রমজান মানুষকে পরিশুদ্ধ করে। রমজান যদি আমাদের পরিপবর্তন করে তবেই বুঝতে পারবো রমজান আমাদের পরিশুদ্ধ করেছে। সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চাকারী সৃজনশীল মানুষ এ সময় তাদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে আত্মশুদ্ধি পথকে উন্মোচিত করে। তাদের সৃষ্টি দ্বারা মানবকল্যাণ সাধিত হয়। এমন সৃষ্টিশীলতা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পছন্দ করেন। আর পরিশুদ্ধ মানুষ তার জন্য মজনু হয়ে যায়। আল্লাহ সবাইকে তার সৃষ্টিশীলতা দিয়ে মানবকল্যাণে নিবেদিত হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন।।
আফসার নিজাম, সম্পাদক।

রমজান :: সৈয়দ নাজমুল আহসান
ক্ষমার পয়গাম :: তমসুর হোসেন
রোজা রেখে মনটা করো ফুল :: রানা জামান
ঈদ ও স্বপ্নের কথকতা :: কমল কুজুর
ফিরে এসো আল্লাহর পথে :: আবুল খায়ের বুলবুল
সম্প্রীতির রমজান :: কিশলয় গুপ্ত
রমজান এলো :: মুহিব্বুল্লাহ কাফি
রোজা :: নুরুল ইসলাম বাবুল
রোজার আয়োজন :: এম. তামজীদ হোসাইন
মাহে রামযান :: মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ
মাহে রমজান :: আতিক এ রহিম
সবাই আমায় বাসে ভালো :: ওমর ফারুক
রহমতের মাস :: ইমরান খান রাজ

রমজান
সৈয়দ নাজমুল আহসান

হে আল্লাহ্ মহান
করেছো রহম দান
দিয়েছো মোদের রমজান।

তোমার নির্দেশে সংযম একমাস
করো নি আদেশ বাকি মাস
রোজায় পেতে তোমার সন্তুষ্টি অর্জন
সারাদিন পানাহার বর্জন
কমাতে মোদের পাপের বোঝা
ফরজ করেছো রোজা
রোজাদার পাবে পুরস্কার
না রেখে রোজা চাই না পেতে তিরস্কার।
হে আল্লাহ্ মহান
করেছো রহম দান
দিয়েছো মোদের রমজান।

শোন হে মুমিন ভাই
রমজানে রহমতের শেষ নাই
রোজা দেহকে করে ফাঁকা
অর্থের জাকাত যেমন টাকা।
রোজায় এসেছে কোরআন
শিরক-বিদয়াত হয়েছে খান খান
এ মাসের নফল ফরজের সমান
ফরজ পালন করে সত্তুর গুন জমান।

হে আল্লাহ্ মহান
করেছো রহম দান
দিয়েছো মোদের রমজান।
…………………………………………..

ক্ষমার পয়গাম
তমসুর হোসেন

রমজান তুমি আস আমার হৃদয়ের বিষাদমলিন বারান্দায়
মখমলের শুভ্র চাদর বিছিয়ে রেখেছি তোমাকে স্বাগতম জানাতে
অরণ্যের বিচুর্ণ আল্পনায় বিবাগী মনের অপ্রশস্ত আধখোলা খিড়কি খুলে
প্রথমা চাদের গভীর সখ্যতা ঢেলে আস একান্ত চুপিসারে
চেতনার সব অঙ্গনে অভিসার কর স্বপ্নময় জান্নাতি সংগীতে
হুর ললনার আরক্তিম লজ্জায় অস্পৃশ্য ছন্দে তোল সুর।

নিশুতি রাতে প্রাণভরে সেহরি খাব বলে নক্ষত্রের পানে চেয়ে থাকি
গগনের নিরালা আঙিনায় হেলে যাবে রজনির আদমসুরাত
কখন ফুটবে ধরণীতে প্রাক ছোবেসাদিকের নিমগ্ন কালোরেখা
জনহীন পথ মুখরিত করে ঘুম ভাঙানো সেহরি-কাফেলা কখন যাবে ডেকে
দুটি চোখে আসবে না স্বস্তির খোয়াব জেগে রব বাসনা ব্যাকুল
ধ্যানময় তাহাজ্জুজের নিবিড়তা লাভের অদম্য প্রতীক্ষায়।

প্রতিটি সূর্যাস্তে ক্ষুধা তৃষ্ণায় অবসন্ন ঠোঁটে নাচবে ঈদের অফুরন্ত খুশি
তরাবির জমাতে ব্যাকুল ক্রন্দনে বিমূর্ত হবে নিশর্ত নাজাতের রং
জাহান্নমের লেলিহান অগ্নিশিখা শান্ত হবে নিষ্ক্রিয় হবে ধোঁকাবাজ ইবলিশ
সাজবে জান্নাত নবীন উল্লাসে জ¦লবে মহাকাশে নক্ষত্র প্রদীপ
মাগরেব মাশরেক শিমাল জুনুবে ঘোষিত হবে ক্ষমার পয়গাম।
…………………………………………..

রোজা রেখে মনটা করো ফুল
রানা জামান

রোজা রেখে সংযম নিয়ে
দেখাবো না রাগ
আশেপাশে রাগটা এলে
বলবো দূরে ভাগ

ইবাদতে কাটবে দিবস
পাপকে রেখে দূর
আখেরাতে মিলে যাবে
পূণ্যের সকল নূর

বিগত দিনের পাপ মোচনে
রোজা করে কাজ
কালকে রাখবো না বলে মন
রাখ রে রোজা আজ

রোজা রেখে মনটা করো
ঘ্রাণ বিলানো ফুল
একটু ভাবলে ভেঙ্গে যাবে
বিগত দিনের ভুল।
…………………………………………..

ঈদ ও স্বপ্নের কথকতা
কমল কুজুর

পৃথিবীর আকাশে একদিন নেমে আসে চাঁদ
এক ফালি রুপোলি চাঁদ
উজ্জ্বল আলোয় রাঙিয়ে দেয় ধরণী।

গাছের পাতায় পাতায় সবুজ শোভার আশ্বাস
পুকুর জলে জলপিপি খেলা করে
বাতাস ভরে ওঠে অজানা সৌরভে।

বিপন্ন মানুষ আশায় বুক বাঁধে আবার
ঈদের চাঁদ কমিয়ে নেবে
আছে যত ব্যবধান, যন্ত্রণার ভার।

বাতাসে তবু করোনার অভিশাপ পড়ে ছড়িয়ে
পূড়ে ঘড় বাড়ি নদী নালা জঙ্গল
আর হৃদয় পোড়ে।

ছোট্ট খুকি রঙিন জামা পরে দৌড়ে বেড়ায়
তরুণ তরুণী আবার স্বপ্ন সাজায়
আতংকের দিন শেষ হল বলে।
…………………………………………..

ফিরে এসো আল্লাহর পথে
আবুল খায়ের বুলবুল

ক্লান্ত পৃথিবী, চারিদিকে চলছে হাহাকার
স্বজন হারানো বুক, চোখের জলে বইছে পারাবার।

স্পন্দিত হৃদয় আজ থমকে গেছে করোনার আঘাতে
ভালোবাসা হয়ে গেছে নিঃস্ব, কেউ চায়না নিজকে হারাতে।

মসনদ টিকাতে বৈভব বাড়াতে বিত্ত ও শক্তিবানদের-
শক্তির মোহড়ায়
বিধ্বংস করছে মানবতার ভূমি, হত্যা খুন করছে জোড়ায় জোড়ায়।
যৌন সুখ ভোগে পতিতা পল্লীতে বেড়ে গেছে খদ্দরের আনাগোনা
প্রমোদ তৈরীর রঙশালায় বাজানো হচ্ছে নিত্য নতুন নৃত্যর বাজনা।

সৎ মানুষের প্রতি পদে পদে দিয়েছে বাঁধা, পথে পথে দিয়েছে ধিক্কার
সাহসী উচ্চারণ স্তব্ধ করে দিতে চালিয়েছে কত স্ট্রিম রোলার।

কিম্বা নির্যাতনের সেলে বছরের পর বছর রেখে করেছিলো নিঃশেষ
কোটি মানুষকে মূঢ় করে বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে সবিশেষ।
হিংসার দাবানলে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে প্রার্থনর শ্রেষ্ঠ স্থান
অট্টহাসি হেসেছে, বীরত্ব দেখিয়েছে পুড়িয়ে আল্লাহর সংবিধান।

মানুষ আল্লাহ রাসুলকে গালি দিয়ে নমরুদ ফেরাউনকে ছাড়িয়ে গেছে
ঈমানদারের মুখের গ্রাস দিক বিদিক থেকে কেড়ে নিয়েছে।

ইরাক সিরিয়া ফিলিস্থিন আফগান কাশমির ও মায়ানমারের মুসলমানকে বিধ্বংস করতে দেখে
পৃথিবীর সাতটি মহাদেশের মানুষ উঠেছে তেঁতে।

তাদের অধিকাংশ যে লোক দেখানোর কথা বলছে তা কিন্তূ মুসলমান জানে
তাই প্রার্থনা শেষে মুসলমান ফরিয়াদ জানিয়েছে আল্লাহ শানে।
তাদের সেই ফরিয়াদ আসমান থেকে আসমানে পৌঁছিয়ে দিয়েছে ফেরেস্তারা
হয়ত সেই ফরিয়াদ মঞ্জুর করেই সারা পৃথিবীকে দেখাচ্ছেন এই ভাইরাস দ্বারা।

ইতিহাস সাক্ষী আত ও সামুদ জাতি বাঁচতে পারেনি তাঁর হাত থেকে
অতএব মানুষ শান্ত হও বুঝো আর ফেরে যাও আল্লাহর পথে।।
…………………………………………..

সম্প্রীতির রমজান
কিশলয় গুপ্ত

সেহেরীর গল্পে ছিল কম প্রীতি?
ঠিক আছে-পুষিয়ে নিও ইফতারে,
আমাদের উঠান জুড়ে সম্প্রীতি
ছোঁয়াতে জীবনযাপন সুখ বাড়ে।

যদিও তোমার ঘরে আজনবি!
ইবলিশ আমার কথা কম জানে,
তবুও তোমার জন্য আজ নবী
সাজতে পারি উপস্থিত এই রমজানে।

শব্দে উপচে পড়ে কবি’র ঘর-
আকাশকে বলছি-তুই অল্প কাঁদ,
আসরের নামাজ শেষে তেপান্তর
হাসবে, উঠবে যখন ঈদের চাঁদ

আমারও রক্ত ভুলের চক্করে;
অর্থে উল্টো বোঝায় ওম রীতি,
তবুও লিখছি বুকের অক্ষরে
আমাদের শরীর জুড়ে সম্প্রীতি ।
…………………………………………..

রমজান এলো
মুহিব্বুল্লাহ কাফি

রমজান মানে শান্তি এলো
রমজান মানে খুশি
রমজান হলো আল্লাহর
অনেক বড় সন্তুষ্টি।

রমজান মানে নাজাত এলো
রমজান মানে রহমত
রমজান হলো আল্লাহর
অশেষ নিয়ামত।

রমজান মানে কোরআন তেলাওয়াত
রমজান মানে তারাবি
রমজানে আল্লাহ তাআলা
দুআ অধিক কবুলকারী।

রমজান মানে একে সাত
রমজান মানে সাহরি-ইফতারি
রমজানে আল্লাহ তাআলা
গুনাহ অধিক ক্ষমাকারী।
…………………………………………..

রোজা
নুরুল ইসলাম বাবুল

সেহরী খেয়েই রোজাদার রাখে রোজা
সারাবেলা তাঁর সংযমে দিন কাটে,
মুমিন লোকের কাছেতে বড়ই সোজা
খাস রোজাদার স্বর্গের পথে হাঁটে।

রোজা মানে নয় শুধুই উপোস থাকা
কিছু কিছু তার নিয়ম-কানুন আছে,
অন্যায় থেকে নিজেকে বিরত রাখা
নত হয়ে যাও মালিক প্রভুর কাছে।

সেই রোজাদার স্রষ্টার কাছে প্রিয়
যার মন থাকে একাগ্রতায় ভরা
অভুক্তদের কষ্টটা জেনে নিও
তোমার রোজায় পুণ্যে ভরবে ধরা।
…………………………………………..

রোজার আয়োজন
এম. তামজীদ হোসাইন

দো-জাহানের ঘরে ঘরে
চলছে রোজার ধুম
সেহরি খাওয়ার সময় এখন
ভাঙলো সবার ঘুম

মা জননী সবার আগে
ঘুম থেকে জাগে
তাহাজ্জুদ নামাজ শেষে তিনি
রান্নায় যান লেগে

বোনটি আমার মায়ের কাজে
যোগান দিয়ে যান
রান্না শেষে সবাইকে জাগিয়ে
মজাদার খাবার খান

রমজান মাসে মা-বোনদের কাজে
থাকে অধিক চাপ
দেখতে লাগে কষ্ট মনে
এরা খাওয়ান খাপ

রোগশোক নিয়েও মা-বোনেরা
করেন ইফতারের আয়োজন
বুঝতে হবে ঘরের কর্তাদের
এদেরও বিশ্রাম প্রয়োজন।
…………………………………………..

মাহে রামযান
মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

বছরঘুরে আবার এলো মাহে রামযান…
প্রাণখুলে গাই এসো সবাই তৌহিদি গান।
পালন করি দিনে সাওম খুশির পয়গাম…
সালাত শেষে মুখে জপি বরকতি নাম।

কুরআনের ঐ মহিমাতে গড়াই জীবন…
তাক্বওয়ার চাদরে ঢাকি এই কচি মন।
যত অন্যায় ধুয়ে মুছে হতে পাকসাফ…
মাহে রামযান এলোঘুরে এসো চাই মাফ।
…………………………………………..

মাহে রমজান
আতিক এ রহিম

বছর শেষে ঘুরে এলো
মাহে রমজান
নতুন চাঁদ ডাক দিয়ে যায়
নামাজের আহবান
চাঁদ৷ ওঠেছে আকাশেতে
সব মুসলমান খুশি
এ মাসে দোয়া দুরুদ
পড়ব বেশি বেশি
কোরআন পড়ব নামাজ পড়ব
করব দান খয়রাত
আল্লাহকে পাইতে হলে সর্বদা
করব ইবাদত
আমরা সবাই মাহে রমজানের
নিয়মগুলো মানি
বেশি বেশি করব ইবাদত
পড়ব কোরআনের বাণি।
…………………………………………..

সবাই আমায় বাসে ভালো
ওমর ফারুক

বন্ধু আমায় ভাবে লোকে
শত্রু তো নই কারো।
ফুল, পাপিয়া নিয়ে থাকি
কারো নই ধার ধারো।
মিষ্টি কুমড়ার বীজের খবর
আর পাখিদের গান।
ভাষার কথা বলে ছলে
জিইয়ে রাখি মান।
রোদ, বৃষ্টি মেঘের খবর
আকাশ ভালোবাসি।
মোটের ওপর ছড়িয়ে রাখি
ভূবণ ভোলা হাসি।
এধার ওধার ছোঁয় না আমায়
চুপটি করে থাকি।
সত্যি জেনেও দাঁতকপাটি
আঁচল দিয়ে ঢাকি।
রাষ্ট্র আমার পরম প্রিয়
ভীষণ দেশপ্রেমিক।
সব কথাতেই তাল মিলাই
বেঠিক হলেও ঠিক।
ধর্ম আমার ব্যক্তিগত
আচরণে নাই,
লেবাসপরস্তি নিয়ে আছি
ছুটে গেলেও তাই।
সবাই আমায় বাসে ভালো
মানিয়ে চলি বলে,
চুন থেকে পান খসে তখন
ভাসে চোখের জলে।
…………………………………………..

রহমতের মাস
ইমরান খান রাজ

বছর ঘুরে আবার এলো
রহমতের-ই মাস,
ওহে মুমিন পাপ ছেড়ে
পূণ্যের করো চাষ।

খোদার ভয়ে রোজা রাখো
নামাজ পড়ো রোজ,
দুনিয়ার চিন্তা বিদায় দিয়ে
জান্নাত করো খোঁজ।

হাসিখুশি থাকো তুমি
নিশ্চুপ বসে থেকো না,
আল্লাহর নামে শপথ করে
শয়তানের পথে হেটো না !