তুমি ,তারই রঙে সেজে সেজে ।

মাহে রমজান আসিছে ঐ মুমিনেরে খোঁজ করি,
কইরে তোরা জাগারে প্রাণ রোজার মর্ম্ ধরি ।

মাহে রমজান
আব্দুস সবুর

পরম করুনাময় আল্লাহ মেহেরবান,
বছর ঘুরিয়ে আবার নছিব করেছ পবিত্র
রমজান।
বন্ধ করেছ জাহান্নাম, জান্নাত দিয়েছ খুলে
অভিষপ্ত ইবলিস বন্দি করেছ শৃক্সখলে,
বন্ধ করে কবর আযাব মুদ্দারকে দিয়েছ সুযোগ
আপনজনের দোয়ায় যদি কিছু নেকী হয় যোগ।
প্রতিরাতে তুমি বান্দাকে ডেকে ডেকে
নিতেছ খবর
যার যে অভাব কিংবা পাপ আছে দিতেছ
কবর।
শুনেছি তুমি নিজ হাতে দিবে রোজার
প্রতিদান
তোমার জন্য তাই রাখছি রোজা, বাড়িয়ে
দিয়েছি দান।
বেহেশতে রোজাদারের আলাদা দরজা অধিক
সম্মান
রোজাদারের অপেক্ষায় নাকি ব্যকুল
সেখানে হুর গোলমান।
আমরা তোমার রহমত, মাগফেরাত ও
নাজাতের অপেক্ষায়
উদার, ত্যাগী আর ধৈর্যশীল হই যেন এই
রোজার শিক্ষায় ।
অনাহারীকে না দিয়ে অন্ন, নিজে যেন
নেইনা মুখে
নিজের দুঃখ যেন ভুলে যাই পরের দুঃখ
দেখে।

বিদায় মাহে রমজান
আনোয়ার হোসেন মামুন

জানিনা প্রভু
আরেকটি রমজান পাবো কি তবু
দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পরে
ঈদের খুশিও তৃপ্তি লাগে না মনে।
ওগো প্রভু,কবুল কর আমার
সেহরি, রোজা,ইফ্তার
তোমার হুকুম সঠিক মত পালনে
ব্যর্থ হলাম আবার
আমি যে বড় ফাসেকি গুণাগার।
জানিনা এই রমজানে উছিলায়
কী দিবে প্রতিদান?
কঠিন হাশরের দিনে নাজাত দিও
এটাই করি আহবান।
হে প্রভু,
রহমত,মাগফেরাত,নাজাতের শেষ দিনে
আরেকটি আবেদন রইল আপনার শনে,
এই রমজানের শিক্ষা থেকে
বিকি জীবন যেন গড়াতে পারি তোমার হুকুম মতে।

মাহে রমজান
মোঃ ফিরোজ খান

সকল কষ্ট সব ভুল পিছনে ফেলে
সবার মাঝে আসছে যেনো হেসে
পাপ মোচনের একটি মাস
এলোরে এলো মাহে রমজান।

মাঝ রাতে জেগে সবাই
ঘুম থেকে উঠে বসে যাই
শুধুমাত্র আল্লাহর ভয়ে
রাখব রোজা খেয়ে সেহ়রি।

রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করে
চলবো সবাই সঠিক পথে
রোজা রেখে নামাজ পড়ে
মানব আল্লাহর হুকুম সবে।

ছোট বড় সকল ধরণের গুনাহ
মাফ করে দিবেন মাওলা মোদের
রমজানের পবিত্রতা রাখতে পারলে
সকল পাপ করবেন মোচন।

এই দুনিয়ার ঐ দুনিয়ার
সকল পাপীদের করবেন ক্ষমা
মাহে রমজান সকলের জন্য
রহমতের বড়ই পাওয়া।

আমরা সবাই মানবো নিয়ম
রাখবো রোজা পড়বো নামাজ
দিনের বেলায় খাবনা আহার
মাগরিব হবে রোজার সন্মান।

একটি মাসের অনেক মূল্য
মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় পাওয়া
মাহে রমজান সুখের মাস
জীবন সকলের হোক সুন্দর।

স্বাগতম রমজান
রোকসানা মোর্তজা

বছর ঘুরে এলো আবার মাহে রমজান,
জাগো,জাগো,জাগো যত মুমিন মুসলমান।
নীল আকাশে হাসছে দেখো রহমতের চাঁদ,
তারায়,তারায় উঠেছে ভরে আকাশ রুপি ছাঁদ।
রমজানের প্রথম দশদিন পরিপূর্ণ রহমতের বারিধারায়..
প্রর্থনা করে নিজেকে তখন আল্লাহর ধ্যানে হারায়,
চারিদিকে ঝরবে শুধুই রহমতের ফোয়ারা,
তখন ইবাদতে থাকতে পারি যেন আত্নহারা।
মাঝের দশদিন হয় যে মাগফিরত..
পাপ ছুরে কর ছাপ,
আল্লাহর কাছে চাও যে মাফ।
পূন্যের সুর্য উদয় হয়ে পাপের হবে অবসান,
তবেই পাবো কাঙ্ক্ষিত সেই সন্মানের আসন।
রমজান মোদের শিক্ষা দেয় ছাড়ো পাপের কাজ,
ইবাদতে মশগুল থাক সকাল,দুপুর,সাজ।
শেষের দশ রমজানে হয় যে নাজাত..
বেশি,বেশি করে মুমিন করো মুনাজাত।
আত্নাকে শুদ্ধ করো,
কোরআনের জ্ঞান বুকে ধরো।
নামাজ পড়,কোরআন পড়,বেশি করে করো দান,
সত্তরগুন বেশি ছোয়াব দিবেন আল্লাহ্ মেহেরবান।
মুছে যাক রমজানে মানুষে,মানুষে সকল ভেদাভেদ,
স্বাগতম রমজান,খোশ আমদেদ।

রমজান তুমি এলে
মোশারফ রায়হান

তুমি এলেই বেদানারা নেয় ছুটি
হৃদয় উঠোনে সুখ সারি সারি
তুমি এলেই —
আনন্দের জোয়ারে ভাসি
পৃথিবীর বুক রঙ্গীন ভুলে
সাদা রং এর উড়ায় পাল।
সাজ সাজ রব চারিদিকে
শান্তির জয়গানে রঙ্গিন দুনিয়ায়
মানবতার দরজা যায় খুলে
ভালবাসায় বাড়ে আত্মীয়তা।
তুমি এলে কষ্ট সব যাই ভুলে
ঘরে ঘরে পবিত্রতার প্রদীপ জ্বলে
মন দেয় বাঁধা চলতে বাঁকা পথে
সুন্দরের কলরব বিশ্ব মুসলিম প্রাণে।
তুমি এলে প্রতি দিবসই উৎসব
কত আয়োজনে সাজে খাবার টেবিল
তুমি এলেই সুখে কাঁদি সেজদায়
প্রার্থনায় তুলি দু’হাত ক্ষমারও আশায়।
রমজান তুমি বার মাসের একটি প্রাণ
বিশ্ব মুসলিম জাতির ঘরে তুমি মেহমান
অপেক্ষায় রয় বসে বিধি করতে কত ত্রাণ
মোনাজাতে করি যদি চাওয়ার আবেদন।
রমজান তুমি এলে পৃথিবী যেন সাদা-কালো
ঝুট-ঝামেলা ভুলে সুখে-দুঃখে দিন যায় ভালো
রমজান তুমি এসো বারে বারে জীবনে
তোমার কোলে ঘুমাতে চাই যদি ডাক আসে
চাই মৃত্যুর স্বাদ নিতে ঈদ উৎসবে।